মানুষের মনের কিছু বদ্ধমূল ধারণা আমাকে খুব কষ্ট দেয়। আমি জানি হয়তবা আমি এটা বলার মত কেউ নই কিন্তু নিজের আশেপাশে মানুষ গুলোর চিন্তা ভাবনা কিছু গন্ডির মধ্যেই আবদ্ধ। পড়াশোনার ব্যাপারে আমি কথা বলছি। প্রতিনিয়ত পরীক্ষার জন্য পড়তে পড়তে মানুষের এটাই মূল ভাবনা হয়ে গেছে, পরীক্ষার সকল প্রশ্ন তো বই এর থেকেই আসবে। বইয়ের সকল প্রশ্ন মুখস্থের প্রতিযোগিতায় আমরা বিচার করছি সেরা শিক্ষার্থী। আর বইয়ের বাইরে থেকে আসা প্রশ্ন যদি কেউ উত্তর করতে পারে তবে হয়ত সে বইয়ের "বাইরে" কোনো বই থেকে তা মুখস্থ করে এসেছে। সেক্ষেত্রে সেরা শিক্ষার্থী হতে গেলে বইয়ের বাইরে অনেক বই পড়া দরকার!
"আরে তোমার মত তো আমি এত কিছু পড়ি না, পারব কিভাবে?" আজকাল একটা ধারণা দেখি, কোনো কিছু সমাধান করতে গেলে বলে বইয়ের বাইরে অনেক পড়াশোনা করা দরকার। হায়রে, পারার জন্য কি দিনরাত বিভিন্ন বড় বড় ইংরেজি বইএ মুখ খুঁজে রাখা দরকার? পারার জন্য এসব মুখস্থ করলে কোনো লাভ হবে নাহ। এত বই এর চিন্তায় মাথা নষ্ট না করে দরকার শুধু বইয়ের কন্সেপ্ট গুলো নিয়ে একটু চিন্তা আর প্রশ্ন করার সদিচ্ছা। আমি মানছি সবার সমস্যা সমাধানের আগ্রহ নাই থাকতে পারে, সবাই তো আর বড় বিজ্ঞানী হবে না বা অলিম্পিয়াড এ ভালো ফলাফল করবে না। কিন্তু অন্তত নিজের জীবনের তাগিদে শুধু পরীক্ষায় নম্বর এবং কোন বই/গাইড/নোট থেকে প্রশ্ন কমন পড়ল তার পিছনে না ছুটে, একটু চিন্তা করলেই উত্তর বের হয়ে আসে।এই মগজের অনেক শক্তি! কোন বই থেকে প্রশ্ন আসল তা খুঁজতে যে শক্তি খরচ হয় তা একটু চিন্তা করতেই ব্যয় করা হোক। এ আর এমন কি?
আর যদি আসি বিভিন্ন বইএর কথায়, তবে ভাই এতটুকু জেনে রাখ অলিম্পিয়াড এ কোনো বই থেকে প্রশ্ন কমন আসে না। যদিও আমি এ ব্যাপারে অজ্ঞ মানুষ, তবুও নিজের শ্রেণির বইয়ের জ্ঞান আর সমস্যা সমাধানের দক্ষতা দিয়েই জাতীয় পর্যায়ে পুরস্কার পেতে পারো।তাই বলে এটা নয় বাইরের বই পড়া লাগবে না। আমি বলছি, খালি "আমিতো এত বই পড়ি না, পারব কি করে? এসব অজুহাত না দিয়ে সমস্যা সমাধানের দক্ষতা বাড়ানোয় মন দিলে ভালো হয়। আমি এতটুকুই বলবো, অলিম্পিয়াড এর জন্য কোনো বড় বই না পরে যদি ওই সাব্জেক্টে ইনটারেস্ট থাকে তাহলেই বিভিন্ন বই পড়ো। এর জন্য এক্সট্রা প্রেসার আর মোটিভেশন নিষ্প্রয়োজন।












