Hola

shark vs the universe
"I'm Dorothy Gale from Kansas"
2025 on Tumblr: Trends That Defined the Year
Jules of Nature
Lint Roller? I Barely Know Her

JBB: An Artblog!
One Nice Bug Per Day

tannertan36

⁂
trying on a metaphor

Product Placement

izzy's playlists!
h

blake kathryn

Discoholic 🪩
occasionally subtle
No title available

Janaina Medeiros
Not today Justin
sheepfilms
seen from United States
seen from United States
seen from United States

seen from Romania

seen from United States
seen from Malaysia

seen from United States
seen from Malaysia

seen from T1
seen from Chile
seen from Chile
seen from United States
seen from Bangladesh
seen from United States
seen from United States
seen from Indonesia
seen from Türkiye
seen from Italy
seen from United States
seen from United States
@animeshonly
Hola
এখন টিমটিম করে সূর্য জ্বলছে আকাশে
এখন টিমটিম করে সূর্য জ্বলছে আকাশে,
এখন এই চরাচর স্থির।
প্রলয়ের আগে অথবা পরে যেমন থাকে।
এখন টিমটিম করে সূর্য জ্বলছে আকাশে,
অথবা এখন মধ্যরাত।
এখন হলুদ বাতাস আর শান্ত বকের সারি আমার চোখের পাতার ভাঁজে। এখন আলো কমে এসেছে চোখে।
টলটলে ফাঁকা রাস্তার মোড় আর একচোখা ল্যাম্পপোস্ট অভ্যেস বদলায় দিন দেখে;
আমি আরও অন্ধকার চেয়ে হাত পাতি।
আর শব্দ ধেয়ে আসে বদলে।
আমি শান্তি খুঁজে চোখ ঝাপটাই
আর আলো চলকে পড়ে কিনারা বেয়ে।
June| 2019
নগর বিপ্লব : অংশ বিশেষ
সুশান্ত দা অনেকক্ষন একটা বোতলের দিকে তাকিয়ে আছে দেখে জিজ্ঞেস করলাম কি ভাবছে। বললো, বোতল ভাঙতে হবে বলে যে আইডিয়া গুলো বোতলের মধ্যে জন্ম নিয়ে বোতলের মধ্যেই থেকে যায়, সেই বোতলগুলোর আদৌ কি কোনো গুরুত্ব আছে!
আমি কিছু না বুঝে ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে আছি দেখে ফিক করে হাসলো। বললাম, খিদে পেয়েছে? কিছু খাবে?
সুশান্ত দা আবার হেসে বললো, বোতল না, সেই আইডিয়াগুলোর কোনো গুরুত্ব আছে? আমি বললাম, আরবান এক্টিভিজম নিয়ে তুমি বলেছিলে বোতল-বিপ্লব, মনে পড়লো। তুমি কেন বলো যে আরবান এক্টিভিজম যে কোনো ভালো আইডিয়ালিস্টিক এক্টিভিজমের পোঙ্গা মেরে দেয়?
-দেয় তো। ভীষণ ভাবে দেয়। দুটো ইজমের নাম তো এক্ষুনি করতে পারি!
- হ্যাঁ আমি জানি কোন দুটো! ওসব থাক। আরবান এক্টিভিজম গুরুত্বপূর্ণ আইডিয়া গুলোকে ভ্যালিডেট করে, এস্টাব্লিশ করে, ন্যারেটিভ তৈরি করে আর বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আরবান এক্টিভিজম ই কিছু আইডিয়ার বেঁচে থাকার একমাত্র উপায়। কেন খারাপ বলছো?
- ওই যে শেষে যে লাইনটা বললি। ওটাই তো খারাপ। বোতল থেকে বেরোতে পারে না। এবং বোতল থেকে বেরোতে না পেরে যে ন্যারেটিভ টা তৈরি হয় সেটা বাস্তব থেকে বহু ক্রোশ দূরে। এই ড্রইংরুম এক্টিভিজম আসলে এক্টিভিজম এর আইডিয়ার একেবারে উল্টোদিকে কাজ করে। সেম সাইড গোল করার মতো।
-বুঝলাম না। তুমি বলতে চাইছো আরবান এক্টিভিজম যে ন্যারেটিভ গুলো তৈরি করে, এবং এস্টাব্লিশ করে মাস সাইকোলজি তে অথবা পাবলিক ডোমেন এ, সেগুলো একচোখা?
-এবং ফ্রিভোলাস! উল্টে এদের তৈরি করা ন্যারেটিভ দিয়ে এরা যাদের বিরুদ্ধে লড়ছে বলে যুদ্ধ করে তারাই আরো ভীষণ ভাবে ম্যানিপুলেট করার সুযোগ পায়। ধর ফেমিনিজম। ইতিহাস ঘেঁটে দেখ, ক্যাপিটালিজম কিভাবে বিশ্বযুদ্ধের সময় থেকে এই আজ, কনজ্যুমারিজম এর চরম যুগেও ফেমিনিজম কে ব্যবহার করেছে!
ঘাঁটলেই বুঝবি ফেমিনিজম নিয়ে শহুরে ন্যারেটিভ গুলোর জন্মদাতা কারা, কিভাবে সেগুলো যুগ যুগ ধরে একটা আদ্যোপান্ত শহর কেন্দ্রিক ফাঁপা প্রপাগান্ডা কায়েম রেখেছে, কিভাবে সেগুলো দিয়ে নারীবাদের কোনো লাভ না হয়ে পুঁজিবাদের হাত আরো শক্ত হয়।
- আচ্ছা। এতে মূল আইডিয়ার এথিক্স তো আর খর্ব হয়ে যাচ্ছে না। এত ম্যানিপুলেশনের মধ্যেও যদি কিছু পলিসি চেঞ্জ, কিছু পাবলিক এডুকেশন বাড়ে তাতে ক্ষতি কি?
- পলিসি চেঞ্জ নাকি! হ্যাঁ পলিসি চেঞ্জ, যেমন শহুরে নিয়মকানুন এ কিছু এদিক ওদিক মেকওভার, কাজের জায়গায় কিছু এক্সট্রা ছুটি, আরবান ফিমেল অন্ত্রপ্রনরদেরএর জন্য কিছু বিশেষ ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ফান্ড এই সবই যদি তোর "মূল আইডিয়া" র গোল হয়ে থাকে তবে ঠিক আছে! কিন্তু তা তো না, তাই না? তোর ভাষায় যদি তোর আরবান বিপ্লব সত্যি গ্রাউন্ড লেভেল এ কিছু চেঞ্জ আনতে পেরেছে তবে এই আজ, 2018 তে ভারতে গ্রামাঞ্চলে ধর্ষণ, ফিমেল লিটারেসি, ম্যারিটাল রেপ, বাল্যবিবাহ, পাচার, শিশু শ্রমিক, সম্পত্তির অধিকার এই বিষয়গুলোতে চেঞ্জ দেখিয়ে দে! দেখিয়ে দে কিভাবে বলিউডের পেজ থ্রি কাঁপানো ফেমিনিস্ট অথবা যাদবপুরের ধ্যবড়া কাজল ফেমিনিস্ট দূর সম্পর্কে কোনো ইমপ্যাক্ট ফেলতে পেরেছে কিনা!
যে ন্যারেটিভ গুলো তৈরি হয় শহুরে বিপ্লব দিয়ে তা শুধুমাত্রই শহর কেন্দ্রিক। ফেমিনিজম কে কেন্দ্র করে টিভি এড অথবা সিনেমা, গান গুলো দেখলেই বুঝবি কারা টার্গেট অডিয়েন্স। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ফেমিনিজম=মেল আবিউজ,হেট্রেড আর মিস ইউজ ..এই ন্যারেটিভ তৈরি হয়েছে, হচ্ছে। ঠিক যেন একটা পজিশন অফ পাওয়ারকে রিপ্লেস করে তার জায়গায় অন্য একটা কাউন্টার পজিশন তৈরি করা। কিন্তু যদ্দুর জানি ফেমিনিজম ইজ অল অবাউট ডেস্ট্রইং দ্য ভেরি কনসেপ্ট অফ পাওয়ার, তাই না?
- হ্যাঁ, তাই তো। পজিশন অফ পাওয়ার না থাকলেই তো অপ্রেসন বা ম্যানিপুলেশনের সম্ভাবনা তৈরি হয় না।
-ঠিক। কিন্তু ন্যারেটিভটা উল্টো তৈরি হচ্ছে। এর কারন কি বলে মনে হয়? এই যে ভুল ন্যারেটিভ অথবা ভুল ডেফিনিশন তৈরি হচ্ছে ফেমিনিজম এর মতো একটা ভালো আইডিয়ার, তার দায় কার অথবা কাদের ওপর বর্তায়? কেন একটা আইকন দেখাতে পারিস না যে সারাক্ষন কমপ্লেন না করে, এটা দাও, ওটা আমার বলে চেঁচানোর পাশাপাশি সত্যিই ইনক্লুসিভ সলিউশনের কথা বলছে, রেস্পন্সিবিলিটি নিচ্ছে নিজের, নিজেদের ভুলগুলোর। ওটা আসল ইজম না, এটা আসল এইসব বলে বিশ্ব জুড়ে কমিউনিজম আজ নিজের পেছন বাবুঘাট করে ফেলেছে। তোমার ইডিওলজি এতো মহান যে দায়িত্ব নিয়ে ঠিক বার্তাটা ঠিক ভাবে পৌঁছে দেবার উদারতা তোমার মধ্যে নেই, কিন্তু এলিটিজম আছে! রন্ধ্রে রন্ধ্রে আছে!
-আচ্ছা মুশকিল তো! ধরে নিচ্ছ কেন "শহুরে" আইকনরা সর্বজনীন
ডেভেলপমেন্ট এর ঠেকা নিয়ে রেখেছে! শহরে মেয়েদের সমস্যা নেই নাকি? এখানে ম্যারিটাল রেপ হয় না নাকি ওয়ার্কপ্লেস হ্যাজার্ড নেই নাকি ইক্যুয়াল অপরচুনিটির বৃষ্টি হয়, কোনটা?
-আরে উদ্গান্ডু, এতক্ষন সেটাই তো বললাম। নগরকেন্দ্রিক সভ্যতার নগরকেন্দ্রিক উন্নয়নে আমার সমস্যা নেই। ভালোই তো। আসানসোলে রাস্তা মেরামত সাত বছর আটকে থাকলে শহুরে বুদ্ধিজীবীদের বাল ছেঁড়া যায়। তাদের জন্য পার্কস্ট্রিটে ত্রিফলা আলো লাগিয়ে দিলেই তারা ফেসবুকে ফ্যাসিবাদকে রুখে দিয়েছে বলে পোস্ট দেবে। তোর বালের নগরকেন্দ্রিক সভ্যতার নগর কেন্দ্রিক বিপ্লবের ব্যাপ্তি নেই। এটাই বলছি তখন থেকে। এবং এই ব্যাপ্তিহীনতা গুরুত্বপূর্ণ আন্দোলনগুলির প্রসার আর প্রতিষ্ঠা দুটোকেই নষ্ট করে, মূল আদর্শ গুলোকে ডিসটর্ট করে। এটাই সমস্যা।
সুশান্ত সমগ্র : নগর বিপ্লব (অংশ বিশেষ)
September | 2020
I'm on a toy train (full text)
I'm on a toy train
I'm shaken on the rocky road
I'm on a toy train
I've forgotten where I started from
I'm on a toy train
Why the fuck it doesn't stop oh hell
I'm on a toy train
Did I ever wanted to be here at all
I'm on a toy train
In my head I'm rolling in loop
I'm on a toy train
Inside a dark tunnel
(Inside an endless tunnel)
I drink tears and chew some dry wind
(when it gets boring)
I dream of a toy train running over me
(Only if I sleep)
I ride along with a crowd looking like me
I hide my face from thousand other me
I think I'm on a toy train
Don't know how long it has been
I'm really on a toy train
Won't know how long it will be
I've been on since I opened my eyes
Don't think I ever bought a ticket for this
I'm on a toy train
Here nobody smiles
I'm on a toy train
Here nobody lives
I'm on a toy train
Why do I hate the sunlight
I'm on a toy train
Should I have jumped before?
Oh I think I'm on a toy train
Been here since tomorrow.
Feb | 2022
বাম বাম বু বু ১
অতি বাম আর অতি চাড্ডি- এই দুইয়ের মধ্যে আদর্শগত কোনো পার্থক্য নেই। কিন্তু চাড্ডিরা এক গোলে এগিয়ে থাকে কারন ওরা কোনোভাবেই প্রিটেনসাস নয়, একেবারে কপালে চুতিয়া আর গামবাট লিখে রাখে, দেখেই চিনে ফেলা যায়। মানে ধরুন প্যান্টের উপর জাঙিয়ে পরে বেরোয়, একঝলক দেখেই বলে দেওয়া যায় কোন রঙের, কত দামি ইত্যাদি।
অতি বিপ্লবীদের ব্যাপারটাই আলাদা। এরা জাঙ্গিয়াই পরে না! বরং গামছাটাকেই ফুল প্যান্ট বলে চালিয়ে দেয়। আর তারপর যুক্তি দেয় আসলে জাঙ্গিয়া কিভাবে নিও ক্যাপটালিজম এর টুল, জাঙ্গিয়া দিয়েই সোস্যালিজম এর কন্ঠ রোধ করা হচ্ছে, কেন উগান্ডার খেটে খাওয়া মানুষেরা ১৮৭৭ সালে জাঙ্গিয়া বর্জন আন্দোলন করেছিল এবং তার সুদূর প্রসারী প্রভাব কিভাবে পশ্চিম মেদিনীপুরের ইলেকট্রিক না থাকা গ্রামে কমরেড রা জিদাব্বাদ জিদাব্বাদ বলে প্রচার করেছিল ইত্যাদি।
ঠিক তার পরের দিনই বিদেশি জাঙ্গিয়ার দোকানে জাঙ্গিয়া শপিংয়ের ছবি পোস্ট করবে ফেসবুকে। "ফাইনালি সাম রিলিফ টু মাই বিপ্লবী বান্টু ডাউন দেয়ার"
July | 2020
লোকাল ট্রেন ও লরেল মদি
(5/5 ✨লোকাল ট্রেন নিয়ে মালগাড়ির মতো লম্বা লেখা:-ছায়া প্রকাশনী)
কাল দুপুরে বেড়াল ধুয়ে শুকানোর সময় পাশের গলি থেকে লরেল মদির হেঁড়ে গলায় ডাক শুনতে পেলাম: মিত্রোও, আজ রাঁত বাঁরা বজে সেঁ, লোকাল ট্রেন কিঁ, সেঁল লগেগী। আপনাঁ জিও নাম্বার সে বুকিং কিঁজিয়ে। অওর প্রাইভেট লোকাল ট্রেন কিঁ, মজা লিজিয়ে!
শুনেই সুশান্ত দাকে ফোন করলাম। (যদিও ওই নামে কাউকে চিনি না) বললো একশো দিনের কাজ করে কিছু টাকা জমিয়েছে, এই সুযোগে কাজে আসবে। সেই কথা মতো আজ সকালে ট্রেন কিনতে বেরিয়েছি। লুঙ্গি টা পরেই ছিলাম পরশু থেকে। খালি গায়ে ভালো লাগছিলো না বলে একটা বো টাই পরে নিলাম। লরেল মদির স্টলটার সামনে দেখি বিশাল ভিড়। সব নাকি ফেসবুকের লোকাল ট্রেন কিনতে চাই গ্রূপের। একটু খুঁজতেই সুশান্ত দাকে দেখতে পেলাম। কাছে গিয়ে দেখি ওর কাঁধে একটা বাঁদর। আমাকে দেখিয়ে বাঁদর টাকে বললো, ডেমোক্রেসি...দাদাকে দাঁত দেখাও।
আমি বললাম, সে ঠিক আছে। কিন্তু আমি কি ট্রেন কিনতে পারবো, পারবো আমি ট্রেন কিনতে? আমার তো জিও নাম্বার নেই। ভোডাফোন পোস্ট পেড। বলার সময়ই শুনতে পেলাম লরেল মদির শীৎকার। না বানান ভুল নয়। কিছু বুঝে ওঠার আগেই মুকেশ লাউড়ু পাতলুনের দড়ি বাঁধতে বাঁধতে বেরিয়ে এলো স্টল থেকে। যাক গে, ট্রেন বিক্রি শুরু হলো।
লাইনে আমার সামনের জন একবার ট্রেন কিনে ফিরে গিয়ে আবার এসেছে। জিজ্ঞেস করাতে বললো ফেসবুকের গ্রূপটা নাকি ও ই চালায়। এখান থেকে বেশি মাল তুলে পরে গ্রূপে ব্ল্যাক এ বেচবে।
পাশ দিয়ে একজন ট্রেন কিনে ফিরছিলো। প্লাস্টিকের ব্যাগ থেকে ইঞ্জিনের মাথাটা দেখতে পাচ্ছিলাম। দাঁড় করিয়ে জিজ্ঞেস করলাম ট্রেন কিনলে ট্রেনের গায়ে 'হিন্দি হ্যায় হম, হিন্দুস্তান হমারা' লেখাটা মুছে 'জয় বাংলা' লেখা যাবে কিনা? লোকটা বললো, হবে, কিন্তু নিয়মিত ফেসবুক লাইভ করে গর্গিল করতে হবে।
আমরা কাউন্টারের সামনে এবার। লরেল মদি খাকি জাঙ্গিয়া পরে বসে আছে আর দোকানের স্টাফ নির্মল রামন থুতু দিয়ে নোট গুনে গুনে রাখছে। লরেল আমার কাগজ পত্তর দেখে বললো তোমার জিও তো নেইই, বাড়ির টিভিতে একটাও গোদি মিডিয়ার নিউজ চ্যানেল নেই, তুমি পাবজি খেলো না যুদ্ধ ভালো লাগেনা বলে.. আরও কি সব বলতে যাচ্ছিল তখনই প্রবল উত্তেজনায় নিজের কুঁচকির কাছটায় খামচে ধরলো। আমি আর সুশান্ত দা কি হয়েছে জিজ্ঞেস করাতে বললো ও কিছু না, অন্ডকোষের নীচে ছোট মতো একটা অর্ণব গোস্বামী হয়েছে, থেকে থেকে কঁকিয়ে ওঠে।
সুশান্ত দা পকেট থেকে একটা বি-টেক্স এর কৌটো বের করে কাঁধের বাঁদর টাকে দিল। তারপর লরেল মদি কে দেখিয়ে বললো, উও মজবুর হ্যায়, পর তুম নহি।
যাক গে, আমার ট্রেন কেনা হলো না। সুশান্তদা কে লরেল মদি বললো তোমাকে ট্রেন দিতে পারি তার বদলে বাঁদর টাকে রেখে যাও, নাচাবো। সুশান্ত দা ডেমোক্রেসি কে লরেল মদির টেবিলে নামিয়ে পেপার ওয়েট চাপিয়ে রেখে এলো।
আসার সময় সুশান্ত দাকে জিজ্ঞেস করলাম লরেল মদির নাম লরেল মদি কি করে হলো? সুশান্ত দা বললো সে অনেক কাল আগের কথা। শোনা যায় সেই বিশেষ রাতে লরেল মদির বাবা লুব্রিক্যান্ট না পেয়ে লরিয়েল শ্যাম্পু দিয়েই নাকি...যাক গে!
#ভোকাল-ফর-লোকাল!
July। 2020
মেট্রোয় গিলেমেটে: তিন
বছর পাঁচেক আগের কথা। চাকরি নেই। পকেটে টাকা নেই। পেটে খাবার, মনে আত্নবিশ্বাস দুটোই নেই। নেই এর হিসেব করার মতো মানসিক শান্তিও নেই। এমন একসময় এক আত্নীয়ের কাছ থেকে পাঁচশো টাকা ধার নিতে বেলঘরিয়া থেকে আলিপুর গেছি।
নিয়ে ফিরছি মেট্রো করে। অফিস ফিরতি নন-এসি মেট্রো নিজেই হাঁসফাঁস করে ঘামছে। স্বাস নেওয়ার মতো বাতাস নেই ভেতরে। এতটা ঘামছি যে মনে হয় শরীরের সমস্ত জল বেরিয়ে যাবে। এ ওর পা মাড়িয়ে দিচ্ছে, গায়ে উঠে পড়ছে। কিছুক্ষন পরে দুজনের মধ্যে ঝগড়াও লেগে গেলো। দম আটকে আসছে আমার। প্রচন্ড গরমে, খিদেয়, টেনশনে, ভিড়ের চাপ সামলাতে সামলাতে আমি ভাবলাম শালা! এটা একটা জীবন?! এই ভাবে তো পোলট্রি মুরগীও বাঁচে না। এটাকে বাঁচা বলে?
ঠিক এমন সময় পেছনের দিকে উদাত্ত গলায় কেউ গেয়ে উঠলো: 'সুহানা সফর হ্যায় ইয়ে মওসম নয়া'!! চমকে দেওয়ার মতোই। এত জোরে খোলা গলায় কাউকে, কোনো সহযাত্রী কে পাবলিক ট্রান্সপোর্টে গাইতে দেখিনি বা শুনিনি। আমার চারিদিকে, গোটা কামরার লোকজনও অবাক। সমস্ত আওয়াজ বন্ধ, মেট্রো চলার আওয়াজ আর ওই গান ছাড়া। একের পর এক কিশোর কুমার, রফি গেয়ে চলছেন উনি। উনি বলতে এক প্রৌঢ়। জোরে গাইছেন উনি। বেশ জোরেই।
এদিক ওদিক থেকে টোন টিটকিরি শুরু হলো এবার:
- 'আরে কেউ খুচরো পয়সা দে রে, নাহলে থামবে না'
- 'কারা এসব ভাই! পাগলের সংখ্যা বাড়ছে দেখছি'
- 'আরে কাকু, অম্বল হলো নাকি!'
আমি ঘাড় ঘুরিয়ে কিচ্ছুক্ষন ভদ্রলোক কে দেখার চেষ্টা করলাম।
দরদর করে ঘামছেন, বাঁ হাত দিয়ে ওপরের হ্যান্ডেল টা শক্ত করে ধরে আছেন। একটা গান শেষ করতে না পারলে সঙ্গে অন্য একটা ধরছেন। বেপরোয়া হয়ে গাইছেন উনি। যেন এই ঘাম, গরম, ভিড়, অস্বস্তি, কষ্ট কোনোকিছুকেই পাত্তা দেওয়া যাবে না। কোনোমতেই এগুলো জীবনকে থামিয়ে রাখতে, আটকে রাখতে পারে না। পারতে দেওয়া যাবেও না। পোলট্রি মুরগীর মতো বাঁচাটাকেই একমাত্র বাস্তব হতে দেওয়া যাবে না। ভদ্রলোকের ঠোঁটে একটা হাল্কা হাসিও দেখলাম। দেখে বুঝলাম কিভাবে হাসতে হয়।
না: আমার ডিপ্রেশন কমে যায়নি রাতারাতি। শুধু নিজেকে বলেছিলাম, লড়তে হবে বস! লড়ে তো যেতেই হবে!
মেট্রোয় গিলেমেটে: দুই
প্রায়ই চিত্র পরিচালক বিরসা দাসগুপ্ত'র মেয়ে মেঘলা কে দেখি টালিগঞ্জ থেকে মেট্রোতে উঠতে। এরকম একদিন:
- হাই মেঘলা!
- (কিঞ্চিৎ অপ্রস্তুত) হাই।
- তোমাকে একটা কথা বলার ছিলো..
- আমাকে? বাট সরি, ডু আই নো ইউ? আই ডোন্ট ইভেন..
- (SRK হাসি দিয়ে) আমাকে চিনতে হবে না। আমার মতো অনেকেই আছে যারা তোমাকে এই কথাটা বলতে চায়..
- (ভ্রু খানিক ওপরে নিয়ে একটু নামিয়ে) মে বি.. বাট ইটস সো অকওয়ার্ড লাইক দিস.. হু আর..
(পরের স্টেশনের ঘোষণা হয়)
- আমি নেমে যাবো। তার আগে আমাকে বলে ফেলতেই হবে। না হলে আমি সারা জীবন আফসোস করতে থাকবো। কুরে কুরে খাবে আমাকে সেই আফসোস! হৃদয়ের বোঝ হাল্কা করতে চাই!
- (কি বলবে বুঝে উঠতে পারছে না!) ! !
- আমার মতো অনেকেই আছে..অনেকের মনেই..
- (#%#@) ওকে, হোয়াট ইজ ইট?
(পরের স্টেশন এসে গেছে, গেট খুলবে)
- মেঘলা..
- !?
- তোমার বাবা না খুব খারাপ সিনেমা বানায়!
(গেট খুলে গেছে)
- !!!!
- না মানে পরের বার কিছু বানানোর আগে প্লীজ আমার কথাটা ভাবতে বোলো।
(নেমে গেছি ট্রেন থেকে)
- আমার মতো অনেকেই আছে। প্লিজ ভাবতে বোলো!
(গেট বন্ধ হয়ে গেলো। বাইরে থেকেই বুঝলাম কামরার ওই জায়গাটা আগুনে লাল হয়ে আছে)
(ওপরের কথোপকথন টি একেবারেই কাল্পনিক! তবে সত্যিই একদিন প্রায় বলে ফেলেইছিলাম!🤣😅)
মেট্রোয় গিলেমেটে: এক
সিনিয়র সিটিজেন এলাকায় একটা খালি সিট। দুজন বয়স্ক (অথচ মানতে চান না) ভদ্রলোক একে অপরকে ভালোবাসছেন:
- না না আপনি বসুন
- না না আপনি
- সে কি করে হয়..
- আরে আমি তো নেমেই যাবো একটু পরে। আপনিই বসুন বরং..
- হ্যাঁ আমিও তো ওই...আমিও তো নেমেই যাবো। আপনিই বরং..
আমি এদিক ওদিক দুদিক দেখে দুজনের মাঝখান দিয়ে গলে গিয়ে সিটটাতে বসে পড়লাম।
(* রবীন্দ্র সদনে নেমে যাওয়া অব্দি ওই এলাকায় কোনো আওয়াজ শুনতে পাই নি। )
বাংলা নাটক: আর্ট (রিভিউ)
আর্ট দেখলাম। তৃতীয় বার। অনেক গুণী মানুষ আর্টের টেকনিক্যাল দিক গুলো নিয়ে অসম্ভব সুন্দর করে রিভিউ লিখেছেন বলেই আমার অন্য কিছু নিয়ে আলোচনা করা ভালো।
হল থেকে বেরোনোর সময় শুনলাম একটি ছেলে নিজের বান্ধবীকে বলছে শুধু অনির্বানদার কমিক রিলিফ গুলোর জন্য নাটক টা দেখা গেল! অবাক হলাম না। দোষ টা খারাপ খাবারের। যেটা দিনের পর দিন খেয়ে খেয়ে ওটাকেই স্বাভাবিক বলে মনে হয়। হঠাৎ ওরকম ছক ভাঙা কিছু দেখলে হজম করতে কষ্ট হবেই তো।
এর আগে অনেকে গৌতমদার গলা শোনা যায়না বলে জানিয়েছিলেন। আমার তো বরং এবারের শো তে অনির্বান দার কিছু শব্দ কিছু জায়গায় শুনতে অসুবিধে হলো। এবং অদ্ভুতভাবে একটুও অসুবিধে হয়নি! পুরো নাটকটির অভিনয় এতটাই স্বতঃস্ফূর্ত যে এই শব্দ হারিয়ে যাওয়া কে আমাদের রোজকার কথাবার্তার মতোই স্বাভাবিক লাগে।
নিজে anxiety র সমস্যায় ভুগি বলে মৈনাকের বডি ল্যাঙ্গুয়েজ বড্ড চেনা লাগলো। একগুঁয়েমি টাও!
রিশেলের pseudo ইন্টেলেকচুয়াল (?) সত্তা আর মৈনাকের ডিপ্রেসেড ন্যারোনেস কোথাও গিয়ে মাস মেডিওক্রিটিকে সিম্বলাইজ করে। অনুভবের মতো (নাকি সুপ্রিম বোসের মতো করে!) করে আর অনুভব করে ওঠা হয়না আমাদের মধ্যেকার 'আমি' আর অন্যদের 'তুমি' গুলোকে। আমাদের আমিগুলো তাই আমাদের মতো করেই আমাদের আমি হয়ে থেকে যায়। অন্যদের মধ্যে থাকা আলাদা আলাদা 'আমি' কে আর চিনে ওঠা হয়না।
যে কারনে বন্ধুত্বের সম্পর্কে মৈনাক কন্ট্রোলফ্রিক/ ডমিনেন্ট হতে চায়। রিশেল পুঁজির জোরে সফিস্টিকেশন গায়ে মাখে। আর অনুভব সবদিক সামাল দেওয়া নীললোহিত! মাঝের সময়টা একটু ড্র্যাগড লাগলো। দৈর্ঘ্য একটু কম হলে ভালো হয়। ওয়াইন গ্লাসের ওয়াইন শেষ হতে এতগুলো চুমুক লাগে না!
প্রথম ছয় সাত মিনিট তিনটে চরিত্রকেই কোন কারনে ক্লান্ত লাগছিলো। এগুলো নিয়েও কেন আর্ট সত্যিই আর্ট সেটা জানতে হলে ছক ভাঙা থিয়েটার দেখা অভ্যেস করতে হবে।
এবং:
বাংলা থিয়েটার কারা দেখে থাকেন? কোন বয়সি? তাদের শিক্ষা দীক্ষা কতদূর? তারা কি থিয়েটার হলের বেসিক এটিকেট গুলো ফলো করেন? তারা কি আদৌ উন্নত মানের থিয়েটার ডিসার্ভ করেন?
প্রশ্নগুলো নিজেকেই করলাম। প্রত্যেক বার নাটক দেখতে গিয়ে উত্তর গুলো পেয়ে থাকি। তারপর আশ্বস্ত হই বাংলা থিয়েটার নিজের দুর্গন্ধময় গুহ্যদ্বার নিয়ে সুখী আছে। সুখী আছে সিটে বসে অনর্গল কাশিতে, ফোনের রিংটোনে, দুমদাম হুড়হার আওয়াজে, 'কোনটা' সিরিয়াল করে সেই আলোচনায়, সঙ্গীকে ধারাভাষ্য দিয়ে /ট্রান্সলেট করে যাওয়ায়...
ঠিকই আছে। যেমন কোমর, তেমনি জাঙ্গিয়া! ঠিকই আছে। নাট্য সিন্ডিকেট, অতি অভিনয়, চুতিয়া অভিনয়, মেকআপ, অপ্রয়োজনীয় সেট, বস্তাপচা টেক্সট, প্রচুর আলো, প্রচুর মিউজিক, কস্টিউম এই সব নিয়ে ঠিকই তো আছে! কার কি যায় আসে!
আর্ট নিয়ে এতজন এতকিছু লিখছেন তার কারনটা উপরের এই ছ্যাবলামোগুলো (কেন ছ্যাবলামো সে নিয়ে পরে আলোচনা করা যাবে) নেই বলে! নেই বলেই গৌতমদারা আর্ট চালিয়ে নিয়ে যেতে পারছে সীমিত ক্ষমতা সত্ত্বেও। এটাই গুরুত্বপূর্ণ! মেদহীনতা! ফ্লুইডিটি! যদি আপনার বাবা দাদু আপনার জন্য নাটকের দল করে গিয়ে না থাকেন, যদি আপনার লবি/গ্রান্ট না থাকে, তাহলেও যদি থিয়েটার টা চালিয়ে নিয়ে যেতে চান, তাহলে ফ্লুইডিটি আনুন! বাদল সরকার হতে হবে না! শুধু নাটকের জন্য যা প্রয়োজন সেটুকু রেখে বাকি সব ছেঁটে ফেলুন।
বাঙালী দর্শক প্রচুর কাস্ট, সেট, কস্টিউম ওয়ালা নাটক কিছুদিন না দেখতে পেলে কিচ্ছু মনে করবেনা। এমনিতেই নতুন দর্শক নেই। নতুন দর্শক তৈরি হয়না। নাটকের লোকেরাই নাটক দেখে। নতুন, নাটক না দেখা দর্শককে থিয়েটার হলে টেনে আনতে হলে এক্সপেরিমেন্টাল কাজ, নিয়মিত কাজ এবং বাহুল্য বর্জিত কাজই উপায়।
অন্তত আমার তাই মনে হয়।
আমি একা আর রাত মিলে
আর তারপর যে অন্ধকারে খুব ভয় পেতো, রাত এলেই কুঁকড়ে যেত অনিশ্চয়তায়, কালো স্তূপের মতো গাছগুলোকে দেখে শয়তান ভাবতো..
সে হঠাৎ বেড়ালের চোখ নিয়ে অন্ধকার ফুঁড়ে রাত ওড়াচ্ছে প্রানপনে, ধুলোর মতো। ঝিঁঝির ডাক আর ঠান্ডা বাতাসের গুঁড়ো এসো গায়ে পড়ছে বারবার। মেঠো পথ ধরে সে এবার ছায়াপথ পার করে ফেলবে।
আকাশে কোটি কোটি তারা তখন ওকে প্রিয় গান শোনানোর আশ্বাস দিয়ে যাচ্ছে।
When I am drunk
And if I told you're like a bad addiction
Like a wild poem
Like a sunset
Like an orgasm
Like a sad afternoon
Like love
Like silence
Like emptiness.
Would you still be ..You?
Clone Killer- Script
Fade in.
Ext. Late night
We see a flickering sign board with Kolkata Data Mining Center written on it.
Cut to
An empty road. We hear dogs barking continuously.
Cut to
Close up of a man. Lying on the ground, wounded, coughing and groaning.
Cut to
mid shot
He is trying to stand up and slowly he succeeds. As he walks ahead, he stumbles down again on the peebly ground.
Cut to
close shot (handheld)
He is light headed and probably weak. Stands up and walks to the left.
Camera follows him. We hear car racing past. He picks up a gun from the ground and walks through an alley, towars a closed door, slightly dragging his right leg.
Cut to
Int. Control room. Same day
We see a cctv monitor on the foreground, with its surrounding dimly lit with blue.we hear people talking and laughing. The monitor shows a part of the alley, right outside the door.
We see a man going out of the door. As he walks a few steps on the alley, suddenly falls backward to the ground, as if shot.
We see a second man repeating the same event.
Cut to
Close up of the gunman's face. Eyes still on front. Breathing heavily, coughing.
Cut to
Cctv monitor. Third man goes out of door and sees other two bodies. He is hesitant and walks a step forward..raising a hand. He is shot and falls on the ground.
(We still hear people talking.
Voice 1:
Tomorrow will be a new beginning gore you guys. It has been long experimenting. It's time to hit the road.
Chorus: Cheers)
Fourth man goes out of the room n repeats the event.
Cut to
Mid shot of the gunman.
He is tightly aiming the gun to the front. He is afraid and nervous.
Cut to
Cctv monitor.
Voice 1: The world is going change my dear. You see the darkness? This all will go away. We, will make this happen!
People cheering and clapping.
Cut to
The gunman. He is furious and nervous. He has provably the last bullet left in his gun. He stands still like before, aiming straight to the front.
Cut to
The room. A man finshises his coffee. Pats on the back of his colleagues back. Says good bye, walking towards the door. Camera shows him from behind and follows. Geopend the door and halts. He slowly steps on the alley. Camera moves o the front.
We see he has the same looks as of the gunman. He tries to talk to the gunman.
New entrant:
no no.. Wait...What u doing..
He is shot and falls on the ground. As the camera moves to the ground, we see all other bodies lying.
All dressed alike. All looking, like the gunman.
Cut to
The gunman. Camera zooms from a midshot straight to his face followed by eyes.
End.
প্রেমে পড়ার পর!
অনেকটা সময় উত্তরের অপেক্ষা করার পর হবু প্রেমিক মোবাইলের স্ক্রিন থেকে চোখ সরায়।
বাইরে তখন প্রবল ঝড়ে শুকনো আবেগের পাতাগুলো উড়ে যাচ্ছে। হঠাৎ মনে হলো, কষ্ট করেও মেয়েটার মুখ মনে করা যাচ্ছে না! খালি চোখ দুটো ছাড়া। কি অদ্ভুত!
তাই বারবার মেয়েটার সাজানো এলবামে চোখ ধুয়ে আসতে হয় ওকে। প্রতিমা প্রতিমা দেখতে মেয়েটাকে। গলার আওয়াজটাও নেশা নেশা!
হবু প্রেমিক বুঝতে পারছে যে সে নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছে। একটা কাঁচের বলের মধ্যে ঢুকে পড়েছে ও। বলটা দিকগ্বিদিক গড়িয়ে যাচ্ছে, পাহাড়ের গা বেয়ে, ঝর্ণার স্রোত দিয়ে অথবা উল্কাপথ দিয়ে মহাকাশে।
আকাশের দিকে চেয়ে দেখে একবার। ঝড়ের দিনে তারা দেখবার আশায়। কিছু না পেয়ে চোখ বুজল হবু প্রেমিক।
: তোমার বয়স কত?
প্রেমিক: তোমার থেকে অনেক আগে থেকে আকাশ দেখছি।
: আচ্ছা। কাকু বলি?
প্রেমিক: তুমি জানো তুমি হেসে দিলে বৃষ্টি হবে?
: আমার ঘুম পাচ্ছে। ঘুমোই?
হবু প্রেমিক মুচকি হেসে চোখ খোলে।
তার প্রেমিক হয়ে উঠতে ভয় করছে। নীল রঙ ছাড়া অন্য কিছু দেখতে পাচ্ছেনা সে।
ঈশান কোন ছাড়া অন্য কোনদিকে আর জাহাজের পাল খাটবে না সে।
নীহারিকা পার করে এসেছি।
এখনো মরুভূমির ধুলো চোখের পাতায় লেগে আছে,
সারি সারি উট মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে।
বাতাসে গুজব, তুমি একটু হেসে দিলেই নাকি বৃষ্টি নামবে।
রোজনামচা!
ঠিক যেমন ভাবে আমার শহর প্রতিটা দিন আমার অভ্যেস হয়ে দাঁড়ায়,
আমার প্রতিটা বিকেল যেমন করে রামধনু হয়ে আকাশে মিলোয়..
আমার উড়তে না পারা আফসোস আর খুব পুরোনো রাজপ্রাসাদ একসাথে আমার দেরি হওয়া নিয়ে অভিযোগ করে;
আমি চেয়ে দেখি রোজ কিছু বেলাশেষের রংছবি
আমার জানালার কাঁচ তখন শুধু সময়ের ক্যানভাস।
আমি আছি (full text)
এই ধরো আমি আছি এখন।
আমি আছি অথবা নেই।
অসংক্রামিত মনের কোনো অসুবিধে হতো না।
এখন একটু হলেও হয়।
আমি থেকে গেছি কিছু আধপোড়া বারুদে, ছাইয়ে
-আর শেষ না হওয়া কবিতায়
যেখানে সমস্ত ন্যাকামির ঢেউ ভাঙে।
আমি থেকে গেছি কত অসমাপ্ত প্রেমের দীর্ঘশ্বাসে..
সীমাহীন কিছু আফসোস আর পালিয়ে যাওয়া থেকে বাঁচতে,
আমি থেকে গেছি গুহামানবের ছায়া হয়ে।
..........................................
এখানে পাহাড় খুব শান্ত।
শালপাতার বাটিতে শান্তি জমা রাখি রোজ।
আমার দেওয়াল জুড়ে শুধু অতীত আঁকা
যেখানে রোদ পড়েনা অনেক দুপুর।
আমার ছাদে অন্ধকার ঘুম-পাহারা দেয়
আমি নিশ্চিন্তে চেয়ে থাকি সেদিকে।
আমার নিঃশ্বাস শুনিনা এখানে
শুধু বৃদ্ধ সময়ের বিলাপ ছাড়া।
সময়।
সময় আসে নাম পাল্টে বারবার,
কোপ মারে ঘুম দেখে; সে শুধু অ-ঘুম দীর্ঘশ্বাস ভালোবাসে।
ভালোবাসে অতীত চর্বন। আশু কল্পনা।
তারপর যখন কথা ফুরিয়ে যায়
আমার গুহার উঠোনে বড় বটগাছের ছায়া পড়ে।
সময় হাত ধরে নিয়ে ছায়ায় বসে। বিশ্রাম নেয়।
আমি চোখ বুজে হৃদপিণ্ডের শব্দ ছুঁই।
ছুঁয়ে বুঝি, আমি আছি।
বেঁচে থাকার চেয়ে ভালো বাস্তব আর কিছু নেই।
…................................................
যদি কলার খামচে বলে উঠি
তুমি শুধু আমার হয়ে থেকে যাও
বলি, আমার ছেলেবেলার সব বিকেল তোমাকে দিতে পারি
আর চাইলে প্রথম কবিতার খাতা আর প্রথম চুমুর স্বাদটাও
তখনও বুঝি চোখ ফিরে চাইবে না?
এই তো!
এই তো দেখো আমি আছি।
আমি আছি ঠিক এতটা কাছে
যতটা হলেই কাছাকাছি বলা যায়
যতটুকু হলেই যথেষ্ট হওয়া যায়
ছুঁয়ে দেখো আঙ্গুলগুলো, এখনো ঠান্ডা হয়ে যায়নি! এখনো আছি কৃষ্ণচূড়া আর ঘাসফুল মুঠোভরে। চাইলেই ছুটে যাবো তেপান্তর অথবা গড়ের মাঠ, শুধু তুমি আর একবার বৃষ্টি ভালোবাসবে বলে।
মুকুলের গন্ধে আমগাছ গুলো আবার উতলা হবে,
আমি দূর থেকে কুয়াশা বয়ে নিয়ে আসবো।
আমি আছি শুধু এসব বাস্তব হবে ভেবে।
........................................................
এ অসংলগ্ন পৃথিবী বড়ই কুয়াশাময়!
আমার চশমার কাঁচ ঝাপসা অনেকটা
ঠিক যেমন খুব ভোরে সকাল দেখতে চাই
পাহাড়ের ঝর্ণা আর শিশির ভেজা ধানক্ষেতও..
প্রান্তরে এসে চেষ্টা থামে শেষমেশ,
আমি ক্লান্ত পথিক হয়ে আকাশ দেখি তখন।
অনেকটা রাত কেটে যাওয়ার পর ঘুম নামে জলাশয়ে,
আমি আর অন্ধকার চুপ করে ঘাটে এসে বসি।
সময়ের অপেক্ষা করি। সে এবারও আসে না।
অন্ধকার,রাগে আরও গভীর হয়।
কালো হয়। নিষ্ঠুর হয়।
মনখারাপ করে জলাশয় শান্ত স্থির:দূর থেকে শেয়ালের ডাক আর জোনাকির চাষ বাড়ে।
সময়ের পথ চেয়ে আমি একা জেগে থাকি।
.......................................................
আমি নেই।
নেই বলেই আমার খবর হওয়া উচিত নয়।
আমার আধবোজা চোখে সাইরেন বাজে খুব জোরে
আমার ঘুম নেই। তাই ঘুমোনো যাবেনা।
ভয়..
ভয় এসে কাঁধে হাত রাখে আমার। বলে,
ভীতুদের অস্তিত্বের খবর রাখেনা কেউ।
নিয়ম নেই, তাই। আমি বুঝলাম, আমি নেই।
সময় কোথাও আটকে গেছে, অন্ধকার তাই আরও রাগী। গভীর। কালো। নিষ্ঠুর।
আমার জানলায় জোনাকিরা আলো জ্বালে
সে আলোয় দেখি, আমি নেই!
........................................................
মৃত্যু।
মৃত্যু একটি নেশার মতো
গভীর ঘুম হয়ে লেপটে থাকে চোখের পাতার নীচে।
খুব সকালের আধো চোখের মতো জীবন
পুরোটা দেখতে না দেখতেই শেষ
কই, আমার তো আফসোস হলোনা?
সন্ধ্যের কালো ছায়াগুলো
যেভাবে ভয় দেখাত মৃত্যুর
অথবা
ক্যালেন্ডার থেকে একদৃষ্টে তাকিয়ে থাকা মুখ
অথবা রাতঘুমের অন্ধকার জানালা,
খেলাশেষের ফাঁকা মাঠ
একা দুপুরে ফাঁকা জলাশয়?
কই, আর তো ভয় আসেনা
কাঁধে হাত রেখে বলেনা,
কিছু কি বাকি থেকে গেল জীবনে?
একা শুধু প্রশ্বাস কাঁদে নিয়মভাঙার দুঃখে..
কতটা একা হতে হবে বার বার বেঁচে যাওয়ার অভ্যেস কে। এখন, আমি নেই। নেই বলেই কোনো খবর হবেনা আমার।
ভীতুদের অস্তিত্বের খবর রাখেনা কেউ।
....……..................................................