আল্লাহর অধিকার বা আল্লাহর হক
আল্লাহর অধিকার কি কি?
আল্লাহর প্রতি ঈমান চারটি বিষয়কে সম্পৃক্ত করে। (১) আল্লাহর অস্তিতের প্রতি ঈমান আনা (২) তার রুবুবিয়াতের প্রতি ঈমান আনা (৩) তঁর দাসত্বের প্রতি ঈমান আনা (৪) তঁর নাম ও গুণাবলীর প্রতি ঈমান আনা। (৩) ইখলাছের সাথে ইবাদত করা : বান্দার নিকটে আল্লাহর অন্যতম হক হ'ল কেবল তঁরই জন্য ইবাদত করা।
আল্লাহর হক
আল্লাহ তা‘আলা পৃথিবীতে মানুষ সৃষ্টি করে কিছু দায়িত্ব অর্পণ করেছেন (আহযাব ৩৩/৭২)। এ দায়িত্বের কারণেই মানুষ সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ। মানুষের উপর অর্পিত দায়িত্বকে দু’ভাগে ভাগ করা হয়েছে- ১. হাক্কুল্লাহ তথা আল্লাহর হক। ২. হাক্কুল ইবাদ তথা বান্দার হক। পৃথিবীতে প্রতিটি মানুষকেই এ দু’টি প্রাপ্য আদায় করতে হয়। আল্লাহ তা‘আলা দৃশ্য ও অদৃশ্য সকল কিছু সৃষ্টি করেছেন আমাদের কল্যাণের জন্য। তিনি মানব ও জিন জাতিকে সৃষ্টি করেছেন কেবলমাত্র তঁার ইবাদতের জন্য (যারিয়াত ৫১/৫৬)। শুধু মানুষ ও জিন জাতি নয়; বরং পৃথিবীর সকল সৃষ্টিই আল্লাহর প্রশংসায় রত আছে (ইসরা ১৭/৪৪)। সমস্ত সৃষ্টি আল্লাহকে একক সত্ত্বা মেনে নিয়ে একমাত্র তঁার ইবাদত করবে, এটা আল্লাহর হক। অনুরূপভাবে এক সৃষ্টি অন্য সৃষ্টির প্রতি দায়িত্ব পালন করবে, তার হক যথাযথভাবে আদায় করবে, এটা আল্লাহর নির্দেশ। হকের পরিচয় ও আল্লাহর হক্ব
ঈমান ও ইবাদত আল্লাহর অধিকার
সুস্থ মানব প্রকৃতির দাবি হলো আল্লাহর ওপর বিশ্বাস স্থাপন করা এবং ঈমানের দাবি আল্লাহর শিরকমুক্ত ইবাদত ও আনুগত্য করা। ঈমান ও ইবাদত উভয়টি বান্দার ওপর আল্লাহর অধিকার। মহানবী (সা.) বলেন, ‘বান্দার ওপর আল্লাহর অধিকার হলো তাঁর ইবাদত করা এবং তাঁর সঙ্গে কোনো কিছুকে শরিক না করা।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ২৮৫৬)
উল্লিখিত হাদিস দ্বারা ঈমান ও ইবাদতের পারস্পরিক সংযোগ ও সম্পর্কও প্রমাণিত হয়।
মূলত ঈমানের প্রতিফলনই হলো ইবাদত। ইবাদতের মাধ্যমের ঈমান পূর্ণতা লাভ করে। এ জন্য মহানবী (সা.) বিভিন্ন আমলকে ঈমানের অংশ আখ্যা দিয়েছেন। যেমন—তিনি বলেন, ‘পবিত্রতা ঈমানের অংশ।
(সহিহ মুসলিম, হাদিস : ২২৩)
অন্যত্র বলেছেন, ‘লজ্জা ঈমানের অংশ।’
(সুনানে নাসায়ি, হাদিস : ৫০০৬)
মুহাদ্দিসরা বলেন, ইসলামের শিক্ষা হলো মুমিনের জীবনের সর্বত্র ঈমানের প্রতিফলন থাকবে। সেটা ইবাদত হোক বা এমন কাজ হোক, যা ইবাদতের গণ্ডিভুক্ত নয়। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আমরা আপনারই ইবাদত করি এবং আপনার কাছেই সাহায্য চাই।
’ (সুরা ফাতিহা, আয়াত : ৪)
ঈমান ও ইবাদতই মানব সৃষ্টির উদ্দেশ্য। মহান আল্লাহ বলেন, ‘আমি সৃষ্টি করেছি জিন ও মানুষকে এ জন্য যে তারা আমারই ইবাদত করবে। আমি তাদের কাছে জীবিকা চাই না এবং এটাও চাই না যে তারা আমার আহার্য জোগাবে। আল্লাহই তো জীবিকা দান করেন এবং তিনি প্রবল, পরাক্রান্ত।’ (সুরা : জারিয়াত, আয়াত : ৫৬-৫৮)
আল্লাহর অসংখ্য অগণিত নিয়ামত ও অনুগ্রহের বিপরীতে আল্লাহর অধিকার প্রমাণিত হয় যে বান্দা আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করবে এবং ইবাদতে মগ্ন থাকবে।
ইরশাদ হয়েছে, ‘হে মানুষ! তোমরা তোমাদের সেই প্রতিপালকের ইবাদত কোরো, যিনি তোমাদেরকে ও তোমাদের পূর্ববর্তীদেরকে সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা আল্লাহভীরু হতে পার। যিনি পৃথিবীকে তোমাদের জন্য বিছানা ও আকাশকে ছাদ করেছেন এবং আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করে তার দ্বারা তোমাদের জীবিকার জন্য ফলমূল উৎপাদন করেন। সুতরাং তোমরা জেনেশুনে কাউকে আল্লাহর সমকক্ষ দাঁড় কোরো না।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ২২)
https://www.youtube.com/watch?v=BW2yohnYpHM
https://www.youtube.com/watch?v=KL3Ji-HIOwQ&t=33s
https://www.youtube.com/watch?v=dcDzGAt2YSQ&t=3s
https://www.youtube.com/watch?v=fuljwNq2fm0&t=27s
https://www.youtube.com/watch?v=8_nKvCcRfu0&t=14s
https://www.youtube.com/watch?v=loXHpG8KUyU
আল্লাহর অধিকার বা আল্লাহর হক
















