আমেরিকান চপস্যুয়ে
আমেরিকান চপস্যুয়ে নামেই বোঝা যায় এই বস্তুর উৎপত্তি খোদ আম্রিকায়। আমাদের তো আর সেদেশে উড়াল দেয়ার সামর্থ্য নেই, কাজেই বঙ্গদেশের এখানে ওখানে চপস্যুয়ে খেয়ে খায়েশ মেটাই।
কিন্তু বেশিরভাগ জায়গাতেই মেলেনা উত্তর! কিছুদিন আগে একজনের কাছে খুব তারিফ শুনে গেলাম খুব নামকরা এক রেস্তোঁরায়। দরজা খুলে ঢুকতেই এসির বাতাসের ঝলক, এয়ার হোস্টেস টাইপের কলিজা ধাক্কা দেয়া ওয়েলকাম হাসি, বো-টাই পরা ওয়েটারের নড! আমাকে যিনি আগ্রহ করে আমেরিকান চপস্যুয়ে খাওয়াতে নিয়ে গিয়েছিলেন- তিনি খুব আগ্রহ করে অর্ডার দিলেন...। আমরা অধীর আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করলাম, অবশেষে পোর্সেলিনের বাটিতে চড়ে নাচতে নাচতে হাজির হলেন চপস্যুয়ে মহাশয়।
চেহারা দেখে খুব একটা একিন হলো না। ভয়ে ভয়ে একটু মুখে তুললাম- মনে হলো ঠাস করে গালে কেউ একটা চড় কষিয়ে দিলো। ঝুড়িভাজার চানাচুর, সাথে একগাদা মাংসের ঝোল দিয়ে জাবড়ে দেয়া! উপরে নিতান্তই অবহেলায় ফেলে রাখা কটকটে হলুদ একটা ডিমভাজা।
আমি হতাশ দৃষ্টি নিয়ে আমার নিমন্ত্রণ কর্তার দিকে তাকালাম। ঐ বস্তু তখন তারও মুখে। এমন বিধ্বস্ত চোখে তিনি আমার দিকে তাকালেন, যেন তিনি গতকালকের পাঁচ গোল খাওয়া স্পেনের কোচ ভিসেন্তে দেল বস্ক!
এরপর তাঁর মাথায় রোখ চেপে গেলো। আমার সাথে দেখা হলেই তিনি বিভিন্ন দোকানে চপস্যুয়ের খোঁজে হামলা দেন। চপস্যুয়ের যন্ত্রনায় আমার প্রায় ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা। ভদ্রলোককে দেখলেই আমি এদিক-সেদিক পালানোর ধান্দা খুঁজি...
অবশেষে দিনকয়েক আগে মোক্ষ লাভ হলো। অদ্ভূত ব্যাপার, সেটা হলো ডেজার্টের জন্য বিখ্যাত বিটারসুইট ক্যাফেতে। যথারীতি সেখানে বসে আমেরিকান চপস্যুয়ের অর্ডার দেয়া হলো। এলো মজার সুবাস ছড়ানো সফেদ রঙের চপস্যুয়ে। উপরে ডিমের ওমলেটের টোপর, যেন এভারেস্টের মাথায় বরফের আচ্ছাদন!
চপস্যুয়ে ভেঙে মুখে দিলাম। এমন কায়দায় রান্না করা, প্রথমে মনে হয় শক্ত ম্যাগি নুডলসের মতো খাস্তা। কিন্তু তাতে কোথা থেকে যে এতো রসের সঞ্চার হয়- আল্লা মালুম! অমৃত রসে ভর্তি হয়ে যায় মুখ। আপনি যদি বুদ্ধি করে আগেই গ্রেভিতে একটু ঝাল দিতে বলেন, তাহলে সোনায় সোহাগা... খুঁটে খুঁটে রসালো চপস্যুয়ে খেয়ে যাবেন, সাথে মাংসল গ্রেভির যোগ্য সাহচর্য্য। ডিমের গায়ে দেবেন কাঁটাচামচের একটা আঁচড়, কুসুম ভেঙে যেন বান ডাকবে কমলা রঙের... সেই রসালো খাবারের উচ্চকণ্ঠে প্রশংসা করতে মুখ খুলতে যাবো; আমার চপস্যুয়ে-খেকো ভদ্রলোকটি ইশারায় থামিয়ে দিলেন। তিনি ততোক্ষণে ধ্যানে চলে গিয়েছেন। চোখ দু'টো আধবোজা, নিবিষ্ট চিত্তে উপভোগ করে চলেছেন অমৃত সুধার আস্বাদ...
খামাখা আমার কর্কশ গলায় তাঁর ধ্যান আর ভাঙাই কেন, আমিও চলে গেলাম ধ্যানের সাধনায়... এই ধ্যানে সাধনা করার দরকার হলে আমি যোগী হতেও রাজী! হে পাঠক, তোমরা নেইমার-মেসির বন্দনায় মত্ত থাকো, আমি বরং এই সুযোগে আরেকটু ধ্যান করে আসি... :)










