নববর্ষ
মনে ২ টা ভাবনা।
১. ভূমিকম্প কালকে হল তাতেই মানুষ বলা শুরু করলো যে এটা পহেলা বৈশাখ না পালন করার জন্যে আল্লাহর হুঁশিয়ারি। আজকে হলে কি করতো?
২. পহেলা বৈশাখ পালন করা যাবেনা কারন নারী প্রুষ মেলামেশা করে, বেলেল্লাপনা করে (this word though :3)। এখন ভুমিকম্প হলেও তো সবাই রাস্তায় নেমে আসে, তাও কি, রাতের বেলায়ও। নারীপ্রুষ সবাই। গভীর রাতে বেগানা নারী রাস্তায় নেমে আসলে তো বেলেল্লাপনায় দেশ রসাতলে যাবে। তাইলে ভুমিকম্পের সময়েও মেয়েদের রাস্তায় নেমে আসার বিরুদ্ধে ফতোয়া চাই চাই চাই।
ঢাকার পহেলা বৈশাখ মিস করি। আম্মু আমাকে ঠেলে মার্কেটে পাঠাতে পারতো না এমনিতে, পহেলা বৈশাখের আগে নিজ উদ্যোগে গিয়ে জামাকাপড় কিনতাম। ছোটবেলায় আব্বু আম্মুর সাথে রমনায় যেতাম ভোর বেলা। বড় হয়ে পাখা গজানোর পর টই টই করে চিপা চাপা কই কই দিয়ে কই কই যাইতাম ঠিক নাই। পহেলা বৈশাখে সামিল হতে বাসা থেকে বেরোনো লাগতো না অবশ্য। সেগুনবাগিচায় থাকি ২০০৪ থেকে, ভোর থেকেই মানুষ পিল পিল করে হাঁটা শুরু করতো বাসার সামনে দিয়ে। বারান্দায় গিয়ে নিচে তাকালেই চারিদিকে লাল সাদা। আগের রাতে ফেসবুকে দেখা পহেলা বৈশাখ বর্জনের ৪-৫ টা পোস্টের বিপরীতে ৪-৫ লক্ষ মানুষ। বোমা হামলার হুমকির জবাব দিতে রিকশায় বাবা মা ফুটফুটে বাচ্চার হাওয়া খেতে খেতে যাওয়া। কি অসাধারণ! মনটা ভরে যেত।
শুধু এই দিনটাতেই মনের মধ্যে ভাবনাটা একটু উঁকি দিয়ে যায়, সবকিছু হয়তো নষ্টদের অধিকারে যাবে না।
শুভ নববর্ষ সবাইকে।











