সূরা আল-আসর মানবজাতিকে জীবনে সফলতা এবং পরকালে মুক্তি পাওয়ার পথ দেখায়।
সূরা আল-আসর: ক্ষতি থেকে বাঁচার উপায়
ঈমান আনে, সৎকর্ম করে, একে অপরকে সত্যের পথে চলার উপদেশ এবং ধৈর্যের উপদেশ দেয যারা, তারা ক্ষতিগ্রস্ত হবে না।
সূরা আল-আসর অনুযায়ী, ক্ষতি থেকে বাঁচার চারটি উপায় হলো ঈমান (আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস), সৎকর্ম (ভালো কাজ করা), পরস্পরকে সত্যের উপদেশ দেওয়া এবং পরস্পরকে ধৈর্য ধারণের উপদেশ দেওয়া। এই চারটি গুণ যাদের মধ্যে থাকে, কেবল তারাই এই সূরার ব্যাখ্যা অনুসারে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া থেকে রক্ষা পায়।
ক্ষতি থেকে বাঁচার চারটি উপায়:
ঈমান: আল্লাহর প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস স্থাপন করা।
সৎকর্ম: ঈমানের সাথে সাথে ভালো কাজ করা।
হকের পথে ডাকা: একে অপরকে সত্য ও সঠিক পথে চলার জন্য উপদেশ দেওয়া।
ধৈর্য ধারণে উৎসাহিত করা: বিপদে ও অভাবে ধৈর্য ধরতে পরস্পরকে উৎসাহ দেওয়া।
আল্লাহর ভয়ংকর সতর্কবাণী
সূরা আল আসর
মহাকালের (সময়ের) শপথ,
নিশ্চয় মানুষ ক্ষতির মধ্যে নিমজ্জিত।
কিন্তু তারা নয়, যারা বিশ্বাস স্থাপন করে ও সৎকর্ম করে এবং পরস্পরকে তাকীদ করে সত্যের এবং তাকীদ করে সবরের (ধৈরয ধারণের)।
সূরা আসর আমাদের যা শেখায়
আল্লাহ রাব্বুল আলামীন কুরআন নাযিল করেছেন মানুষের জন্য উপদেশ ও জীবন বিধান হিসাবে। এ লক্ষ্যেই তিনি গুরুত্বারোপ করেছেন কুরআন নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করার প্রতি: “তবে কি তারা কুরআন নিয়ে গভীর চিন্তা-ভাবনা করে না? নাকি তাদের অন্তরসমূহে তালা রয়েছে?“ [মুহাম্মাদ: ২৪] কুরআন নিয়ে যতই চিন্তা-ভাবনা ও গবেষণা করা হবে অন্তরে কুরআনের আবেদন ও কুরআনের প্রতি ভক্তি ততই বৃদ্ধি পাবে। মানুষের স্বভাব চরিত্রে, আচার-আচরণে এর প্রভাব পড়বে। তাই তো আমরা দেখি উম্মুল মুমিনিন আয়েশা রা. কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের চরিত্র সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে তিনি উত্তর দেন: ‘তাঁর চরিত্র ছিল আল কুরআন।‘ [মুসলিম]
সূরা আল-আসর মানবজাতিকে জীবনে সফলতা এবং পরকালে মুক্তি পাওয়ার পথ দেখায়।
সূরা আল আসরের তাফসীর
সূরা আল-আসর (১০৩তম সূরা) সময়ের কসম করে বলে যে, মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত, তবে যারা ঈমান, সৎকর্ম, পরস্পরকে সত্যের উপদেশ ও ধৈর্যের উপদেশ দেয়, তারা ব্যতীত। এই চারটি গুণের সমন্বয়েই ক্ষতিগ্রস্ততা থেকে মুক্তি পাওয়া যায় এবং জীবনে সফলতা আসে।
সূরার ব্যাখ্যা:
"ওয়ালা'সর্" (সময়ের কসম):
আল্লাহ সময় বা কালের কসম খেয়েছেন, যা মানবজাতির ক্ষতির বিষয়টি তুলে ধরে। এই সময়ের মধ্যে মানুষ তার জীবন অতিবাহিত করে এবং এটি আল্লাহর ক্ষমতা ও কারিগরি ক্ষমতার এক বিশাল নিদর্শন।
"ইন্নাল ইনসানা লাফী খুসর" (নিশ্চয় মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত):
এই আয়াতে বলা হয়েছে যে, সময়ের কসম করে বলা হচ্ছে যে, মানুষ বড় ক্ষতির মধ্যে রয়েছে।
"ইल्लाল্লাযীনা আমানু ওয়া 'আমিলু সালিহাতি ওয়া তাওয়াসাউ বিল হাক্কি ওয়া তাওয়াসাউ বিস-সবরি" (তবে তারা ব্যতীত যারা ঈমান এনেছে, সৎকর্ম করেছে, পরস্পরকে সত্যের উপদেশ দিয়েছে এবং পরস্পরকে ধৈর্যের উপদেশ দিয়েছে):
এই অংশটি ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থা থেকে রক্ষা পাওয়ার চারটি প্রধান শর্ত বা গুণাবলী উল্লেখ করে।
ঈমান: সৃষ্টিকর্তার প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস স্থাপন করা।
সৎকর্ম: ঈমানের ভিত্তিতে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য ভালো কাজ করা।
পরস্পরকে হকের উপদেশ: অন্যকে সত্য ও সঠিক পথের নির্দেশ দেওয়া।
পরস্পরকে সবর (ধৈর্য) করার উপদেশ: যখন কোনো বাধা আসে বা কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয়, তখন একে অন্যকে ধৈর্য ধারণ করার জন্য উৎসাহিত করা।
সারসংক্ষেপ:
সূরা আল-আসর মানবজাতিকে সময়ের সদ্ব্যবহার করতে এবং ঈমান, সৎকর্ম ও একে অপরকে সত্য ও ধৈর্যের পথে চলতে উৎসাহিত করে, যা এক জীবনে সফলতা এবং পরকালে মুক্তি পাওয়ার পথ দেখায়।
সূরা আসর জান্নাতের পথ দেখায়
মানুষ যখন ঈশ্বরে বিশ্বাস করে, এবং সৎকাজ করে, তখন সে নিজেকে পরিপূর্ণ করে তোলে। তিনি নিজেকে লাভ, সাফল্য এবং কল্যাণের দিকে নিয়ে যান। কিন্তু বিশ্বাসী হিসেবে তাঁর দায়িত্ব শেষ হয়না । তিনি অন্যদেরও ডাকবেন একটি সমৃদ্ধ, সফল জীবনের দিকে। মুসলমানদের উত্থান হয়েছে বিশ্ব মানবতার কল্যাণের জন্য। তাঁর দায়িত্ব হলো নিজের সাথে অন্যকেও সত্যের দিকে ডাকা।
সূরা আল-আসর মানবজাতিকে জীবনে সফলতা এবং পরকালে মুক্তি পাওয়ার পথ দেখায়।
সূরা আসর আমাদের যা শেখায়
সূরা আসর চারটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় শেখায়: ঈমান (বিশ্বাস), সৎকর্ম, একে অপরকে সত্যের পথে চলার উপদেশ দেওয়া এবং একে অপরকে ধৈর্যের উপদেশ দেওয়া। যারা এই চারটি বিষয় পালন করে, তারা ক্ষতিগ্রস্ত হবে না।
ঈমান: আল্লাহর প্রতি এবং তাঁর রাসূলের প্রতি সঠিক বিশ্বাস রাখা।
সৎকর্ম: ভালো কাজ করা এবং সঠিক পথে চলা।
সত্যের উপদেশ: একে অপরকে সত্য কথা বলার এবং সঠিক কাজ করার জন্য উৎসাহিত করা।
ধৈর্যের উপদেশ: বিপদ বা কঠিন সময়ে একে অপরের প্রতি ধৈর্য ধারণ করার জন্য উপদেশ দেওয়া।
সময় দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে
সূরা আল-আসর মানবজাতিকে জীবনে সফলতা এবং পরকালে মুক্তি পাওয়ার পথ দেখায়।
ঈমান আনে, সৎকর্ম করে, একে অপরকে সত্যের পথে চলার উপদেশ এবং ধৈর্যের উপদেশ দেয যারা, তারা ক্ষতিগ্রস্ত হবে না।




















