জাকাত: একটি আধুনিক ও কার্যকর আর্থিক ব্যবস্থা, যা সম্পদকে গতিশীল রেখে সামাজিক ও অর্থনৈতিক ভারসাম্য রক্ষা করে।
#আব্দুররাজ্জাকবিনইউসুফ #abdurrazzakbinyousufnewwaz #islampeacemediaযাকাত দেওয়ার সঠিক নিয়ম ও হিসাব │ Jakat dewar niom │ আব্দুল্লাহ বিন আ
জাকাত : ভারসাম্যপূর্ণ অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত: জাকাত ভারসাম্যপূর্ণ অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার একটি অনন্য ও কার্যকর ব্যবস্থা, যা ধনীদের কাছ থেকে সম্পদ সংগ্র করে সুনির্দিষ্ট খাতে (মূলত দরিদ্রদের) বন্টনের মাধ্যমে সম্পদ কুক্ষিগত হওয়া রোধ করে । এটি দারিদ্র্য বিমোচন, ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি, বিনিয়োগে উৎসাহ প্রদান এবং সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বৈষম্য দূর করে একটি স্থিতিশীল ও সুষম অর্থনীতি গড়ে তোলে।
জাকাত একটি ভারসাম্যপূর্ণ অর্থনীতি প্রতিষ্ঠা করে:
সম্পদের সুষম বন্টন ও বৈষম্য হ্রাস: জাকাত ধনাঢ্য ব্যক্তিদের (যাদের সম্পদ নিসাব পরিমাণ) কাছ থেকে বাধ্যতামূলকভাবে ২.৫% অর্থ নিয়ে দরিদ্রদের (মুস্তাহিক) মাঝে বন্টন করে । এটি সম্পদকে কেবল ধনীদের হাতে কুক্ষিগত না রেখে সমাজের সর্বস্তরে ছড়িয়ে দেয়, ফলে ধনী-দরিদ্রের ব্যবধান কমে ।
দারিদ্র্য বিমোচন ও সামাজিক নিরাপত্তা: এটি একটি সুসংগঠিত আর্থ-সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী [২]। জাকাতের মাধ্যমে দরিদ্র মানুষের মৌলিক চাহিদা (খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা) পূরণ হয় এবং তারা অভাব থেকে মুক্তি পায় ।
মুদ্রার সচলতা ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি: অলস বা সঞ্চিত অর্থের ওপর জাকাত প্রযোজ্য হওয়ায়, সম্পদ অলস ফেলে না রেখে বিনিয়োগে বা উৎপাদনে ব্যবহার করতে বাধ্য করে। এর ফলে পুঁজিবাদ বা অর্থ কুক্ষিগত হওয়ার প্রবণতা হ্রাস পায়।
ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি ও স্থানীয় অর্থনীতির উন্নয়ন: দরিদ্র জনগোষ্ঠীর হাতে অর্থের যোগান দিলে তাদের ক্রয়ক্ষমতা বাড়ে। ফলে বাজারে চাহিদা সৃষ্টি হয় এবং উৎপাদন ও বিনিয়োগের মাধ্যমে সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি (Economic Growth) ত্বরান্বিত হয়।
সামাজিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা: জাকাত সমাজে ঈর্ষা ও বিদ্বেষ কমিয়ে পারস্পরিক ভালোবাসার সম্পর্ক গড়ে তোলে, যা একটি স্থিতিশীল ও শান্তিপূর্ণ অর্থনৈতিক পরিবেশের জন্য অপরিহার্য ।
সারসংক্ষেপে, জাকাত কেবল একটি ধর্মীয় ইবাদত নয়, বরং এটি একটি আধুনিক ও কার্যকর আর্থিক ব্যবস্থা, যা সম্পদকে গতিশীল রেখে সামাজিক ও অর্থনৈতিক ভারসাম্য রক্ষা করে।
জাকাত : ভারসাম্যপূর্ণ অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত
জাকাত। ইসলামের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি রোকন। ইসলাম যে কয়েকটি ভিত্তির ওপর সগৌরবে দাঁড়িয়ে আছে জাকাত তার অন্যতম। ইমানের পর সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ ও অপরিহার্য ইবাদত হলো সালাত ও জাকাত।
কোরআন মজিদে বহু স্থানে সালাত-জাকাতের আদেশ করা হয়েছে এবং আল্লাহর অনুগত বান্দাদের জন্য অশেষ ছওয়াব, রহমত ও মাগফিরাতের পাশাপাশি আত্মশুদ্ধিরও প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
কোরআনের ভাষায় জাকাত
কোরআন মাজিদে বিভিন্নভাবে জাকাতের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কখনো সরাসরি জাকাতের আদেশ দেওয়া হয়েছে। কখনো মুত্তাকি বা নেককারদের গুণাবলি বর্ণনার মধ্য দিয়ে পরোক্ষভাবে জাকাতের বিষয়ে উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে। যারা যথার্থভাবে জাকাত আদায়ে সচেষ্ট থাকে কোরআন মাজিদের তাদের জন্য অনেক পুরস্কারের ঘোষণা এসেছে।
ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমরা সালাত আদায় করো এবং জাকাত প্রদান করো। তোমরা যে উত্তম কাজ নিজেদের জন্য অগ্রে প্রেরণ করবে তা আল্লাহর নিকটে পাবে। নিশ্চয়ই তোমরা যা কর আল্লাহ তা দেখছেন (সুরা বাকারা : ১১০)।
অন্য আয়াতে ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমরা সালাত আদায় কর, জাকাত দাও এবং রসুলের আনুগত্য কর যাতে তোমরা অনুগ্রহভাজন হতে পার’ (সুরা নূর : ৫৬)।
সুরা নিসার ১৬২ নং আয়াতে আল্লাহ তার বান্দাদের জন্য ‘আজরুন আজিম’-এর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘এবং যারা সালাত আদায় করে, জাকাত দেয় এবং আল্লাহ ও পরকালে ইমান রাখে আমি তাদের মহাপুরস্কার দেব।’
অন্য আয়াতে জাকাতের গুরুত্বপূর্ণ সুফল বর্ণনা করে আল্লাহ বলেন, ‘তাদের সম্পদ থেকে সদকা গ্রহণ করুন, যার দ্বারা আপনি তাদের পবিত্র করবেন এবং পরিশোধিত করবেন এবং আপনি তাদের জন্য দুআ করবেন। আপনার দুআ তো তাদের জন্য চিত্ত স্বস্তিকর। আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ’ (সুরা তাওবা : ১০৩)।
জাকাত না দেওয়ার ভয়াবহতা
ওপরের আলোচনা থেকে জাকাতের গুরুত্ব ও অপরিহার্যতা এবং এর সুফল ও উপকারিতা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া গেল। এখান থেকে এ বিষয়টাও অনুমান করা যায়, ফরজ হওয়া সত্ত্বেও যারা জাকাত আদায় করে না তারা কত বড় ক্ষতিগ্রস্ত- তার শিকার!
জাকাতের সব সুফল থেকে বঞ্চিত হওয়ার পাশাপাশি আল্লাহর আদেশ অমান্য করার কারণে তাদের যে মর্মন্তুদ শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে, তা-ও কোরআন মাজিদে বলে দেওয়া হয়েছে।
ইরশাদ হয়েছে-আর আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে যা তোমাদের দিয়েছেন তাতে যারা কৃপণতা করে তারা যেন কিছুতেই মনে না করে যে এটা তাদের জন্য মঙ্গল। না, এটা তাদের জন্য অমঙ্গল। যে সম্পদে তারা কৃপণতা করেছে কিয়ামতের দিন তা-ই তাদের গলায় বেড়ি হবে। আসমান ও জমিনের স্বত্বাধিকার একমাত্র আল্লাহরই। তোমরা যা কর আল্লাহ তা বিশেষভাবে অবগত (সুরা আলে ইমরান : ১৮০)।
জাকাত কাদের ওপর ফরজ?
সুস্থ মস্তিষ্ক, আজাদ, বালেগ মুসলমান নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হলে জাকাত আদায় করা তার ওপর ফরজ হয়ে যায়। আদ্দুররুল মুখতার ২/২৫৯ বাদায়েউস সানায়ে ২/৭৯,৮২
নিসাবের ববরণ : স্বর্ণের ক্ষেত্রে জাকাতের নিসাব হলো বিশ মিসকাল। (সুনানে আবু দাউদ ১/২২১; মুসান্নাফে আবদুর রাজ্জাক হাদিস ৭০৭৭, ৭০৮২)।
আধুনিক হিসাবে সাড়ে সাত ভরি। রুপার ক্ষেত্রে নিসাব হলো ২০০ দিরহাম। (সহিহ বুখারি, হাদিস ১৪৪৭; সহিহ মুসলিম, হাদিস ৯৭৯)।
জাকাত : ভারসাম্যপূর্ণ অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত
জাকাত ভারসাম্যপূর্ণ অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার একটি অনন্য ও কার্যকর ব্যবস্থা, যা ধনীদের কাছ থেকে সম্পদ সংগ্র করে সুনির্দিষ্ট খাতে (মূলত দরিদ্রদের) বন্টনের মাধ্যমে সম্পদ কুক্ষিগত হওয়া রোধ করে
জাকাত: একটি আধুনিক ও কার্যকর আর্থিক ব্যবস্থা, যা সম্পদকে গতিশীল রেখে সামাজিক ও অর্থনৈতিক ভারসাম্য রক্ষা করে।











