বিশেষ সংবাদদাতা : মহারাষ্ট্র ও হরিয়ানা বিধানসভার ভোট ছিল বিজেপির কাছে জনপ্রিয়তা যাচাইয়ের মাপকাঠি। সেই নিরিখে মহারাষ্ট্রে পাশ করতে পারলেও হরিয়ানায় পাশ করবে কিনা অনিশ্চিত। হাত থেকে বেরিয়ে যেতে পারে এই রাজ্য। যদিও দলের তরফে দাবি করা হয়েছে মানুষ বিজেপির দক্ষ সরকার পরিচালনার পক্ষেই রায় দিয়েছে। দলের ওপর আস্থা প্রকাশ করেছে। অন্যদিকে কংগ্রেস লোকসভা ভোটে ঝড়ে উড়ে যাওয়ার পর এখনও অগোছালো ঘর, দলের অন্তর্দ্বন্দ্ব, প্রচারে খামতি থাকা সত্ত্বেও ভোটে প্রার্থী দেয়। মানুষ তাদের বিমুখ করেনি। বিশেষ করে হরিয়ানায় ঘুরে দাঁড়ানো আভাস পেয়েই স্থানীয় দল জেজেপি-কে সঙ্গে নিয়ে জোট সরকার গড়ার তোড়জোড় শুরু করে দিয়েছে।
মহারাষ্ট্রের ক্ষেত্রে বুথ ফেরত সমীক্ষা অনুযায়ী বিজেপি ও শিবসেনার জোট নিরঙ্কুশ গরিষ্ঠতা পেয়ে ফের সরকার গঠনের রায় পেলেও হরিয়ানা ত্রিশঙ্কু বিধানসভা হওয়ার দিকে এগোচ্ছে। যদিও ফলাফল ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত সঠিক চিত্র স্পষ্ট হবে না। তবে এ ক্ষেত্রে বুথ ফেরত সমীক্ষার ফলের সঙ্গে বাস্তব ফলাফল একেবারেই মেলেনি। একটি বাদে সব সমীক্ষাতেই হরিয়ানায় বিজেপির ফিরে আসার কথাই জানিয়েছে। একটি চ্যানেল জানিয়ে ছিল ত্রিশঙ্কু হতে পারে।
দুপুর তিনটে পর্যন্ত ফলাফলের আভাসে জানা গেছে, হরিয়ানায় ৯০ আসনের মধ্যে বিজেপি ৩৬ আসনে এগিয়ে রয়েছে। মনোহরলাল খট্টর মন্ত্রিসভার ৭ জন সদস্য পিছিয়ে পড়েছেন। কংগ্রেস এগিয়ে ৩৫ টিতে। কংগ্রেস রীতিমতো টক্কর দিচ্ছে। অথচ ৫ মাস আগে লোকসভা ভোটে রাজ্যের ১০টি আসনেই জিতেছিল বিজেপি। দুষ্যন্ত চৌতালার নতুন দল জেজেপি হঠাৎ উঠে এসেছে, ১০টি আসনে এগিয়ে রয়েছে। সরকার গঠনে চৌতালা বিশেষ ভূমিকা নিতে পারেন। তাঁকে ধরার জন্য ইতিমধ্যেই কথা বলেছে কংগ্রেস। বিজেপি এনডিএ জোট সঙ্গী অকালি দলকে দিয়ে কথা চালাচ্ছে। সভাপতি অমিত শাহ মুখ্যমন্ত্রী খট্টরকে দিল্লিতে তলব করেছেন। প্রশ্ন উঠেছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে দিয়ে জাঠ এলাকায় প্রচার করেও সুফল পায়নি দল। চৌতালা বলেছেন তাঁর সমর্থন ছাড়া হরিয়ানায় কেউ সরকার গড়তে পারবে না। সেক্ষেত্রে তাঁর শর্ত হবে মুখ্যমন্ত্রীর পদ তাঁকে দিতে হবে।
মহারাষ্ট্রেও বিজেপি সঙ্গী শিবসেনা শর্ত আরোপের পথে হাঁটছে। দলের সঞ্জয় রাউত আজ বলেছেন, সরকার গঠনে ৫০-৫০ ভাগ চাই। দলের প্রধান উদ্ধব ঠাকরের সঙ্গে তিনি কথা বলবেন। রাজ্যে ফলাফল দেখে বিজেপি ও শিবসেনা খুশি। ২৮৮ আসনের বিধানসভায় জোট এগিয়ে রয়েছে ১৬০ আসনে। গরিষ্ঠতার জন্য দরকার ১৪৫। কংগ্রেস মুছে যাবে বলে সমীক্ষায় ইঙ্গিত মিললেও বাস্তবে কংগ্রেস এনসিপি জোট ১০০ কাছাকাছি আসনে এগিয়ে রয়েছে। বিজেপি জোট ফের সরকার গড়ছে। তবে শিবসেনা এবার উপমুখ্যমন্ত্রী পদের দাবি জানাবে বলে মনস্থির করেছে। উদ্ধবের পুত্রকে সেই পদ দেওয়ার দাবি উঠেছে দলে। এখন দেখার জল কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়।