ক্ষুদ্র তবু তুচ্ছ নয়
মাঝে মাঝে ছোট ছোট ঘটনা মনকে নাড়া দিয়ে যায়। ছোট ছোট আশীর্বাদ, দু একটা ভাল কথা শুনতে খারাপ লাগে না। ঘুম ভাঙা থেকে ঘুম আসা পর্যন্ত এই নেই, সেই নেই, এটা হয়নি, ওটার কি হবে এইসব ঝামেলার মধ্যে একটু ভালো করে বাঁচার রসদ খুজে পেতে কষ্ট হয়। তারই মাঝে দু একটা ঘটনা মুহূর্তের জন্য মনের নরম সত্ত্বার উপলব্দি করে দিয়ে যায়।
আপাতপক্ষে হয়ত ব্যাপারটা কিছুই না। আতস কাঁচ দিয়ে খুজলে বা কিছু পাওয়া গেলেও যেতে পারে। ওইটুকুই। বাজারে সব্জির দোকানী ভালোবেসে দুটো পটল বেশি দিলে, বা মাছের বাজারে ভাল মাছটা বেছে আমাকে দিলে ক্ষনিকের জন্যেও মনটা ভরে ওঠে। মনে হয় কত ভাল ছড়িয়ে চারিদিকে। একটু দরকার হাত বাড়ানোর।
ঘরে ঠাণ্ডা জল থাকে না আমার। মায়ের কড়া নিষেধ। খেলেই নাকি ঠাণ্ডা লেগে মরব ( আরও কয়েকজনের ও তাই মত)। তাই সেদিন যখন রিকশাওয়ালা বাড়ির সামনে এসে বলল, ‘দিদি একটু ঠাণ্ডা জল খাওয়ান’। মনটা খারাপ হয়ে গেল। ঘরে তো ঠাণ্ডা জল নেই। আমার উনপঞ্চাশ কেজি ওজন বয়ে এনে লোকটা ঘেমে হাঁসফাঁস করছে। সৌভাগ্য আমার পাশেই মুদির দোকান। একটা ঠাণ্ডা জলের বোতল কিনে দিলাম। “আপনি আবার আমার জন্য জল কিনতে গেলেন? ভগবান আপনার মঙ্গল করুক”। বলতে পারলাম না যে তোমার জন্য না নিজের জন্যই কিনেছি। দিতেই পারতাম ঘর থেকে জল। কিন্তু সে তো আর ঠাণ্ডা হতো না। তোমার তেষ্টা শুধু নিবারণ করিনি, নিজেকেও খারাপ লাগা থেকে বাঁচিয়েছি।
ভগবান আমার ভাল করবে কিনা জানিনা। তবে আমি নিজের ভাল বুঝলাম। রিকশাওয়ালার মুখের তৃপ্তি সেকথা ভাল করে বুঝিয়ে দিল। আর মনটা ভাল হয়ে গেল হঠাৎ।
তাই কষ্ট করে এত লেখা। নাহলে এটুকু ব্যাপারে আর কি লেখার আছে?








