রামমোহনের প্রিয় মিষ্টি কারকাণ্ডা লোপ পেতে চলেছে, হতাশ পর্যটকরা
New Post has been published on https://sentoornetwork.com/karakand-is-the-favourite-sweet-of-raja-rammohon-roy/
রামমোহনের প্রিয় মিষ্টি কারকাণ্ডা লোপ পেতে চলেছে, হতাশ পর্যটকরা
মোহন গঙ্গোপাধ্যায়
আঠেরো শতকের কথা। রাজা রামমোহন রায়ের প্রিয় সুস্বাদু মিষ্টি ছিল ‘কারকাণ্ডা’। কারিগরের অভাবে এই মিষ্টি লোপ পেতে চলেছে। হুগলির খানাকুলের কৃষ্ণনগরের ‘কারকাণ্ডা’ মিষ্টিকে আজও ভুলতে পারেনি এলাকার মানুষ। পর্যটকরা রাজা রামমোহনের জন্মস্থানে বেড়াতে এসে কারকাণ্ডা মিষ্টি না পেয়ে হতাশ। এই মিষ্টি টিকিয়ে রাখার তাগিদ কারওর মধ্যে তেমন আর দেখা যায় না। প্রসঙ্গত, কারকাণ্ডার জন্ম সম্পর্কে ইতিহাস গবেষক দেবাশিস শেঠ জানান, আঠারো শতকে জমিদারি প্রথা তখনও অটুট। ফসল ওঠার মরশুমে চাষিরা জমির খাজনা নিয়ে কাছারিতে গেলে সঙ্গে নিয়ে যেতেন বিভিন্ন রকম উপহার। জমিদার আর নায়েবকে খুশি করাই ছিল একমাত্র লক্ষ্য। উপহারের মধ্যে ডালায় অন্যতম হিসেবে সাজানো থাকত এক অদ্ভুত মিষ্টি। একদিন জমিদারমশাই এই মিষ্টিতে কামড় দিয়েই বললেন, ‘বাঃ ! এটা কারকাণ্ড?’ তখনই প্রস্তুতকর্তা হাতজোড় করে বললেন, ‘আমার বাবু।’ প্রস্তুত প্রণালীও বর্ণনা করলেন। সেই সভাতেই এই নতুন আবিষ্কৃত মিষ্টান্নের নাম দেওয়া হল ‘কারকাণ্ডা’।এই মিষ্টির কদর পর্যটকদের কাছে থাকলেও তা আজ লোপ পেতে চলেছে।কারিগররা জানাচ্ছেন, এই মিষ্টি খানিকটা মোয়ার মতো। খই, দুধ, গাওয়া ঘি এবং প্রায় আঠারো রকমের মশলা দিয়ে এই মিষ্টি তৈরি হয়। সুস্বাদু ও অত্যন্ত হালকা এই মিষ্টি। থাকে বেশকিছু দিন। দেশের নানাপ্রান্তে পর্যটকদের হাত ধরে যশোলাভ করেছিল। তাছাড়া আগেকার দিনে উৎসব ও অনুষ্ঠানে অতিথিদের সেবায় এটি ছিল অত্যন্ত জনপ্রিয়। যা এখনও উৎসবের অভিজাত মিষ্টান্ন হিসেবে কদর পায়। আঠারো শতকে যার জন্ম, একুশ শতকে পৌঁছে তাকে টিকে থাকার অস্তিত্ব অটুট রাখার জন্য লড়াই করতে হচ্ছে। রাজা রামমোহন রায় কিংবা কবি নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর প্রিয় মিষ্টি কারকাণ্ডা যদি হারিয়ে যায় তাতে আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই।
















