আল্লাহকে নিয়ে কথাবার্তা
আল্লাহকে নিয়ে আলাপ
Talk about Allah
Talk about True God
Talk about Allah
আল্লাহ্ তায়ালা আছেন আসমানে
মহান আরশের উরধে সমুন্নত,
সবকিছু তাঁরই ক্ষমতা, জ্ঞান, দৃষ্টি ও নিয়ন্ত্রণে
কোথাও কিছু নেই আল্লাহ্র মতো।
আমাদের প্রতিপালক আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা। আল্লাহ ছাড়া কোনো 'সত্য মাবুদ ' / 'সত্য ইলাহ' নেই। আল্লাহ তায়ালা আসমানে 'আরশের ঊর্ধ্বে সমুন্নত। কোরআন আল্লাহর বাণী। আল্লাহ এক ও অদ্বিতীয় একমাত্র উপাস্য। আল্লাহ ব্যতীত ইবাদত পাবার যোগ্য কেউ নেই ।
‘সৃষ্টিকর্তা কি আসলেই আছেন?’ বিশেষ করে যাঁরা তরুণ ও ইসলাম নিয়ে ভাবতে শুরু করেছেন, তাঁদের অনেকের মনে এ ধরনের প্রশ্ন আসাটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। এখন প্রশ্ন হলো, কেউ যদি এ ধরনের চিন্তা মাথায় আনে, তাহলে সে গুনাহগার হবে?
মহানবী মুহাম্মদ (সা.) একবার এক সভায় বসা ছিলেন। সেখানে তাঁর কিছু সাহাবি আল্লাহর মাহাত্ম্য, আল্লাহর এই সুন্দর সৃষ্টির কথা বর্ণনা করছিলেন। হঠাৎ একজন বলে উঠলেন, ‘কিন্তু আল্লাহকে কে সৃষ্টি করেছে?’ হাদিসটি সহিহ মুসলিমে আছে।
আরও একটি হাদিসে একই ধরনের বর্ণনা পাওয়া যায়। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, ‘মানুষ যখন আল্লাহকে নিয়ে চিন্তা করে, তখন শয়তান এসে মানুষের মাথায় প্রশ্ন ছুড়ে দেয়, আল্লাহ সবকিছু সৃষ্টি করেছেন কিন্তু আল্লাহকে কে সৃষ্টি করেছে?’
দুটি হাদিসের ক্ষেত্রেই মহানবী মুহাম্মদ (সা.) আমাদের উপদেশ দিয়েছেন—এই ধরনের কোনো চিন্তা এলে বলবে ‘আমানতু বিল্লাহ’, অর্থাৎ আমি আল্লাহর ওপর বিশ্বাস করি। এটা বলার মাধ্যমে তুমি শয়তান পরাজিত করবে এবং মূল বিশ্বাসে ফিরে আসবে।
কিন্তু কারও মনে যদি এ ধরনের চিন্তা বারবার আসতে থাকে, তাহলে কি সে গুনাহগার হবে?
একদমই না।
আবদুলাহ ইবনে আব্বাস (রা.) ও আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রা.) একবার কোনো এক বিষয়ে আলোচনা করছিলেন। আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) জিজ্ঞাসা করলেন, ‘পুরো কোরআনের ভেতর কোন আয়াতটি মানুষের জন্য প্রশান্তিদায়ক বলে তুমি মনে করো?’ আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) তখন সুরা জুমারের ৩৯ নম্বর আয়াত পাঠ করে শোনালেন, ‘বলো, হে আমার বান্দাগণ, যারা নিজেদের ওপর বাড়াবাড়ি করেছ, তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। অবশ্যই আল্লাহ সব পাপ ক্ষমা করে দেবেন। নিশ্চয় তিনি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।’
আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) মাঝেমধ্যে খুবই হতাশায় ভুগতেন। তখন এ আয়াতটি তাঁকে প্রশান্তি দিত।
এবার আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) জিজ্ঞাসা করলেন, ‘হে আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস, আপনার পছন্দের আয়াত কোনটি?’ তখন ইবনে আব্বাস (রা.) তেলাওয়াত করলেন, যখন ইবরাহিম বলেছিল, ‘হে আমার প্রতিপালক! আপনি মৃতকে কীভাবে জীবিত করবেন, তা আমাকে দেখান।’ আল্লাহ বললেন, ‘তুমি কি বিশ্বাস করো না?’ ইবরাহিম বলল, ‘নিশ্চয়ই, তবে যাতে আমার অন্তর স্বস্তি লাভ করে (এ জন্য তা দেখতে চাই)।’ (সুরা বাকারা, আয়াত: ২৬০)
এর আগে ইবরাহিম (আ.)–এর সঙ্গে বাদশা নমরুদের সাক্ষাৎ হয়েছিল। নমরুদকে তিনি বলেছিলেন, ‘আমার স্রষ্টা হলেন আল্লাহ, যিনি জীবন দিতে পারেন আবার নিতেও পারেন।’ নমরুদ বলে উঠল, ‘এটা তো আমিও পারি।’ এরপর সে জেল থেকে একজন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে মুক্ত করে দিল এবং আরেকজন নিরপরাধ কয়েদিকে মৃত্যুদণ্ড দিল। ইবরাহিম (আ.) বুঝলেন নমরুদ আসলে মাথামোটা। এরপর তিনি বললেন, ‘আমার স্রষ্টা আল্লাহ, তিনি সূর্যকে পূর্ব থেকে উদিত করে পশ্চিম দিক থেকে অস্ত নেন।’ এ কথা শুনে নমরুদ বোকা বনে গিয়েছিল। অর্থাৎ ইবরাহিম (আ.) পরিপূর্ণ ইমান নিয়ে কথা বলেছিলেন। কিন্তু এরপরও তিনি অন্তরের প্রশান্তির জন্য আল্লাহর কাছে অলৌকিকত্ব দেখতে চাইলেন।
আল্লাহ তাঁর বান্দার এই আকুতি রেখেছিলেন। আল্লাহ তাআলা ইবরাহিম (আ.)–কে একটি পাখি টুকরা টুকরা করে কেটে তা পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে রেখে আসতে বললেন। একটু পর সেই টুকরাগুলো জোড়া লেগে ইবরাহিম (আ.)–এর চোখের সামনে পাখিটি জীবিত হয়ে উড়ে গেল।
ইবনে আব্বাস (রা.) এই আয়াতটির কথাই বলছিলেন। ইবরাহিম (আ.) একজন নবী হয়েও অন্তরের প্রশান্তি কামনা করছিলেন, যা প্রমাণ করে আমাদের অন্তরে এ ধরনের প্রশ্ন আসাটা স্বাভাবিক। তার জন্য আল্লাহ আমাদের শাস্তি দেবেন না। যেমন এক হাদিসে মহানবী মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহ তাআলা আমার উম্মতের ওই কথাগুলো ক্ষমা করে দেবেন, যা সে নিজের সঙ্গে বলেছে এবং যতক্ষণ না সে এই কথাগুলো কাজে রূপান্তর করে।’
আল্লাহ দেখতে কেমন?
What does Allah look like?
মহাবিশ্বের মহান স্রষ্টা আল্লাহ্ তাঁর সৃষ্টি থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। আল্লাহ্ তাঁর সৃষ্টিকে পরিবেস্টন করে আছেন। তিনি তাঁর সৃষ্টির কোনটির মতন নন। তাঁকে দুনিয়ার কোন চোখ দেখেনি এবং দেখার ক্ষমতাও রাখেনা। এজন্য মূসা (আলায়হি আস-সালাম) দেখতে চেয়েও পারেননি। মিরাজে গিয়ে মুহাম্মদ (সল্লা আল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম) ও তাঁকে দেখতে পাননি। রসূলুল্লাহ্কে (সঃ) আবূ যর (রাদি'আল্লাহু আনহু) জিজ্ঞেস করেছিলেন তিনি তাঁর রব্বকে দেখেছেন কিনা। রসূলুল্লাহ্ (সঃ) জবাবে বলেছেন, "আমি কিভাবে তাঁকে দেখতে পারি? আমিতো একটি নূর দেখেছি।" (মুসলিম ও বুখারী)। মূলতঃ "কোন দৃষ্টি তাঁকে আয়ত্ত্ব করতে পারেনা। তিনিই বরং সব দৃষ্টিগুলোকে আয়ত্ত্বাধীন রাখেন। বস্তুতঃ তিনি অত্যন্ত সূক্ষ্মদর্শী ও সব বিষয়ে ওয়াকিবহাল।" [আন'আম, ৬/১০৩]
তিনি আমাদের সব ধারণা-কল্পনার উর্ধ্বে। তিনিই সৃষ্টিকর্তা। "আল্লাহ্ কাউকে তাঁর সন্তান বানাননি আর তাঁর কোনো শরীক নেই। যদি তা-ই হতো তবে এরা প্রত্যেকেই নিজের সৃষ্টি নিয়ে আলাদা হয়ে যেত এবং তারপর একে অন্যের উপর চড়াও হতো।
আল্লাহ্ মানুষের পরিচিত কোনো কিছুর মতো নন। তাঁর সত্ত্বা তাঁর সমস্ত সৃষ্টি থেকে আলাদা। আমরা তাঁর সত্ত্বা সম্পর্কে কো্নো ধারণা করতে পারিনা। [তিনি] আকাশমন্ডল ও জ়মীন সৃষ্টিকারী; তিনি তোমাদের নিজস্ব প্রজাতির মধ্য থেকে তোমাদের জন্য জুড়ি (স্ত্রী-পুরুষ) বানিয়েছেন এবং জন্তু-জানোয়ারের মাঝেও (তাদেরই নিজস্ব প্রজাতির) জুড়ি বানিয়ে দিয়েছেন; আর এভাবেই তিনি তোমাদের বংশবৃদ্ধি ও বিস্তার ঘটান। বিশ্বলোকের কোন কিছুতেই তাঁর সাযুজ্য নেই; আর তিনি সব কিছু শুনেন এবং দেখেন।" [আস-শূরা, ৪২/১০-১১]
আল্লাহ (সত্য ঈশ্বর) কখনোই কোনো ছবিতে চিত্রিত হন না। কুরআনে কঠোরভাবে নিষেধ করা আছে আল্লাহ্র সাথে অংশী স্থাপন করতে তাঁর একক সার্বভৌমত্ব ভাগাভাগি করতে। কারণ আল্লাহ্ একক ও অবিভাজ্য । তাঁর কোনো দ্বিতীয় এবং তুলনা উপমা নেই। আল্লাহ্ পরম একক একমাত্র সত্ত্বা; যিনি কোনো কিছুর মতো নন এবং কোনো কিছুই তাঁর সাথে তুলনীয় নয়।
আল্লাহ দেখতে কেমন ᴴᴰ Allah dekhte kemon Mizanur rahman azhari 2019 --------------------------------------------------mizanur rahman az
আল্লাহকে নিয়ে কথাবার্তা
আল্লাহ দেখতে কেমন?
What Does Allah Look Like?
আল্লাহ্ কোথায়?
Where is God?
আল্লাহকোথায়
Where is Allah













