সুরশ্রী রায় চৌধুরী: ২০২৪ এর লোকসভা নির্বাচনের আগে, রাজ্যে পঞ্চায়েত ভোটই কার্যত সেমিফাইনাল তৃণমূল, বিজেপির কাছে। পঞ্চায়েত নির্বাচনকে সামনে রেখে দলের গ্রামীণ এলাকায় নিচু তলার সংগঠনকে লোকসভা ভোটের জন্য গুছিয়ে নিতে মরিয়া বিজেপি। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব অঞ্চল সম্মেলন শেষ করে পঞ্চায়েত ভিত্তিক প্রচার ও রাজনৈতিক আন্দোলন শুরু করতে চাইছে তারা। এই প্রচারে তৃণমূলের দুয়ারে সরকার-কে নিশানা করে তার পাল্টা কেন্দ্রীয় প্রকল্পের প্রচারকে হাতিয়ার করছে বিজেপি। ২০ জানুয়ারি অঞ্চল সম্মেলন শেষ হলেই প্রতিটি পঞ্চায়েতে ও পুরসভায় বিশেষ শিবির করে এই প্রচার করতে নির্দেশ দিয়েছেন সুনীল বনশাল।শনিবার বিজেপির রাজ্য দফতরে উত্তর কলকাতা জেলা নেতৃত্বের সঙ্গে সাংগঠনিক বৈঠকে সুনীল বনশাল বলেছেন, ''২০২১-এ বিধানসভা ভোটের আগে রাজ্যের মানুষের কাছে কেন্দ্রীয় প্রকল্পের 'সঠিক প্রচার' করতে পারিনি আমরা। এটা আমাদের ব্যর্থতা। মমতা বন্দেপাধ্যায়ের দুয়ারে সরকারের অধিকাংশ প্রকল্পই যে কেন্দ্রের টাকায় চলে, তা মানুষকে আমরা বোঝাতে পারিনি। অতীতের সেই ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার সেই প্রচারকে নীচের তলার মানুষের কাছে নিয়ে যেতে হবে। একইসঙ্গে, আন্দোলনের মধ্য দিয়ে দলকে প্রকৃত বিরোধী দল হয়ে উঠতে হবে বিজেপিকে।''এলাকায় এলাকায় কেন্দ্রীয় প্রকল্প থেকে বঞ্চিত মানুষকে নিয়ে বিডিও অফিস, মহকুমা শাসকের দফতর ও জেলা শাসকের দফতরে ধর্ণা, বিক্ষোভ, অবস্থান, স্মারকলিপি দেওয়ার মতো কর্মসূচির মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। ঠিক হয়েছে, কেন্দ্রীয় প্রকল্পের প্রচারে শিবিরের পাশাপাশি, এলাকার প্রতিটি বাড়িতে বাড়িতে গিয়েও কেন্দ্রীয় প্রকল্পের প্রচার করতে হবে। এই প্রচারের জন্য কেন্দ্রীয় প্রকল্পের নাম এবং ওই প্রকল্পকে রাজ্য সরকার কীভাবে নিজের প্রকল্প বলে প্রচার করছে, তা বিশদে উল্লেখ করে বিশেষ তালিকা তৈরি করছে কেন্দ্র। বৈঠকে উপস্থিত এক নেতার মতে,''মমতার কন্যাশ্রী, থেকে শুরু করে আবাস যোজনা, একশো দিনের কাজের টাকা যে কেন্দ্রের মোদি সরকারই দেয়, এ সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করতে হবে। এটাই বনশালের নির্দেশ। ২১ এর বিধানসভা ভোটে মমতার'' দুয়ারে সরকার " কার্যত মোদি, শাহকে ধরাশায়ী করেছে। তাই এখন থেকে সচেতন হতে চলেছে বিজেপি।