যে কেউ আন্তরিকভাবে বোঝার চেষ্টা করলে আল্লাহ তার জন্য কোরআনকে সহজ করে দেন
আমি কোরআনকে সহজ করে দিয়েছি বোঝার জন্যে
আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে বলেছেন, "আমি কুরআনকে উপদেশ গ্রহণের জন্য সহজ করে দিয়েছি" (সূরা আল-ক্বামার: ১৭, ২২, ৩২, ৪০)। এই সহজ করার অর্থ হলো এর ভাষা, শব্দ, মুখস্থকরণ, অর্থ বোঝা এবং উপদেশ গ্রহণ করা সহজ করে দেওয়া। এটি এমন একটি গ্রন্থ যা মানুষের বোঝার জন্য এবং চিন্তাশীলদের জন্য সহজ করে দেওয়া হয়েছে । কোরআন সহজ করে দেওয়ার প্রধান উপায়:
সহজ ভাষা ও অর্থ: কোরআন স্পষ্ট আরবি ভাষায় অবতীর্ণ, যা বোঝার জন্য খুব বেশি জটিল ব্যাকরণ বা দুর্বোধ্য শব্দের পরিবর্তে সহজ ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে।
উপদেশ ও শিক্ষা: এর অর্থ ও তাৎপর্য উপলব্ধি করা সহজ, যেন পাঠক সহজেই উপদেশ গ্রহণ করতে পারে।
মুখস্থ ও সংরক্ষণ: আল্লাহ তাআলা এই গ্রন্থটি মানুষের হৃদয়ে ধারণ করা বা মুখস্থ করা সহজ করে দিয়েছেন, যার ফলে এটি যুগের পর যুগ ধরে অবিকৃত রয়েছে।
বাস্তবায়ন: কোরআনের নির্দেশনাবলী ও বিধানগুলো মানুষের দৈনন্দিন জীবনে পালন করা বা আমল করা সহজ।
পুনরাবৃত্তি ও স্পষ্টতা: এতে একই বিষয় বারবার এবং বিভিন্নভাবে তুলে ধরা হয়েছে, যাতে তা মানুষের হৃদয়ে গেঁথে যায় এবং বুঝতে সুবিধা হয়। সংক্ষেপে, আল্লাহ সরাসরি মানুষের হেদায়েতের জন্য, বোধগম্য ভাষা ও ভঙ্গিতে, হৃদয়ঙ্গম করার জন্য এবং জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রয়োগ করার জন্য কুরআনকে সহজ করেছেন।
কোরআন বোঝা কি কঠিন
মুসলিমদের জীবন বিধানের সকল মূলনীতি কোরআনে আল্লাহ বলে দিয়েছেন। আল্লাহ বলেছেন, ‘আর তোমার ওপর যে কিতাব (কোরআন) নাজিল করা হয়েছে তাতে রয়েছে সকল বিষয়ের বর্ণনা, হেদায়েত, রহমত এবং মুসলিমদের জন্য সুসংবাদ।’ (সুরা নাহল, আয়াত: ৮৯)
দুঃখজনক হলেও সত্য যে, এ দেশের মুসলিমদের কোরআন দেখে শুদ্ধ করে পড়ার প্রতি গুরুত্ব থাকলেও ইসলামি জীবন বিধানের মৌলিক উৎস কোরআন বোঝার ব্যাপারে অধিকাংশ মুসলিমই উদাসীন। অনেকে ভাবেন, অধিকাংশ মানুষ বিশুদ্ধ করে কোরআন পড়তে জানে না, সেখানে কোরআনের মর্মার্থ অনুধাবন নিয়ে কথা বলতে যাওয়া একটি বিলাসিতা ছাড়া আর কিছুই নয়। অথচ কোরআন বোঝা কঠিন কিছু নয়, সহজ।
কোরআন নাজিল হয়েছে আরবি ভাষায়। এর শব্দবিন্যাস, ছন্দ, সৌন্দর্য, ব্যঞ্জনা, অন্তর্নিহিত শক্তি ও গভীরতা নিঃসন্দেহে অতুলনীয়। তবে কোরআন যেহেতু দল, মত, জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষের হেদায়েতের জন্যই নাজিল হয়েছে, সেহেতু সমগ্র মানবজাতির জন্য কোরআনকে সহজ করা হয়েছে। আল্লাহ বলেন, ‘কোরআন আমি সহজ করে দিয়েছি উপদেশ গ্রহণের জন্য; অতএব উপদেশ গ্রহণকারী কেউ আছে কি?’ (সুরা ক্বমার, আয়াত: ১৭,২২,৩২ ও ৪০)
সুতরাং আল্লাহ যেখানে কোরআনকে সহজ করে দিয়েছেন এবং বারবার বলেছেন সহজ; সেখানে কোরআন বোঝা সহজ নয়—এ কথা নিতান্ত অবান্তর। মনে রাখবেন, ‘আল-কোরআন কঠিন’—এটা শয়তানের ধোঁকা!
তাফসিরে সাদিতে এসেছে, কোরআনকে আমি সহজ করে দিয়েছি উপদেশ গ্রহণের জন্য; অতএব আছে কি উপদেশ গ্রহণকারী কেউ? অর্থাৎ, আমি এই মহাগ্রন্থ আল-কোরআনকে অনেক সহজ করেছি; শব্দগুলোকে সহজ করেছি বিশুদ্ধ তিলাওয়াত ও মুখস্থ করার জন্য, আর তার অর্থকে সহজ করেছি বুঝে পড়া ও জ্ঞানার্জনের জন্য। কারণ, কোরআন হলো শব্দগত দিক থেকে সবচেয়ে সুন্দরতম বাণী ও অর্থগত দিক থেকে ধ্রুব সত্য এবং ব্যাখ্যাগত দিক থেকে সবচেয়ে স্পষ্ট। সুতরাং যে কেউই কোরআনের দিকে এগিয়ে আসে আল্লাহ্ তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাকে সর্বোচ্চ সহজ করে দেন (তাঁর লক্ষ্য তিলাওয়াত হোক, হিফজ করা হোক, বোঝা হোক কিংবা ব্যাখ্যা করা হোক) এবং কোরআনের পথকে তাঁর জন্য সুগম করে দেন (আবদুর রহমান বিন নাসির বিন আবদুল্লাহ আস-সাদি, তাইসীরুল কারীমির রহমান ফী তাফসীরি কালামিল মান্নান, মুয়াসসাসাতুর রিসালাহ: বৈরুত, ২০০২ খ্রি., পৃ. ৮২৫-৮২৬)।
কোরআনকে কেন সহজ করা হয়েছে
কোরআনের ভাষাকে সহজ করা হয়েছে উপদেশ গ্রহণে সহজতার জন্য। যেমন, আল্লাহ বলেছেন, ‘আমি তো তোমার ভাষায় কোরআনকে সহজ করে দিয়েছি, যাতে এরা উপদেশ গ্রহণ করে।’ (সুরা আদ-দুখান, আয়াত: ৫৮)
আবার চিন্তা-ভাবনা ও গবেষণা করার জন্য কোরআন সহজ করা হয়েছে। আল্লাহ বলেছেন, ‘তবে কি এরা কোরআন সম্বন্ধে মনোযোগ সহকারে চিন্তা করে না? নাকি এদের অন্তর তালাবদ্ধ?’ (সুরা মুহাম্মাদ, আয়াত: ২৪)
সুতরাং এটি স্পষ্ট যে, কোরআনকে সহজ করা হয়েছে পড়া, মুখস্থ করা ও বোঝার জন্য। যে কেউই কোরআন বোঝার জন্য এগিয়ে আসবে, আল্লাহ্ তাঁর সহায় হবেন। আর কোরআন বুঝে পড়া কঠিন এ কথা বলাই যাবে না। পাশাপাশি কোরআনের ভাষা আরবি কঠিন, এ কথাও বলা যাবে না। কারণ আল্লাহ্ বলে দিয়েছেন তিনি কোরআনের ভাষা আরবিকে সহজ করেছেন, মানুষ যেন কোরআন থেকে সহজেই শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে।
আমি কোরআনকে সহজ করে দিয়েছি বোঝার জন্যে
I have made the Quran easy to understand
আমি কোরআনকে সহজ করে দিয়েছি বোঝার জন্যে
যে কেউ আন্তরিকভাবে বোঝার চেষ্টা করলে আল্লাহ তার জন্য কোরআনকে সহজ করে দেন



















