নিজস্ব সংবাদদাতা: ‘দিদিকে বলো’ কর্মসূচিতে ফাঁকি দিয়ে পার নেই তৃণমূল নেতাদের! সজাগ চোখে টিম-পিকে’র নজরে প্রত্যেকেই| ফাঁকি দিলেই পিকে স্যারের বাড়তি টাস্কের বোঝা তৃণমূল মন্ত্রী-বিধায়কদের ঘাড়ে। যদিও সেটা সকলের জন্য নয়। এখন পিকে টিমের আতসকাচের তলায় পড়ে দলের নির্দেশ যথাযথভাবে মানতে বাধ্য হচ্ছেন তৃণমূলের মন্ত্রী-বিধায়করা।
সূত্রের খবর, এই ‘দিদিকে বলো’ কর্মসূচি অনেক ক্ষেত্রেই নমো নমো করে সেরেছেন তৃণমূলের বেশ কয়েকজন মন্ত্রী-বিধায়করা। আর সেই মন্ত্রী বা বিধায়ক তাঁর টাস্ক যথাযথভাবে করেছেন কি না সেটাও এলাকায় সার্ভে করিয়ে খোঁজ নিচ্ছে টিম-প্রশান্ত কিশোর। সেই সার্ভেতে ফাঁকি ধরা পড়তেই যা হওয়ার তাই হয়েছে। সেইসব তৃণমূল নেতাদের কপালে জুটছে দলের ‘শীর্ষ-নেতা’র বকুনি। তার সঙ্গে ফের আবার নতুন টাস্ক, বাড়ি বাড়ি যাও, থাকো-খাও। সেই তালিকায় রয়েছে তৃণমূলের হেভিওয়েট মন্ত্রী – বিধায়কদের নাম। মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস , ইন্দ্রনীল সেন, লক্ষ্মীরতন শুক্লা , গৌতম দেব, তাপস রায়, রবীন্দ্রনাথ ঘোষ থেকে শুরু করে দেবশ্রী রায়, নয়না ব্যানার্জী , বৈশালী ডালমিয়ার মত অনেকেই, তালিকা দীর্ঘ। এদের মধ্যেই কেউ কেউ এখনও কোনও কাজই শুরু করেননি, কেউ এবার গিয়ে ছবি তুলেছেন, নমো-নমো করে কাজ সেরে হয়েছেন পগারপার! নিজেদের সার্ভেতে এমনি অভিযোগ পেয়ে তাদের ফের নতুন করে, নতুন ঠিকানা ধরিয়ে কর্মসূচি অক্ষরে অক্ষরে পালনের নির্দেশ দিয়েছে তৃণমূল সুপ্রিমো।
ভোটগুরু প্রশান্ত কিশোরের মস্তিস্কপ্রসূত ‘দিদিকে বলো’ কর্মসূচি। তৃণমূল বিধায়কদের নিজের এলাকায় বাড়ি বাড়ি ঘুরে বিলি করতে হবে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা ব্যানার্জীর ফোন নম্বর সম্বলিত কার্ড, প্রতি বিধায়ককে নিজের এলাকায় ৪-৫ জন করে বিশিষ্টজনের বাড়িতে গিয়ে বুঝতে হবে তাদের মনোভাব এবং সব শেষ টাস্ক নিজের এলাকায় দলীয় কর্মী বা অন্য ভোটার এর বাড়ি গিয়ে খাওয়াদাওয়া করা এবং রাত কাটানো। আর প্রতিটি কর্মসূচি করতে হচ্ছে ফেসবুক লাইভ, ছবি এবং ভিডিও তুলে পাঠাতে হচ্ছে প্রশান্ত কিশোরের অফিসে।
বেশ কড়া মাস্টারের হাতে পড়েছেন তৃণমূল নেতারা। বুঝছেন তা হাড়ে হাড়ে।