যে আমাকে জান্নাতে না পেলে খুঁজবে... জাবির বিন আব্দুল্লাহ রা. বলেন, আমি নবীজিকে বলতে শুনেছি, "যখন জান্নাতিরা জান্নাতে অধিষ্ঠিত হয়ে যাবে তখন তারা পৃথিবীতে থাকাকালীন সময়কার স্মৃতিচারণ করবে। তখন তাদের বন্ধুদের কথা মনে পড়ে যাবে। তারা ফেরেশতাদের জিজ্ঞেস করবে, আমি তো আমার সেই বন্ধুকে জান্নাতে দেখছি না, সে কোথায়? বলা হবে, সে তো জাহান্নামে। তখন সেই মু'মিন ব্যক্তি আল্লাহর কাছে বলবে, হে আমার রব! আমার বন্ধুকে খুব মিস করছি। তাকে ছাড়া আমার কাছে জান্নাতের আনন্দ যে পরিপূর্ণ হচ্ছে না। অতঃপর আল্লাহ সুবহানু ওয়া তা'আলা আদেশ করবেন অমুক ব্যক্তিকে জাহান্নাম থেকে বের করে জান্নাতে প্রবেশ করানোর।" তার বন্ধু জাহান্নাম থেকে রক্ষা পেল এই কারণে নয় যে, সে রাতভর ইবাদাত করত, কিংবা কুরআন পড়ত, বেশি বেশি সাদাকাহ করত, দিনের পর দিন রোজা রাখত! বরং সে মুক্তি পেল কেবলই এই কারণে যে তার বন্ধু তাকে স্মরণ করেছে। তার জান্নাতী বন্ধুর সম্মানের খাতিরে তাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেয়া হয়েছে। জাহান্নামিরা তখন অবাক হয়ে জানতে চাইবে, কি কারণে তাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেয়া হল, তার বাবা কি শহীদ? তার ভাই কি শহীদ? তার জন্য কি কোন ফেরেশতা বা নবী সুপারিশ করেছেন? বলা হবে, না, বরং দুনিয়াতে তার যে নেককার বন্ধু ছিল, সেই বন্ধু জান্নাতে তার জন্য আল্লাহর কাছে সুপারিশ করেছে। এই কথা শুনে জাহান্নামীরা আফসোস করে বলবে হায়! আজ আমাদের জন্য কোন সুপারিশকারী নেই হায়! আমাদের এমন কোনো সত্যিকারের বন্ধু নেই। এরপর তিনি এই আয়াত দু'টি তিলাওয়াত করেনঃ فَمَا لَنَا مِن شَـٰفِعِینَ وَلَا صَدِیقٍ حَمِیمࣲ "আমাদের কোন সুপারিশকারী নেই। আর কোন সহৃদয় বন্ধুও নেই।" [সূরা শু'য়ারা : ১০০-১০১] এ ঘটনা উল্লেখের পর ইমাম হাসান বসরী রহিমাহুল্লাহ বলেন, অতএব, তোমরা বেশি বেশি নেক লোকদের সঙ্গ অবলম্বন করো৷ তাদের ভালোবাসো৷ যাতে কিয়ামতের কোনো ঘাটে আটকে গেলে, তারা তোমাকে ছাড়িয়ে আনতে পারে। “যে আমাকে জান্নাতে না পেলে খুজবে, এমন ব্যক্তিকেই বন্ধু বানানো উচিৎ।” [তাফসীরে বাগাভী; সূরা শু'আরা: ১০০-১০১] [বই: একটি মজার তাফসীর বলি, লেখক: মাসুদ আলিমী] https://www.instagram.com/p/CTsPqSZBvvMozBv5KJXCgJAZDI3DVDDJllGb9w0/?utm_medium=tumblr