সাক্ষাৎ ভালোবাসা! - বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য
শত-শত হাজার ওয়াটের হ্যালোজেন আলোয় তখন ঝলসে যাচ্ছিল গোটা মঞ্চ, যেমন অজস্র জ্যোতিষ্ক-মধ্যে আটক উলঙ্গ পৃথিবী। ছায়ার লেশমাত্র ছিল না কোথাও, কোনোখানে- মধ্যিখানে, মেঝেতে শুয়ে ছিল একটি ছেলে ও একটি মেয়ে- অবিকল আদিম নর ও নারী। সটান-শায়িত, নির্বিকার এবং দৃষ্টি উর্দ্ধগামী। চতুর্দিকে আলোর সমারোহে তাদের নগ্ন দেহ উলঙ্গতর হয়ে উঠেছিল, রন্ধ্র-রন্ধ্র উন্মুক্ত হয়ে পড়েছিল ক্ষেত্রব্যাপী; তবু বৃন্ত নিস্তেজ, লিঙ্গ ঢালু– মঞ্চময় এক অকাম অস্তিত্ব। মুহূর্ত চঞ্চল হয়; মৃদু হয়ে আসে আলো। যুদ্ধবিমানের গম্ভীর শব্দে নেপথ্য গমগম করে উঠলে ছেলেটির মুখ থেকে বেরনো সবুজ রশ্মি সরলরেখায় মঞ্চের ছাদ ছুঁয়ে ফেলে, যে ছাদময় তখন নীল আলো ফ্লুওরোসেন্ট আভায় ক্রমাগত আন্তর্জাল বিস্তারে ব্যতিব্যস্ত, দর্শকের চোখে যেমন প্রাণের প্রোটোজোয়ার কসমো-দর্শন। উৎপল-নীল ঐ সবুজ ঋজুরেখা আপন দেহমধ্যে ধারণ ক’রে পুনরায় সবুজে মেয়েটির মুখে স্থানান্তরিত করতে থাকে দ্বিতীয় সরলরেখায়। ইতিমধ্যে দুই সবুজের যৌথ নীল উত্তাল হয়ে ওঠে, বিমানের বোঁ-বোঁ শব্দ তীব্রতর হয়, বৃন্ত তীক্ষ্ণ হয়ে ওঠে, লিঙ্গ উন্নত হয়;- দু’জনের শরীর জমি ছেড়ে ধীরে ধীরে উপরের দিকে উঠতে থাকে, ক্রমশঃ দূরবর্তী হয়ে মঞ্চময় উড়ে বেড়ায় দিক-বিদিক;- ঋজুরেখ সবুজদ্বয়ের সে এক উদ্দাম লেজার-নৃত্য! তবু এত আলোকচাঞ্চল্যের মাঝেও দুই দেহ যেন দুই প্রেত, ভারশূন্য তন্দ্রায় একে অপরকে কেন্দ্র ক’রে ভেসে বেড়ায় কামুক গতিতে। সে এক আদিম সম্ভোগমুখী ব্যাকুল অনুধাবন!- দর্শকেন্দ্রিয়ে যা আলোড়িত ক’রে তোলে ঈক্ষণ-কামনার তরঙ্গ-জোয়ার। অতঃপর কোনো এক আকস্মিক মুহূর্তে শব্দের মন্দ্র স্তব্ধ হয় খানিক অবকাশে; এক প্রকা-আ-আ-ণ্ড বিস্ফোরণ!- যাকে মতান্তরে মহাবিস্ফোরণ-ও বলা চলে, দুই দেহের সংঘাত ঘটায় ছাদের অদূরবর্তী উচ্চতায়। সমগ্র নীল ও Read the full article















