কষ্ট, বিপদ ও হতাশার সময়ে আল্লাহর ওপর ভরসা রাখা, তাওয়াক্কুল করা এবং ধৈর্য ধারণ করা উচিত
‘‘নিশ্চয়ই কষ্টের সাথে রয়েছে স্বস্তি’’
— সূরা আল-ইনশিরাহ ৯৪:৬
পবিত্র কুরআনের সুরা আল-ইনশিরাহ (সূরা আশ-শুরাহ)-এর ৫ ও ৬ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, "নিশ্চয়ই কষ্টের সাথে রয়েছে স্বস্তি। নিশ্চয়ই কষ্টের সঙ্গেই রয়েছে স্বস্তি।" [১, ৫]। এই আয়াতটি মুসলিমদের ধৈর্য ধরতে এবং আল্লাহর উপর বিশ্বাস রাখতে উৎসাহিত করে, কারণ এই আয়াতটি বোঝায় যে প্রতিটি দুঃখ-কষ্টের সাথেই আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি সহজীকরণ বা স্বস্তি রয়েছে [১, ৫]।
আয়াতের বিস্তারিত:
কোরআনের অবস্থান:
এই আয়াতটি পবিত্র কোরআনের ৯৪তম সূরা আল-ইনশিরাহ (আলাম-নাশরাহ) এর ৫ ও ৬ নম্বর আয়াতে বর্ণিত হয়েছে [১, ৫]।
আরবি উচ্চারণ:
এই আয়াতটির আরবি উচ্চারণ হলো "ফা ইন্না মা'আল 'উসরি ইউসরা, ইন্না মা'আল 'উসরি ইউসরা" [৩, ৭]।
অর্থ:
আয়াতটির বাংলা অর্থ হলো "নিশ্চয়ই কষ্টের সাথে রয়েছে স্বস্তি; নিশ্চয়ই কষ্টের সঙ্গেই রয়েছে স্বস্তি" [১, ৫]।
আয়াতের শিক্ষা:
এই আয়াতটি শেখায় যে জীবনে দুঃখ-কষ্ট স্থায়ী নয় [১]।
আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস রেখে ধৈর্য ধারণ করলে, প্রতিটি কষ্টের মুহূর্তই যেন এক ধরনের স্বস্তি নিয়ে আসে [২, ৫]।
এই আয়াত আমাদেরকে ধৈর্য, কৃতজ্ঞতা এবং অবিচল থাকার কথা বলে [৩]।
নিশ্চয়ই কষ্টের সাথে রয়েছে স্বস্তি
"নিশ্চয়ই কষ্টের সাথে রয়েছে স্বস্তি" এই উক্তিটি পবিত্র কোরআনের সূরা আল-ইনশিরাহ এর ৫ ও ৬ নম্বর আয়াত থেকে এসেছে এই আয়াতটি মানুষের জীবনে দুঃখ-কষ্টের মাঝেও আল্লাহর পক্ষ থেকে সহজতা ও স্বস্তি থাকার কথা বলে, যা ধৈর্য ও দৃঢ় বিশ্বাসের মাধ্যমে আসবে।
কোরআনের আয়াত:
সূরা আল-ইনশিরাহ, আয়াত ৫-৬: "নিশ্চয়ই কষ্টের সাথে রয়েছে স্বস্তি। অবশ্যই কষ্টের সাথেই স্বস্তি আছে"।
আয়াতের ব্যাখ্যা:
এই আয়াতগুলো থেকে বোঝা যায় যে, আল্লাহ যখনই কোনো কষ্ট দেন, তার সঙ্গে সঙ্গেই তিনি সহজতাও দিয়ে দেন।
এর অর্থ এই নয় যে, কষ্ট শেষ হলেই স্বস্তি আসবে; বরং কষ্টের মধ্যেই, বা কষ্টের সাথে সাথেই স্বস্তি বিরাজ করে।
এই আয়াতটি মানুষকে ধৈর্য ধরতে এবং আল্লাহর উপর ভরসা রাখতে উৎসাহিত করে, কারণ কষ্টের পর আসবেই স্বস্তি।
এই কথাটি জীবনের প্রতিকূলতা ও কঠিন পরিস্থিতিতে আশা ও সান্ত্বনা খুঁজে পেতে সাহায্য করে, যা আল্লাহর প্রতি বিশ্বাসকে আরও শক্তিশালী করে তোলে।
নিশ্চয়ই কষ্টের সাথে স্বস্তি রয়েছে-কিভাবে?
কষ্টের সাথে স্বস্তি থাকার মূল বিষয়গুলো হলো: ১. ধৈর্য ও ঈমান: কষ্টের মুহূর্তে ধৈর্য ধরে আল্লাহর ওপর বিশ্বাস রাখা, কারণ আল্লাহ প্রতিটা কষ্টের সঙ্গেই সহজীকরণের ব্যবস্থা রাখেন। ২. গুণাহ মাফ: ধৈর্যের সাথে কষ্ট সহ্য করলে আল্লাহ বান্দার গুনাহ মাফ করে দেন। ৩. আল্লাহর সাহায্য: আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সঙ্গে থাকেন এবং তাদের সাহায্য করেন। ৪. ভালো পরিণাম: কষ্টের অভিজ্ঞতা জীবনকে সমৃদ্ধ করে এবং ভবিষ্যতের জন্য একটি ইতিবাচক মনন তৈরি করে, যা স্বস্তির জন্ম দেয়।
কষ্টের সাথে স্বস্তি থাকার কারণ:
ধৈর্য ও ঈমান: যখন আমরা কোনো কঠিন পরিস্থিতিতে ধৈর্য ধরি এবং আল্লাহর ওপর বিশ্বাস রাখি, তখন সেই কষ্ট আর কষ্ট থাকে না। এই মানসিকতা আমাদের মধ্যে এক ধরনের শান্তি নিয়ে আসে।
কষ্টের তাৎক্ষণিক প্রভাব: অনেক সময়, চরম কষ্টের সময়েই মানুষ আল্লাহর কাছে বেশি প্রার্থনা করে এবং তাঁর ওপর বেশি নির্ভর করে, যা তাকে এক ধরনের আধ্যাত্মিক স্বস্তি দেয়।
গুনাহ মাফের সওয়াব: ইসলামিক বিশ্বাস অনুযায়ী, মুমিন বান্দারা যখন কষ্টের মধ্যে ধৈর্য ধরে, তখন আল্লাহ তাদের গুনাহ মাফ করে দেন, যা তাদের জন্য এক বিরাট স্বস্তি।
কঠিন পরিস্থিতির সমাপ্তি: যদিও তাৎক্ষণিক স্বস্তি নাও আসতে পারে, তবে কোরআন বলে যে কষ্টের সাথেই স্বস্তি রয়েছে। এর মানে এই নয় যে কষ্ট শেষ হবে না, বরং তা সহজ হবে, এবং এই প্রত্যাশা মানুষকে ধৈর্য ধরতে সাহায্য করে।
ব্যক্তিগত বৃদ্ধি: জীবনে কষ্ট আসলে তা থেকে মানুষ অনেক কিছু শেখে। এই অভিজ্ঞতাগুলো আমাদের আত্মিকভাবে শক্তিশালী করে এবং জীবনের প্রতি এক ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরিতে সাহায্য করে, যা এক প্রকার স্বস্তি।
কষ্ট, বিপদ ও হতাশার সময় কী করবেন!!!
কষ্ট, বিপদ ও হতাশার সময় কষ্ট, বিপদ ও হতাশার সময়ে আল্লাহর ওপর ভরসা রাখা, তাওয়াক্কুল করা এবং ধৈর্য ধারণ করা উচিত
What to do in times of trouble, danger, and despair













