seen from Myanmar (Burma)

seen from Russia
seen from United States

seen from Germany
seen from United States

seen from Indonesia
seen from Sweden
seen from United States

seen from Maldives
seen from China

seen from United Kingdom

seen from United States
seen from Lithuania

seen from United States
seen from South Korea
seen from South Korea
seen from South Korea
seen from South Korea

seen from Maldives

seen from United Kingdom
Peace, is not in holding on to what I desire,
but in surrendering to what Allah has written.
The mistakes I made
and the betrayal from my own hands
are part of my story,
known only to Allah.
I never wished this path upon anyone.
may Allah accept my repentance,
and let my story remind those around me
to cherish the people and the life
that Allah entrusted to them.
“The Bird and the Fish”
A bird once fell in love with a fish.
They met where the sky touched the sea,
where the wind carried their hopes,
and the waves whispered promises of forever.
For a little while,
it felt like love could defy everything—
distance, faith, even destiny.
But wings cannot breathe underwater,
and gills cannot fly.
The bird belonged to the wind,
and the fish belonged to the deep.
They built dreams between sky and sea,
but no dream can last
when it’s built against what’s meant to be.
It wasn’t that they didn’t love enough.
They did—too much, maybe.
But love alone cannot rewrite the laws of the Creator.
Because real love isn’t rebellion.
It’s surrender—
to the One who knows what our hearts can’t yet understand.
So when they parted,
it wasn’t hate, nor regret—
just quiet mercy.
The sea sent waves of prayer to the sky,
and the sky sent rain back down—
a farewell turned into forgiveness.
And somewhere between the storm and the calm,
the bird looked up and whispered,
“I loved, and I lost, but I return.”
Because some loves come to awaken the soul,
not to be kept.
To remind us that even the heart that strayed too far
can still find its way back—
to peace,
to faith,
to the love that never leaves:
the love of Allah.
দুনিয়া ও আখিরাতে সফলতার জন্য এই লেকচারটা যথেষ্ট
আল্লাহর দিকে ফিরে আসুন
ফিরে আসুন আল্লাহর দেওয়া সরল পথে
তওবা: পাপ থেকে প্রত্যাবর্তন করার নাম
আরবি ‘তওবা’ শব্দের অর্থ ‘পাপ থেকে প্রত্যাবর্তন’। পবিত্র কোরআনে তওবা বিষয়টির ওপর অত্যন্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিগত পাপের জন্য অন্তরে অনুশোচনা ও সেই সঙ্গে ভবিষ্যতে সৎ জীবনযাপনের সংকল্পকেই ইসলামি পরিভাষায় তওবা বলা হয়। যে আন্তরিকভাবে তওবা করে তাকে ইসলাম নিষ্পাপ শিশুর সঙ্গে তুলনা করেছে।
পবিত্র কোরআনে সুরা তাহরিম-এর ৮ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, ‘হে বিশ্বাসীগণ! তোমরা আল্লাহর কাছে তওবা করো—বিশুদ্ধ তওবা; হয়তো তোমাদের প্রতিপালক তোমাদের মন্দ কাজগুলো মুছে দেবেন আর তোমাদের প্রবেশ করাবেন জান্নাতে, যার পাদদেশে নদী বইবে।’ সত্যিকার তওবা দিয়েই প্রকৃত ধর্মজীবনের সূচনা করা যায়। পীরের হাতে ‘তওবা পাঠ’ করে মুরিদ হওয়া একটি রেওয়াজে পরিণত হয়েছে। কিন্তু মনে রাখা দরকার, কোনো বিশেষ বাক্য উচ্চারণকে ইসলাম তওবা বলে মনে করে না। তওবা একটি মনস্তাত্ত্বিক পরিবর্তন, যার ফলে গোটা নৈতিক জীবনই নতুন খাতে বইতে শুরু করে। তওবা অর্থ হলো ফিরে আসা। মানুষ যখন ভুল পথে যায় বা বিপথগামী হয়, তখন সেখান থেকে সঠিক পথে বা ভালো পথে ফিরে আসাকে তওবা বলা হয়। তওবার পারিভাষিক অর্থ হলো লজ্জিত হওয়া। অর্থাৎ স্বীয় কৃতকর্মে লজ্জিত হয়ে সঠিক পথে ফিরে আসা।
তওবার জন্য করণীয় হলো, স্বীয় কৃতকর্মের প্রতি লজ্জিত ও অনুতপ্ত হওয়া, সেই অপরাধ আর না করার দৃঢ়প্রত্যয় ও সংকল্প গ্রহণ করা এবং নেক আমলের প্রতি বেশি মাত্রায় মনোযোগী হওয়া। তওবা সম্পর্কে কোরআনে রয়েছে, ‘হে ইমানদাররা, তোমরা আল্লাহর কাছে খাঁটি তওবা করো, আশা করা যায় তোমাদের রব তোমাদের পাপগুলো মোচন করবেন এবং তোমাদের এমন জান্নাতগুলোয় প্রবেশ করাবেন, যার তলদেশে ঝরনাগুলো প্রবহমান।’ (সুরা তাহরিম, আয়াত: ৮)।
‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা তওবাকারীদের ও পবিত্রতা অর্জনকারীদের ভালোবাসেন।’ (সুরা বাকারা, আয়াত: ২২২)।
‘(হে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আপনি বলুন, (আল্লাহ বলেন) হে আমার বান্দারা! যারা নিজেদের সত্তার প্রতি সীমাহীন জুলুম করেছ, তোমরা আল্লাহর রহমত হতে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা সব গুনাহ ক্ষমা করে দেবেন; নিশ্চয়ই তিনি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।’ (সুরা জুমার, আয়াত: ৫৩)।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘হে মানব সকল! তোমরা আল্লাহর দিকে ফিরে আসো, নিশ্চয় আমি প্রতিদিন ১০০ বার তওবা করি।’ (মুসলিম)। তিনি আরও বলেন, ‘সকল আদম সন্তানই গুনাহগার, গুনাহগারদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হলো তওবাকারীরা। (তিরমিজি, ইবনে মাজা, দারেমি)। তওবার সুফল সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘গুনাহ থেকে তওবাকারী, বেগুনাহ ব্যক্তির মতো।’ (ইবনে মাজা, বায়হাকি)।
আল্লাহর হক আল্লাহ ক্ষমা করবেন; কিন্তু বান্দার হক বান্দা ক্ষমা না করলে আল্লাহ ক্ষমা করবেন না। তাই তাওবা ইস্তিগফারের সঙ্গে সঙ্গে বান্দার হক পরিশোধ করা বা ক্ষমা চেয়ে নেওয়া অবশ্যকর্তব্য।
কোনো অন্যায় করার পর ভুল বুঝতে পারলে তখনই আল্লাহর কাছে তওবা করুন। আল্লাহ সবাইকে তওবা করার নির্দেশ দিয়েছেন। তওবায় আল্লাহর নেয়ামত ও সন্তুষ্টি মেলে। আল্লাহর কাছে ক্ষমাপ্রার্থনা করে ফিরে যাওয়ার পথ তওবা। তওবাকারীকে আল্লাহ দান করেন অসংখ্য নিয়ামত।
আনাস ইবনে মালিক (রা.) বর্ণনা করেছেন যে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, আল্লাহ তাঁর বান্দার তওবায় সেই ব্যক্তির চেয়েও বেশি খুশি হন, যার উট গভীর মরুভূমিতে হারিয়ে যাওয়ার পর আবার সে তা ফিরে পায়। (বুখারি ও মুসলিম)
সাইয়েদুল ইসতেগফার পড়ে তওবা করুন, ‘আল্লাহুম্মা আন্তা রাব্বি লা ইলাহা ইল্লা আন্তা খালাক্কতানি ওয়া আনা আবদুকা ওয়া আনা আলা আহ্দিকা ওয়া ওয়াদিকা মাসতাতাতু আউজুবিকা মিন শাররি মা সানাতু আবুউলাকা বিনিমাতিকা আলাইয়্যা ওয়া আবুউলাকা বিজাম্বি ফাগফিরলি ফা-ইন্নাহু লা ইয়াগফিরুজ জুনুবা ইল্লা আন্তা।’
অর্থাৎ, ‘হে আল্লাহ! তুমিই আমার প্রতিপালক। তুমি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। তুমিই আমাকে সৃষ্টি করেছ। আমি তোমারই বান্দা। আমি যথাসাধ্যভাবে তোমার সঙ্গে প্রতিজ্ঞা ও অঙ্গীকারে আবদ্ধ। আমি আমার সব কৃতকর্মের কুফল থেকে তোমার কাছে আশ্রয় চাই। তুমি আমাকে তোমার যে নেয়ামত দিয়েছ, তা স্বীকার করছি। আর আমার করা গুনাহর কথাও স্বীকার করছি। তুমি আমাকে ক্ষমা করো। কারণ, তুমি ছাড়া আর কেউ (আমার) গুনাহ ক্ষমা করতে পারবে না।’
তাওবা কিভাবে করব
কৃত গুনাহের ওপর আন্তরিকভাবে অনুতপ্ত হয়ে গুনাহ আর না করার দৃঢ়সংকল্প নিয়ে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। এর জন্য তাওবার নিয়তে দুই রাকাত নামাজ পড়াও উত্তম। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ মুমিনদের প্রশংসা করতে গিয়ে তাদের তাওবার পদ্ধতিও বাতলে দিয়েছেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘আর যারা কোনো অশ্লীল কাজ করে ফেললে বা নিজেদের প্রতি জুলুম (গুনাহ) করলে আল্লাহকে স্মরণ করে এবং নিজেদের পাপের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে। আল্লাহ ছাড়া আর কে পাপ ক্ষমা করবে? এবং তারা যা করে ফেলে, জেনে-বুঝে তারা তা পুনরায় করতে থাকে না। এরা তারাই, যাদের পুরস্কার হলো তাদের রবের পক্ষ থেকে ক্ষমা এবং জান্নাত, যার পাদদেশে নদী প্রবাহিত; সেখানে তারা স্থায়ী হবে। আর সৎকর্মশীলদের পুরস্কার কতই না উত্তম!’ (সুরা : আলে ইমরান, আয়াত ১৩৫-১৩৬)
রাসুল (সা.) বলেছেন, কোনো ব্যক্তি গুনাহ করার পর উত্তমরূপে অজু করে দুই রাকাত নামাজ পড়ে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইলে আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দেন। (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ১৩৯৫)
অবশ্য অন্যের হক নষ্ট করার ক্ষেত্রে তার হক আদায় করা ছাড়া তাওবা কবুল হবে না। তাই কারো হক নষ্ট করে থাকলে তার হক আদায় করা ও তার কাছে ক্ষমা চাওয়া তাওবার পূর্বশর্ত।
তাওবার শর্ত
এ ছাড়া তাওবার আরো কিছু শর্ত আছে। যেমন: ১. কৃত পাপ কাজের ওপর অনুতপ্ত হওয়া, কাজটিকে প্রচণ্ডভাবে ঘৃণা করা। ২. পাপ কাজ সম্পূর্ণ পরিহার করা। ৩. ভবিষ্যতে পাপ কাজ না করার দৃঢ়সংকল্প করা। ৪. বান্দার হক নষ্ট করে থাকলে তা আদায় করা। ৫. শুধু আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য তাওবা করা; পার্থিব উদ্দেশ্যে নয়। মহান আল্লাহ আমাদের খাঁটিভাবে তাওবা করার তাওফিক দান করুন।
খাঁটি তাওবা করার নিয়ম
প্রত্যেক মানুষ গুনাহপ্রবণ। এটা মানুষের স্বভাবজাত বিষয়। কিন্তু মানুষের মধ্যে তারাই উত্তম, যারা গুনাহ হয়ে গেলে মহান আল্লাহর কাছে অনুতপ্ত হয়ে তাওবা করে নেয়। হাদিস শরিফে মহানবী (সা.) এমন মানুষদের উত্তম মানুষ বলে আখ্যা দিয়েছেন।
আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, মানুষ মাত্রই গুনাহগার (অপরাধী)। আর গুনাহগারদের মধ্যে তাওবাকারীরাই উত্তম। (তিরমিজি, হাদিস : ২৪৯৯)
তাই গুনাহ হয়ে গেলে আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ না হয়ে সঙ্গে সঙ্গে তাঁর কাছে তাওবা করে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ। মানুষ যখন তার ভুল বুঝতে পেরে অনুতপ্ত হয়, নিজেকে সুধরে নেওয়ার প্রত্যয়ে মহান আল্লাহর দরবারে খাঁটি মনে তাওবা করে, তখন মহান আল্লাহ তার তাওবা কবুল করেন।
পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘তবে যারা তাওবা করেছে এবং নিজেদের সংশোধন করেছে এবং সত্যকে সুস্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছে। অতএব, এদের তাওবা আমি কবুল করব। আর আমি অধিক তাওবা কবুলকারী, পরম দয়ালু।’
(সুরা : বাকারা, আয়াত : ১৬০)
অন্য আয়াতে মহান আল্লাহ বলেন, ‘অতঃপর সীমা লঙ্ঘন করার পর কেউ তাওবা করলে এবং নিজেকে সংশোধন করলে নিশ্চয়ই আল্লাহ তার তাওবা কবুল করবেন।
নিশ্চয়ই আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।’
(সুরা : মায়িদা, আয়াত : ৩৯)
এখন প্রশ্ন হলো, সঠিকভাবে তাওবা করব কিভাবে? এর উত্তম পদ্ধতি হাদিসের মধ্যেই আছে। আসমা ইবনুল হাকাম (রহ.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আলী (রা.)-কে বলতে শুনেছি, ... তিনি বলেন, আবু বকর (রা.) আমাকে একটি হাদিস বর্ণনা করলেন, মূলত তিনি সত্যই বলেছেন। তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি, যখন কোনো বান্দা কোনো রূপ গুনাহ করার পর উত্তমরূপে অজু করে দাঁড়িয়ে দুই রাকাত নামাজ আদায় করে এবং আল্লাহর কাছে গুনাহের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে, নিশ্চয়ই আল্লাহ তাকে ক্ষমা করেন। (আবু দাউদ, হাদিস : ১৫২১)
এই নামাজের অজু ও নামাজের মাঝখানে কোনো দুনিয়াবি কাজ বা কথা না বলা উত্তম।
কারণ হাদিস শরিফে ইরশাদ হয়েছে, আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি আমার মতো এ রকম অজু করবে, অতঃপর দুই রাকাত নামাজ আদায় করবে, এবং এর মাঝে দুনিয়ার কোনো খেয়াল করবে না, তার পূর্বের গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে। (বুখারি, হাদিস : ১৫৯)
নামাজ শেষে আল্লাহর তাসবিহ পড়বে, আল্লাহর প্রশংসা করবে এবং ইস্তিগফার পড়ে মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করবে।
তাওবার দোয়া : তাওবার শ্রেষ্ঠ দোয়া হলো সাইয়েদুল ইস্তিগফার। নিম্নে তার উচ্চারণসহ অর্থ তুলে ধরা হলো—‘আল্লাহুম্মা আনতা রব্বি, লা-ইলাহা ইল্লা আনতা খলাকতানি, ওয়া আনা আবদুকা, ওয়া আনা আলা আহদিকা, ওয়া ওয়া‘দিক মাসতাতা‘তু, আউজুবিকা মিন শাররি মা সনা‘তু, আবু-উ বিনি‘মাতিকা ওয়া আবু-উ বিজাম্বি ফাগফিরলি ইন্নাহু লা ইয়াগফিরুজ জুনুবা ইল্লা আনতা।’
অর্থ : হে আল্লাহ, আপনি আমার রব, আপনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই। আমাকে আপনি সৃষ্টি করেছেন, আমি আপনারই বান্দা। আমি যথাসাধ্য আপনার সঙ্গে কৃত প্রতিশ্রুতির ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকব। আমি আমার নিকৃষ্ট আমল থেকে আপনার কাছে আশ্রয় চাই, আপনার যে অসংখ্য নিয়ামত ভোগ করছি এ জন্য কৃতজ্ঞতা স্বীকার করছি। আমি আমার কৃত অপরাধ স্বীকার করছি। অতএব, আপনি আমাকে ক্ষমা করে দিন। বস্তুত আপনি ছাড়া অপরাধ ক্ষমা করার কেউ নেই।
(আবু দাউদ, হাদিস : ৫০৭০)
উল্লেখ্য, কারো এই দোয়া মুখস্থ করা সম্ভব না হলে সে নিজের ভাষায়ও মহান আল্লাহর কাছে কান্নাকাটি করে তাওবা করতে পারবে। ইনশাআল্লাহ মহান আল্লাহ ক্ষমা করে দেবেন।
আল্লাহর দিকে ফিরে আসুন
Come Back To Allah
Return to Allah
দুনিয়া ও আখিরাতে সফলতার জন্য এই লেকচারটা যথেষ্ট
আল্লাহর দিকে ফিরে আসুন
ফিরে আসুন আল্লাহর দেওয়া সরল পথে
তওবা: পাপ থেকে প্রত্যাবর্তন করার নাম
আরবি ‘তওবা’ শব্দের অর্থ ‘পাপ থেকে প্রত্যাবর্তন’। পবিত্র কোরআনে তওবা বিষয়টির ওপর অত্যন্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিগত পাপের জন্য অন্তরে অনুশোচনা ও সেই সঙ্গে ভবিষ্যতে সৎ জীবনযাপনের সংকল্পকেই ইসলামি পরিভাষায় তওবা বলা হয়। যে আন্তরিকভাবে তওবা করে তাকে ইসলাম নিষ্পাপ শিশুর সঙ্গে তুলনা করেছে।
পবিত্র কোরআনে সুরা তাহরিম-এর ৮ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, ‘হে বিশ্বাসীগণ! তোমরা আল্লাহর কাছে তওবা করো—বিশুদ্ধ তওবা; হয়তো তোমাদের প্রতিপালক তোমাদের মন্দ কাজগুলো মুছে দেবেন আর তোমাদের প্রবেশ করাবেন জান্নাতে, যার পাদদেশে নদী বইবে।’ সত্যিকার তওবা দিয়েই প্রকৃত ধর্মজীবনের সূচনা করা যায়। পীরের হাতে ‘তওবা পাঠ’ করে মুরিদ হওয়া একটি রেওয়াজে পরিণত হয়েছে। কিন্তু মনে রাখা দরকার, কোনো বিশেষ বাক্য উচ্চারণকে ইসলাম তওবা বলে মনে করে না। তওবা একটি মনস্তাত্ত্বিক পরিবর্তন, যার ফলে গোটা নৈতিক জীবনই নতুন খাতে বইতে শুরু করে। তওবা অর্থ হলো ফিরে আসা। মানুষ যখন ভুল পথে যায় বা বিপথগামী হয়, তখন সেখান থেকে সঠিক পথে বা ভালো পথে ফিরে আসাকে তওবা বলা হয়। তওবার পারিভাষিক অর্থ হলো লজ্জিত হওয়া। অর্থাৎ স্বীয় কৃতকর্মে লজ্জিত হয়ে সঠিক পথে ফিরে আসা।
তওবার জন্য করণীয় হলো, স্বীয় কৃতকর্মের প্রতি লজ্জিত ও অনুতপ্ত হওয়া, সেই অপরাধ আর না করার দৃঢ়প্রত্যয় ও সংকল্প গ্রহণ করা এবং নেক আমলের প্রতি বেশি মাত্রায় মনোযোগী হওয়া। তওবা সম্পর্কে কোরআনে রয়েছে, ‘হে ইমানদাররা, তোমরা আল্লাহর কাছে খাঁটি তওবা করো, আশা করা যায় তোমাদের রব তোমাদের পাপগুলো মোচন করবেন এবং তোমাদের এমন জান্নাতগুলোয় প্রবেশ করাবেন, যার তলদেশে ঝরনাগুলো প্রবহমান।’ (সুরা তাহরিম, আয়াত: ৮)।
‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা তওবাকারীদের ও পবিত্রতা অর্জনকারীদের ভালোবাসেন।’ (সুরা বাকারা, আয়াত: ২২২)।
‘(হে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আপনি বলুন, (আল্লাহ বলেন) হে আমার বান্দারা! যারা নিজেদের সত্তার প্রতি সীমাহীন জুলুম করেছ, তোমরা আল্লাহর রহমত হতে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা সব গুনাহ ক্ষমা করে দেবেন; নিশ্চয়ই তিনি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।’ (সুরা জুমার, আয়াত: ৫৩)।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘হে মানব সকল! তোমরা আল্লাহর দিকে ফিরে আসো, নিশ্চয় আমি প্রতিদিন ১০০ বার তওবা করি।’ (মুসলিম)। তিনি আরও বলেন, ‘সকল আদম সন্তানই গুনাহগার, গুনাহগারদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হলো তওবাকারীরা। (তিরমিজি, ইবনে মাজা, দারেমি)। তওবার সুফল সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘গুনাহ থেকে তওবাকারী, বেগুনাহ ব্যক্তির মতো।’ (ইবনে মাজা, বায়হাকি)।
আল্লাহর হক আল্লাহ ক্ষমা করবেন; কিন্তু বান্দার হক বান্দা ক্ষমা না করলে আল্লাহ ক্ষমা করবেন না। তাই তাওবা ইস্তিগফারের সঙ্গে সঙ্গে বান্দার হক পরিশোধ করা বা ক্ষমা চেয়ে নেওয়া অবশ্যকর্তব্য।
কোনো অন্যায় করার পর ভুল বুঝতে পারলে তখনই আল্লাহর কাছে তওবা করুন। আল্লাহ সবাইকে তওবা করার নির্দেশ দিয়েছেন। তওবায় আল্লাহর নেয়ামত ও সন্তুষ্টি মেলে। আল্লাহর কাছে ক্ষমাপ্রার্থনা করে ফিরে যাওয়ার পথ তওবা। তওবাকারীকে আল্লাহ দান করেন অসংখ্য নিয়ামত।
আনাস ইবনে মালিক (রা.) বর্ণনা করেছেন যে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, আল্লাহ তাঁর বান্দার তওবায় সেই ব্যক্তির চেয়েও বেশি খুশি হন, যার উট গভীর মরুভূমিতে হারিয়ে যাওয়ার পর আবার সে তা ফিরে পায়। (বুখারি ও মুসলিম)
সাইয়েদুল ইসতেগফার পড়ে তওবা করুন, ‘আল্লাহুম্মা আন্তা রাব্বি লা ইলাহা ইল্লা আন্তা খালাক্কতানি ওয়া আনা আবদুকা ওয়া আনা আলা আহ্দিকা ওয়া ওয়াদিকা মাসতাতাতু আউজুবিকা মিন শাররি মা সানাতু আবুউলাকা বিনিমাতিকা আলাইয়্যা ওয়া আবুউলাকা বিজাম্বি ফাগফিরলি ফা-ইন্নাহু লা ইয়াগফিরুজ জুনুবা ইল্লা আন্তা।’
অর্থাৎ, ‘হে আল্লাহ! তুমিই আমার প্রতিপালক। তুমি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। তুমিই আমাকে সৃষ্টি করেছ। আমি তোমারই বান্দা। আমি যথাসাধ্যভাবে তোমার সঙ্গে প্রতিজ্ঞা ও অঙ্গীকারে আবদ্ধ। আমি আমার সব কৃতকর্মের কুফল থেকে তোমার কাছে আশ্রয় চাই। তুমি আমাকে তোমার যে নেয়ামত দিয়েছ, তা স্বীকার করছি। আর আমার করা গুনাহর কথাও স্বীকার করছি। তুমি আমাকে ক্ষমা করো। কারণ, তুমি ছাড়া আর কেউ (আমার) গুনাহ ক্ষমা করতে পারবে না।’
তাওবা কিভাবে করব
কৃত গুনাহের ওপর আন্তরিকভাবে অনুতপ্ত হয়ে গুনাহ আর না করার দৃঢ়সংকল্প নিয়ে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। এর জন্য তাওবার নিয়তে দুই রাকাত নামাজ পড়াও উত্তম। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ মুমিনদের প্রশংসা করতে গিয়ে তাদের তাওবার পদ্ধতিও বাতলে দিয়েছেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘আর যারা কোনো অশ্লীল কাজ করে ফেললে বা নিজেদের প্রতি জুলুম (গুনাহ) করলে আল্লাহকে স্মরণ করে এবং নিজেদের পাপের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে। আল্লাহ ছাড়া আর কে পাপ ক্ষমা করবে? এবং তারা যা করে ফেলে, জেনে-বুঝে তারা তা পুনরায় করতে থাকে না। এরা তারাই, যাদের পুরস্কার হলো তাদের রবের পক্ষ থেকে ক্ষমা এবং জান্নাত, যার পাদদেশে নদী প্রবাহিত; সেখানে তারা স্থায়ী হবে। আর সৎকর্মশীলদের পুরস্কার কতই না উত্তম!’ (সুরা : আলে ইমরান, আয়াত ১৩৫-১৩৬)
রাসুল (সা.) বলেছেন, কোনো ব্যক্তি গুনাহ করার পর উত্তমরূপে অজু করে দুই রাকাত নামাজ পড়ে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইলে আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দেন। (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ১৩৯৫)
অবশ্য অন্যের হক নষ্ট করার ক্ষেত্রে তার হক আদায় করা ছাড়া তাওবা কবুল হবে না। তাই কারো হক নষ্ট করে থাকলে তার হক আদায় করা ও তার কাছে ক্ষমা চাওয়া তাওবার পূর্বশর্ত।
তাওবার শর্ত
এ ছাড়া তাওবার আরো কিছু শর্ত আছে। যেমন: ১. কৃত পাপ কাজের ওপর অনুতপ্ত হওয়া, কাজটিকে প্রচণ্ডভাবে ঘৃণা করা। ২. পাপ কাজ সম্পূর্ণ পরিহার করা। ৩. ভবিষ্যতে পাপ কাজ না করার দৃঢ়সংকল্প করা। ৪. বান্দার হক নষ্ট করে থাকলে তা আদায় করা। ৫. শুধু আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য তাওবা করা; পার্থিব উদ্দেশ্যে নয়। মহান আল্লাহ আমাদের খাঁটিভাবে তাওবা করার তাওফিক দান করুন।
খাঁটি তাওবা করার নিয়ম
প্রত্যেক মানুষ গুনাহপ্রবণ। এটা মানুষের স্বভাবজাত বিষয়। কিন্তু মানুষের মধ্যে তারাই উত্তম, যারা গুনাহ হয়ে গেলে মহান আল্লাহর কাছে অনুতপ্ত হয়ে তাওবা করে নেয়। হাদিস শরিফে মহানবী (সা.) এমন মানুষদের উত্তম মানুষ বলে আখ্যা দিয়েছেন।
আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, মানুষ মাত্রই গুনাহগার (অপরাধী)। আর গুনাহগারদের মধ্যে তাওবাকারীরাই উত্তম। (তিরমিজি, হাদিস : ২৪৯৯)
তাই গুনাহ হয়ে গেলে আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ না হয়ে সঙ্গে সঙ্গে তাঁর কাছে তাওবা করে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ। মানুষ যখন তার ভুল বুঝতে পেরে অনুতপ্ত হয়, নিজেকে সুধরে নেওয়ার প্রত্যয়ে মহান আল্লাহর দরবারে খাঁটি মনে তাওবা করে, তখন মহান আল্লাহ তার তাওবা কবুল করেন।
পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘তবে যারা তাওবা করেছে এবং নিজেদের সংশোধন করেছে এবং সত্যকে সুস্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছে। অতএব, এদের তাওবা আমি কবুল করব। আর আমি অধিক তাওবা কবুলকারী, পরম দয়ালু।’
(সুরা : বাকারা, আয়াত : ১৬০)
অন্য আয়াতে মহান আল্লাহ বলেন, ‘অতঃপর সীমা লঙ্ঘন করার পর কেউ তাওবা করলে এবং নিজেকে সংশোধন করলে নিশ্চয়ই আল্লাহ তার তাওবা কবুল করবেন।
নিশ্চয়ই আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।’
(সুরা : মায়িদা, আয়াত : ৩৯)
এখন প্রশ্ন হলো, সঠিকভাবে তাওবা করব কিভাবে? এর উত্তম পদ্ধতি হাদিসের মধ্যেই আছে। আসমা ইবনুল হাকাম (রহ.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আলী (রা.)-কে বলতে শুনেছি, ... তিনি বলেন, আবু বকর (রা.) আমাকে একটি হাদিস বর্ণনা করলেন, মূলত তিনি সত্যই বলেছেন। তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি, যখন কোনো বান্দা কোনো রূপ গুনাহ করার পর উত্তমরূপে অজু করে দাঁড়িয়ে দুই রাকাত নামাজ আদায় করে এবং আল্লাহর কাছে গুনাহের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে, নিশ্চয়ই আল্লাহ তাকে ক্ষমা করেন। (আবু দাউদ, হাদিস : ১৫২১)
এই নামাজের অজু ও নামাজের মাঝখানে কোনো দুনিয়াবি কাজ বা কথা না বলা উত্তম।
কারণ হাদিস শরিফে ইরশাদ হয়েছে, আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি আমার মতো এ রকম অজু করবে, অতঃপর দুই রাকাত নামাজ আদায় করবে, এবং এর মাঝে দুনিয়ার কোনো খেয়াল করবে না, তার পূর্বের গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে। (বুখারি, হাদিস : ১৫৯)
নামাজ শেষে আল্লাহর তাসবিহ পড়বে, আল্লাহর প্রশংসা করবে এবং ইস্তিগফার পড়ে মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করবে।
তাওবার দোয়া : তাওবার শ্রেষ্ঠ দোয়া হলো সাইয়েদুল ইস্তিগফার। নিম্নে তার উচ্চারণসহ অর্থ তুলে ধরা হলো—‘আল্লাহুম্মা আনতা রব্বি, লা-ইলাহা ইল্লা আনতা খলাকতানি, ওয়া আনা আবদুকা, ওয়া আনা আলা আহদিকা, ওয়া ওয়া‘দিক মাসতাতা‘তু, আউজুবিকা মিন শাররি মা সনা‘তু, আবু-উ বিনি‘মাতিকা ওয়া আবু-উ বিজাম্বি ফাগফিরলি ইন্নাহু লা ইয়াগফিরুজ জুনুবা ইল্লা আনতা।’
অর্থ : হে আল্লাহ, আপনি আমার রব, আপনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই। আমাকে আপনি সৃষ্টি করেছেন, আমি আপনারই বান্দা। আমি যথাসাধ্য আপনার সঙ্গে কৃত প্রতিশ্রুতির ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকব। আমি আমার নিকৃষ্ট আমল থেকে আপনার কাছে আশ্রয় চাই, আপনার যে অসংখ্য নিয়ামত ভোগ করছি এ জন্য কৃতজ্ঞতা স্বীকার করছি। আমি আমার কৃত অপরাধ স্বীকার করছি। অতএব, আপনি আমাকে ক্ষমা করে দিন। বস্তুত আপনি ছাড়া অপরাধ ক্ষমা করার কেউ নেই।
(আবু দাউদ, হাদিস : ৫০৭০)
উল্লেখ্য, কারো এই দোয়া মুখস্থ করা সম্ভব না হলে সে নিজের ভাষায়ও মহান আল্লাহর কাছে কান্নাকাটি করে তাওবা করতে পারবে। ইনশাআল্লাহ মহান আল্লাহ ক্ষমা করে দেবেন।
আল্লাহর দিকে ফিরে আসুন
Come Back To Allah
Return to Allah
দুনিয়া ও আখিরাতে সফলতার জন্য এই লেকচারটা যথেষ্ট
আল্লাহর দিকে ফিরে আসুন
ফিরে আসুন আল্লাহর দেওয়া সরল পথে
তওবা: পাপ থেকে প্রত্যাবর্তন করার নাম
আরবি ‘তওবা’ শব্দের অর্থ ‘পাপ থেকে প্রত্যাবর্তন’। পবিত্র কোরআনে তওবা বিষয়টির ওপর অত্যন্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিগত পাপের জন্য অন্তরে অনুশোচনা ও সেই সঙ্গে ভবিষ্যতে সৎ জীবনযাপনের সংকল্পকেই ইসলামি পরিভাষায় তওবা বলা হয়। যে আন্তরিকভাবে তওবা করে তাকে ইসলাম নিষ্পাপ শিশুর সঙ্গে তুলনা করেছে।
পবিত্র কোরআনে সুরা তাহরিম-এর ৮ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, ‘হে বিশ্বাসীগণ! তোমরা আল্লাহর কাছে তওবা করো—বিশুদ্ধ তওবা; হয়তো তোমাদের প্রতিপালক তোমাদের মন্দ কাজগুলো মুছে দেবেন আর তোমাদের প্রবেশ করাবেন জান্নাতে, যার পাদদেশে নদী বইবে।’ সত্যিকার তওবা দিয়েই প্রকৃত ধর্মজীবনের সূচনা করা যায়। পীরের হাতে ‘তওবা পাঠ’ করে মুরিদ হওয়া একটি রেওয়াজে পরিণত হয়েছে। কিন্তু মনে রাখা দরকার, কোনো বিশেষ বাক্য উচ্চারণকে ইসলাম তওবা বলে মনে করে না। তওবা একটি মনস্তাত্ত্বিক পরিবর্তন, যার ফলে গোটা নৈতিক জীবনই নতুন খাতে বইতে শুরু করে। তওবা অর্থ হলো ফিরে আসা। মানুষ যখন ভুল পথে যায় বা বিপথগামী হয়, তখন সেখান থেকে সঠিক পথে বা ভালো পথে ফিরে আসাকে তওবা বলা হয়। তওবার পারিভাষিক অর্থ হলো লজ্জিত হওয়া। অর্থাৎ স্বীয় কৃতকর্মে লজ্জিত হয়ে সঠিক পথে ফিরে আসা।
তওবার জন্য করণীয় হলো, স্বীয় কৃতকর্মের প্রতি লজ্জিত ও অনুতপ্ত হওয়া, সেই অপরাধ আর না করার দৃঢ়প্রত্যয় ও সংকল্প গ্রহণ করা এবং নেক আমলের প্রতি বেশি মাত্রায় মনোযোগী হওয়া। তওবা সম্পর্কে কোরআনে রয়েছে, ‘হে ইমানদাররা, তোমরা আল্লাহর কাছে খাঁটি তওবা করো, আশা করা যায় তোমাদের রব তোমাদের পাপগুলো মোচন করবেন এবং তোমাদের এমন জান্নাতগুলোয় প্রবেশ করাবেন, যার তলদেশে ঝরনাগুলো প্রবহমান।’ (সুরা তাহরিম, আয়াত: ৮)।
‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা তওবাকারীদের ও পবিত্রতা অর্জনকারীদের ভালোবাসেন।’ (সুরা বাকারা, আয়াত: ২২২)।
‘(হে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আপনি বলুন, (আল্লাহ বলেন) হে আমার বান্দারা! যারা নিজেদের সত্তার প্রতি সীমাহীন জুলুম করেছ, তোমরা আল্লাহর রহমত হতে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা সব গুনাহ ক্ষমা করে দেবেন; নিশ্চয়ই তিনি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।’ (সুরা জুমার, আয়াত: ৫৩)।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘হে মানব সকল! তোমরা আল্লাহর দিকে ফিরে আসো, নিশ্চয় আমি প্রতিদিন ১০০ বার তওবা করি।’ (মুসলিম)। তিনি আরও বলেন, ‘সকল আদম সন্তানই গুনাহগার, গুনাহগারদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হলো তওবাকারীরা। (তিরমিজি, ইবনে মাজা, দারেমি)। তওবার সুফল সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘গুনাহ থেকে তওবাকারী, বেগুনাহ ব্যক্তির মতো।’ (ইবনে মাজা, বায়হাকি)।
আল্লাহর হক আল্লাহ ক্ষমা করবেন; কিন্তু বান্দার হক বান্দা ক্ষমা না করলে আল্লাহ ক্ষমা করবেন না। তাই তাওবা ইস্তিগফারের সঙ্গে সঙ্গে বান্দার হক পরিশোধ করা বা ক্ষমা চেয়ে নেওয়া অবশ্যকর্তব্য।
কোনো অন্যায় করার পর ভুল বুঝতে পারলে তখনই আল্লাহর কাছে তওবা করুন। আল্লাহ সবাইকে তওবা করার নির্দেশ দিয়েছেন। তওবায় আল্লাহর নেয়ামত ও সন্তুষ্টি মেলে। আল্লাহর কাছে ক্ষমাপ্রার্থনা করে ফিরে যাওয়ার পথ তওবা। তওবাকারীকে আল্লাহ দান করেন অসংখ্য নিয়ামত।
আনাস ইবনে মালিক (রা.) বর্ণনা করেছেন যে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, আল্লাহ তাঁর বান্দার তওবায় সেই ব্যক্তির চেয়েও বেশি খুশি হন, যার উট গভীর মরুভূমিতে হারিয়ে যাওয়ার পর আবার সে তা ফিরে পায়। (বুখারি ও মুসলিম)
সাইয়েদুল ইসতেগফার পড়ে তওবা করুন, ‘আল্লাহুম্মা আন্তা রাব্বি লা ইলাহা ইল্লা আন্তা খালাক্কতানি ওয়া আনা আবদুকা ওয়া আনা আলা আহ্দিকা ওয়া ওয়াদিকা মাসতাতাতু আউজুবিকা মিন শাররি মা সানাতু আবুউলাকা বিনিমাতিকা আলাইয়্যা ওয়া আবুউলাকা বিজাম্বি ফাগফিরলি ফা-ইন্নাহু লা ইয়াগফিরুজ জুনুবা ইল্লা আন্তা।’
অর্থাৎ, ‘হে আল্লাহ! তুমিই আমার প্রতিপালক। তুমি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। তুমিই আমাকে সৃষ্টি করেছ। আমি তোমারই বান্দা। আমি যথাসাধ্যভাবে তোমার সঙ্গে প্রতিজ্ঞা ও অঙ্গীকারে আবদ্ধ। আমি আমার সব কৃতকর্মের কুফল থেকে তোমার কাছে আশ্রয় চাই। তুমি আমাকে তোমার যে নেয়ামত দিয়েছ, তা স্বীকার করছি। আর আমার করা গুনাহর কথাও স্বীকার করছি। তুমি আমাকে ক্ষমা করো। কারণ, তুমি ছাড়া আর কেউ (আমার) গুনাহ ক্ষমা করতে পারবে না।’
তাওবা কিভাবে করব
কৃত গুনাহের ওপর আন্তরিকভাবে অনুতপ্ত হয়ে গুনাহ আর না করার দৃঢ়সংকল্প নিয়ে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। এর জন্য তাওবার নিয়তে দুই রাকাত নামাজ পড়াও উত্তম। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ মুমিনদের প্রশংসা করতে গিয়ে তাদের তাওবার পদ্ধতিও বাতলে দিয়েছেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘আর যারা কোনো অশ্লীল কাজ করে ফেললে বা নিজেদের প্রতি জুলুম (গুনাহ) করলে আল্লাহকে স্মরণ করে এবং নিজেদের পাপের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে। আল্লাহ ছাড়া আর কে পাপ ক্ষমা করবে? এবং তারা যা করে ফেলে, জেনে-বুঝে তারা তা পুনরায় করতে থাকে না। এরা তারাই, যাদের পুরস্কার হলো তাদের রবের পক্ষ থেকে ক্ষমা এবং জান্নাত, যার পাদদেশে নদী প্রবাহিত; সেখানে তারা স্থায়ী হবে। আর সৎকর্মশীলদের পুরস্কার কতই না উত্তম!’ (সুরা : আলে ইমরান, আয়াত ১৩৫-১৩৬)
রাসুল (সা.) বলেছেন, কোনো ব্যক্তি গুনাহ করার পর উত্তমরূপে অজু করে দুই রাকাত নামাজ পড়ে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইলে আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দেন। (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ১৩৯৫)
অবশ্য অন্যের হক নষ্ট করার ক্ষেত্রে তার হক আদায় করা ছাড়া তাওবা কবুল হবে না। তাই কারো হক নষ্ট করে থাকলে তার হক আদায় করা ও তার কাছে ক্ষমা চাওয়া তাওবার পূর্বশর্ত।
তাওবার শর্ত
এ ছাড়া তাওবার আরো কিছু শর্ত আছে। যেমন: ১. কৃত পাপ কাজের ওপর অনুতপ্ত হওয়া, কাজটিকে প্রচণ্ডভাবে ঘৃণা করা। ২. পাপ কাজ সম্পূর্ণ পরিহার করা। ৩. ভবিষ্যতে পাপ কাজ না করার দৃঢ়সংকল্প করা। ৪. বান্দার হক নষ্ট করে থাকলে তা আদায় করা। ৫. শুধু আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য তাওবা করা; পার্থিব উদ্দেশ্যে নয়। মহান আল্লাহ আমাদের খাঁটিভাবে তাওবা করার তাওফিক দান করুন।
খাঁটি তাওবা করার নিয়ম
প্রত্যেক মানুষ গুনাহপ্রবণ। এটা মানুষের স্বভাবজাত বিষয়। কিন্তু মানুষের মধ্যে তারাই উত্তম, যারা গুনাহ হয়ে গেলে মহান আল্লাহর কাছে অনুতপ্ত হয়ে তাওবা করে নেয়। হাদিস শরিফে মহানবী (সা.) এমন মানুষদের উত্তম মানুষ বলে আখ্যা দিয়েছেন।
আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, মানুষ মাত্রই গুনাহগার (অপরাধী)। আর গুনাহগারদের মধ্যে তাওবাকারীরাই উত্তম। (তিরমিজি, হাদিস : ২৪৯৯)
তাই গুনাহ হয়ে গেলে আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ না হয়ে সঙ্গে সঙ্গে তাঁর কাছে তাওবা করে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ। মানুষ যখন তার ভুল বুঝতে পেরে অনুতপ্ত হয়, নিজেকে সুধরে নেওয়ার প্রত্যয়ে মহান আল্লাহর দরবারে খাঁটি মনে তাওবা করে, তখন মহান আল্লাহ তার তাওবা কবুল করেন।
পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘তবে যারা তাওবা করেছে এবং নিজেদের সংশোধন করেছে এবং সত্যকে সুস্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছে। অতএব, এদের তাওবা আমি কবুল করব। আর আমি অধিক তাওবা কবুলকারী, পরম দয়ালু।’
(সুরা : বাকারা, আয়াত : ১৬০)
অন্য আয়াতে মহান আল্লাহ বলেন, ‘অতঃপর সীমা লঙ্ঘন করার পর কেউ তাওবা করলে এবং নিজেকে সংশোধন করলে নিশ্চয়ই আল্লাহ তার তাওবা কবুল করবেন।
নিশ্চয়ই আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।’
(সুরা : মায়িদা, আয়াত : ৩৯)
এখন প্রশ্ন হলো, সঠিকভাবে তাওবা করব কিভাবে? এর উত্তম পদ্ধতি হাদিসের মধ্যেই আছে। আসমা ইবনুল হাকাম (রহ.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আলী (রা.)-কে বলতে শুনেছি, ... তিনি বলেন, আবু বকর (রা.) আমাকে একটি হাদিস বর্ণনা করলেন, মূলত তিনি সত্যই বলেছেন। তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি, যখন কোনো বান্দা কোনো রূপ গুনাহ করার পর উত্তমরূপে অজু করে দাঁড়িয়ে দুই রাকাত নামাজ আদায় করে এবং আল্লাহর কাছে গুনাহের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে, নিশ্চয়ই আল্লাহ তাকে ক্ষমা করেন। (আবু দাউদ, হাদিস : ১৫২১)
এই নামাজের অজু ও নামাজের মাঝখানে কোনো দুনিয়াবি কাজ বা কথা না বলা উত্তম।
কারণ হাদিস শরিফে ইরশাদ হয়েছে, আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি আমার মতো এ রকম অজু করবে, অতঃপর দুই রাকাত নামাজ আদায় করবে, এবং এর মাঝে দুনিয়ার কোনো খেয়াল করবে না, তার পূর্বের গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে। (বুখারি, হাদিস : ১৫৯)
নামাজ শেষে আল্লাহর তাসবিহ পড়বে, আল্লাহর প্রশংসা করবে এবং ইস্তিগফার পড়ে মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করবে।
তাওবার দোয়া : তাওবার শ্রেষ্ঠ দোয়া হলো সাইয়েদুল ইস্তিগফার। নিম্নে তার উচ্চারণসহ অর্থ তুলে ধরা হলো—‘আল্লাহুম্মা আনতা রব্বি, লা-ইলাহা ইল্লা আনতা খলাকতানি, ওয়া আনা আবদুকা, ওয়া আনা আলা আহদিকা, ওয়া ওয়া‘দিক মাসতাতা‘তু, আউজুবিকা মিন শাররি মা সনা‘তু, আবু-উ বিনি‘মাতিকা ওয়া আবু-উ বিজাম্বি ফাগফিরলি ইন্নাহু লা ইয়াগফিরুজ জুনুবা ইল্লা আনতা।’
অর্থ : হে আল্লাহ, আপনি আমার রব, আপনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই। আমাকে আপনি সৃষ্টি করেছেন, আমি আপনারই বান্দা। আমি যথাসাধ্য আপনার সঙ্গে কৃত প্রতিশ্রুতির ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকব। আমি আমার নিকৃষ্ট আমল থেকে আপনার কাছে আশ্রয় চাই, আপনার যে অসংখ্য নিয়ামত ভোগ করছি এ জন্য কৃতজ্ঞতা স্বীকার করছি। আমি আমার কৃত অপরাধ স্বীকার করছি। অতএব, আপনি আমাকে ক্ষমা করে দিন। বস্তুত আপনি ছাড়া অপরাধ ক্ষমা করার কেউ নেই।
(আবু দাউদ, হাদিস : ৫০৭০)
উল্লেখ্য, কারো এই দোয়া মুখস্থ করা সম্ভব না হলে সে নিজের ভাষায়ও মহান আল্লাহর কাছে কান্নাকাটি করে তাওবা করতে পারবে। ইনশাআল্লাহ মহান আল্লাহ ক্ষমা করে দেবেন।
আল্লাহর দিকে ফিরে আসুন
Come Back To Allah
Return to Allah
দুনিয়া ও আখিরাতে সফলতার জন্য এই লেকচারটা যথেষ্ট
আল্লাহর দিকে ফিরে আসুন
ফিরে আসুন আল্লাহর দেওয়া সরল পথে
তওবা: পাপ থেকে প্রত্যাবর্তন করার নাম
আরবি ‘তওবা’ শব্দের অর্থ ‘পাপ থেকে প্রত্যাবর্তন’। পবিত্র কোরআনে তওবা বিষয়টির ওপর অত্যন্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিগত পাপের জন্য অন্তরে অনুশোচনা ও সেই সঙ্গে ভবিষ্যতে সৎ জীবনযাপনের সংকল্পকেই ইসলামি পরিভাষায় তওবা বলা হয়। যে আন্তরিকভাবে তওবা করে তাকে ইসলাম নিষ্পাপ শিশুর সঙ্গে তুলনা করেছে।
পবিত্র কোরআনে সুরা তাহরিম-এর ৮ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, ‘হে বিশ্বাসীগণ! তোমরা আল্লাহর কাছে তওবা করো—বিশুদ্ধ তওবা; হয়তো তোমাদের প্রতিপালক তোমাদের মন্দ কাজগুলো মুছে দেবেন আর তোমাদের প্রবেশ করাবেন জান্নাতে, যার পাদদেশে নদী বইবে।’ সত্যিকার তওবা দিয়েই প্রকৃত ধর্মজীবনের সূচনা করা যায়। পীরের হাতে ‘তওবা পাঠ’ করে মুরিদ হওয়া একটি রেওয়াজে পরিণত হয়েছে। কিন্তু মনে রাখা দরকার, কোনো বিশেষ বাক্য উচ্চারণকে ইসলাম তওবা বলে মনে করে না। তওবা একটি মনস্তাত্ত্বিক পরিবর্তন, যার ফলে গোটা নৈতিক জীবনই নতুন খাতে বইতে শুরু করে। তওবা অর্থ হলো ফিরে আসা। মানুষ যখন ভুল পথে যায় বা বিপথগামী হয়, তখন সেখান থেকে সঠিক পথে বা ভালো পথে ফিরে আসাকে তওবা বলা হয়। তওবার পারিভাষিক অর্থ হলো লজ্জিত হওয়া। অর্থাৎ স্বীয় কৃতকর্মে লজ্জিত হয়ে সঠিক পথে ফিরে আসা।
তওবার জন্য করণীয় হলো, স্বীয় কৃতকর্মের প্রতি লজ্জিত ও অনুতপ্ত হওয়া, সেই অপরাধ আর না করার দৃঢ়প্রত্যয় ও সংকল্প গ্রহণ করা এবং নেক আমলের প্রতি বেশি মাত্রায় মনোযোগী হওয়া। তওবা সম্পর্কে কোরআনে রয়েছে, ‘হে ইমানদাররা, তোমরা আল্লাহর কাছে খাঁটি তওবা করো, আশা করা যায় তোমাদের রব তোমাদের পাপগুলো মোচন করবেন এবং তোমাদের এমন জান্নাতগুলোয় প্রবেশ করাবেন, যার তলদেশে ঝরনাগুলো প্রবহমান।’ (সুরা তাহরিম, আয়াত: ৮)।
‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা তওবাকারীদের ও পবিত্রতা অর্জনকারীদের ভালোবাসেন।’ (সুরা বাকারা, আয়াত: ২২২)।
‘(হে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আপনি বলুন, (আল্লাহ বলেন) হে আমার বান্দারা! যারা নিজেদের সত্তার প্রতি সীমাহীন জুলুম করেছ, তোমরা আল্লাহর রহমত হতে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা সব গুনাহ ক্ষমা করে দেবেন; নিশ্চয়ই তিনি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।’ (সুরা জুমার, আয়াত: ৫৩)।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘হে মানব সকল! তোমরা আল্লাহর দিকে ফিরে আসো, নিশ্চয় আমি প্রতিদিন ১০০ বার তওবা করি।’ (মুসলিম)। তিনি আরও বলেন, ‘সকল আদম সন্তানই গুনাহগার, গুনাহগারদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হলো তওবাকারীরা। (তিরমিজি, ইবনে মাজা, দারেমি)। তওবার সুফল সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘গুনাহ থেকে তওবাকারী, বেগুনাহ ব্যক্তির মতো।’ (ইবনে মাজা, বায়হাকি)।
আল্লাহর হক আল্লাহ ক্ষমা করবেন; কিন্তু বান্দার হক বান্দা ক্ষমা না করলে আল্লাহ ক্ষমা করবেন না। তাই তাওবা ইস্তিগফারের সঙ্গে সঙ্গে বান্দার হক পরিশোধ করা বা ক্ষমা চেয়ে নেওয়া অবশ্যকর্তব্য।
কোনো অন্যায় করার পর ভুল বুঝতে পারলে তখনই আল্লাহর কাছে তওবা করুন। আল্লাহ সবাইকে তওবা করার নির্দেশ দিয়েছেন। তওবায় আল্লাহর নেয়ামত ও সন্তুষ্টি মেলে। আল্লাহর কাছে ক্ষমাপ্রার্থনা করে ফিরে যাওয়ার পথ তওবা। তওবাকারীকে আল্লাহ দান করেন অসংখ্য নিয়ামত।
আনাস ইবনে মালিক (রা.) বর্ণনা করেছেন যে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, আল্লাহ তাঁর বান্দার তওবায় সেই ব্যক্তির চেয়েও বেশি খুশি হন, যার উট গভীর মরুভূমিতে হারিয়ে যাওয়ার পর আবার সে তা ফিরে পায়। (বুখারি ও মুসলিম)
সাইয়েদুল ইসতেগফার পড়ে তওবা করুন, ‘আল্লাহুম্মা আন্তা রাব্বি লা ইলাহা ইল্লা আন্তা খালাক্কতানি ওয়া আনা আবদুকা ওয়া আনা আলা আহ্দিকা ওয়া ওয়াদিকা মাসতাতাতু আউজুবিকা মিন শাররি মা সানাতু আবুউলাকা বিনিমাতিকা আলাইয়্যা ওয়া আবুউলাকা বিজাম্বি ফাগফিরলি ফা-ইন্নাহু লা ইয়াগফিরুজ জুনুবা ইল্লা আন্তা।’
অর্থাৎ, ‘হে আল্লাহ! তুমিই আমার প্রতিপালক। তুমি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। তুমিই আমাকে সৃষ্টি করেছ। আমি তোমারই বান্দা। আমি যথাসাধ্যভাবে তোমার সঙ্গে প্রতিজ্ঞা ও অঙ্গীকারে আবদ্ধ। আমি আমার সব কৃতকর্মের কুফল থেকে তোমার কাছে আশ্রয় চাই। তুমি আমাকে তোমার যে নেয়ামত দিয়েছ, তা স্বীকার করছি। আর আমার করা গুনাহর কথাও স্বীকার করছি। তুমি আমাকে ক্ষমা করো। কারণ, তুমি ছাড়া আর কেউ (আমার) গুনাহ ক্ষমা করতে পারবে না।’
তাওবা কিভাবে করব
কৃত গুনাহের ওপর আন্তরিকভাবে অনুতপ্ত হয়ে গুনাহ আর না করার দৃঢ়সংকল্প নিয়ে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। এর জন্য তাওবার নিয়তে দুই রাকাত নামাজ পড়াও উত্তম। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ মুমিনদের প্রশংসা করতে গিয়ে তাদের তাওবার পদ্ধতিও বাতলে দিয়েছেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘আর যারা কোনো অশ্লীল কাজ করে ফেললে বা নিজেদের প্রতি জুলুম (গুনাহ) করলে আল্লাহকে স্মরণ করে এবং নিজেদের পাপের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে। আল্লাহ ছাড়া আর কে পাপ ক্ষমা করবে? এবং তারা যা করে ফেলে, জেনে-বুঝে তারা তা পুনরায় করতে থাকে না। এরা তারাই, যাদের পুরস্কার হলো তাদের রবের পক্ষ থেকে ক্ষমা এবং জান্নাত, যার পাদদেশে নদী প্রবাহিত; সেখানে তারা স্থায়ী হবে। আর সৎকর্মশীলদের পুরস্কার কতই না উত্তম!’ (সুরা : আলে ইমরান, আয়াত ১৩৫-১৩৬)
রাসুল (সা.) বলেছেন, কোনো ব্যক্তি গুনাহ করার পর উত্তমরূপে অজু করে দুই রাকাত নামাজ পড়ে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইলে আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দেন। (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ১৩৯৫)
অবশ্য অন্যের হক নষ্ট করার ক্ষেত্রে তার হক আদায় করা ছাড়া তাওবা কবুল হবে না। তাই কারো হক নষ্ট করে থাকলে তার হক আদায় করা ও তার কাছে ক্ষমা চাওয়া তাওবার পূর্বশর্ত।
তাওবার শর্ত
এ ছাড়া তাওবার আরো কিছু শর্ত আছে। যেমন: ১. কৃত পাপ কাজের ওপর অনুতপ্ত হওয়া, কাজটিকে প্রচণ্ডভাবে ঘৃণা করা। ২. পাপ কাজ সম্পূর্ণ পরিহার করা। ৩. ভবিষ্যতে পাপ কাজ না করার দৃঢ়সংকল্প করা। ৪. বান্দার হক নষ্ট করে থাকলে তা আদায় করা। ৫. শুধু আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য তাওবা করা; পার্থিব উদ্দেশ্যে নয়। মহান আল্লাহ আমাদের খাঁটিভাবে তাওবা করার তাওফিক দান করুন।
খাঁটি তাওবা করার নিয়ম
প্রত্যেক মানুষ গুনাহপ্রবণ। এটা মানুষের স্বভাবজাত বিষয়। কিন্তু মানুষের মধ্যে তারাই উত্তম, যারা গুনাহ হয়ে গেলে মহান আল্লাহর কাছে অনুতপ্ত হয়ে তাওবা করে নেয়। হাদিস শরিফে মহানবী (সা.) এমন মানুষদের উত্তম মানুষ বলে আখ্যা দিয়েছেন।
আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, মানুষ মাত্রই গুনাহগার (অপরাধী)। আর গুনাহগারদের মধ্যে তাওবাকারীরাই উত্তম। (তিরমিজি, হাদিস : ২৪৯৯)
তাই গুনাহ হয়ে গেলে আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ না হয়ে সঙ্গে সঙ্গে তাঁর কাছে তাওবা করে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ। মানুষ যখন তার ভুল বুঝতে পেরে অনুতপ্ত হয়, নিজেকে সুধরে নেওয়ার প্রত্যয়ে মহান আল্লাহর দরবারে খাঁটি মনে তাওবা করে, তখন মহান আল্লাহ তার তাওবা কবুল করেন।
পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘তবে যারা তাওবা করেছে এবং নিজেদের সংশোধন করেছে এবং সত্যকে সুস্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছে। অতএব, এদের তাওবা আমি কবুল করব। আর আমি অধিক তাওবা কবুলকারী, পরম দয়ালু।’
(সুরা : বাকারা, আয়াত : ১৬০)
অন্য আয়াতে মহান আল্লাহ বলেন, ‘অতঃপর সীমা লঙ্ঘন করার পর কেউ তাওবা করলে এবং নিজেকে সংশোধন করলে নিশ্চয়ই আল্লাহ তার তাওবা কবুল করবেন।
নিশ্চয়ই আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।’
(সুরা : মায়িদা, আয়াত : ৩৯)
এখন প্রশ্ন হলো, সঠিকভাবে তাওবা করব কিভাবে? এর উত্তম পদ্ধতি হাদিসের মধ্যেই আছে। আসমা ইবনুল হাকাম (রহ.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আলী (রা.)-কে বলতে শুনেছি, ... তিনি বলেন, আবু বকর (রা.) আমাকে একটি হাদিস বর্ণনা করলেন, মূলত তিনি সত্যই বলেছেন। তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি, যখন কোনো বান্দা কোনো রূপ গুনাহ করার পর উত্তমরূপে অজু করে দাঁড়িয়ে দুই রাকাত নামাজ আদায় করে এবং আল্লাহর কাছে গুনাহের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে, নিশ্চয়ই আল্লাহ তাকে ক্ষমা করেন। (আবু দাউদ, হাদিস : ১৫২১)
এই নামাজের অজু ও নামাজের মাঝখানে কোনো দুনিয়াবি কাজ বা কথা না বলা উত্তম।
কারণ হাদিস শরিফে ইরশাদ হয়েছে, আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি আমার মতো এ রকম অজু করবে, অতঃপর দুই রাকাত নামাজ আদায় করবে, এবং এর মাঝে দুনিয়ার কোনো খেয়াল করবে না, তার পূর্বের গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে। (বুখারি, হাদিস : ১৫৯)
নামাজ শেষে আল্লাহর তাসবিহ পড়বে, আল্লাহর প্রশংসা করবে এবং ইস্তিগফার পড়ে মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করবে।
তাওবার দোয়া : তাওবার শ্রেষ্ঠ দোয়া হলো সাইয়েদুল ইস্তিগফার। নিম্নে তার উচ্চারণসহ অর্থ তুলে ধরা হলো—‘আল্লাহুম্মা আনতা রব্বি, লা-ইলাহা ইল্লা আনতা খলাকতানি, ওয়া আনা আবদুকা, ওয়া আনা আলা আহদিকা, ওয়া ওয়া‘দিক মাসতাতা‘তু, আউজুবিকা মিন শাররি মা সনা‘তু, আবু-উ বিনি‘মাতিকা ওয়া আবু-উ বিজাম্বি ফাগফিরলি ইন্নাহু লা ইয়াগফিরুজ জুনুবা ইল্লা আনতা।’
অর্থ : হে আল্লাহ, আপনি আমার রব, আপনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই। আমাকে আপনি সৃষ্টি করেছেন, আমি আপনারই বান্দা। আমি যথাসাধ্য আপনার সঙ্গে কৃত প্রতিশ্রুতির ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকব। আমি আমার নিকৃষ্ট আমল থেকে আপনার কাছে আশ্রয় চাই, আপনার যে অসংখ্য নিয়ামত ভোগ করছি এ জন্য কৃতজ্ঞতা স্বীকার করছি। আমি আমার কৃত অপরাধ স্বীকার করছি। অতএব, আপনি আমাকে ক্ষমা করে দিন। বস্তুত আপনি ছাড়া অপরাধ ক্ষমা করার কেউ নেই।
(আবু দাউদ, হাদিস : ৫০৭০)
উল্লেখ্য, কারো এই দোয়া মুখস্থ করা সম্ভব না হলে সে নিজের ভাষায়ও মহান আল্লাহর কাছে কান্নাকাটি করে তাওবা করতে পারবে। ইনশাআল্লাহ মহান আল্লাহ ক্ষমা করে দেবেন।
আল্লাহর দিকে ফিরে আসুন
Come Back To Allah
Return to Allah