পাকা ক্যান্ডিডেট
---------------------
গফুর উদ্দিন সাহেব তার হাতের ছবিটা ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে দেখছেন। একবার নিচে দিয়ে, একবার বাম দিয়ে, একবার ডান দিয়ে। ছবি পর্যবেক্ষন করার পর উনি তার সামনে বসা ভদ্রলোকের দিকে তাকালেন। গলা খাকরি দিয়ে,
- তে দেখতে তো ভালোই লাগছে। এ আবার আপনার আগের জন দের মতো হবে না তো?
সামনে বসা ভদ্রলোক নড়ে চড়ে উঠলেন,
- না, না, এবার আর কোন ভেজাল নাই। একেবারে ঠিকঠাক।
গফুর উদ্দিন সাহেব ছবিটা তার পাশে বসা উনার স্ত্রীর দিকে বাড়িয়ে দিলেন। উনার স্ত্রী ছবিটা নিয়ে কিছুখন দেখে, জবাব দিলেন,
- দেখতে তো ভালোই। চেহারাও সুন্দর আছে।
গফুর সাহেব মাথা নাড়ালেন,
- হা, গায়ের রং টাও মন্দ না। কি বলো?
গফুর সাহেবের স্ত্রী আবার ছবিটার দিকে তাকালেন,
- রং টা নেহাত মন্দ নয়। সাবু পছন্দ করবে মনে হয়।
গফুর সাহেব সেই ভদ্রলোকের দিকে তাকালেন,
- তা এই সুন্দরী আপনার কাছে এতোদিন কিভাবে? অন্যকারো নজরে পড়ে নি?
- আরে স্যার। একেবারে কচি তো। এতো দিনে না ডাগর হলো। অন্যদের আর দেখাবার সুযোগ তো মিলেই নি।
- নাকি কোন অসুখ বিসুখ বা কানা-খোড়া?
- না না স্যার। কয়েকটা সুন্দরী প্রতিযোগীতার বিজয়ী। আর কতো শতর যে রানার আপ কি বলবো। ওমন হলে কি আর জিততে পারতো বলুন।
গফুর সাহেব কপালের ঘাম মুছলেন,
- দেখেন আপনি এর আগেও এমন সুন্দরীর ছবি দেখিয়ে ধোঁকা দিয়েছেন। এবার একটু ঠেকে যাওয়ায়। নয়তো এসব বিষয় তো আমরা পারসোনালি হ্যান্ডেল করি।
ভদ্রলোক আরো কাচুমাচু হয়ে গেলেন,
- চিন্তা করবেন না স্যার। এবার আসলেই কোন ভেজাল নাই। পাকা ক্যান্ডিডেট।
- আমার ছেলেরও কিন্তু মতামত আছে। আগের কয়েকজনকে কিন্তু ও ই মানা করে দিয়েছে। ওর নাকি মনে ধরে নি। তো এতো খুশি হবার দরকার নেই।
গফুর সাহেবের স্ত্রী তাকে কনুই দিয়ে ধাক্কা দিয়ে বললেন,
- এই, তুমি পাকা কথা দিয়ে দেও। আমার কিন্তু ভালো লেগেছে। সাবুরও ভালো লাগবে তুমি ভেবো না।
- বলছো? কি জানি বলেছিলে কি মানানোর কথা? ওটা হয়েছে?
- হ্যা, হ্যা। মানাবে। তুমি পাকা কথা দিয়ে দেও।
- সাবু?
- আরে ওকে আমি বুঝাবো। আমার ভালো লেগছে। আমি একেই আনবো।
গফুর সাহেব ভদ্রলোকের দিকে ফিরলেন। তার ইতোমধ্যে দাঁত বেড়িয়ে গেছে।
- তা শুনলেন তো আমার গিন্নীর কথা। তার পছন্দ হয়েছে। তো বুঝে শুনে বলেন।
ভদ্রলোক কাচু মাচু হয়ে বললো,
- স্যার, আপনার সাথে কি আর উল্টা পাল্টা করবো। আপনি আমার পুরাতন কাস্টোমার। তা বুঝছেনই তো স্যার এখন সময় ওতো ভালো না। সব কিছুই কস্ট। তা স্যার, আমি এক দাম বলে দেই। এ একদাম ১ লাখ টাকা।
গফুর সাহেব চোখ সরু করে ছবিটা মুখের কাছে আনলেন,
- এই লাল হাফ গরু, ১ লাখ টাকা?!! আমাকে কি বোকা মনে হয়?! ৬০ হাজারের উপরে এক টাকাও দিবো না। আপনার মতো গরু ঘটক না হলেও আমার ঘটে যে কম আছে তা কিন্তু না।
- না না স্যার আপনি রাগ করবেন না। আচ্ছা স্যার আমাকে আপনি ৮০ হাজার দিয়েন। ঈদের দিন কসাই এসে একবারে কেটেকুটে দিয়ে যাবে।
- না। সব মিলিয়ে ৭০ হাজার হলে বলবেন।
- আচ্ছা স্যার ঠিক আছে। চাঁন রাতের দিন কসাই গরু এসে দিয়ে যাবে।
গরু ঘটককে বিদায় করে গফুর সাহেবের স্ত্রী দরজা লাগিয়ে খুশি খুশি হয়ে তার পাশে এসে বসলেন,
- গরুটা কিন্তু ভীষণ সুন্দর হয়েছে। এক দম মন মতো। আমাদের বাসার সাথেও বেশ মানাবে।
গফুর সাহেব খবরের কাগজ থেকে চোখ তুললেন,
- তুমিই তো ভেজাল লাগালে।ভালো লেগেছে আস্তে বলতে। এর জন্যি এতো দাম ধরেছে। যাই হোক, তুমি তো খুশি। এখন সাবু খুশি হলেই হলো।
গফুর সাহেবের স্ত্রী ফোন হাতে নিলেন,
- আরে ও ও খুশি হবে ভেবো না। আমাকে বলেছিলো এবার একটা লাল গরু লাগবে। তাই দেখে আর তর সইলো না। দাঁড়াও ওকে খুশির খবর টা দেই………………… আ, হ্যালো, এই সাবু, গরু তো কিনা হয়ে গেছে… আরে হ্যা হ্যা লালই কিনেছে…………
গফুর সাহেব আবার খবরের কাগজে মন দিলেন।
"মীর উম্মে সুমাইয়া"








