“Do not be deceived—one sin will send you to hell as fast as a thousand [1 Corinthians 6:9-10].” —William Gurnall, in The Christian In Complete Armor

seen from Germany
seen from Russia

seen from United States

seen from United States
seen from Germany
seen from South Africa

seen from United States
seen from United States

seen from Germany
seen from Yemen
seen from United States

seen from United States
seen from China

seen from Italy

seen from South Africa
seen from United Kingdom

seen from Yemen
seen from United Kingdom

seen from Yemen
seen from Yemen
“Do not be deceived—one sin will send you to hell as fast as a thousand [1 Corinthians 6:9-10].” —William Gurnall, in The Christian In Complete Armor
Is one of the reasons for the ineffectiveness of Christians in today’s culture a result of the Bible, God’s word, becoming passé in so many churches? How important is biblical literacy for Christians? Listen in as I share my fifth installment of What Happened to the Church?
শয়তানের ধোঁকা
Satan's deception
জারির আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন, বনী ইসরাইলের এক নারী বকরি চরাত। তার ছিল চার ভাই। রাতের বেলা সে ধর্মযাজকের উপাসনালয়ে এসে আশ্রয় নিত। একদিন এক যাজক এসে তার সঙ্গে সংসর্গ করে। এতে সেই নারী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। শয়তান এসে প্ররোচনা দিয়ে বলে, ‘ওই নারীকে খুন করে মাটিচাপা দাও। লোকে তো তোমাকে বিশ্বাস করে। তারা তোমার কথা শুনবে।’ শয়তানের প্ররোচনায় সে নারীকে খুন করে এবং মাটিচাপা দিল। এবার শয়তান স্বপ্নে নারীর ভাইদের কাছে উপস্থিত হয়। তাদেরকে বলে, উপাসনালয়ের যাজক তোমাদের বোনের সঙ্গে অন্যায় করেছে এবং সে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ায় তাকে খুন করে অমুক স্থানে মাটিচাপা দিয়েছে।
সকাল হলে ভাইদের একজন বলল, ‘আল্লাহর কসম! গত রাতে আমি এক আশ্চর্যজনক স্বপ্ন দেখি, সেটি তোমাদের বলব কি বলব না তা স্থির করতে পারছি না।’ অন্য ভাই বলল, ‘তুমি বরং ওই স্বপ্নের কথা আমাদের বলো।’ সে তা বর্ণনা করল। আরেক ভাই বলল, ‘আমিও স্বপ্নে তা–ই দেখেছি।’ তৃতীয়জন বলল, ‘আমিও তা–ই দেখেছি।’ তখন তারা বলাবলি করে, নিশ্চয়ই এর মধ্যে কোনো রহস্য আছে।
তারা সবাই তাদের শাসনকর্তাকে যাজকের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নিতে উদ্বুদ্ধ করে। তারপর সবাই যাজকের কাছে যায়। তাকে উপাসনালয় থেকে নামিয়ে আনে। এ সময় শয়তান যাজকের কাছে উপস্থিত হয়ে বলে, ‘আমি তোমাকে এ বিপদে ফেলেছি। আমি ছাড়া কেউ তোমাকে এখান থেকে উদ্ধার করতে পারবে না। সুতরাং তুমি আমাকে একটি সিজদা করো; আমি তোমাকে যে বিপদে ফেলেছি তা থেকে উদ্ধার করব।’ তারপর যাজক তাকে সিজদা করল।
তারপর শাস্তি বিধানের জন্য যখন শাসনকর্তার কাছে তাকে নিয়ে গেল। তখন শয়তান ওই জায়গা থেকে সরে পড়ল এই বলে, ‘তোমার সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই। আমি তো জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহকে ভয় করি।’ আর তাদের পরিণতি সম্পর্কে সুরা হাশরের ১৭ নম্বর আয়াতে আল্লাহ বলেন, ‘শেষে অবিশ্বাসী ও মুনাফিক উভয়ের পরিণাম হবে জাহান্নাম। সেখানে তারা চিরকাল থাকবে, আর এটাই সীমালঙ্ঘনকারীদের কর্মফল।’ (আল–বিদায়া ওয়ান নিহায়া, খণ্ড ২)
পবিত্র কোরআনে আছে, ‘তাদের তুলনা সেই শয়তান, যে মানুষকে বলে—অবিশ্বাস করো। তারপর যখন সে অবিশ্বাস করে, তখন শয়তান বলে—তোমার সঙ্গে তো আমার কোনো সম্পর্ক নেই, আমি তো বিশ্ব প্রতিপালক আল্লাহকে ভয় করি।’ (সুরা হাশর, আয়াত: ১৬)
শয়তানের ধোঁকার পর আল্লাহর ক্ষমা
আল্লাহ তাআলা কুরআনে পাকের অনেক আয়াতে শয়তানকে মানুষের প্রকাশ্য দুশমন হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। শয়তানের ধোঁকা ও প্রতারণা থেকে মুক্ত থাকতে দিয়েছেন অনেক দিক-নির্দেশনা এবং সতর্কতা। তারপর মানুষ শয়তানের ধোঁকা এবং প্রতারণার শিকার হয়।
কোনো মানুষ যদি শয়তানের ধোঁকা বা প্রতারণার ফাঁদে পড়ে যায় এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে অথবা শয়তানের প্ররোচনায় নিজেকে না জড়ায় আল্লাহ তাআলা ওই বান্দাকে ক্ষমা করে দেন অথবা নির্ধারিত কাজে শয়তানের প্ররোচনায় আক্রান্ত না হওয়ার কারণে ওই কাজে বরকত দান করেন। আল্লাহ তাআলা মানুষকে লক্ষ্য করে ঘোষণা করেন-
সুরা বাকারার ২৬৮নং আয়াতে আল্লাহ তাআলা মানুষকে শয়তানের ধোঁকা থেকে মুক্ত থাকার এবং তোঁর ক্ষমার ঘোষণা দেন।
আগের আয়াতে আল্লাহ তাআলা মানুষকে সর্বোত্তম দ্রব্য-সামগ্রী দানের ব্যাপারে নসিহত পেশ করেছেন। আর তাতে আল্লাহ তাআলা সম্পদে বরকত দান করবেন। এ আয়াতে সে দানের ব্যাপারে শয়তানের ধোঁকা এবং প্রতারণা থেকে নিজেদের হেফাজত করার নসিহত পেশ করেছেন।
আলোচ্য আয়াতে বলা হয়েছে, শয়তান তোমাদেরকে অভাবে ভয় দেখায় আর পাপাচারের নির্দেশ দেয়। নেক কাজে যদি সম্পদ ব্যয় করা হয় তবে শয়তান মানুষকে বিভিন্নভাবে ভীতি প্রদর্শন করে থাকে। সে বলে, তুমি যদি সম্পদ ব্যয় কর তবে অভাবী হয়ে যাবে; তোমার সম্পদে ঘাটতি হবে। পক্ষান্তরে অন্যায় কাজে ব্যয় করলে তখন শয়তান মানুষকে অতিমাত্রায় উৎসাহ যোগায়।
কোনো ব্যক্তি যদি ব্যক্তি ও সমাজের কল্যাণে, মাদ্রাসা বা দ্বীনি প্রতিষ্ঠানে, অভাবী অসহায় মানুষকে দান করার ইচ্ছা পোষণ করে বা দান করে; তখন শয়তান এ সব কাজে ব্যয়কারীকে বিভিন্নভাবে বিরত রাখতে প্ররোচনা দেয়। ফলে এ দানের জন্য ওই সব মানুষের কাছে বার যাতায়াত করার পরও দেব-দিচ্ছি বলে সময় ক্ষেপণ করে। আর এটা শয়তানের কুমন্ত্রণারই ফসল।
অথচ মানুষ অন্যায় ও অসামাজিক আচার-অনুষ্ঠানে বিনা হিসেবে খরচ করে থাকে। যাতে শয়তান মানুষকে আগ্রহ যোগায়। এ আয়াতে এ সব ব্যাপারে শয়তানের ধোঁকা থেকে বেঁচে থাকতে এবং আল্লাহর পথে ব্যয় করতে উদ্বুদ্ধ করতে ক্ষমা ও দানে বরকতের ঘোষণা প্রদান করেছেন।
শয়তানের ধোঁকা
Satan's deception
শয়তানের ধোঁকা
Satan's deception
জারির আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন, বনী ইসরাইলের এক নারী বকরি চরাত। তার ছিল চার ভাই। রাতের বেলা সে ধর্মযাজকের উপাসনালয়ে এসে আশ্রয় নিত। একদিন এক যাজক এসে তার সঙ্গে সংসর্গ করে। এতে সেই নারী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। শয়তান এসে প্ররোচনা দিয়ে বলে, ‘ওই নারীকে খুন করে মাটিচাপা দাও। লোকে তো তোমাকে বিশ্বাস করে। তারা তোমার কথা শুনবে।’ শয়তানের প্ররোচনায় সে নারীকে খুন করে এবং মাটিচাপা দিল। এবার শয়তান স্বপ্নে নারীর ভাইদের কাছে উপস্থিত হয়। তাদেরকে বলে, উপাসনালয়ের যাজক তোমাদের বোনের সঙ্গে অন্যায় করেছে এবং সে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ায় তাকে খুন করে অমুক স্থানে মাটিচাপা দিয়েছে।
সকাল হলে ভাইদের একজন বলল, ‘আল্লাহর কসম! গত রাতে আমি এক আশ্চর্যজনক স্বপ্ন দেখি, সেটি তোমাদের বলব কি বলব না তা স্থির করতে পারছি না।’ অন্য ভাই বলল, ‘তুমি বরং ওই স্বপ্নের কথা আমাদের বলো।’ সে তা বর্ণনা করল। আরেক ভাই বলল, ‘আমিও স্বপ্নে তা–ই দেখেছি।’ তৃতীয়জন বলল, ‘আমিও তা–ই দেখেছি।’ তখন তারা বলাবলি করে, নিশ্চয়ই এর মধ্যে কোনো রহস্য আছে।
তারা সবাই তাদের শাসনকর্তাকে যাজকের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নিতে উদ্বুদ্ধ করে। তারপর সবাই যাজকের কাছে যায়। তাকে উপাসনালয় থেকে নামিয়ে আনে। এ সময় শয়তান যাজকের কাছে উপস্থিত হয়ে বলে, ‘আমি তোমাকে এ বিপদে ফেলেছি। আমি ছাড়া কেউ তোমাকে এখান থেকে উদ্ধার করতে পারবে না। সুতরাং তুমি আমাকে একটি সিজদা করো; আমি তোমাকে যে বিপদে ফেলেছি তা থেকে উদ্ধার করব।’ তারপর যাজক তাকে সিজদা করল।
তারপর শাস্তি বিধানের জন্য যখন শাসনকর্তার কাছে তাকে নিয়ে গেল। তখন শয়তান ওই জায়গা থেকে সরে পড়ল এই বলে, ‘তোমার সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই। আমি তো জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহকে ভয় করি।’ আর তাদের পরিণতি সম্পর্কে সুরা হাশরের ১৭ নম্বর আয়াতে আল্লাহ বলেন, ‘শেষে অবিশ্বাসী ও মুনাফিক উভয়ের পরিণাম হবে জাহান্নাম। সেখানে তারা চিরকাল থাকবে, আর এটাই সীমালঙ্ঘনকারীদের কর্মফল।’ (আল–বিদায়া ওয়ান নিহায়া, খণ্ড ২)
পবিত্র কোরআনে আছে, ‘তাদের তুলনা সেই শয়তান, যে মানুষকে বলে—অবিশ্বাস করো। তারপর যখন সে অবিশ্বাস করে, তখন শয়তান বলে—তোমার সঙ্গে তো আমার কোনো সম্পর্ক নেই, আমি তো বিশ্ব প্রতিপালক আল্লাহকে ভয় করি।’ (সুরা হাশর, আয়াত: ১৬)
শয়তানের ধোঁকার পর আল্লাহর ক্ষমা
আল্লাহ তাআলা কুরআনে পাকের অনেক আয়াতে শয়তানকে মানুষের প্রকাশ্য দুশমন হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। শয়তানের ধোঁকা ও প্রতারণা থেকে মুক্ত থাকতে দিয়েছেন অনেক দিক-নির্দেশনা এবং সতর্কতা। তারপর মানুষ শয়তানের ধোঁকা এবং প্রতারণার শিকার হয়।
কোনো মানুষ যদি শয়তানের ধোঁকা বা প্রতারণার ফাঁদে পড়ে যায় এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে অথবা শয়তানের প্ররোচনায় নিজেকে না জড়ায় আল্লাহ তাআলা ওই বান্দাকে ক্ষমা করে দেন অথবা নির্ধারিত কাজে শয়তানের প্ররোচনায় আক্রান্ত না হওয়ার কারণে ওই কাজে বরকত দান করেন। আল্লাহ তাআলা মানুষকে লক্ষ্য করে ঘোষণা করেন-
সুরা বাকারার ২৬৮নং আয়াতে আল্লাহ তাআলা মানুষকে শয়তানের ধোঁকা থেকে মুক্ত থাকার এবং তোঁর ক্ষমার ঘোষণা দেন।
আগের আয়াতে আল্লাহ তাআলা মানুষকে সর্বোত্তম দ্রব্য-সামগ্রী দানের ব্যাপারে নসিহত পেশ করেছেন। আর তাতে আল্লাহ তাআলা সম্পদে বরকত দান করবেন। এ আয়াতে সে দানের ব্যাপারে শয়তানের ধোঁকা এবং প্রতারণা থেকে নিজেদের হেফাজত করার নসিহত পেশ করেছেন।
আলোচ্য আয়াতে বলা হয়েছে, শয়তান তোমাদেরকে অভাবে ভয় দেখায় আর পাপাচারের নির্দেশ দেয়। নেক কাজে যদি সম্পদ ব্যয় করা হয় তবে শয়তান মানুষকে বিভিন্নভাবে ভীতি প্রদর্শন করে থাকে। সে বলে, তুমি যদি সম্পদ ব্যয় কর তবে অভাবী হয়ে যাবে; তোমার সম্পদে ঘাটতি হবে। পক্ষান্তরে অন্যায় কাজে ব্যয় করলে তখন শয়তান মানুষকে অতিমাত্রায় উৎসাহ যোগায়।
কোনো ব্যক্তি যদি ব্যক্তি ও সমাজের কল্যাণে, মাদ্রাসা বা দ্বীনি প্রতিষ্ঠানে, অভাবী অসহায় মানুষকে দান করার ইচ্ছা পোষণ করে বা দান করে; তখন শয়তান এ সব কাজে ব্যয়কারীকে বিভিন্নভাবে বিরত রাখতে প্ররোচনা দেয়। ফলে এ দানের জন্য ওই সব মানুষের কাছে বার যাতায়াত করার পরও দেব-দিচ্ছি বলে সময় ক্ষেপণ করে। আর এটা শয়তানের কুমন্ত্রণারই ফসল।
অথচ মানুষ অন্যায় ও অসামাজিক আচার-অনুষ্ঠানে বিনা হিসেবে খরচ করে থাকে। যাতে শয়তান মানুষকে আগ্রহ যোগায়। এ আয়াতে এ সব ব্যাপারে শয়তানের ধোঁকা থেকে বেঁচে থাকতে এবং আল্লাহর পথে ব্যয় করতে উদ্বুদ্ধ করতে ক্ষমা ও দানে বরকতের ঘোষণা প্রদান করেছেন।
শয়তানের ধোঁকা
Satan's deception
শয়তানের ধোঁকা
Satan's deception
জারির আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন, বনী ইসরাইলের এক নারী বকরি চরাত। তার ছিল চার ভাই। রাতের বেলা সে ধর্মযাজকের উপাসনালয়ে এসে আশ্রয় নিত। একদিন এক যাজক এসে তার সঙ্গে সংসর্গ করে। এতে সেই নারী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। শয়তান এসে প্ররোচনা দিয়ে বলে, ‘ওই নারীকে খুন করে মাটিচাপা দাও। লোকে তো তোমাকে বিশ্বাস করে। তারা তোমার কথা শুনবে।’ শয়তানের প্ররোচনায় সে নারীকে খুন করে এবং মাটিচাপা দিল। এবার শয়তান স্বপ্নে নারীর ভাইদের কাছে উপস্থিত হয়। তাদেরকে বলে, উপাসনালয়ের যাজক তোমাদের বোনের সঙ্গে অন্যায় করেছে এবং সে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ায় তাকে খুন করে অমুক স্থানে মাটিচাপা দিয়েছে।
সকাল হলে ভাইদের একজন বলল, ‘আল্লাহর কসম! গত রাতে আমি এক আশ্চর্যজনক স্বপ্ন দেখি, সেটি তোমাদের বলব কি বলব না তা স্থির করতে পারছি না।’ অন্য ভাই বলল, ‘তুমি বরং ওই স্বপ্নের কথা আমাদের বলো।’ সে তা বর্ণনা করল। আরেক ভাই বলল, ‘আমিও স্বপ্নে তা–ই দেখেছি।’ তৃতীয়জন বলল, ‘আমিও তা–ই দেখেছি।’ তখন তারা বলাবলি করে, নিশ্চয়ই এর মধ্যে কোনো রহস্য আছে।
তারা সবাই তাদের শাসনকর্তাকে যাজকের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নিতে উদ্বুদ্ধ করে। তারপর সবাই যাজকের কাছে যায়। তাকে উপাসনালয় থেকে নামিয়ে আনে। এ সময় শয়তান যাজকের কাছে উপস্থিত হয়ে বলে, ‘আমি তোমাকে এ বিপদে ফেলেছি। আমি ছাড়া কেউ তোমাকে এখান থেকে উদ্ধার করতে পারবে না। সুতরাং তুমি আমাকে একটি সিজদা করো; আমি তোমাকে যে বিপদে ফেলেছি তা থেকে উদ্ধার করব।’ তারপর যাজক তাকে সিজদা করল।
তারপর শাস্তি বিধানের জন্য যখন শাসনকর্তার কাছে তাকে নিয়ে গেল। তখন শয়তান ওই জায়গা থেকে সরে পড়ল এই বলে, ‘তোমার সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই। আমি তো জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহকে ভয় করি।’ আর তাদের পরিণতি সম্পর্কে সুরা হাশরের ১৭ নম্বর আয়াতে আল্লাহ বলেন, ‘শেষে অবিশ্বাসী ও মুনাফিক উভয়ের পরিণাম হবে জাহান্নাম। সেখানে তারা চিরকাল থাকবে, আর এটাই সীমালঙ্ঘনকারীদের কর্মফল।’ (আল–বিদায়া ওয়ান নিহায়া, খণ্ড ২)
পবিত্র কোরআনে আছে, ‘তাদের তুলনা সেই শয়তান, যে মানুষকে বলে—অবিশ্বাস করো। তারপর যখন সে অবিশ্বাস করে, তখন শয়তান বলে—তোমার সঙ্গে তো আমার কোনো সম্পর্ক নেই, আমি তো বিশ্ব প্রতিপালক আল্লাহকে ভয় করি।’ (সুরা হাশর, আয়াত: ১৬)
শয়তানের ধোঁকার পর আল্লাহর ক্ষমা
আল্লাহ তাআলা কুরআনে পাকের অনেক আয়াতে শয়তানকে মানুষের প্রকাশ্য দুশমন হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। শয়তানের ধোঁকা ও প্রতারণা থেকে মুক্ত থাকতে দিয়েছেন অনেক দিক-নির্দেশনা এবং সতর্কতা। তারপর মানুষ শয়তানের ধোঁকা এবং প্রতারণার শিকার হয়।
কোনো মানুষ যদি শয়তানের ধোঁকা বা প্রতারণার ফাঁদে পড়ে যায় এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে অথবা শয়তানের প্ররোচনায় নিজেকে না জড়ায় আল্লাহ তাআলা ওই বান্দাকে ক্ষমা করে দেন অথবা নির্ধারিত কাজে শয়তানের প্ররোচনায় আক্রান্ত না হওয়ার কারণে ওই কাজে বরকত দান করেন। আল্লাহ তাআলা মানুষকে লক্ষ্য করে ঘোষণা করেন-
সুরা বাকারার ২৬৮নং আয়াতে আল্লাহ তাআলা মানুষকে শয়তানের ধোঁকা থেকে মুক্ত থাকার এবং তোঁর ক্ষমার ঘোষণা দেন।
আগের আয়াতে আল্লাহ তাআলা মানুষকে সর্বোত্তম দ্রব্য-সামগ্রী দানের ব্যাপারে নসিহত পেশ করেছেন। আর তাতে আল্লাহ তাআলা সম্পদে বরকত দান করবেন। এ আয়াতে সে দানের ব্যাপারে শয়তানের ধোঁকা এবং প্রতারণা থেকে নিজেদের হেফাজত করার নসিহত পেশ করেছেন।
আলোচ্য আয়াতে বলা হয়েছে, শয়তান তোমাদেরকে অভাবে ভয় দেখায় আর পাপাচারের নির্দেশ দেয়। নেক কাজে যদি সম্পদ ব্যয় করা হয় তবে শয়তান মানুষকে বিভিন্নভাবে ভীতি প্রদর্শন করে থাকে। সে বলে, তুমি যদি সম্পদ ব্যয় কর তবে অভাবী হয়ে যাবে; তোমার সম্পদে ঘাটতি হবে। পক্ষান্তরে অন্যায় কাজে ব্যয় করলে তখন শয়তান মানুষকে অতিমাত্রায় উৎসাহ যোগায়।
কোনো ব্যক্তি যদি ব্যক্তি ও সমাজের কল্যাণে, মাদ্রাসা বা দ্বীনি প্রতিষ্ঠানে, অভাবী অসহায় মানুষকে দান করার ইচ্ছা পোষণ করে বা দান করে; তখন শয়তান এ সব কাজে ব্যয়কারীকে বিভিন্নভাবে বিরত রাখতে প্ররোচনা দেয়। ফলে এ দানের জন্য ওই সব মানুষের কাছে বার যাতায়াত করার পরও দেব-দিচ্ছি বলে সময় ক্ষেপণ করে। আর এটা শয়তানের কুমন্ত্রণারই ফসল।
অথচ মানুষ অন্যায় ও অসামাজিক আচার-অনুষ্ঠানে বিনা হিসেবে খরচ করে থাকে। যাতে শয়তান মানুষকে আগ্রহ যোগায়। এ আয়াতে এ সব ব্যাপারে শয়তানের ধোঁকা থেকে বেঁচে থাকতে এবং আল্লাহর পথে ব্যয় করতে উদ্বুদ্ধ করতে ক্ষমা ও দানে বরকতের ঘোষণা প্রদান করেছেন।
শয়তানের ধোঁকা
Satan's deception
শয়তানেরধোঁকা
শয়তানের ধোঁকা
Satan's deception
জারির আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন, বনী ইসরাইলের এক নারী বকরি চরাত। তার ছিল চার ভাই। রাতের বেলা সে ধর্মযাজকের উপাসনালয়ে এসে আশ্রয় নিত। একদিন এক যাজক এসে তার সঙ্গে সংসর্গ করে। এতে সেই নারী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। শয়তান এসে প্ররোচনা দিয়ে বলে, ‘ওই নারীকে খুন করে মাটিচাপা দাও। লোকে তো তোমাকে বিশ্বাস করে। তারা তোমার কথা শুনবে।’ শয়তানের প্ররোচনায় সে নারীকে খুন করে এবং মাটিচাপা দিল। এবার শয়তান স্বপ্নে নারীর ভাইদের কাছে উপস্থিত হয়। তাদেরকে বলে, উপাসনালয়ের যাজক তোমাদের বোনের সঙ্গে অন্যায় করেছে এবং সে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ায় তাকে খুন করে অমুক স্থানে মাটিচাপা দিয়েছে।
সকাল হলে ভাইদের একজন বলল, ‘আল্লাহর কসম! গত রাতে আমি এক আশ্চর্যজনক স্বপ্ন দেখি, সেটি তোমাদের বলব কি বলব না তা স্থির করতে পারছি না।’ অন্য ভাই বলল, ‘তুমি বরং ওই স্বপ্নের কথা আমাদের বলো।’ সে তা বর্ণনা করল। আরেক ভাই বলল, ‘আমিও স্বপ্নে তা–ই দেখেছি।’ তৃতীয়জন বলল, ‘আমিও তা–ই দেখেছি।’ তখন তারা বলাবলি করে, নিশ্চয়ই এর মধ্যে কোনো রহস্য আছে।
তারা সবাই তাদের শাসনকর্তাকে যাজকের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নিতে উদ্বুদ্ধ করে। তারপর সবাই যাজকের কাছে যায়। তাকে উপাসনালয় থেকে নামিয়ে আনে। এ সময় শয়তান যাজকের কাছে উপস্থিত হয়ে বলে, ‘আমি তোমাকে এ বিপদে ফেলেছি। আমি ছাড়া কেউ তোমাকে এখান থেকে উদ্ধার করতে পারবে না। সুতরাং তুমি আমাকে একটি সিজদা করো; আমি তোমাকে যে বিপদে ফেলেছি তা থেকে উদ্ধার করব।’ তারপর যাজক তাকে সিজদা করল।
তারপর শাস্তি বিধানের জন্য যখন শাসনকর্তার কাছে তাকে নিয়ে গেল। তখন শয়তান ওই জায়গা থেকে সরে পড়ল এই বলে, ‘তোমার সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই। আমি তো জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহকে ভয় করি।’ আর তাদের পরিণতি সম্পর্কে সুরা হাশরের ১৭ নম্বর আয়াতে আল্লাহ বলেন, ‘শেষে অবিশ্বাসী ও মুনাফিক উভয়ের পরিণাম হবে জাহান্নাম। সেখানে তারা চিরকাল থাকবে, আর এটাই সীমালঙ্ঘনকারীদের কর্মফল।’ (আল–বিদায়া ওয়ান নিহায়া, খণ্ড ২)
পবিত্র কোরআনে আছে, ‘তাদের তুলনা সেই শয়তান, যে মানুষকে বলে—অবিশ্বাস করো। তারপর যখন সে অবিশ্বাস করে, তখন শয়তান বলে—তোমার সঙ্গে তো আমার কোনো সম্পর্ক নেই, আমি তো বিশ্ব প্রতিপালক আল্লাহকে ভয় করি।’ (সুরা হাশর, আয়াত: ১৬)
শয়তানের ধোঁকার পর আল্লাহর ক্ষমা
আল্লাহ তাআলা কুরআনে পাকের অনেক আয়াতে শয়তানকে মানুষের প্রকাশ্য দুশমন হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। শয়তানের ধোঁকা ও প্রতারণা থেকে মুক্ত থাকতে দিয়েছেন অনেক দিক-নির্দেশনা এবং সতর্কতা। তারপর মানুষ শয়তানের ধোঁকা এবং প্রতারণার শিকার হয়।
কোনো মানুষ যদি শয়তানের ধোঁকা বা প্রতারণার ফাঁদে পড়ে যায় এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে অথবা শয়তানের প্ররোচনায় নিজেকে না জড়ায় আল্লাহ তাআলা ওই বান্দাকে ক্ষমা করে দেন অথবা নির্ধারিত কাজে শয়তানের প্ররোচনায় আক্রান্ত না হওয়ার কারণে ওই কাজে বরকত দান করেন। আল্লাহ তাআলা মানুষকে লক্ষ্য করে ঘোষণা করেন-
সুরা বাকারার ২৬৮নং আয়াতে আল্লাহ তাআলা মানুষকে শয়তানের ধোঁকা থেকে মুক্ত থাকার এবং তোঁর ক্ষমার ঘোষণা দেন।
আগের আয়াতে আল্লাহ তাআলা মানুষকে সর্বোত্তম দ্রব্য-সামগ্রী দানের ব্যাপারে নসিহত পেশ করেছেন। আর তাতে আল্লাহ তাআলা সম্পদে বরকত দান করবেন। এ আয়াতে সে দানের ব্যাপারে শয়তানের ধোঁকা এবং প্রতারণা থেকে নিজেদের হেফাজত করার নসিহত পেশ করেছেন।
আলোচ্য আয়াতে বলা হয়েছে, শয়তান তোমাদেরকে অভাবে ভয় দেখায় আর পাপাচারের নির্দেশ দেয়। নেক কাজে যদি সম্পদ ব্যয় করা হয় তবে শয়তান মানুষকে বিভিন্নভাবে ভীতি প্রদর্শন করে থাকে। সে বলে, তুমি যদি সম্পদ ব্যয় কর তবে অভাবী হয়ে যাবে; তোমার সম্পদে ঘাটতি হবে। পক্ষান্তরে অন্যায় কাজে ব্যয় করলে তখন শয়তান মানুষকে অতিমাত্রায় উৎসাহ যোগায়।
কোনো ব্যক্তি যদি ব্যক্তি ও সমাজের কল্যাণে, মাদ্রাসা বা দ্বীনি প্রতিষ্ঠানে, অভাবী অসহায় মানুষকে দান করার ইচ্ছা পোষণ করে বা দান করে; তখন শয়তান এ সব কাজে ব্যয়কারীকে বিভিন্নভাবে বিরত রাখতে প্ররোচনা দেয়। ফলে এ দানের জন্য ওই সব মানুষের কাছে বার যাতায়াত করার পরও দেব-দিচ্ছি বলে সময় ক্ষেপণ করে। আর এটা শয়তানের কুমন্ত্রণারই ফসল।
অথচ মানুষ অন্যায় ও অসামাজিক আচার-অনুষ্ঠানে বিনা হিসেবে খরচ করে থাকে। যাতে শয়তান মানুষকে আগ্রহ যোগায়। এ আয়াতে এ সব ব্যাপারে শয়তানের ধোঁকা থেকে বেঁচে থাকতে এবং আল্লাহর পথে ব্যয় করতে উদ্বুদ্ধ করতে ক্ষমা ও দানে বরকতের ঘোষণা প্রদান করেছেন।
শয়তানের ধোঁকা
Satan's deception
শয়তানের ধোঁকা
Satan's deception
জারির আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন, বনী ইসরাইলের এক নারী বকরি চরাত। তার ছিল চার ভাই। রাতের বেলা সে ধর্মযাজকের উপাসনালয়ে এসে আশ্রয় নিত। একদিন এক যাজক এসে তার সঙ্গে সংসর্গ করে। এতে সেই নারী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। শয়তান এসে প্ররোচনা দিয়ে বলে, ‘ওই নারীকে খুন করে মাটিচাপা দাও। লোকে তো তোমাকে বিশ্বাস করে। তারা তোমার কথা শুনবে।’ শয়তানের প্ররোচনায় সে নারীকে খুন করে এবং মাটিচাপা দিল। এবার শয়তান স্বপ্নে নারীর ভাইদের কাছে উপস্থিত হয়। তাদেরকে বলে, উপাসনালয়ের যাজক তোমাদের বোনের সঙ্গে অন্যায় করেছে এবং সে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ায় তাকে খুন করে অমুক স্থানে মাটিচাপা দিয়েছে।
সকাল হলে ভাইদের একজন বলল, ‘আল্লাহর কসম! গত রাতে আমি এক আশ্চর্যজনক স্বপ্ন দেখি, সেটি তোমাদের বলব কি বলব না তা স্থির করতে পারছি না।’ অন্য ভাই বলল, ‘তুমি বরং ওই স্বপ্নের কথা আমাদের বলো।’ সে তা বর্ণনা করল। আরেক ভাই বলল, ‘আমিও স্বপ্নে তা–ই দেখেছি।’ তৃতীয়জন বলল, ‘আমিও তা–ই দেখেছি।’ তখন তারা বলাবলি করে, নিশ্চয়ই এর মধ্যে কোনো রহস্য আছে।
তারা সবাই তাদের শাসনকর্তাকে যাজকের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নিতে উদ্বুদ্ধ করে। তারপর সবাই যাজকের কাছে যায়। তাকে উপাসনালয় থেকে নামিয়ে আনে। এ সময় শয়তান যাজকের কাছে উপস্থিত হয়ে বলে, ‘আমি তোমাকে এ বিপদে ফেলেছি। আমি ছাড়া কেউ তোমাকে এখান থেকে উদ্ধার করতে পারবে না। সুতরাং তুমি আমাকে একটি সিজদা করো; আমি তোমাকে যে বিপদে ফেলেছি তা থেকে উদ্ধার করব।’ তারপর যাজক তাকে সিজদা করল।
তারপর শাস্তি বিধানের জন্য যখন শাসনকর্তার কাছে তাকে নিয়ে গেল। তখন শয়তান ওই জায়গা থেকে সরে পড়ল এই বলে, ‘তোমার সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই। আমি তো জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহকে ভয় করি।’ আর তাদের পরিণতি সম্পর্কে সুরা হাশরের ১৭ নম্বর আয়াতে আল্লাহ বলেন, ‘শেষে অবিশ্বাসী ও মুনাফিক উভয়ের পরিণাম হবে জাহান্নাম। সেখানে তারা চিরকাল থাকবে, আর এটাই সীমালঙ্ঘনকারীদের কর্মফল।’ (আল–বিদায়া ওয়ান নিহায়া, খণ্ড ২)
পবিত্র কোরআনে আছে, ‘তাদের তুলনা সেই শয়তান, যে মানুষকে বলে—অবিশ্বাস করো। তারপর যখন সে অবিশ্বাস করে, তখন শয়তান বলে—তোমার সঙ্গে তো আমার কোনো সম্পর্ক নেই, আমি তো বিশ্ব প্রতিপালক আল্লাহকে ভয় করি।’ (সুরা হাশর, আয়াত: ১৬)
শয়তানের ধোঁকার পর আল্লাহর ক্ষমা
আল্লাহ তাআলা কুরআনে পাকের অনেক আয়াতে শয়তানকে মানুষের প্রকাশ্য দুশমন হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। শয়তানের ধোঁকা ও প্রতারণা থেকে মুক্ত থাকতে দিয়েছেন অনেক দিক-নির্দেশনা এবং সতর্কতা। তারপর মানুষ শয়তানের ধোঁকা এবং প্রতারণার শিকার হয়।
কোনো মানুষ যদি শয়তানের ধোঁকা বা প্রতারণার ফাঁদে পড়ে যায় এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে অথবা শয়তানের প্ররোচনায় নিজেকে না জড়ায় আল্লাহ তাআলা ওই বান্দাকে ক্ষমা করে দেন অথবা নির্ধারিত কাজে শয়তানের প্ররোচনায় আক্রান্ত না হওয়ার কারণে ওই কাজে বরকত দান করেন। আল্লাহ তাআলা মানুষকে লক্ষ্য করে ঘোষণা করেন-
সুরা বাকারার ২৬৮নং আয়াতে আল্লাহ তাআলা মানুষকে শয়তানের ধোঁকা থেকে মুক্ত থাকার এবং তোঁর ক্ষমার ঘোষণা দেন।
আগের আয়াতে আল্লাহ তাআলা মানুষকে সর্বোত্তম দ্রব্য-সামগ্রী দানের ব্যাপারে নসিহত পেশ করেছেন। আর তাতে আল্লাহ তাআলা সম্পদে বরকত দান করবেন। এ আয়াতে সে দানের ব্যাপারে শয়তানের ধোঁকা এবং প্রতারণা থেকে নিজেদের হেফাজত করার নসিহত পেশ করেছেন।
আলোচ্য আয়াতে বলা হয়েছে, শয়তান তোমাদেরকে অভাবে ভয় দেখায় আর পাপাচারের নির্দেশ দেয়। নেক কাজে যদি সম্পদ ব্যয় করা হয় তবে শয়তান মানুষকে বিভিন্নভাবে ভীতি প্রদর্শন করে থাকে। সে বলে, তুমি যদি সম্পদ ব্যয় কর তবে অভাবী হয়ে যাবে; তোমার সম্পদে ঘাটতি হবে। পক্ষান্তরে অন্যায় কাজে ব্যয় করলে তখন শয়তান মানুষকে অতিমাত্রায় উৎসাহ যোগায়।
কোনো ব্যক্তি যদি ব্যক্তি ও সমাজের কল্যাণে, মাদ্রাসা বা দ্বীনি প্রতিষ্ঠানে, অভাবী অসহায় মানুষকে দান করার ইচ্ছা পোষণ করে বা দান করে; তখন শয়তান এ সব কাজে ব্যয়কারীকে বিভিন্নভাবে বিরত রাখতে প্ররোচনা দেয়। ফলে এ দানের জন্য ওই সব মানুষের কাছে বার যাতায়াত করার পরও দেব-দিচ্ছি বলে সময় ক্ষেপণ করে। আর এটা শয়তানের কুমন্ত্রণারই ফসল।
অথচ মানুষ অন্যায় ও অসামাজিক আচার-অনুষ্ঠানে বিনা হিসেবে খরচ করে থাকে। যাতে শয়তান মানুষকে আগ্রহ যোগায়। এ আয়াতে এ সব ব্যাপারে শয়তানের ধোঁকা থেকে বেঁচে থাকতে এবং আল্লাহর পথে ব্যয় করতে উদ্বুদ্ধ করতে ক্ষমা ও দানে বরকতের ঘোষণা প্রদান করেছেন।
শয়তানের ধোঁকা
Satan's deception
শয়তানের ধোঁকা
Satan's deception
জারির আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন, বনী ইসরাইলের এক নারী বকরি চরাত। তার ছিল চার ভাই। রাতের বেলা সে ধর্মযাজকের উপাসনালয়ে এসে আশ্রয় নিত। একদিন এক যাজক এসে তার সঙ্গে সংসর্গ করে। এতে সেই নারী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। শয়তান এসে প্ররোচনা দিয়ে বলে, ‘ওই নারীকে খুন করে মাটিচাপা দাও। লোকে তো তোমাকে বিশ্বাস করে। তারা তোমার কথা শুনবে।’ শয়তানের প্ররোচনায় সে নারীকে খুন করে এবং মাটিচাপা দিল। এবার শয়তান স্বপ্নে নারীর ভাইদের কাছে উপস্থিত হয়। তাদেরকে বলে, উপাসনালয়ের যাজক তোমাদের বোনের সঙ্গে অন্যায় করেছে এবং সে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ায় তাকে খুন করে অমুক স্থানে মাটিচাপা দিয়েছে।
সকাল হলে ভাইদের একজন বলল, ‘আল্লাহর কসম! গত রাতে আমি এক আশ্চর্যজনক স্বপ্ন দেখি, সেটি তোমাদের বলব কি বলব না তা স্থির করতে পারছি না।’ অন্য ভাই বলল, ‘তুমি বরং ওই স্বপ্নের কথা আমাদের বলো।’ সে তা বর্ণনা করল। আরেক ভাই বলল, ‘আমিও স্বপ্নে তা–ই দেখেছি।’ তৃতীয়জন বলল, ‘আমিও তা–ই দেখেছি।’ তখন তারা বলাবলি করে, নিশ্চয়ই এর মধ্যে কোনো রহস্য আছে।
তারা সবাই তাদের শাসনকর্তাকে যাজকের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নিতে উদ্বুদ্ধ করে। তারপর সবাই যাজকের কাছে যায়। তাকে উপাসনালয় থেকে নামিয়ে আনে। এ সময় শয়তান যাজকের কাছে উপস্থিত হয়ে বলে, ‘আমি তোমাকে এ বিপদে ফেলেছি। আমি ছাড়া কেউ তোমাকে এখান থেকে উদ্ধার করতে পারবে না। সুতরাং তুমি আমাকে একটি সিজদা করো; আমি তোমাকে যে বিপদে ফেলেছি তা থেকে উদ্ধার করব।’ তারপর যাজক তাকে সিজদা করল।
তারপর শাস্তি বিধানের জন্য যখন শাসনকর্তার কাছে তাকে নিয়ে গেল। তখন শয়তান ওই জায়গা থেকে সরে পড়ল এই বলে, ‘তোমার সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই। আমি তো জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহকে ভয় করি।’ আর তাদের পরিণতি সম্পর্কে সুরা হাশরের ১৭ নম্বর আয়াতে আল্লাহ বলেন, ‘শেষে অবিশ্বাসী ও মুনাফিক উভয়ের পরিণাম হবে জাহান্নাম। সেখানে তারা চিরকাল থাকবে, আর এটাই সীমালঙ্ঘনকারীদের কর্মফল।’ (আল–বিদায়া ওয়ান নিহায়া, খণ্ড ২)
পবিত্র কোরআনে আছে, ‘তাদের তুলনা সেই শয়তান, যে মানুষকে বলে—অবিশ্বাস করো। তারপর যখন সে অবিশ্বাস করে, তখন শয়তান বলে—তোমার সঙ্গে তো আমার কোনো সম্পর্ক নেই, আমি তো বিশ্ব প্রতিপালক আল্লাহকে ভয় করি।’ (সুরা হাশর, আয়াত: ১৬)
শয়তানের ধোঁকার পর আল্লাহর ক্ষমা
আল্লাহ তাআলা কুরআনে পাকের অনেক আয়াতে শয়তানকে মানুষের প্রকাশ্য দুশমন হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। শয়তানের ধোঁকা ও প্রতারণা থেকে মুক্ত থাকতে দিয়েছেন অনেক দিক-নির্দেশনা এবং সতর্কতা। তারপর মানুষ শয়তানের ধোঁকা এবং প্রতারণার শিকার হয়।
কোনো মানুষ যদি শয়তানের ধোঁকা বা প্রতারণার ফাঁদে পড়ে যায় এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে অথবা শয়তানের প্ররোচনায় নিজেকে না জড়ায় আল্লাহ তাআলা ওই বান্দাকে ক্ষমা করে দেন অথবা নির্ধারিত কাজে শয়তানের প্ররোচনায় আক্রান্ত না হওয়ার কারণে ওই কাজে বরকত দান করেন। আল্লাহ তাআলা মানুষকে লক্ষ্য করে ঘোষণা করেন-
সুরা বাকারার ২৬৮নং আয়াতে আল্লাহ তাআলা মানুষকে শয়তানের ধোঁকা থেকে মুক্ত থাকার এবং তোঁর ক্ষমার ঘোষণা দেন।
আগের আয়াতে আল্লাহ তাআলা মানুষকে সর্বোত্তম দ্রব্য-সামগ্রী দানের ব্যাপারে নসিহত পেশ করেছেন। আর তাতে আল্লাহ তাআলা সম্পদে বরকত দান করবেন। এ আয়াতে সে দানের ব্যাপারে শয়তানের ধোঁকা এবং প্রতারণা থেকে নিজেদের হেফাজত করার নসিহত পেশ করেছেন।
আলোচ্য আয়াতে বলা হয়েছে, শয়তান তোমাদেরকে অভাবে ভয় দেখায় আর পাপাচারের নির্দেশ দেয়। নেক কাজে যদি সম্পদ ব্যয় করা হয় তবে শয়তান মানুষকে বিভিন্নভাবে ভীতি প্রদর্শন করে থাকে। সে বলে, তুমি যদি সম্পদ ব্যয় কর তবে অভাবী হয়ে যাবে; তোমার সম্পদে ঘাটতি হবে। পক্ষান্তরে অন্যায় কাজে ব্যয় করলে তখন শয়তান মানুষকে অতিমাত্রায় উৎসাহ যোগায়।
কোনো ব্যক্তি যদি ব্যক্তি ও সমাজের কল্যাণে, মাদ্রাসা বা দ্বীনি প্রতিষ্ঠানে, অভাবী অসহায় মানুষকে দান করার ইচ্ছা পোষণ করে বা দান করে; তখন শয়তান এ সব কাজে ব্যয়কারীকে বিভিন্নভাবে বিরত রাখতে প্ররোচনা দেয়। ফলে এ দানের জন্য ওই সব মানুষের কাছে বার যাতায়াত করার পরও দেব-দিচ্ছি বলে সময় ক্ষেপণ করে। আর এটা শয়তানের কুমন্ত্রণারই ফসল।
অথচ মানুষ অন্যায় ও অসামাজিক আচার-অনুষ্ঠানে বিনা হিসেবে খরচ করে থাকে। যাতে শয়তান মানুষকে আগ্রহ যোগায়। এ আয়াতে এ সব ব্যাপারে শয়তানের ধোঁকা থেকে বেঁচে থাকতে এবং আল্লাহর পথে ব্যয় করতে উদ্বুদ্ধ করতে ক্ষমা ও দানে বরকতের ঘোষণা প্রদান করেছেন।
শয়তানের ধোঁকা
Satan's deception