seen from Türkiye
seen from United States
seen from United States
seen from China
seen from China
seen from Kuwait
seen from Germany

seen from Singapore
seen from Canada

seen from Germany
seen from Malaysia

seen from Malaysia
seen from Germany

seen from United Kingdom
seen from China
seen from China
seen from China

seen from Malaysia

seen from Türkiye
seen from Australia
প্রয়াস
রচনা : প্রবীর কুমার রায়।
৭৪তম বইমেলা চলছে কলকাতায়, আজ তার শেষ দিন। নেট দুনিয়ায় সব কিছুর রসদ মজুত থাকায়, এখন আর বইমেলায় সেরকম ভিড় হয় না। তাই আশঙ্কা জাগে, কবে না নেতাজী ইন্ডোর স্টেডিয়ামেই চলে যায় বইমেলা। শুভাশিসবাবু সপরিবারে ফি বছর বইমেলায় আসতেন, আগে যখন শিক্ষকতা করতেন তখনও আসতেন, আর এখন তো অবসর গ্রহণের পর অফুরান সময়। তবে, এবার তিনি একায় এসেছেন।বইমেলায় ঘুরতে ঘুরতে শুভাশিসের মন খারাপ হয়ে যায়, বুকস্টল্ কমতে কমতে খান পনেরোটায় দাঁড়িয়েছে, খাবারের দোকান বেড়েছে। এখন আর পাঁচটা মেলা থেকে বইমেলাকে আর আলাদা করা যায় না। নিজস্ব রং- জৌলুস হারিয়ে বইমেলা যেন বার্ধক্যে উপনীত হয়েছে।
শুভাশিস ধীরে ধীরে একটি বড় বুকস্টলের কাছে এসে দাঁড়ালেন। দোকানদারের(কমবয়সী) উদ্দেশ্যে বললেন: ভাই, 'হাঁসুলি বাঁকের উপকথা’ উপন্যাসটি হবে?
দোকানদার: না দাদা, ওসব বই এখন রাখি না, খদ্দের নেই। আপনি নেটে পেয়ে যাবেন।
শুভাশিস: 'তাহলে কি ধরনের বই রাখ?'
দোকানদার: 'এই যেমন- কমিক্স, শায়রী, ব্রতকথা, জ্যোতিষবিদ্যা, হোয়াট অ্যাপস্ জোকস্, ব্যান্ডের গান, নেট ব্যবসার টিপস্, সাংসদ বা মন্ত্রী হতে হলে- রায় ও মার্টিনের সাজেশন বুক ইত্যাদি।'
শুভাশিস: 'পথের পাঁচালী আছে?'
দোকানদার: 'সরি স্যার।'
কর্মচারী : 'দাদা, লক্ষ্মীর পাঁচালী আছে, চলবে?'
শুভাশিসের প্রচন্ড রাগ হল,সে কোনক্রমে হাত নাড়িয়ে দোকান থেকে সরে দাঁড়াল। শুভাশিস এখন অনেক সংযত ও মৃদুভাষী । এখন রেগে গেলে আগের মত আর ফুঁসতে থাকে না। মেলাটা শুভাশিসের কাছে যেন আস্তে আস্তে ক্রমশ অচেনা হয়ে উঠছে, বিভিন্ন ধরনের খাবারের সুঘ্রাণ ভেসে আসছে,মাথাটা যেন ঘুরছে মনে হচ্ছে, তাহলে পেসারটা কি বাড়ল! শুভাশিস মেলা থেকে বেরিয়ে আসতে চাইছে, মোবাইলটা বুক পকেট থেকে বের করে দেখল, ৭টা ২০ বাজে। এখনই মেলা থেকে বের হলে, দমদম যাওয়ার বাস পাওয়া যাবে। শুভাশিস অবসর গ্রহণের পর দমদমের ফ্ল্যাটেই থাকে। মেয়ের বিয়ে দিয়ে দিয়েছেন, ছেলে ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পড়াশোনা করছে। রাত ৮টার পর বাস পাওয়া খুব দূরহ ব্যাপার। তাই, সে দ্রুত পা চালিয়ে মেলার গেটের কাছে আসতেই- হঠাৎ করে অরুপের সঙ্গে দেখা।
অরুপ : 'আরে শুভ দা যে! কি খবর?'
শুভাশিস : 'ভালো। তোর কি খবর?'
অরুপ : 'এই মোটামুটি আছি।'
শুভাশিস : 'কি করছিস্ ? কোথায় আছিস্ ?'
অরুপ : 'জ্যোমাটো ফুড কর্পোরেশনে ডেভেলপমেন্ট অফিসার। সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা ডিউটি। অফিসের গাড়িতে করে নিয়ে যায়, নিয়ে আসে। আজ এখানে আসব বলে একটু আগে ছুটি নিয়ে নিয়েছি। এবার মেলা ঘুরে গড়িয়া ফিরব। ওখানেই পেয়িং গেস্ট আছি।'
'তুমি তো এখন দমদমের ফ্ল্যাটে থাকো তাই না?'
শুভাশিস: 'হ্যাঁ, আর কোথায় যাব।' আমার শ্যালকও দমদমে থাকে, ফ্ল্যাট দেখা-শোনা সহ যাবতীয় ব্যবস্থা ওই করে দিয়েছে। 'আমি শুনেছিলাম তুই ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পড়েছিস! তাই কি?'
অরুপ: 'হ্যাঁ ঠিকই শুনেছিলে।' ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করে আবার এমবিএ করেছি। এখন চার- পাঁচটা প্রফেশনাল কোর্স পাশ না করলে চাকরি জোগাড় করা মুশকিল।'
শুভাশিস: বিয়ে করেছিস?
অরুপ মৃদু হেসে মাথা নাড়ল। শুভাশিস বুঝতে পারল, বেচারা খুব লজ্জায় পড়ে গিয়েছে।
শুভাশিস: 'হারে, হোস্টেলের খবর কি? আর যাস্ ঘুরতে?'
অরুপ: 'লাভপুর হোস্টেল! এই তো গত সপ্তাহেই গিয়েছিলাম। মাসে একবার হোস্টেল না গেলে যে পেটের ভাত হজম হয় না। এমনি সব ঠিক আছে। তবে বেশিরভাগ ছাত্রই আমাদের মত, পড়া কম, আড্ডা বেশি। তুমি শেষ কবে এসেছিল?'
শুভাশিস: 'তা প্রায় দশ বছর আগে মা ফুল্লরার মন্দিরে পুজো দিতে গিয়েছিলাম,তখনই একবার ঝটিকা সফরে- এখন যেতে লজ্জা লাগে। সবাই আমার নাতির বয়সী।' তবে হোস্টেলের প্রতি মায়া আমার এখনও আছে। হোস্টেলের প্রথম দিনের কথা এখনও মনে পড়ে। মায়ের আঁচল ছেড়ে প্রথম যে দিন এখানে এসেছিলাম, সে দিন থেকে শুরু হয় জীবন সংগ্রাম, নিজের জামাকাপড় নিজেইকাচা, স্নান করে, খাওয়া দাওয়া সেরে কলেজের ক্লাসে যাওয়া, নিজের উদ্যোগেই পড়তে বসা- এক কথায় স্বনির্ভরশীলতা। সব থেকে বড় শিক্ষা মানুষ চেনা।'
অরুপ: 'চলুন চা খায়।'
শুভাশিস ও অরুপ চায়ের দোকানের দিকে হাঁটতে শুরু করে।
অরুপ: 'এখন হোস্টেলে ওয়াইফাই চালু হয়ে গেছে। কেউ আর লাইব্রেরী যায় না, ঘরে বসেই নোট সংগ্রহ করে। হোস্টেলের বাইরে সিসিটিভি ক্যামেরা। কমন রুমে প্রজেক্টর লাগানো হয়েছে, গরমের ছুটি ও পুজোর ছুটিতে কমন রুমে বসে টিউটরের ক্লাস অ্যাটেন্ড করা হয়।'
অরুপ: 'দাদা, দুটো চা দেন।'
অরুপ চায়ের দোকান থেকে একটা কাপ শুভাশিস-এর দিকে বাড়িয়ে দেয়, আর একটা কাপ নিজে তুলে নিয়ে চায়ে চুমুক দিতে দিতে-
অরুপ: ছাত্রাবাসের উদ্যোগে সারা বছর অনেক সামাজিক ক্রিয়াকলাপ অনুষ্ঠিত হয়, যেমন- রক্তদান শিবির, বৃক্ষরোপণ, বিভিন্ন মারণ ব্যাধি সম্পর্কে গণ সচেতনতা ইত্যাদি।'
শুভাশিস চায়ের কাপের চা শেষ করে ডাস্টবিনে ভাঁড়টা ছুঁড়ে ফেলে। অরুপকে থামিয়ে চায়ের দাম দেয়।
অরুপ: তাছাড়া,হোস্টেলের ওয়েব সাইটে সমবেত প্রয়াস পেজে প্রতিমাসের সামাজিক কর্মকাণ্ডের সাথে আবাসিকদের স্বরচিত গল্প, কবিতা, প্রবন্ধ প্রভৃতি আপলোড করা হয়।
শুভাশিস: 'খুব ভালো উদ্যোগ। আমাদের সময় তো এসব ছিল না, কলেজ পত্রিকাতেই দিতে হত।'
অরুপ: তবে সব থেকে বেশি আলোড়ন ফেলেছে হোস্টেলের বাংলা ব্যান্ড! ইউটিউব সার্চ করলেই পাবে, বাংলা ব্যান্ড- প্রয়াস, দশ লাখের বেশি লাইক পেয়েছে।'
শুভাশিস: 'আমি যতদূর জানি, "হোস্টেলের সমবেত প্রয়াস"- নামে একটি উদ্যোগের সূচনা হয় ২০১৯সালে এবং এনজিও অ্যাক্ট অনুযায়ী রেজিস্ট্রিকৃত। সেটা অবশ্য শুধু আমাদের নব্য ও প্রাক্তন সকল আবাসিকদের চিকিৎসা সংক্রান্ত আর্থিক সহায়তার জন্য।'
অরুপ: 'হ্যাঁ, ঠিকই বলেছেন।' সেটাই এখন শাখা- প্রশাখা বৃদ্ধি করে মহিরুহ হয়ে উঠেছে।'
'ও আরেকটা কথা তো বলতে ভুলে গেছি,হোস্টেল সংলগ্ন মাঠে এখন সম্পূর্ণ জৈব পদ্ধতিতে সবজি চাষ করা হয়, সেই সবজি প্রতিদিন মেসে রান্না হয়। একটু দূরেই রয়েছে পোল্ট্রি খামার, তার লাভের একটা অংশ থেকে হোস্টেলের যাবতীয় খরচ মেটানো হয়; বাদ বাকি অংশ প্রয়াসের ফান্ডে জমা হয়।'
শুভাশিস পকেট থেকে মোবাইল বের করে দেখে ৮টা বাজতে পাঁচ মিনিট বাকি।
শুভাশিস: 'ভাই আর দাঁড়াব না, তাহলে আমার বাড়ি ফেরা খুব মুশকিল হবে। একদিন সময় করে আয় আমার ফ্ল্যাটে, ভীষণ আনন্দ পাব। একটা কথা মনে রাখিস,মানুষের জীবনে ভাল চাকরি যেমন দরকার, তেমনি বিয়েটাও দরকার। একের জন্য অন্যকে বঞ্চিত করলে ভবিষ্যতে তার মূল্য চোকাতে হতে পারে।'
অরুপ: 'আর হোস্টেল?'
শুভাশিস: 'আগস্টে নবীন বরণ অনুষ্ঠান হয়?'
অরুপ: 'নিঃসন্দেহে।'
শুভাশিস: 'বেঁচে থাকলে অবশ্যই প্রয়াস করব।'
Construction of Market
Company : LABPUR-I Gram Panchaya
Location : Labpur
Bid submission last date : Jan 11 2016
LABPUR-I Gram Panchayat has invited an e-tender for (percentage rate tender) for the construction of market in front of Labpur – 1 Gram Panchayat, Mouza- Labpur, West Bengal. Approximate tender value is Rs.15.53 lakhs and the period of work is 90 days. The last date for tender submission is Jan 11 2016.
Cont…
View On WordPress
Anyone else see the resemblance