প্রস্থানিক
প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব একটি রাজপথ থাকে। সাধারণত প্রতিষ্ঠান সেই পথের শেষে থেমে যায়। অথবা প্রতিষ্ঠান দৃঢ় দাঁড়ালে চলা ফুরোয়, পথও ফুরোয়। প্রাতিষ্ঠানিকতা সেই অন্ধপথে হেঁটে প্রতিষ্ঠানে পৌঁছয়। বাহ্য-বাধ্যতায় খেয়াল থাকে না, বড় নির্দিষ্টের দিকে হাঁটছি, আর একদিন আজকের এই ‘নির্দিষ্ট’ অনির্দেশের দিকে হেঁটেছিল। তাই দ্বিপ্রহরের ‘সাফল্য’-প্রোজ্জ্বল রাজপথে কখনো দাঁড়াতে হয়। থমকে, কিছুক্ষণ। তারপর পথের পাশে ঘাসে নেমে তৈরি করে নিতে হয় একটি পায়ে চলা পথ। অব্যবহারে যা নাতিকালে ঘাসে মুছে যেতে পারে, অথবা অতিব্যবহারে রাজপথ। প্রথমে প্রথমে পথটা মেশে সংগঠনে। তখনো কিন্তু পথটা থামে না। খিড়কি দিয়ে শতধাবিভক্ত হয়ে অনির্দেশের দিকে হাত বাড়ায়। পথ যদি ক্রমশ প্রশস্থ হয়, সংগঠন প্রতিষ্ঠান হয়। খিড়কি বন্ধ হয়। পাছে সে পথে যবন আসে। আরও এগোনোর পথগুলি ঘাসে ঢাকা পড়ে। তখন আবার নতুন পথে পা রাখা। এই নিয়ম। প্রস্থানবিন্দুটিকে চিনে নিতে হয় আবশ্যিক সতর্কতায়, নয়তো ফের সাধের ঘরখানি ‘বাড়ি’ হয়ে যায় বুঝি। বাড়ি মানে সেই পিরামিড, একতলার চৌখুপিতে যার প্রজা আর পায়রার বসত, তেতলায় মন্ত্রণাকক্ষ আর চিলেকোঠায় পড়েছে চাবি-হারানো তালা। তাই বারংবার ‘না’ বলা, বারংবার অভ্যাসকে বিদায় জানানো। নতুন দৃশ্যে প্রবেশের আগে প্রস্থান জরুরি।
২০১০ এর গোড়ায় গর্ভস্থ প্রস্থান মধ্যবছরে আত্মীয়সম দর্শক-সকাশে ভূমিষ্ঠ হয়। পিতৃত্ব ও প্রতিষ্ঠান প্রায়ই সমার্থকবোধে আমরা চেয়েছিলাম, সন্তান জারজ হোক। পৈতৃক ভিটেবাসি শিকড়গামী স্থানু আর যার ঘর নেই, সে তো অপার সম্ভাবনাময়। তবু একটা ঘর তৈরি হচ্ছে গত তিনবছর ধরে। প্রাথমিকভাবে অন্তরঙ্গ নাট্যে ঘর বা অভিনয়ক্ষেত্রটির নিজস্ব ভাষা ও ব্যাকরণটির পাঠক-ছাত্র-আবিষ্কারক-প্রযোজক হওয়ার উপরেই অধিক গুরুত্ব ছিল। ভাবনার পাঠভূমিতে ক্রমশ এই অন্তরঙ্গ স্থানটিকেও মনে হতে লাগল বহিরঙ্গ। আত্ম-অন্তরখানিই বুঝি সেই বিশেষ স্থান - ‘প্রস্থান’। আমার মন শরীরে বিকশিত, প্রকাশিত। অন্তরের সাথে অন্তরতরর আত্মীয়তাই বুঝি অন্তরঙ্গতা। নিজের প্রতি, নিজ শিল্পের প্রতি আরও সৎ ও নিষ্ঠ হওয়ার একটি প্রক্রিয়া চলতে থাকে মননে। প্রদর্শন নয়, স্বদর্শন। বিনোদন নয়, বিযাপন। প্রযোজনা নয়, সংযোজন। ‘আমার’ সাথে, দর্শকের সাথে ‘আমার’ সংযোজন। প্রত্যাখ্যানের নেতি থেকে স্বস্থান নির্মাণ – ‘প্রস্থান’ তার সংজ্ঞাপরিবর্তনে ইতিগামী। নতুন দৃশ্যে প্রবেশ।













