ঠাকুরবাড়ির আড্ডার রকমফের
New Post has been published on https://sentoornetwork.com/thakurbaris-adda/
ঠাকুরবাড়ির আড্ডার রকমফের
আড্ডাবাজ: ঠাকুরবাড়ির পরিচিতি দ্বারকানাথ ঠাকুরের আমল থেকেই। তিনি ছিলেন বিপুল অর্থের মালিক। ঠাকুরবাড়ির আড্ডার তাঁর সময় থেকে। তবে দ্বারকানাথের আড্ডা বসত বেলগাছিয়ার বাগানবাড়িতে, জোড়াসাঁকোয় নয়। জানা যায়, সেই আড্ডায় ঠাকুরবাড়ির আর কেউ থাকতেন না। পানভোজন দুইই চলত সেই আড্ডায়। বন্ধুবান্ধবদের নিয়ে আড্ডা দিতে ভালবাসতেন। সেই আড্ডায় আমোদ থাকত। খাওয়াদাওয়াও হত। কিন্তু ঠাকুরমা অলকাদেবীর মৃত্যু একেবারে বদলে দিয়েছিল দেবেন্দ্রনাথকে। তিনি নিজেকে নিয়োজিত করেছিলেন ধর্মচর্চায়। জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুরের উৎসাহে ঠাকুরবাড়িতে বসে বিদ্বজ্জন সমাগম সভা। আড্ডা শেষে থাকত প্রীতিভোজ। ঠাকুরবাড়ির মেয়েরাও আড্ডা দিতেন। ‘সখি সমিতি’ তৈরি করেছিলেন স্বর্ণকুমারীদেবী।স্বর্ণকুমারী ছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের দিদি। ‘সখি সমিতি’র উদ্যোগে প্রথম শিল্পমেলা হয় বেথুন কলেজ প্রাঙ্গণে। ‘সখি সমিতি’র আড্ডায় আলাপচারিতা কাজের কথা সঙ্গে সঙ্গে হত আড্ডাও। ঠাকুরবাড়ির ‘বিচিত্রা’র আড্ডার মধ্যমণি ছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। এই আড্ডায় ঠাকুরবাড়ির লোকের চেয়ে বাইরের লোকজনের উপস্থিতি ছিল বেশি। নামীদামি লেখকরাও আসতেন। সেই তালিকায় ছিলেন– শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত, সুকুমার রায়, যতীন্দ্রমোহন বাগচি, অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর, গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রমুখ। ‘বিচিত্রা’র আড্ডা ছিল হাসিখুশিতে ভরপুর। একদিন প্রচুর লোকজন এলেন আড্ডায়। শরৎচন্দ্রও এসেছেন। উনি জুতো চুরির ভয়ে কাগজে মুড়ে বগলদাবা করে বসলেন আড্ডায়। সে-কথা জানলেনও কয়েকজন। একজন আবার রবীন্দ্রনাথের কানে তুললেন ঘটনাটা। রবীন্দ্রনাথ রসিকতা করার সুযোগ পেয়ে ছাড়লেন না। বললেন, “ও শরৎ তোমার বগলে ওটা কি? পাদুকাপুরাণ বুঝ!” লজ্জায় মুখ লুকোনোর জায়গা পেলেন না শরৎচন্দ্র। সবাই বুঝতে পারতেই হাসির রোল উঠল আড্ডায়। ঠাকুরবাড়িতে বিখ্যাত ছিল ‘ভারতী’র আড্ডা। বাংলা সাহিত্যে ‘ভারতী’ ভূমিকা অনস্বীকার্য। তিনতলার একটি বিশাল ঘরে বসত ‘ভারতী’র আড্ডা। সকাল-সন্ধ্যা দু’বেলাতেই বসত আড্ডা। রবিবার আড্ডা চলত দীর্ঘক্ষণ। আড্ডায় চা, সিগারেটের ব্যবস্থা থাকত প্রচুর। থাকত হারমোনিয়াম। নজরুল এলে গান গাইতেন। তবে নিজের গান যত-না গাইতেন তার চেয়ে বেশি গাইতেন রবীন্দ্রনাথের গান। ‘ভারতী’র আড্ডাতেই প্রকাশ্যে আসে নজরুল-মোহিতলাল বিরোধ।
ঋণস্বীকার: কলকাতার সাহিত্য আড্ডা/ সম্পাদনা- সৌম্যব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়/ গাঙচিল













