গতকাল ১৬মে, সকাল ৯টায় শেষ হল ৭ম সেমিস্টারের সকল ফরমাল ক্লাস। একই সাথে স্থায়ী ক্যাম্পাসের শেষ ক্লাসটিও হয়ে গেল, আর কোন দিন এই ক্যাম্পাসে ক্লাস হবে বলে মনে হয় না, তবে অন্য কোন প্রোগ্রাম হতে পারে। শেষ ক্লাসটি অবশ্য ক্লাস ছিল না, ল্যাব টেস্ট ছিল। ল্যাব টেস্ট নেওয়ার দিন ঠিক ছিল মঙ্গলবার, কিন্তু ১৮ দলের হরতালের কারণে পরিবর্তীত হল সময়। পরীক্ষার বিষয় HTML 1,2,3 এর উপর। স্যার একটি ওয়েব সাইট বানিয়ে দিয়ে বললেন ঠিক অনুরূপ আরেকটি সাইট বানাতে। তবে স্যার সবার কাছে একটি প্রশ্ন সরবরাহ করেছিলেন, যাতে সাইটের বিভিন্ন এলিমেন্ট এর জন্য কি করতে হবে সেটার নির্দেশনা ছিল। স্মৃতিস্বরূপ পরীক্ষার উত্তরপত্রটির লিংক নিচে দেওয়া হল:
HTML সহজ প্রোগ্রামিং ভাষা। কিন্তু সমস্যা হল, কোডগুলো মুখস্ত করে পরীক্ষা দিতে হবে। একারণেই একটু প্রেক্টিসের প্রয়োজন ছিল। ১৬ তারিখ রাতেই প্রস্তুতি নিয়েছিলাম, উবুন্টুতে। আর ল্যাব এর (৩১০ নম্বর রুমের) কম্পিউটার সবার না হওয়ার সম্ভাবনা থাকায় স্যার বলেছিলেন যাদের ল্যাপটপ আছে তাদের ল্যাপটপ নিয়ে আসতে। সকাল ৯:৩০ এ পরীক্ষা। আর সকাল থেকে ঘূর্ণিঝড় মহাসেনের কারণে প্রচন্ড বাতাস সহ বৃষ্টি। সেই বৃষ্টি তে হাতে ছাতা হাতে হেটে ৫ মিনিটিটের পথ যাওয়ার ঝুকি নিতে ইচ্ছা হচ্ছিল না, কারণ হাতে ল্যাপটপের ব্যাগ। তবে মোহনা ঠিক ঐসময়ই অফিসের উদ্দেশ্যে বেড় হওয়ায়, কোন সিএনজি না পেয়ে একটি প্রাইভেট কার নিল, আর আমি রিক্সার জন্য দাড়িয়ে ছিলাম দেখে আমাকেও পৌছে দিল। একারণে পৌছাতে সমস্যা হল না তেমন।
পরীক্ষা শুরুর প্রথম লাইনেই আটকে গেলাম বাংলাদেশ টেক্সটটি সেন্টার এলাইন করার কোড তো দিয়েছি, মনে হচ্ছে ঠিকি লিখেছি, কিন্তু সেটি সেন্টারে যাচ্ছিল না। আমার পাশে হাসান ছিল, সেও লিখল, তারটাও হয়ে গেল, আমারটা হচ্ছে না। ওরটা কপি করেও দেখলাম হচ্ছে না। বিশাল চিন্তার বিষয়, কিন্তু ওখানে আর সময় নষ্ট না করে, পরের কোডগুলো লিখতে লাগলাম।
পরবর্তী চারটি কোডও হয়ে গেল সহজেই। ৫ম টিতে গিয়ে আবারও আটকালাম। এর আগেরটায় যেটা সমস্যা ছিল, কোড ঠিকি লিখেছি মনে হচ্ছিল, কিন্তু আউটপুট আসছিল না। কিন্তু এব্রেভিয়েশন এর কোড এর একটি অংশ বেমালুম ভুলে গেলাম।
<abbr style="Bangladeshi Taka">BDT</abbr>
আমি নিশ্চিত abbr এরপর স্টাইল না, তবে অন্য কিছু একটা, বাকি সব ঠিক আছে। কোড না লিখেই নিশ্চিত। কিন্তু হাসান বলে, স্টাইল দিয়েই হবে। ওর কথা মত স্টাইল লিখেই করলাম, হল না। আশেপাশে যাকেই জিজ্ঞেস করি, কেউ উত্তর দিতে পারে না। চরম বিরক্ত হয়েছিলাম ওই মুহুর্তে। একটি ওয়ার্ডের জন্য পুরো কোডটি কাজ করছে না! তারউপর উপরে আরেকটি কোড এর সমস্যা সলভ করা হয়নাই। কম্পিউটারে সফট কপি আছে বাসায় প্রেকটিস করা ফাইলের। শয়তান বার বার প্ররোচিত করছিল সেই ফাইলটি একটু ওপেন করে দেখার। একবার তো উইন্ডোজ এক্সপ্লোরার দিয়ে এগিয়েও গিয়েছিলাম। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আল্লাহর রহমতে কিভাবে যেন আর সেদিকে যাওয়া লাগে নাই। সাদ্দাম কে জিজ্ঞেস করেছিলাম, এবিবিআর এরপর কি?
ওর উত্তর সরাসরি "জানি না" শুনে একটু বিরক্ত হয়ে বলেছিলাম, "কিছুই পর নাই নাকি! :@" তবে ত্রিশা পাশে শুনে বলল, ওটা Title। যাক বেচে গেলাম এবারের মত। টাইটেল লিখার পর কোডটি কাজ করল।
আপাতত এখন একমাত্র চিন্তা উপরের সেন্টার এলাইন নিয়ে। কি একটা বানানে একটু প্রবলেম ছিল হঠাৎ ধরতে পারলাম। এতক্ষণ তারাহুড়ায় যেটা ধরতে পারছিলাম না, সেটা ঠিক করতেই কাজ করল। আলহামদুলিল্লাহ। আর এরই সাথে আমার পরীক্ষাও শেষ। আশেপাশের মানুষকে তাই সাহায্য করার মনোনিবেশ করলাম। পরীক্ষার ৩০ মিনিট সময় শেষে স্যার প্রথম আমারটা দিয়েই শুরু করলেন নাম্বারিং। যে প্রশ্ন ছিল তাতে নম্বর দিলেন। আমারটা দেখা শেষে হাসানের টা দেখলেন। হাসানের বাংলাদেশের ফ্লাগের ইমেজটি শো করছিল না, শুধু এতটুকুই সমস্যা। আমারটায় সম্ভবত কোন সমস্যা পান নাই, এবং অনেকে বলছিল, ১০ পেয়েছি ১০ এ। শুনতেই কত আনন্দ লাগছে বিষয়টি, যদিও নিশ্চিত না, সকল প্রশংসা আল্লাহর।
তবে আউটপুট ঠিকমত আসলেও আমার কোডিং কতগুলো অসম্পূর্ণ ছিল, যেমন, টেক্সট এম্পাসাইজ করার কোড এর দুই জায়গায় শুরুর ট্যাগ দিয়েছি, কিন্তু শেষের ট্যাগ দিতে খেয়াল ছিল না। তবে স্যার যেহেতু সোর্স কোড এত খুটে খুটে দেখেন নাই, তাই বেচে গেলাম এই যাত্রায়।
আমি আমার পক্ষ থেকে যারা সাহায্য চেয়েছিল, সবাইকেই হেল্প করেছি। কিন্তু জামশেদ একটু বেশিই সাহায্য চেয়েছিল। সে প্রথম সম্ভবত ইমেজ সোর্সের কোড টি দেখতে কাছে এসেছিল, কিন্তু কোড দেখে সন্তুষ্ট না থেকে, বলল পেনড্রাইভে কোড টি দিয়ে দিতে। তখন সেটাকে কেন জানি নকলের সমতুল্য মনে হচ্ছিল, তাই সরাসরি না করে দিয়েছিলাম।
কিন্তু পরীক্ষা শেষে সে বলল, তার পরীক্ষা নাকি ভাল হয় নাই। আর তার থিউরী, "চুরি করলে ভালমত করাই ভাল" এটা একারণে সে বলেছে, আমি পেনড্রাইভে সোর্সকোড দেই নেই ঠিক, কিন্তু এছাড়া মুখে বলে হোক, পিসি ঘুরিয়ে হোক সবভাবে চেষ্টা করেছি আশেপাশের ক্লাসমেটদের সাহায্য করতে। একারণে তার এই থিউরী দিয়ে সে বুঝাতে চাইল, আমি যদি ১০০% সৎ থাকতাম তাহলে সে মেনে নিত, কিন্তু যেহেতু অসঙ্গতভাবে সাহায্য করেছিই, কেন সর্বোচ্চ সাহায্য করব না?
আমি বোঝানোর চেষ্টা করলাম, চিরকুট নিয়ে পরীক্ষায় নকল করারও নকল, আর পাশের ফ্রেন্ডের খাতা দেখে নকল করাও নকল। কিন্তু দুটা কি এক? যদি চুরি করলে বড় চুরি করাই শ্রেয় হয়, তবে আমরা বেশিরভাগই পরীক্ষায় পাশের ফ্রেন্ডের সাহা্য্য নিলেও কেন সরাসরি উত্তর খাতায় লিখে নকল করি না?
তবে তার পরীক্ষা তখন খারাপ হয়েছে, আর আশানুরূপ সাহা্য্য না পাওয়ায় যুক্তি তাকে বোঝানো গেল না।
তবে আমি একটু কষ্ট পেয়েছিলাম একারণে, আমার মনে হয়েছে সে তার ব্যর্থতার জন্য একটু হলেও আমাকে দায়ী মনে করছে। একারণে আমার থিউরী নিয়ে আমি স্পষ্ট থাকার পরেও আরো কয়েকজনের সাথে বিষয়টি শেয়ার করে তাদের মতামত নিয়েছিলাম (বিশেষত, নাহিয়ান আর মিথুনের সাথে) এ ব্যপারে। কারো মতামতই আমার থিউরীর স্পষ্ট বিরোধী নয়। আবার সম্পূর্ণ সন্দেহাতীত অনুমোদনও নয়। তবে যাই হোক, আল্লাহর কাছে আমি ক্ষমাপ্রার্থী যদি কোন ভুল করে থাকি অজ্ঞতাবশত।
শনিবার থেকে পরীক্ষা। ঘড়ির কাটায় এখন ১২:৫৬ এএম, তারিখ ১৭ মে, শুক্রবার। অর্থাৎ আগামীকাল থেকেই সেমিস্টার ফাইনাল। আল্লাহ সহায় থেকে আমাদের।