ঘন বর্ষার দিনে ঠান্ডা লাগা জনিত রোগ এবং তার প্রতিকার ও প্রতিরোধ
বর্ষাকাল প্রকৃতির এক অপরূপ সৌন্দর্যের সময় হলেও, এসময় আবহাওয়া হয়ে ওঠে স্যাঁতসেঁতে, আর্দ্র ও অনিয়মিত। এই পরিবেশে সহজেই ঠান্ডা লাগা জনিত বিভিন্ন রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। বিশেষ করে শিশু, বৃদ্ধ ও দুর্বল রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন ব্যক্তিরা এ সময় বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন। তাই এই মৌসুমে স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে জনসচেতনতা অত্যন্ত জরুরি।
বর্ষায় ঠান্ডা লাগা জনিত সাধারণ রোগসমূহ:
১. সর্দি-কাশি: বর্ষায় ঠান্ডা পানি বা বাতাসের সংস্পর্শে এসে সর্দি-কাশি দেখা দেয়।
২. জ্বর ও ইনফ্লুয়েঞ্জা: ভাইরাসজনিত জ্বর বর্ষায় অনেক বেশি হয়। ফ্লু ভাইরাস এ সময় বেশি সক্রিয় থাকে।
৩. নিউমোনিয়া ও ব্রঙ্কাইটিস: ঠান্ডা ও আর্দ্র আবহাওয়ায় শ্বাসনালীতে প্রদাহ তৈরি হয়, যার ফলে নিউমোনিয়া ও ব্রঙ্কাইটিস দেখা দিতে পারে।
৪. অ্যালার্জি ও অ্যাজমা: বর্ষাকালে ধুলাবালি ও ছত্রাকের স্পোর বাতাসে বেশি থাকে, যা এলার্জি ও হাঁপানির রোগীদের কষ্ট বাড়িয়ে দেয়।
১. ভেজা কাপড় পরিবর্তন: বৃষ্টিতে ভিজলে দ্রুত শুকনো কাপড় পরে নিতে হবে।
২. উষ্ণ খাবার গ্রহণ: গরম চা, স্যুপ ও হালকা গরম পানি খাওয়া শরীরকে ঠান্ডা লাগা থেকে রক্ষা করে।
৩. পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও পুষ্টিকর খাদ্য: রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে পর্যাপ্ত ঘুম ও ফলমূল, শাকসবজি খাওয়া জরুরি।
৪. বাড়ি পরিষ্কার রাখা: বর্ষায় ছত্রাক ও ব্যাকটেরিয়ার প্রজনন বেশি হয়, তাই ঘর নিয়মিত পরিষ্কার ও শুকনো রাখা প্রয়োজন।
৫. নাক-মুখ ঢাকা: বাইরে বের হলে মাস্ক ব্যবহার করলে ভাইরাসজনিত সংক্রমণ অনেকটাই কমানো যায়।
১. প্রাথমিক চিকিৎসা: ঠান্ডা লাগলে বাসায় বসেই আদা-চা, মধু-লেবুর মিশ্রণ ইত্যাদি খেলে উপশম পাওয়া যায়।
২. ডাক্তারের পরামর্শ: জ্বর বা কাশির উপসর্গ দীর্ঘস্থায়ী হলে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া আবশ্যক।
৩. ওষুধ সেবন: প্রয়োজন অনুযায়ী প্যারাসিটামল, অ্যান্টিহিস্টামিন ইত্যাদি ওষুধ ব্যবহার করা যেতে পারে। হোমিওপ্যাথিক মেডিসিনের মধ্যে একোনাইট, রাস টক্স, ব্রায়োনিয়া, বেল, ব্যাপ্টিসিয়া, জেলস, ইউপাটোরিয়াম, চায়না, ডালকামারা, নেট্রাম সালফ, ফেরাম ফস ইত্যাদি সেবন করা যেতে পারে , তবে অবশ্য অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সেবন করতে হবে।
পরিশেষে, বর্ষাকালে ঠান্ডা লাগা জনিত রোগকে অবহেলা না করে সচেতন থাকা এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। একটু সচেতনতা ও নিয়ম মেনে চললেই এই মৌসুমে সুস্থ থাকা সম্ভব। আসুন, আমরা নিজেরা সচেতন হই এবং অন্যকেও সচেতন করি, যাতে সবাই মিলে একটি সুস্থ সমাজ গড়ে তুলতে পারি।
ডা: গোলাম কিবরিয়া BHMS (DU)
সিটিপ্লাস হোমিও সেন্টার, চট্টগ্রাম