মা ভিরিঙ্গি কালী
New Post has been published on https://sentoornetwork.com/firingi-kali-at-bardhwan/
মা ভিরিঙ্গি কালী
নিজস্ব প্রতিনিধি: বর্ধমানের দুর্গাপুরে ভিরিঙ্গি কালীবাড়ি। অনেকেই বলেন ভিড়িঙ্গি কালী। মাকে যে-নামেই ডাকা হোক না কেন, ভক্তের ডাকে মা ভিরিঙ্গি বা ভিড়িঙ্গি কালী সাড়া দেন। এই ভিরিঙ্গি ছিল জঙ্গলাকীর্ণ মহাশ্মশান। এই জঙ্গলভরা শ্মশানে মায়ের মূর্তি প্রতিষ্ঠা করে পুজো করতে শুরু করেছিলেন এক মহাকালীসাধক অক্ষয়কুমার রায়। পঞ্চমুণ্ডির ওপর শ্মশানকালী প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন ওই কালীসাধক। শ্মশানভূমিতেই তিনি তালপাতায় ছাওয়া এক কুঁড়েঘরে মাকে রেখে নিত্যপুজো শুরু করেছিলেন মাতৃসাধক অক্ষয়কুমার রায়। পরে তাঁর পুত্র রবীন্দ্রনাথ রায় মন্দির নির্মাণ করেন। মায়ের মূর্তিতেও এসেছিল বদল। শ্মশানকালী হয়েছিলেন শ্যামাকালী। গ্রামের নামেই পরিচিতি হল মায়ের। ভক্ত এবং লোকমুখে তিনি হলেন ভিরিঙ্গি বা ভিড়িঙ্গি কালী। এখন আর শ্মশানের চিহ্নমাত্র নেই। নগর হয়েছে। হয়েছে বাজারহাট, দোকানপাট। মানুষের বসতি বেড়েছে ক্রমশ। তবে ভিরিঙ্গি কালীবাড়ির পরিবেশটি ভারী সুন্দর। অপার শান্তি বিরাজমান মন্দির চত্বরে। মায়ের নিত্যভোগ হয়। প্রায় সারাবছরই বিভিন্ন অনুষ্ঠানে মুখরিত থাকে মায়ের মন্দির প্রাঙ্গণ। পয়লা বৈশাখ থেকে শুরু করে ফলহারিণী কালীপুজো, দুর্গাপুজো, দীপান্বিতা কালীপুজো, রটন্তী কালীপুজো ইত্যাদি পুজোপার্বণে। এছাড়াও প্রতি বছরই অগ্রহায়ণ মাসের মহানিশায় ভিরিঙ্গি কালী মন্দিরের প্রতিষ্ঠা দিবসে বিশাল উৎসব হয়। সেদিন প্রচুর ভক্তসমাগম হয় মন্দিরে। মায়ের পুরনো মূর্তি বিসর্জন দেওয়া হয়। মন্দিরের পাশেই তৈরি হয় মায়ের নতুন মূর্তি। আর মায়ের নতুন মূর্তির প্রাণ প্রতিষ্ঠা উপলক্ষে সারারাত ধরে চলে হোম, যজ্ঞ, পূজার্চনা মহোৎসব। চলে রাতভর ধর্মীয় সঙ্গীতানুষ্ঠান। মায়ের পুজো ভোররাতে শেষ হলে ভক্তদের মধ্যে বিতরণ করা হয় মায়ের প্রসাদ। উপস্থিত প্রতিটি ভক্ত ভক্তিভরে গ্রহণ করেন প্রসাদ। ১৬৭ বছর ধরে একইভাবে চলে আসছে এই বাৎসরিক মহোৎসব। মা অত্যন্ত জাগ্রত। ভক্তের মনোবাঞ্ছা পূরণ করেন।
আরও পড়ুন: দু’জন ছিলেন অভিন্নহৃদয় বন্ধু কিন্তু যখন নায়ক ছিলেন তাঁর ঠোঁটে একটিও গান গাননি কিশোরকুমার











