--:আকাশতীর কমান্ড সিস্টেম: ভারতের কৃত্রিম
বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক আকাশ প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি:--
সার্বভৌম আকাশে যখন বিপদের ছায়া ঘনিয়ে আসে, তখন একমাত্র ভরসা হয় একটি অনভ্রান্ত, অতি আধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। ভারত সেই ভরসার ভিত্তিতে গড়ে তুলেছে ‘আকাশতীর কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সিস্টেম’—যা দেশের প্রতিরক্ষা পরিকাঠামোর ইতিহাসে এক যুগান্তকারী সংযোজন। এই উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর সিস্টেমের মাধ্যমে ভারত তার আকাশসীমা রক্ষা করতে সক্ষম হয়েছে আরও বেশি গতিশীলতা, নির্ভুলতা ও গতিশক্তি নিয়ে।
আকাশতীর হলো একটি সম্পূর্ণ স্বদেশে নির্মিত (Made in India) মাল্টি-লেয়ার্ড এয়ার ডিফেন্স কমান্ড ও কন্ট্রোল সেন্টার, যার প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া। এটি শত্রুর মিসাইল, যুদ্ধবিমান বা ড্রোন চিহ্নিত করে অত্যন্ত দ্রুতগতিতে প্রতিক্রিয়া জানাতে সক্ষম। এর কোর সফটওয়্যার Real-Time Threat Evaluation (RTTE) এবং Automatic Target Engagement (ATE) এর মাধ্যমে কাজ করে—অর্থাৎ, আক্রমণের সম্ভাবনা দেখলেই AI নিজেই সিদ্ধান্ত নেয় কিভাবে প্রতিরোধ করা হবে।
এই প্রযুক্তির মূল উদ্দেশ্য হলো ভারতের মতো বিস্তীর্ণ ভৌগলিক পরিধি বিশিষ্ট দেশে একসঙ্গে একাধিক শত্রু অবস্থান ও আক্রমণের গতিপথকে পর্যবেক্ষণ ও প্রতিহত করা। আকাশতীর সিস্টেমের মাধ্যমে Command & Control সেন্টার থেকে একাধিক সেনা ঘাঁটি, ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা ও রাডারকে সংযুক্ত রাখা সম্ভব, যার ফলে পুরো প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্ক এক সঙ্গে কাজ করতে পারে। এটি একটি ‘Network-Centric Warfare’ ধারণার বাস্তব রূপ, যা ভবিষ্যতের যুদ্ধক্ষেত্রের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, এই সিস্টেম DRDO (Defense Research and Development Organization) এবং BEL (Bharat Electronics Limited) যৌথভাবে তৈরি করেছে। ইতিমধ্যেই ভারতীয় সেনাবাহিনীতে এর সফল ব্যবহার শুরু হয়েছে এবং ধীরে ধীরে এটি সমস্ত এয়ার ডিফেন্স ইউনিটে যুক্ত হচ্ছে।
এই আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এখন শুধুমাত্র প্রযুক্তির নয়, জাতীয় গর্বের প্রতীক। আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরাও আকাশতীরের কার্যকারিতা ও ডিজাইন দেখে চমকিত। এই সিস্টেম প্রমাণ করে দেয় যে ভারতের প্রযুক্তিগত আত্মনির্ভরতা এখন আর কেবল স্বপ্ন নয়, বাস্তবতা।
দেশের তরুণ বিজ্ঞানী ও ইঞ্জিনিয়ারদের প্রতিভা, সেনাবাহিনীর কৌশলী দূরদৃষ্টি এবং রাষ্ট্রের নিরাপত্তা চেতনাই আজ আমাদের এমন এক সাফল্যের মুখে দাঁড় করিয়েছে, যার ভবিষ্যৎ প্রজন্ম দীর্ঘদিন ধরে
গর্ব বোধ করবে l