ইসলামে বিয়ের প্রস্তাব গোপন রাখা কেন? জেনে নিন সঠিক নির্দেশনা
বিয়ে নিয়ে মানুষের আচরণ বিচিত্র। কেউ বিয়ের খবর মানুষকে জানিয়ে আনন্দ পান, আবার কেউ তা গোপন রাখতেই স্বস্তিবোধ করেন। সমাজে বিয়ে চূড়ান্ত হওয়ার আগে বিয়ের প্রস্তাব গোপন রাখার প্রচলন আছে, বিশেষত কনেপক্ষ বিয়ের প্রস্তাব গোপন রাখতে চায়। কেননা তারা বিয়ের প্রস্তাব সফল না হওয়াকে নিজেদের জন্য লজ্জার মনে করে। প্রশ্ন হলো, বিয়ের প্রস্তাব ও বিয়ের খবর প্রকাশ করা বা গোপন করার ব্যাপারে ইসলামের নির্দেশনা কী? এর উত্তরে ইসলামি স্কলাররা বলেন, ইসলাম এক্ষেত্রে একটি ভারসাম্যপূর্ণ নির্দেশনা দিয়েছে। তা হলো, বিয়ের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হওয়ার আগ পর্যন্ত বিয়ের প্রস্তাব ছেলে ও মেয়ে উভয় পক্ষই গোপন রাখবে এবং বিয়ের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হওয়ার পর ঘোষণা দিয়ে বিয়ে করবে। হজরত উম্মে সালামা (রা.) থেকে বর্ণিত, হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা বিয়ের কথা প্রকাশ করো এবং বিয়ের প্রস্তাব গোপন করো।’ -জামিউস সাগির: ১১২২ উল্লিখিত হাদিসের সনদে দুর্বলতা থাকলেও মুহাদ্দিসরা একে আমলযোগ্য বলেছেন। কেননা অন্য হাদিস ও সাহাবায়ে কেরামের আমলে এর সমর্থন পাওয়া যায়। কোনো কোনো আলেম বলেছেন, হিংসুক ও মন্দ মানসিকতার মানুষের ভয় থাকলে বিয়ের প্রস্তাব গোপন রাখা মোস্তাহাব। কেননা সমাজের মন্দ স্বভাবের মানুষগুলো পূর্বশত্রুতা বা হিংসার বশবর্তী হয়ে কিংবা নিছক ঈর্ষার কারণেও পাত্র-পাত্রীর কুৎসা রচনা করে। -হাশিয়াতুল আদাওয়ি আলা শারহি মুখতাসারি খালিল: ৩/১৬৭ এই অভিমতের পক্ষে নবী কারিম (সা.)-এর নিম্নোক্ত হাদিসেরও সমর্থন মেলে। নবী কারিম (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা তোমাদের প্রত্যাশাগুলো সফল হওয়ার ক্ষেত্রে গোপনীয়তা রক্ষার মাধ্যমে সাহায্য চাও। কেননা প্রতিটি নিয়ামতকে হিংসা করা হয়।’ -ফয়জুল কাদির: ৯৮৫ সুতরাং গোপন রাখার বিষয়টি শুধু বিয়ের প্রস্তাবের সঙ্গে বিশেষায়িত নয়, বরং যে ব্যক্তি কারও প্রতি আল্লাহর কোনো নেয়ামত দেখলে তাকে হিংসা করে তার সামনে কোনো নেয়ামত বা তার সম্ভাবনার কথা প্রকাশ করা উচিত নয়। ইসলাম বিয়ের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হওয়ার পর ঘোষণা দিয়ে বিয়ে করতে বলেছে। কেননা এর মধ্যে পারিবারিক ও সামাজিক অনেক কল্যাণ নিহিত আছে। যেমন- আত্মীয়দের চেনা ও আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা করা। নবী কারিম (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা বিয়ের ঘোষণা দাও, তা মসজিদে সম্পন্ন করো এবং তাতে দফ বাজাও।’ -জামে তিরমিজি: ১০৮৯ বিয়ের ঘোষণা দেওয়ার প্রধান ও অপরিহার্য দিক হলো- বিয়ের সাক্ষী রাখা। বেশির ভাগ আলেমের মতে, বিয়ের সাক্ষী রাখা ওয়াজিব, সাক্ষী ছাড়া বিয়ে শুদ্ধ হয় না। আর বিয়ের ঘোষণার অন্যান্য দিক হলো মানুষকে তা অবগত করা, মসজিদে সম্পন্ন করা, সাধ্যানুসারে ওলিমার আয়োজন করা ইত্যাদি।











