गुरु दत्त साब का जलवा🌻✨️
seen from United States
seen from Russia
seen from China

seen from Indonesia
seen from United States

seen from Netherlands
seen from Russia

seen from United States
seen from France
seen from China

seen from United States
seen from Japan
seen from Japan
seen from Netherlands
seen from Spain

seen from United States

seen from United Kingdom

seen from France

seen from United Kingdom

seen from United States
गुरु दत्त साब का जलवा🌻✨️
অভিনেতা-অভিনেত্রীদের আত্মহনন কেন? কিছু জানা যায়, কিছু যায় না
New Post has been published on https://sentoornetwork.com/suicide-of-actor-and-actress/
অভিনেতা-অভিনেত্রীদের আত্মহনন কেন? কিছু জানা যায়, কিছু যায় না
কমলেন্দু সরকার
চল্লিশের দশকের কথা। ১৬ ডিসেম্বর ১৯৪২, সবাই স্তম্ভিত হয়েছিলেন একটি খবরে। টালিগঞ্জ স্টুডিয়ো পাড়া তো বটেই। বাংলা ছবির সুদর্শন নায়ক জ্যোতিপ্রকাশ ভট্টাচার্য-এর আত্মহত্যার খবরে। জ্যোতিপ্রকাশ ভট্টাচার্য ছিলেন গোঁড়া ব্রাহ্মণ পরিবারের। প্রেসিডেন্সি, শান্তিনিকেতনে পড়াশোনা। ট্রেনিং ছিল কমার্শিয়াল পাইলটের। না, তিনি গেলেন না সেদিকে। জ্যোতিপ্রকাশ যোগ দিলেন পরিচালক দেবকী বসুর সহকারী হিসেবে। অতিসুদর্শন জ্যোতিপ্রকাশ ভট্টাচার্য নজরে পড়লেন পরিচালক হেমচন্দ্র চন্দের। ‘পরাজয়’ (১৯৩৯) ছবিতে তাঁকে দিলেন ছোট্ট একটি ভূমিকা। সাফল্যের সঙ্গে উতরে দিলেন। চোখে পড়েছিলেন কাননদেবীরও। একই বছরে, একই পরিচালকের ছবি করলেন জ্যোতিপ্রকাশ ‘জওয়ানি কিরিত’। এই ছবিতেও ছিলেন কাননদেবী। পরের বছরই ‘ডাক্তার’ (১৯৪০) ছবিতে নায়ক। সোমনাথের চরিত্র। পরিচালক ফণী মজুমদার এবং সুবোধ মিত্র। আর পিছন ফিরে তাকালেন না জ্যোতিপ্রকাশ ভট্টাচার্য। পরিচালক মধু বসু তাঁকে নিলেন ‘মীনাক্ষী’ ছবিতে। বিপরীতে সাধনা বসু। জ্যোতিপ্রকাশ ব্যস্ত হয়ে পড়লেন ক্যামেরার সামনে। এরই মধ্যে জ্যোতিপ্রকাশ ভট্টাচার্য আর শীলা হালদারকে প্রচুর গুঞ্জন স্টুডিয়ো পাড়ায়। সেখান থেকে ছড়িয়ে পড়েছে সারা শহরে। শীলা হালদার ছিলেন বাংলা ছবির নৃত্যপটীয়সী সুন্দরী অভিনেত্রী। শীলার রূপে মুগ্ধ ফিল্মের লোক থেকে আমদর্শক। শীলা হালদারের প্রথম ছবি সম্ভবত পরিচালক সতু সেনের ‘আবর্তন'(১৯৩৬)। তারপর তিনি করেছেন হরিচরণ ভঞ্জের ‘যখের ধন’ (১৯৩৯), জ্যোতিষ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘নরনারায়ণ’ (১৯৩৯), নরেশ মিত্রের ‘বাংলার মেয়ে’ (১৯৪১), জ্যোতিষ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সতীশ দাশগুপ্তের ‘কর্ণার্জুন’ (১৯৪১), গুণময় বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘জীবন সঙ্গিনী’ (১৯৪২) ইত্যাদি ইত্যাদি ছবি। সুদর্শন নায়ক জ্যোতিপ্রকাশ ভট্টাচার্য এবং রূপসি নায়িকা শীলা হালদার বিয়ে করলেন ১৯৪১-এর ১৯ জুন। জ্যোতিপ্রকাশ-শীলা প্রেমের গুঞ্জনের ইতি ঘটল। জ্যোতিপ্রকাশ-শীলার বিয়ে করেন ধর্মান্তরিত হয়ে। নাম হল জ্যোতিপ্রকাশ ইউসুফ আর শীলা হালদার হলেন সাকিনা বেগম। ১৯৪২-এর জুনে সন্তান প্রসবকালে মারা যান শীলা হালদার। প্রেমিকার শোকে পাগলের মতো হয়ে যান জ্যোতিপ্রকাশ। এভাবে কয়েক মাস কাটে। ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৪২ আত্মহত্যা করেন জ্যোতিপ্রকাশ কুচিলা বিষ খেয়ে। বাংলা ছবির একটি অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি ঘটে।
ঠিক এভাবেই সিনেমাপ্রেমীরা অবাক হয়েছিলেন গুরু দত্তের আত্মহত্যার খবরে। দিনটা ১০ অক্টোবর ১৯৬৪। জানা গেছিল, গুরু দত্ত পানীয়ের সঙ্গে কড়া ডোজের ঘুমের ওষুধ মিশিয়েছিলেন। গুরু দত্তের মৃত্যু নিয়ে ষাটের দশকে তোলপাড় হয়েছিল বলিউড৷ ঠিক আজ যেমন হচ্ছে সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যু নিয়ে। একটা সময় অভিনেতা ভুগতেন মানসিক অবসাদে৷ সেই কারণে খেতেন ঘুমের ওষুধ৷ অনেকেই মনে অতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ খাওয়ার কারণেই মৃত্যু হয়েছিল গুরু দত্তের
মৃত্যুর আগের দিনও স্বাভাবিক এবং সুস্থ অবস্থায় ছিলেন তিনি৷ শোনা যায়, যেমনটি ছিলেন সুশান্ত। দুই পুত্র অরুণ এবং তরুণের জন্য নাকি জামাকাপড় কিনেছিলেন৷ কেনাকাটার পর গুরু দত্ত অ্যাপার্টমেন্টে ফিরে আসেন৷ পেডার রোডের ফ্ল্যাটে একাই থাকতেন গুরু দত্ত৷ গুরু দত্তের সঙ্গে গায়িকা গীতা রায়চৌধুরীর বিয়ে হয় ১৯৫৩-তে। তারপর তাঁর পরিচয় গীতা দত্ত নামেই৷ তবে গুরু-গীতার বিবাহিত জীবন খুব সুখের ছিল না৷ গুরু দত্ত কাজের ব্যাপারে ছিলেন খুবই নিষ্ঠাবান, কিন্তু ব্যক্তিগত জীবনে ছিল শৃঙ্খলার অভাব৷ অত্যধিক ধূমপান এবং মদ্যপান করতেন৷ ছিল অভিনেত্রী ওয়াহিদা রেহমানের সঙ্গে সম্পর্ক। যা গুরু দত্ত এবং গীতা দত্তের দাম্পত্য জীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছিল৷ গীতা দত্ত সন্তানদের নিয়ে আলাদা থাক্তেন৷ শোনা যায়, গুরু দত্ত মৃত্যুর আগের দিন যান গীতা দত্তের কাছে। তিনি চেয়েছিলেন দুই পুত্রের সঙ্গে ছুটি কাটাতে৷ না, গীতা দত্তের কাছে অনুমতি মেলেনি। সেই রাতেই গুরু দত্ত বেডরুমে ঢুকে দরজা বন্ধ করেন৷ পরে মৃত অবস্থায় তাঁকে পাওয়া যায় ঘর থেকে। জানা গেছে, এর আগেও দু’বার আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন। ওয়াহিদা রেহমানকে নিয়ে গীতা-গুরু দত্তের মধ্যে একটা মানসিক টানাপোড়েন ছিল প্রচণ্ড।
হিন্দি এবং দক্ষিণী ছবির বহু নায়ক-নায়িকা বেছে নিয়েছিলেন আত্মহননের পথ। সুশান্ত সিং রাজপুতের কিছুদিন একইভাবে আত্মহত্যা করেন প্রেক্ষা মেহতা। তাঁকে পাওয়া যায় ইন্দোরে তাঁর বাসভবনে ঝুলন্ত অবস্থায় ২৬ মে। তিনি নাকি কেরিয়ার এবং সম্পর্ক নিয়ে ভুগছিলেন অবসাদে। পরিচালক রামগোপাল ভার্মার ছবি ‘নিশব্দ’ (২০০৭)-এ অমিতাভ বচ্চনের সঙ্গে অভিনয় করে সাড়া ফেলে দিয়েছিলেন জিয়া খান। পরে আমির খানের ‘গজনি’ (২০০৮)-তেও অভিনয় করে প্রশংসিত হন জিয়া। তাঁকে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায় তাঁর জুহুর বাসভবনে ৩ জুন, ২০১৩। এ-নিয়ে প্রচুর জল ঘোলাও হয়।
সেক্স সিম্বল সিল্ক স্মিতাকেও মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছিল তাঁর চেন্নাইয়ের বাসভবনে ২৩ সেপ্টেম্বর ১৯৯৬। শোনা যায়, ছবি প্রযোজনায় প্রচুর আর্থিক ক্ষতি হয়। দেনার কারণে তিনি ভুগছিলেন অবসাদে। জাতীয় পুরস্কার প্রাপ্ত অভিনেত্রী শোভা আত্মহত্যা করেন ১ মে, ১৯৮০। তখন শোভার বয়স ১৭। তিনি তামিল ছবি ‘পাসি’র জন্য জাতীয় পুরস্কার পান। তাঁর মৃত্যুতে ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির প্রচুর ক্ষতি হয়। তাঁর আত্মহননের কারণ জানা যায় না। শোনা যায়, এর পিছনে নাকি ছিল গভীর ষড়যন্ত্র। দক্ষিণের আর এক জনপ্রিয় প্রতিভাবান অভিনেত্রী ময়ূরী চেন্নাইয়ে আত্মহত্যা করেন মাত্র ২২ বছর বয়সে। দিনটি ১৬ জুন, ২০০৫। অভিনেতা-অভিনেত্রীদের আত্মহননের ঘটনা বহু ঘটেছে আগে। তবে ইদানীং কালে বোধহয় বেড়ে গেছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই জানা গেছে সকলেই অবসাদে ভুগতেন। দেখা গেছে, রঙ্গনাথ-এর মতো জনপ্রিয় তেলুগু অভিনেতা ৪০ বছর ইন্ডাস্ট্রিতে ৩০০ ছবি করার পর আত্মহত্যা করছেন। কেন? স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগে। রঙ্গনাথকে তাঁর হায়দরাবাদের বাসভবনে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায় ১৯ ডিসেম্বর ২০১৫। কিছু আত্মহত্যার কারণ খুঁজে পাওয়া যায় না। কিছু যায় না। কেউ কেউ সুইসাইড নোটে লিখে যান। কুলজিৎ রনধাওয়াকে জুহুর অ্যাপার্টমেন্ট থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায় ৮ ফেব্রুয়ারি ২০০৬। তিনি লিখে গেছিলেন– জীবনের চাপ আর নিতে পারছেন না।