Be a watcher For sooner or later, Right before your very eyes A celebration will be hosted By heavens, for the earth.
اللهم عجل لولیک الفرج
seen from United States
seen from United States

seen from United States
seen from Yemen
seen from Canada

seen from United States

seen from China
seen from United States

seen from Vietnam

seen from United States
seen from United States

seen from Hungary

seen from Egypt
seen from Austria
seen from China
seen from United States
seen from China

seen from United States
seen from Netherlands
seen from United States
Be a watcher For sooner or later, Right before your very eyes A celebration will be hosted By heavens, for the earth.
اللهم عجل لولیک الفرج
Narrated to us Muhammad bin Musa bin Mutawakkil from Muhammad bin Abi Abdullah Kufi from Musa bin Imran Nakhai from his uncle Husain bin Yazid from Hasan Ibne Ali Saalim from his father from Abi Hamza from Saeed bin Jubair from Abdullah Ibne Abbas that he said: The Messenger of Allah (sawaw) said: “Surely, Allah, the Blessed and High, glanced at the earth, chose me from it and appointed me as a Prophet. Then He glanced for the second time, selected Ali (asws) and made him an Imam. Thereafter, He ordered me that I take Ali (asws) as a brother, friend, successor, caliph and vizier. So, Ali (asws) is from me and I am from Ali (asws). He is the husband of my daughter and the father of my two grandsons, Hasan (asws) and Husain (asws). Know that surely Allah, the Blessed and, has appointed me and them as proofs upon His servants. From the offspring of Husain (asws), He has designated Imams who will stand by my affair and will protect my will. The ninth of them will be the Qaim (asws) of my Ahlul Bayt (asws). He will be the Mahdi (a.t.f.s.) of this nation (Ummah) and the most similar to me in traits, words and deeds. He will appear after a prolonged occultation and a deviating confusion. After that, he will announce the command of Allah and manifest the religion of Allah, the Mighty and Majestic. The assistance of Allah and His angels will help him. He will fill the earth with justice and equity as it would be replete with injustice and tyranny.” • [Kamaaluddin wa Tamaamun Ni’ma, Vol 1, ch 24, hadith 3]. • 🌹🌹🌹🌹Felicitations on the appearance of Noor e Ilahi Imam Al-Qaim(ajtf), AL-MUNTADHAR, SAHIB AL-AMR, WALI AL-’ASR, AL-KHATIM, NAHIYAT AL-MUQADDAS, MANSURR, SAHIB AZ-ZAMAN, QA'IM AL-MUHAMMAD, BAQIYATULLAH, NAFS E JISMULLAH, LISANULLAH, HAQQULLAH,YADULLAH, WAJHULLAH mubarak to all momineen❤❤❤❤ وعجل فرجهم# #15shaban May ALLAH azwj hasten his(surf) reappearance and make us obedient to our master✨✨
With only a few days to go before the auspicious dawn Turns out we’re rattled by the climate of uncertainty. In moments like this, it just happens to be we’re hurled into an unthinkable oblivion. Tired, panic-stricken, grieving and isolated The fifteenth this year, has dawned upon me. Turns out My Ariza this year will be my narrative not wrapped up, handwritten and buried, but ‘speaketh’ in words. In a low broken voice, be read out to you. Turns out This year I can feel your pain. The empty shrines, the forsaken grounds Suspended pilgrimage: masajid on lockdown. If the world repents and tears swell up the oceans By God, it is being away from you, that is greater grief. Turns out This fifteenth, in complete isolation I can weep and wail, lament and cry (nudba) only for your safety, only for your return. — Sahar Hussain
১৫ শাবানে সবচেয়ে উত্তম হলো, এ রাতে ব্যক্তিগতভাবে ইবাদত করা এবং আল্লাহর কাছে নিজেদের গুনাহের মাফ চাওয়া।
১৫ শাবানে সবচেয়ে উত্তম হলো, এ রাতে ব্যক্তিগতভাবে ইবাদত করা এবং আল্লাহর কাছে নিজেদের গুনাহের মাফ চাওয়া।
১৫ শাবান বা শবে বরাতের রাতে ব্যক্তিগতভাবে নফল ইবাদত, কুরআন তিলাওয়াত, জিকির এবং আল্লাহর কাছে কায়মনোবাক্যে গুনাহের মাফ চাওয়াই সবচেয়ে উত্তম আমল। এ রাতে আল্লাহ তাআলা বান্দাদের ক্ষমা করেন, তাই শিরক ও বিদ্বেষমুক্ত থেকে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা এবং নিজের গুনাহের জন্য লজ্জিত হয়ে আগামীতে সৎপথে চলার অঙ্গীকার করা উচিত
১৫ শাবান রাতে ফজিলত ও আমল:
তওবা ও ইস্তেগফার: নিজের কৃত গুনাহের জন্য লজ্জিত হয়ে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া এবং ভবিষ্যতে গুনাহ না করার দৃঢ় অঙ্গীকার করা এই রাতের প্রধান আমল নফল নামাজ: দীর্ঘ সেজদায় নফল নামাজ আদায় করা এবং কুরআন তিলাওয়াত করা
বিশেষ দোয়া: আল্লাহর রহমত, ক্ষমা, রিযিক এবং কষ্ট থেকে মুক্তির জন্য বেশি বেশি দুআ করা বর্জনীয়: হিংসা-বিদ্বেষ এবং শিরক থেকে বেঁচে থাকা, কারণ এ রাতে মুশরিক ও শত্রুতা পোষণকারী ব্যক্তিকে ক্ষমা করা হয় না
পরদিন রোজা: শাবান মাসে বেশি রোজা রাখার সুন্নতের আলোকে ১৫ শাবান শেষে ১৬ শাবান রোজা রাখা ।
মুয়াজ বিন জাবাল (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিস অনুযায়ী, আল্লাহ তাআলা অর্ধ শাবানের রাতে তাঁর সৃষ্টিজগতের প্রতি মনোযোগ দেন এবং মুশরিক ও হিংসুক ছাড়া সবাইকে ক্ষমা করে দেন
১৫ শাবান বা মধ্য শাবানের মাহাত্ম্য ও করণীয়
শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাত। আমাদের সমাজে এটি শবেবরাত নামে বেশি পরিচিত হলেও হাদিসের ভাষায় একে লাইলাতুন নিসফি মিন শাবান বা মধ্য শাবানের রাত বলা হয়েছে। এই রাতটি নিয়ে আমাদের সমাজে যেমন অতিরঞ্জিত আবেগের ছড়াছড়ি আছে, তেমনি সুন্নাহ পরিপন্থি নানা কুসংস্কারও ছড়িয়ে আছে। যার সঙ্গে ইসলামের কোনো সম্পর্ক নেই। অথচ উচিত হলো অতি বাড়াবাড়ি এবং ছাড়াছাড়ি ব্যতিরেকে সুন্নাহসম্মত পদ্ধতিতে এই রাতের গুরুত্ব ও মাহাত্ম্য অনুধাবন করা এবং আমল করা।
এই রাতে সাধারণত মসজিদে মুসল্লিদের ভিড় জমে। অনেকে মনে করেন, এটি ভাগ্য নির্ধারণী রাত। এই রাতে আগামী এক বছরের হায়াত, মউত ও রিজিক নির্ধারণ করা হয়। এটি গ্রহণযোগ্য ধারণা নয়। পবিত্র কোরআনের সুরা দুখানের শুরুতে যে বরকতময় রাতে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো ফয়সালা হওয়ার কথা বলা হয়েছে, তা মূলত লাইলাতুল কদর। যা রমজান মাসের শেষ দশকের রাতগুলোর মধ্যে একটি রাত।
রসুল (সা.) বলেছেন, মধ্য শাবানের রাতে মহান আল্লাহ তাঁর সৃষ্টির প্রতি বিশেষ রহমতের দৃষ্টি দেন এবং মুশরিক ও অন্যের প্রতি বিদ্বেষ পোষণকারী ব্যক্তি ছাড়া সবাইকে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেন (বায়হাকি)। এই হাদিস থেকে আমরা বুঝতে পারি, শিরক ও হিংসাবিদ্বেষ হলো আল্লাহর অবারিত এই ক্ষমা পাওয়ার পথে প্রধান দুটি বাধা।
সুতরাং কেউ যদি এই রাতে সারা রাত ইবাদতে লিপ্ত থাকে, কিন্তু তার ইমানে শিরক কিংবা মনে কোনো মুসলিম ভাইয়ের প্রতি ঘৃণা বা শত্রুতা পোষণ করে, তবে এই রাতের সাধারণ ক্ষমা তার ভাগ্যে জুটবে না। তাই মধ্য শাবানের রাতকে ঘিরে প্রধান কাজ হওয়া উচিত ইমানকে শিরকমুক্ত করা ও প্রতিহিংসার আগুন থেকে মনকে পবিত্র করা। এ ছাড়া এই রাতের ফজিলত ও আমল সম্পর্কে আরও অনেক হাদিস আছে, তবে সেগুলো সনদের দিক দিয়ে ত্রুটিপূর্ণ।
এই রাতের বিশেষ কোনো নামাজ কিংবা জিকির-আসকার নেই। অন্য সাধারণ রাতে একজন মুমিন যেভাবে নফল ইবাদত করেন, এই রাতেও তিনি চাইলে সেভাবে ব্যক্তিগতভাবে নফল আমল করতে পারেন এবং আল্লাহর বিশেষ ক্ষমা লাভের চেষ্টা করতে পারেন। কিন্তু এর জন্য নির্দিষ্ট কোনো পদ্ধতি বা সংখ্যার নামাজ বা ইবাদতের কাঠামো তৈরি করা সুন্নাহসম্মত নয়।
অনেক অঞ্চলে এই রাতকে কেন্দ্র করে সুন্নাহর নামে বিভিন্ন কুসংস্কারও চালু আছে। যেমন এই রাতে খাবারের উৎসব করা। বিশেষ করে হালুয়া-রুটি বিতরণের যে সংস্কৃতি আমাদের সমাজে প্রচলিত আছে, এর সঙ্গে সুন্নাহর কোনো সম্পর্ক নেই। এর প্রমাণ হিসেবে অনেকে একটি ভিত্তিহীন গল্প বলেন যে ওহুদ যুদ্ধে নবীজি (সা.)-এর দাঁত মোবারক শহীদ হওয়ার পর তিনি শক্ত খাবার খেতে পারতেন না বলে হালুয়া খেয়েছিলেন, তাই আমাদেরও তা খেতে হবে। আর এটা খাওয়া হয় শবেবরাতে। অথচ ওহুদ যুদ্ধ শাবান মাসে হয়নি এবং এই গল্পের নির্ভরযোগ্য কোনো ভিত্তিও নেই। এমন একটি বানোয়াট গল্পের ওপর ভিত্তি করে ইবাদত ও ক্ষমার রাতে রান্নাবান্না ও উৎসবের পেছনে সময় ব্যয় করাটা প্রকারান্তরে ইবাদত থেকে বিচ্যুত হওয়া ছাড়া আর কিছু নয়। একইভাবে আতশবাজি ফোটানো, ঘরবাড়ি আলোকসজ্জা করাটাও ইসলামের শিক্ষার সম্পূর্ণ পরিপন্থি।
অনেকে এই রাতে দলবদ্ধভাবে ইবাদত করেন। নফল ইবাদত হলো বান্দার সঙ্গে তাঁর প্রভুর একান্ত বিষয়। রসুল (সা.) ও সাহাবিদের যুগে এই রাতে দলবদ্ধ হয়ে মসজিদে জিকির বা সম্মিলিত দোয়া করার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায় না। নফল নামাজ ও দোয়া ঘরে নিভৃতে করাই উত্তম ও সুন্নাহর অধিক নিকটবর্তী।
সর্বোপরি এই রাতটি ঘটা করে উৎসব করার নয়, বরং আল্লাহর ক্ষমা লাভের চেষ্টা করার উপলক্ষ। যদি আল্লাহর ক্ষমা পেতে চাই, তবে উচিত হলো অন্যকে ক্ষমা করার উদারতা লালন করা। কারও প্রতি হিংসাবিদ্বেষ পুষে রাখলে আল্লাহর রহমতের দৃষ্টি ও সাধারণ ক্ষমা থেকে বঞ্চিত হতে হবে।
তাই এই রজনিকেন্দ্রিক বাড়াবাড়ি ও ছাড়াছাড়ি থেকে দূরে থেকে শিরকমুক্ত ইমান ও হৃদয়কে সব ধরনের মালিন্য থেকে মুক্ত করা হোক আমাদের প্রধান ব্রত।
মধ্য শাবানের মাহাত্ম্য ও করণীয়
১৫ শাবানে সবচেয়ে উত্তম হলো, এ রাতে ব্যক্তিগতভাবে ইবাদত করা এবং আল্লাহর কাছে নিজেদের গুনাহের মাফ চাওয়া।
১৫ শাবানে সবচেয়ে উত্তম হলো, এ রাতে ব্যক্তিগতভাবে ইবাদত করা এবং আল্লাহর কাছে নিজেদের গুনাহের মাফ চাওয়া।
১৫ শাবান বা শবে বরাতের রাতে ব্যক্তিগতভাবে নফল ইবাদত, কুরআন তিলাওয়াত, জিকির এবং আল্লাহর কাছে কায়মনোবাক্যে গুনাহের মাফ চাওয়াই সবচেয়ে উত্তম আমল। এ রাতে আল্লাহ তাআলা বান্দাদের ক্ষমা করেন, তাই শিরক ও বিদ্বেষমুক্ত থেকে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা এবং নিজের গুনাহের জন্য লজ্জিত হয়ে আগামীতে সৎপথে চলার অঙ্গীকার করা উচিত
১৫ শাবান রাতে ফজিলত ও আমল:
তওবা ও ইস্তেগফার: নিজের কৃত গুনাহের জন্য লজ্জিত হয়ে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া এবং ভবিষ্যতে গুনাহ না করার দৃঢ় অঙ্গীকার করা এই রাতের প্রধান আমল নফল নামাজ: দীর্ঘ সেজদায় নফল নামাজ আদায় করা এবং কুরআন তিলাওয়াত করা
বিশেষ দোয়া: আল্লাহর রহমত, ক্ষমা, রিযিক এবং কষ্ট থেকে মুক্তির জন্য বেশি বেশি দুআ করা বর্জনীয়: হিংসা-বিদ্বেষ এবং শিরক থেকে বেঁচে থাকা, কারণ এ রাতে মুশরিক ও শত্রুতা পোষণকারী ব্যক্তিকে ক্ষমা করা হয় না
পরদিন রোজা: শাবান মাসে বেশি রোজা রাখার সুন্নতের আলোকে ১৫ শাবান শেষে ১৬ শাবান রোজা রাখা ।
মুয়াজ বিন জাবাল (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিস অনুযায়ী, আল্লাহ তাআলা অর্ধ শাবানের রাতে তাঁর সৃষ্টিজগতের প্রতি মনোযোগ দেন এবং মুশরিক ও হিংসুক ছাড়া সবাইকে ক্ষমা করে দেন
১৫ শাবান বা মধ্য শাবানের মাহাত্ম্য ও করণীয়
শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাত। আমাদের সমাজে এটি শবেবরাত নামে বেশি পরিচিত হলেও হাদিসের ভাষায় একে লাইলাতুন নিসফি মিন শাবান বা মধ্য শাবানের রাত বলা হয়েছে। এই রাতটি নিয়ে আমাদের সমাজে যেমন অতিরঞ্জিত আবেগের ছড়াছড়ি আছে, তেমনি সুন্নাহ পরিপন্থি নানা কুসংস্কারও ছড়িয়ে আছে। যার সঙ্গে ইসলামের কোনো সম্পর্ক নেই। অথচ উচিত হলো অতি বাড়াবাড়ি এবং ছাড়াছাড়ি ব্যতিরেকে সুন্নাহসম্মত পদ্ধতিতে এই রাতের গুরুত্ব ও মাহাত্ম্য অনুধাবন করা এবং আমল করা।
এই রাতে সাধারণত মসজিদে মুসল্লিদের ভিড় জমে। অনেকে মনে করেন, এটি ভাগ্য নির্ধারণী রাত। এই রাতে আগামী এক বছরের হায়াত, মউত ও রিজিক নির্ধারণ করা হয়। এটি গ্রহণযোগ্য ধারণা নয়। পবিত্র কোরআনের সুরা দুখানের শুরুতে যে বরকতময় রাতে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো ফয়সালা হওয়ার কথা বলা হয়েছে, তা মূলত লাইলাতুল কদর। যা রমজান মাসের শেষ দশকের রাতগুলোর মধ্যে একটি রাত।
রসুল (সা.) বলেছেন, মধ্য শাবানের রাতে মহান আল্লাহ তাঁর সৃষ্টির প্রতি বিশেষ রহমতের দৃষ্টি দেন এবং মুশরিক ও অন্যের প্রতি বিদ্বেষ পোষণকারী ব্যক্তি ছাড়া সবাইকে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেন (বায়হাকি)। এই হাদিস থেকে আমরা বুঝতে পারি, শিরক ও হিংসাবিদ্বেষ হলো আল্লাহর অবারিত এই ক্ষমা পাওয়ার পথে প্রধান দুটি বাধা।
সুতরাং কেউ যদি এই রাতে সারা রাত ইবাদতে লিপ্ত থাকে, কিন্তু তার ইমানে শিরক কিংবা মনে কোনো মুসলিম ভাইয়ের প্রতি ঘৃণা বা শত্রুতা পোষণ করে, তবে এই রাতের সাধারণ ক্ষমা তার ভাগ্যে জুটবে না। তাই মধ্য শাবানের রাতকে ঘিরে প্রধান কাজ হওয়া উচিত ইমানকে শিরকমুক্ত করা ও প্রতিহিংসার আগুন থেকে মনকে পবিত্র করা। এ ছাড়া এই রাতের ফজিলত ও আমল সম্পর্কে আরও অনেক হাদিস আছে, তবে সেগুলো সনদের দিক দিয়ে ত্রুটিপূর্ণ।
এই রাতের বিশেষ কোনো নামাজ কিংবা জিকির-আসকার নেই। অন্য সাধারণ রাতে একজন মুমিন যেভাবে নফল ইবাদত করেন, এই রাতেও তিনি চাইলে সেভাবে ব্যক্তিগতভাবে নফল আমল করতে পারেন এবং আল্লাহর বিশেষ ক্ষমা লাভের চেষ্টা করতে পারেন। কিন্তু এর জন্য নির্দিষ্ট কোনো পদ্ধতি বা সংখ্যার নামাজ বা ইবাদতের কাঠামো তৈরি করা সুন্নাহসম্মত নয়।
অনেক অঞ্চলে এই রাতকে কেন্দ্র করে সুন্নাহর নামে বিভিন্ন কুসংস্কারও চালু আছে। যেমন এই রাতে খাবারের উৎসব করা। বিশেষ করে হালুয়া-রুটি বিতরণের যে সংস্কৃতি আমাদের সমাজে প্রচলিত আছে, এর সঙ্গে সুন্নাহর কোনো সম্পর্ক নেই। এর প্রমাণ হিসেবে অনেকে একটি ভিত্তিহীন গল্প বলেন যে ওহুদ যুদ্ধে নবীজি (সা.)-এর দাঁত মোবারক শহীদ হওয়ার পর তিনি শক্ত খাবার খেতে পারতেন না বলে হালুয়া খেয়েছিলেন, তাই আমাদেরও তা খেতে হবে। আর এটা খাওয়া হয় শবেবরাতে। অথচ ওহুদ যুদ্ধ শাবান মাসে হয়নি এবং এই গল্পের নির্ভরযোগ্য কোনো ভিত্তিও নেই। এমন একটি বানোয়াট গল্পের ওপর ভিত্তি করে ইবাদত ও ক্ষমার রাতে রান্নাবান্না ও উৎসবের পেছনে সময় ব্যয় করাটা প্রকারান্তরে ইবাদত থেকে বিচ্যুত হওয়া ছাড়া আর কিছু নয়। একইভাবে আতশবাজি ফোটানো, ঘরবাড়ি আলোকসজ্জা করাটাও ইসলামের শিক্ষার সম্পূর্ণ পরিপন্থি।
অনেকে এই রাতে দলবদ্ধভাবে ইবাদত করেন। নফল ইবাদত হলো বান্দার সঙ্গে তাঁর প্রভুর একান্ত বিষয়। রসুল (সা.) ও সাহাবিদের যুগে এই রাতে দলবদ্ধ হয়ে মসজিদে জিকির বা সম্মিলিত দোয়া করার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায় না। নফল নামাজ ও দোয়া ঘরে নিভৃতে করাই উত্তম ও সুন্নাহর অধিক নিকটবর্তী।
সর্বোপরি এই রাতটি ঘটা করে উৎসব করার নয়, বরং আল্লাহর ক্ষমা লাভের চেষ্টা করার উপলক্ষ। যদি আল্লাহর ক্ষমা পেতে চাই, তবে উচিত হলো অন্যকে ক্ষমা করার উদারতা লালন করা। কারও প্রতি হিংসাবিদ্বেষ পুষে রাখলে আল্লাহর রহমতের দৃষ্টি ও সাধারণ ক্ষমা থেকে বঞ্চিত হতে হবে।
তাই এই রজনিকেন্দ্রিক বাড়াবাড়ি ও ছাড়াছাড়ি থেকে দূরে থেকে শিরকমুক্ত ইমান ও হৃদয়কে সব ধরনের মালিন্য থেকে মুক্ত করা হোক আমাদের প্রধান ব্রত।
মধ্য শাবানের মাহাত্ম্য ও করণীয়
১৫ শাবানে সবচেয়ে উত্তম হলো, এ রাতে ব্যক্তিগতভাবে ইবাদত করা এবং আল্লাহর কাছে নিজেদের গুনাহের মাফ চাওয়া।
১৫ শাবানে সবচেয়ে উত্তম হলো, এ রাতে ব্যক্তিগতভাবে ইবাদত করা এবং আল্লাহর কাছে নিজেদের গুনাহের মাফ চাওয়া।
১৫ শাবান বা শবে বরাতের রাতে ব্যক্তিগতভাবে নফল ইবাদত, কুরআন তিলাওয়াত, জিকির এবং আল্লাহর কাছে কায়মনোবাক্যে গুনাহের মাফ চাওয়াই সবচেয়ে উত্তম আমল। এ রাতে আল্লাহ তাআলা বান্দাদের ক্ষমা করেন, তাই শিরক ও বিদ্বেষমুক্ত থেকে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা এবং নিজের গুনাহের জন্য লজ্জিত হয়ে আগামীতে সৎপথে চলার অঙ্গীকার করা উচিত
১৫ শাবান রাতে ফজিলত ও আমল:
তওবা ও ইস্তেগফার: নিজের কৃত গুনাহের জন্য লজ্জিত হয়ে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া এবং ভবিষ্যতে গুনাহ না করার দৃঢ় অঙ্গীকার করা এই রাতের প্রধান আমল নফল নামাজ: দীর্ঘ সেজদায় নফল নামাজ আদায় করা এবং কুরআন তিলাওয়াত করা
বিশেষ দোয়া: আল্লাহর রহমত, ক্ষমা, রিযিক এবং কষ্ট থেকে মুক্তির জন্য বেশি বেশি দুআ করা বর্জনীয়: হিংসা-বিদ্বেষ এবং শিরক থেকে বেঁচে থাকা, কারণ এ রাতে মুশরিক ও শত্রুতা পোষণকারী ব্যক্তিকে ক্ষমা করা হয় না
পরদিন রোজা: শাবান মাসে বেশি রোজা রাখার সুন্নতের আলোকে ১৫ শাবান শেষে ১৬ শাবান রোজা রাখা ।
মুয়াজ বিন জাবাল (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিস অনুযায়ী, আল্লাহ তাআলা অর্ধ শাবানের রাতে তাঁর সৃষ্টিজগতের প্রতি মনোযোগ দেন এবং মুশরিক ও হিংসুক ছাড়া সবাইকে ক্ষমা করে দেন
১৫ শাবান বা মধ্য শাবানের মাহাত্ম্য ও করণীয়
শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাত। আমাদের সমাজে এটি শবেবরাত নামে বেশি পরিচিত হলেও হাদিসের ভাষায় একে লাইলাতুন নিসফি মিন শাবান বা মধ্য শাবানের রাত বলা হয়েছে। এই রাতটি নিয়ে আমাদের সমাজে যেমন অতিরঞ্জিত আবেগের ছড়াছড়ি আছে, তেমনি সুন্নাহ পরিপন্থি নানা কুসংস্কারও ছড়িয়ে আছে। যার সঙ্গে ইসলামের কোনো সম্পর্ক নেই। অথচ উচিত হলো অতি বাড়াবাড়ি এবং ছাড়াছাড়ি ব্যতিরেকে সুন্নাহসম্মত পদ্ধতিতে এই রাতের গুরুত্ব ও মাহাত্ম্য অনুধাবন করা এবং আমল করা।
এই রাতে সাধারণত মসজিদে মুসল্লিদের ভিড় জমে। অনেকে মনে করেন, এটি ভাগ্য নির্ধারণী রাত। এই রাতে আগামী এক বছরের হায়াত, মউত ও রিজিক নির্ধারণ করা হয়। এটি গ্রহণযোগ্য ধারণা নয়। পবিত্র কোরআনের সুরা দুখানের শুরুতে যে বরকতময় রাতে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো ফয়সালা হওয়ার কথা বলা হয়েছে, তা মূলত লাইলাতুল কদর। যা রমজান মাসের শেষ দশকের রাতগুলোর মধ্যে একটি রাত।
রসুল (সা.) বলেছেন, মধ্য শাবানের রাতে মহান আল্লাহ তাঁর সৃষ্টির প্রতি বিশেষ রহমতের দৃষ্টি দেন এবং মুশরিক ও অন্যের প্রতি বিদ্বেষ পোষণকারী ব্যক্তি ছাড়া সবাইকে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেন (বায়হাকি)। এই হাদিস থেকে আমরা বুঝতে পারি, শিরক ও হিংসাবিদ্বেষ হলো আল্লাহর অবারিত এই ক্ষমা পাওয়ার পথে প্রধান দুটি বাধা।
সুতরাং কেউ যদি এই রাতে সারা রাত ইবাদতে লিপ্ত থাকে, কিন্তু তার ইমানে শিরক কিংবা মনে কোনো মুসলিম ভাইয়ের প্রতি ঘৃণা বা শত্রুতা পোষণ করে, তবে এই রাতের সাধারণ ক্ষমা তার ভাগ্যে জুটবে না। তাই মধ্য শাবানের রাতকে ঘিরে প্রধান কাজ হওয়া উচিত ইমানকে শিরকমুক্ত করা ও প্রতিহিংসার আগুন থেকে মনকে পবিত্র করা। এ ছাড়া এই রাতের ফজিলত ও আমল সম্পর্কে আরও অনেক হাদিস আছে, তবে সেগুলো সনদের দিক দিয়ে ত্রুটিপূর্ণ।
এই রাতের বিশেষ কোনো নামাজ কিংবা জিকির-আসকার নেই। অন্য সাধারণ রাতে একজন মুমিন যেভাবে নফল ইবাদত করেন, এই রাতেও তিনি চাইলে সেভাবে ব্যক্তিগতভাবে নফল আমল করতে পারেন এবং আল্লাহর বিশেষ ক্ষমা লাভের চেষ্টা করতে পারেন। কিন্তু এর জন্য নির্দিষ্ট কোনো পদ্ধতি বা সংখ্যার নামাজ বা ইবাদতের কাঠামো তৈরি করা সুন্নাহসম্মত নয়।
অনেক অঞ্চলে এই রাতকে কেন্দ্র করে সুন্নাহর নামে বিভিন্ন কুসংস্কারও চালু আছে। যেমন এই রাতে খাবারের উৎসব করা। বিশেষ করে হালুয়া-রুটি বিতরণের যে সংস্কৃতি আমাদের সমাজে প্রচলিত আছে, এর সঙ্গে সুন্নাহর কোনো সম্পর্ক নেই। এর প্রমাণ হিসেবে অনেকে একটি ভিত্তিহীন গল্প বলেন যে ওহুদ যুদ্ধে নবীজি (সা.)-এর দাঁত মোবারক শহীদ হওয়ার পর তিনি শক্ত খাবার খেতে পারতেন না বলে হালুয়া খেয়েছিলেন, তাই আমাদেরও তা খেতে হবে। আর এটা খাওয়া হয় শবেবরাতে। অথচ ওহুদ যুদ্ধ শাবান মাসে হয়নি এবং এই গল্পের নির্ভরযোগ্য কোনো ভিত্তিও নেই। এমন একটি বানোয়াট গল্পের ওপর ভিত্তি করে ইবাদত ও ক্ষমার রাতে রান্নাবান্না ও উৎসবের পেছনে সময় ব্যয় করাটা প্রকারান্তরে ইবাদত থেকে বিচ্যুত হওয়া ছাড়া আর কিছু নয়। একইভাবে আতশবাজি ফোটানো, ঘরবাড়ি আলোকসজ্জা করাটাও ইসলামের শিক্ষার সম্পূর্ণ পরিপন্থি।
অনেকে এই রাতে দলবদ্ধভাবে ইবাদত করেন। নফল ইবাদত হলো বান্দার সঙ্গে তাঁর প্রভুর একান্ত বিষয়। রসুল (সা.) ও সাহাবিদের যুগে এই রাতে দলবদ্ধ হয়ে মসজিদে জিকির বা সম্মিলিত দোয়া করার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায় না। নফল নামাজ ও দোয়া ঘরে নিভৃতে করাই উত্তম ও সুন্নাহর অধিক নিকটবর্তী।
সর্বোপরি এই রাতটি ঘটা করে উৎসব করার নয়, বরং আল্লাহর ক্ষমা লাভের চেষ্টা করার উপলক্ষ। যদি আল্লাহর ক্ষমা পেতে চাই, তবে উচিত হলো অন্যকে ক্ষমা করার উদারতা লালন করা। কারও প্রতি হিংসাবিদ্বেষ পুষে রাখলে আল্লাহর রহমতের দৃষ্টি ও সাধারণ ক্ষমা থেকে বঞ্চিত হতে হবে।
তাই এই রজনিকেন্দ্রিক বাড়াবাড়ি ও ছাড়াছাড়ি থেকে দূরে থেকে শিরকমুক্ত ইমান ও হৃদয়কে সব ধরনের মালিন্য থেকে মুক্ত করা হোক আমাদের প্রধান ব্রত।
মধ্য শাবানের মাহাত্ম্য ও করণীয়
১৫ শাবানে সবচেয়ে উত্তম হলো, এ রাতে ব্যক্তিগতভাবে ইবাদত করা এবং আল্লাহর কাছে নিজেদের গুনাহের মাফ চাওয়া।
১৫ শাবানে সবচেয়ে উত্তম হলো, এ রাতে ব্যক্তিগতভাবে ইবাদত করা এবং আল্লাহর কাছে নিজেদের গুনাহের মাফ চাওয়া।
১৫ শাবান বা শবে বরাতের রাতে ব্যক্তিগতভাবে নফল ইবাদত, কুরআন তিলাওয়াত, জিকির এবং আল্লাহর কাছে কায়মনোবাক্যে গুনাহের মাফ চাওয়াই সবচেয়ে উত্তম আমল। এ রাতে আল্লাহ তাআলা বান্দাদের ক্ষমা করেন, তাই শিরক ও বিদ্বেষমুক্ত থেকে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা এবং নিজের গুনাহের জন্য লজ্জিত হয়ে আগামীতে সৎপথে চলার অঙ্গীকার করা উচিত
১৫ শাবান রাতে ফজিলত ও আমল:
তওবা ও ইস্তেগফার: নিজের কৃত গুনাহের জন্য লজ্জিত হয়ে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া এবং ভবিষ্যতে গুনাহ না করার দৃঢ় অঙ্গীকার করা এই রাতের প্রধান আমল নফল নামাজ: দীর্ঘ সেজদায় নফল নামাজ আদায় করা এবং কুরআন তিলাওয়াত করা
বিশেষ দোয়া: আল্লাহর রহমত, ক্ষমা, রিযিক এবং কষ্ট থেকে মুক্তির জন্য বেশি বেশি দুআ করা বর্জনীয়: হিংসা-বিদ্বেষ এবং শিরক থেকে বেঁচে থাকা, কারণ এ রাতে মুশরিক ও শত্রুতা পোষণকারী ব্যক্তিকে ক্ষমা করা হয় না
পরদিন রোজা: শাবান মাসে বেশি রোজা রাখার সুন্নতের আলোকে ১৫ শাবান শেষে ১৬ শাবান রোজা রাখা ।
মুয়াজ বিন জাবাল (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিস অনুযায়ী, আল্লাহ তাআলা অর্ধ শাবানের রাতে তাঁর সৃষ্টিজগতের প্রতি মনোযোগ দেন এবং মুশরিক ও হিংসুক ছাড়া সবাইকে ক্ষমা করে দেন
১৫ শাবান বা মধ্য শাবানের মাহাত্ম্য ও করণীয়
শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাত। আমাদের সমাজে এটি শবেবরাত নামে বেশি পরিচিত হলেও হাদিসের ভাষায় একে লাইলাতুন নিসফি মিন শাবান বা মধ্য শাবানের রাত বলা হয়েছে। এই রাতটি নিয়ে আমাদের সমাজে যেমন অতিরঞ্জিত আবেগের ছড়াছড়ি আছে, তেমনি সুন্নাহ পরিপন্থি নানা কুসংস্কারও ছড়িয়ে আছে। যার সঙ্গে ইসলামের কোনো সম্পর্ক নেই। অথচ উচিত হলো অতি বাড়াবাড়ি এবং ছাড়াছাড়ি ব্যতিরেকে সুন্নাহসম্মত পদ্ধতিতে এই রাতের গুরুত্ব ও মাহাত্ম্য অনুধাবন করা এবং আমল করা।
এই রাতে সাধারণত মসজিদে মুসল্লিদের ভিড় জমে। অনেকে মনে করেন, এটি ভাগ্য নির্ধারণী রাত। এই রাতে আগামী এক বছরের হায়াত, মউত ও রিজিক নির্ধারণ করা হয়। এটি গ্রহণযোগ্য ধারণা নয়। পবিত্র কোরআনের সুরা দুখানের শুরুতে যে বরকতময় রাতে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো ফয়সালা হওয়ার কথা বলা হয়েছে, তা মূলত লাইলাতুল কদর। যা রমজান মাসের শেষ দশকের রাতগুলোর মধ্যে একটি রাত।
রসুল (সা.) বলেছেন, মধ্য শাবানের রাতে মহান আল্লাহ তাঁর সৃষ্টির প্রতি বিশেষ রহমতের দৃষ্টি দেন এবং মুশরিক ও অন্যের প্রতি বিদ্বেষ পোষণকারী ব্যক্তি ছাড়া সবাইকে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেন (বায়হাকি)। এই হাদিস থেকে আমরা বুঝতে পারি, শিরক ও হিংসাবিদ্বেষ হলো আল্লাহর অবারিত এই ক্ষমা পাওয়ার পথে প্রধান দুটি বাধা।
সুতরাং কেউ যদি এই রাতে সারা রাত ইবাদতে লিপ্ত থাকে, কিন্তু তার ইমানে শিরক কিংবা মনে কোনো মুসলিম ভাইয়ের প্রতি ঘৃণা বা শত্রুতা পোষণ করে, তবে এই রাতের সাধারণ ক্ষমা তার ভাগ্যে জুটবে না। তাই মধ্য শাবানের রাতকে ঘিরে প্রধান কাজ হওয়া উচিত ইমানকে শিরকমুক্ত করা ও প্রতিহিংসার আগুন থেকে মনকে পবিত্র করা। এ ছাড়া এই রাতের ফজিলত ও আমল সম্পর্কে আরও অনেক হাদিস আছে, তবে সেগুলো সনদের দিক দিয়ে ত্রুটিপূর্ণ।
এই রাতের বিশেষ কোনো নামাজ কিংবা জিকির-আসকার নেই। অন্য সাধারণ রাতে একজন মুমিন যেভাবে নফল ইবাদত করেন, এই রাতেও তিনি চাইলে সেভাবে ব্যক্তিগতভাবে নফল আমল করতে পারেন এবং আল্লাহর বিশেষ ক্ষমা লাভের চেষ্টা করতে পারেন। কিন্তু এর জন্য নির্দিষ্ট কোনো পদ্ধতি বা সংখ্যার নামাজ বা ইবাদতের কাঠামো তৈরি করা সুন্নাহসম্মত নয়।
অনেক অঞ্চলে এই রাতকে কেন্দ্র করে সুন্নাহর নামে বিভিন্ন কুসংস্কারও চালু আছে। যেমন এই রাতে খাবারের উৎসব করা। বিশেষ করে হালুয়া-রুটি বিতরণের যে সংস্কৃতি আমাদের সমাজে প্রচলিত আছে, এর সঙ্গে সুন্নাহর কোনো সম্পর্ক নেই। এর প্রমাণ হিসেবে অনেকে একটি ভিত্তিহীন গল্প বলেন যে ওহুদ যুদ্ধে নবীজি (সা.)-এর দাঁত মোবারক শহীদ হওয়ার পর তিনি শক্ত খাবার খেতে পারতেন না বলে হালুয়া খেয়েছিলেন, তাই আমাদেরও তা খেতে হবে। আর এটা খাওয়া হয় শবেবরাতে। অথচ ওহুদ যুদ্ধ শাবান মাসে হয়নি এবং এই গল্পের নির্ভরযোগ্য কোনো ভিত্তিও নেই। এমন একটি বানোয়াট গল্পের ওপর ভিত্তি করে ইবাদত ও ক্ষমার রাতে রান্নাবান্না ও উৎসবের পেছনে সময় ব্যয় করাটা প্রকারান্তরে ইবাদত থেকে বিচ্যুত হওয়া ছাড়া আর কিছু নয়। একইভাবে আতশবাজি ফোটানো, ঘরবাড়ি আলোকসজ্জা করাটাও ইসলামের শিক্ষার সম্পূর্ণ পরিপন্থি।
অনেকে এই রাতে দলবদ্ধভাবে ইবাদত করেন। নফল ইবাদত হলো বান্দার সঙ্গে তাঁর প্রভুর একান্ত বিষয়। রসুল (সা.) ও সাহাবিদের যুগে এই রাতে দলবদ্ধ হয়ে মসজিদে জিকির বা সম্মিলিত দোয়া করার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায় না। নফল নামাজ ও দোয়া ঘরে নিভৃতে করাই উত্তম ও সুন্নাহর অধিক নিকটবর্তী।
সর্বোপরি এই রাতটি ঘটা করে উৎসব করার নয়, বরং আল্লাহর ক্ষমা লাভের চেষ্টা করার উপলক্ষ। যদি আল্লাহর ক্ষমা পেতে চাই, তবে উচিত হলো অন্যকে ক্ষমা করার উদারতা লালন করা। কারও প্রতি হিংসাবিদ্বেষ পুষে রাখলে আল্লাহর রহমতের দৃষ্টি ও সাধারণ ক্ষমা থেকে বঞ্চিত হতে হবে।
তাই এই রজনিকেন্দ্রিক বাড়াবাড়ি ও ছাড়াছাড়ি থেকে দূরে থেকে শিরকমুক্ত ইমান ও হৃদয়কে সব ধরনের মালিন্য থেকে মুক্ত করা হোক আমাদের প্রধান ব্রত।
মধ্য শাবানের মাহাত্ম্য ও করণীয়
১৫ শাবানে সবচেয়ে উত্তম হলো, এ রাতে ব্যক্তিগতভাবে ইবাদত করা এবং আল্লাহর কাছে নিজেদের গুনাহের মাফ চাওয়া।
১৫ শাবানে সবচেয়ে উত্তম হলো, এ রাতে ব্যক্তিগতভাবে ইবাদত করা এবং আল্লাহর কাছে নিজেদের গুনাহের মাফ চাওয়া।
১৫ শাবান বা শবে বরাতের রাতে ব্যক্তিগতভাবে নফল ইবাদত, কুরআন তিলাওয়াত, জিকির এবং আল্লাহর কাছে কায়মনোবাক্যে গুনাহের মাফ চাওয়াই সবচেয়ে উত্তম আমল। এ রাতে আল্লাহ তাআলা বান্দাদের ক্ষমা করেন, তাই শিরক ও বিদ্বেষমুক্ত থেকে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা এবং নিজের গুনাহের জন্য লজ্জিত হয়ে আগামীতে সৎপথে চলার অঙ্গীকার করা উচিত
১৫ শাবান রাতে ফজিলত ও আমল:
তওবা ও ইস্তেগফার: নিজের কৃত গুনাহের জন্য লজ্জিত হয়ে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া এবং ভবিষ্যতে গুনাহ না করার দৃঢ় অঙ্গীকার করা এই রাতের প্রধান আমল নফল নামাজ: দীর্ঘ সেজদায় নফল নামাজ আদায় করা এবং কুরআন তিলাওয়াত করা
বিশেষ দোয়া: আল্লাহর রহমত, ক্ষমা, রিযিক এবং কষ্ট থেকে মুক্তির জন্য বেশি বেশি দুআ করা বর্জনীয়: হিংসা-বিদ্বেষ এবং শিরক থেকে বেঁচে থাকা, কারণ এ রাতে মুশরিক ও শত্রুতা পোষণকারী ব্যক্তিকে ক্ষমা করা হয় না
পরদিন রোজা: শাবান মাসে বেশি রোজা রাখার সুন্নতের আলোকে ১৫ শাবান শেষে ১৬ শাবান রোজা রাখা ।
মুয়াজ বিন জাবাল (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিস অনুযায়ী, আল্লাহ তাআলা অর্ধ শাবানের রাতে তাঁর সৃষ্টিজগতের প্রতি মনোযোগ দেন এবং মুশরিক ও হিংসুক ছাড়া সবাইকে ক্ষমা করে দেন
১৫ শাবান বা মধ্য শাবানের মাহাত্ম্য ও করণীয়
শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাত। আমাদের সমাজে এটি শবেবরাত নামে বেশি পরিচিত হলেও হাদিসের ভাষায় একে লাইলাতুন নিসফি মিন শাবান বা মধ্য শাবানের রাত বলা হয়েছে। এই রাতটি নিয়ে আমাদের সমাজে যেমন অতিরঞ্জিত আবেগের ছড়াছড়ি আছে, তেমনি সুন্নাহ পরিপন্থি নানা কুসংস্কারও ছড়িয়ে আছে। যার সঙ্গে ইসলামের কোনো সম্পর্ক নেই। অথচ উচিত হলো অতি বাড়াবাড়ি এবং ছাড়াছাড়ি ব্যতিরেকে সুন্নাহসম্মত পদ্ধতিতে এই রাতের গুরুত্ব ও মাহাত্ম্য অনুধাবন করা এবং আমল করা।
এই রাতে সাধারণত মসজিদে মুসল্লিদের ভিড় জমে। অনেকে মনে করেন, এটি ভাগ্য নির্ধারণী রাত। এই রাতে আগামী এক বছরের হায়াত, মউত ও রিজিক নির্ধারণ করা হয়। এটি গ্রহণযোগ্য ধারণা নয়। পবিত্র কোরআনের সুরা দুখানের শুরুতে যে বরকতময় রাতে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো ফয়সালা হওয়ার কথা বলা হয়েছে, তা মূলত লাইলাতুল কদর। যা রমজান মাসের শেষ দশকের রাতগুলোর মধ্যে একটি রাত।
রসুল (সা.) বলেছেন, মধ্য শাবানের রাতে মহান আল্লাহ তাঁর সৃষ্টির প্রতি বিশেষ রহমতের দৃষ্টি দেন এবং মুশরিক ও অন্যের প্রতি বিদ্বেষ পোষণকারী ব্যক্তি ছাড়া সবাইকে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেন (বায়হাকি)। এই হাদিস থেকে আমরা বুঝতে পারি, শিরক ও হিংসাবিদ্বেষ হলো আল্লাহর অবারিত এই ক্ষমা পাওয়ার পথে প্রধান দুটি বাধা।
সুতরাং কেউ যদি এই রাতে সারা রাত ইবাদতে লিপ্ত থাকে, কিন্তু তার ইমানে শিরক কিংবা মনে কোনো মুসলিম ভাইয়ের প্রতি ঘৃণা বা শত্রুতা পোষণ করে, তবে এই রাতের সাধারণ ক্ষমা তার ভাগ্যে জুটবে না। তাই মধ্য শাবানের রাতকে ঘিরে প্রধান কাজ হওয়া উচিত ইমানকে শিরকমুক্ত করা ও প্রতিহিংসার আগুন থেকে মনকে পবিত্র করা। এ ছাড়া এই রাতের ফজিলত ও আমল সম্পর্কে আরও অনেক হাদিস আছে, তবে সেগুলো সনদের দিক দিয়ে ত্রুটিপূর্ণ।
এই রাতের বিশেষ কোনো নামাজ কিংবা জিকির-আসকার নেই। অন্য সাধারণ রাতে একজন মুমিন যেভাবে নফল ইবাদত করেন, এই রাতেও তিনি চাইলে সেভাবে ব্যক্তিগতভাবে নফল আমল করতে পারেন এবং আল্লাহর বিশেষ ক্ষমা লাভের চেষ্টা করতে পারেন। কিন্তু এর জন্য নির্দিষ্ট কোনো পদ্ধতি বা সংখ্যার নামাজ বা ইবাদতের কাঠামো তৈরি করা সুন্নাহসম্মত নয়।
অনেক অঞ্চলে এই রাতকে কেন্দ্র করে সুন্নাহর নামে বিভিন্ন কুসংস্কারও চালু আছে। যেমন এই রাতে খাবারের উৎসব করা। বিশেষ করে হালুয়া-রুটি বিতরণের যে সংস্কৃতি আমাদের সমাজে প্রচলিত আছে, এর সঙ্গে সুন্নাহর কোনো সম্পর্ক নেই। এর প্রমাণ হিসেবে অনেকে একটি ভিত্তিহীন গল্প বলেন যে ওহুদ যুদ্ধে নবীজি (সা.)-এর দাঁত মোবারক শহীদ হওয়ার পর তিনি শক্ত খাবার খেতে পারতেন না বলে হালুয়া খেয়েছিলেন, তাই আমাদেরও তা খেতে হবে। আর এটা খাওয়া হয় শবেবরাতে। অথচ ওহুদ যুদ্ধ শাবান মাসে হয়নি এবং এই গল্পের নির্ভরযোগ্য কোনো ভিত্তিও নেই। এমন একটি বানোয়াট গল্পের ওপর ভিত্তি করে ইবাদত ও ক্ষমার রাতে রান্নাবান্না ও উৎসবের পেছনে সময় ব্যয় করাটা প্রকারান্তরে ইবাদত থেকে বিচ্যুত হওয়া ছাড়া আর কিছু নয়। একইভাবে আতশবাজি ফোটানো, ঘরবাড়ি আলোকসজ্জা করাটাও ইসলামের শিক্ষার সম্পূর্ণ পরিপন্থি।
অনেকে এই রাতে দলবদ্ধভাবে ইবাদত করেন। নফল ইবাদত হলো বান্দার সঙ্গে তাঁর প্রভুর একান্ত বিষয়। রসুল (সা.) ও সাহাবিদের যুগে এই রাতে দলবদ্ধ হয়ে মসজিদে জিকির বা সম্মিলিত দোয়া করার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায় না। নফল নামাজ ও দোয়া ঘরে নিভৃতে করাই উত্তম ও সুন্নাহর অধিক নিকটবর্তী।
সর্বোপরি এই রাতটি ঘটা করে উৎসব করার নয়, বরং আল্লাহর ক্ষমা লাভের চেষ্টা করার উপলক্ষ। যদি আল্লাহর ক্ষমা পেতে চাই, তবে উচিত হলো অন্যকে ক্ষমা করার উদারতা লালন করা। কারও প্রতি হিংসাবিদ্বেষ পুষে রাখলে আল্লাহর রহমতের দৃষ্টি ও সাধারণ ক্ষমা থেকে বঞ্চিত হতে হবে।
তাই এই রজনিকেন্দ্রিক বাড়াবাড়ি ও ছাড়াছাড়ি থেকে দূরে থেকে শিরকমুক্ত ইমান ও হৃদয়কে সব ধরনের মালিন্য থেকে মুক্ত করা হোক আমাদের প্রধান ব্রত।
মধ্য শাবানের মাহাত্ম্য ও করণীয়