'ছোড়দি' চলে গেলেন
New Post has been published on https://sentoornetwork.com/remembers-of-subha-dutta/
'ছোড়দি' চলে গেলেন
সেন্টু
ভাবতে ভীষণ কষ্ট হচ্ছে যে, ছোড়দি আর নেই। আর কখনও কোনওদিন বলবেন না, সেন্টু আপনার খুব নাম হয়েছে। আজকাল তো একটাও কার্টুন দেন না। যাই হোক, আমার একটা লেখা যাচ্ছে তার সাথে একটা কার্টুন যাবে। এক্ষুনি আসুন। নিজের প্রোডাকশনের কাজ ফেলে দৌড়লাম বর্তমানে। এমনি ছিল তাঁর আবদার ও আদেশ। এই ছোড়দি হলেন শুভা দত্ত। বর্তমান পত্রিকার সম্পাদক। দাদা বরুণ সেনগুপ্তের স্বপ্ন-সন্তান বর্তমানকে যিনি অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে লালনপালন করে বড় করে তুলেছেন। সেই কবে ১৯৯৬ সালে মৌলালির কাছে জোড়া গির্জায় হাজির হয়েছিলাম কার্টুনিস্ট হিসাবে । সেদিন বরুণবাবুর পাশাপাশি দেখেছিলাম দুই দিদিকে। বড়দি আর ছোড়দি । বড়দির জন্য আলাদা চেম্বার থাকলেও ছোটদি আমাদের সাথেই বসতেন । তবে সে সময় বরুণবাবুর কড়া নির্দেশ ছিল, সাড়ে ছয়টার পর কোনো মহিলাই অফিসে থাকবেন না । নিউজ রুমের একটা ছোট্ট গলি ছিল সেখানে সফিদি, অনুভাদি, ছন্দবাণীদি থেকে সোমা লাহিড়ী সাহানাদিরা– কে ছিল না! আর সেই সবার সঙ্গেই বসতেন ছোড়দি। মিতভাষী। কাউকে আপনি ছাড়া কথা বলতে শুনিনি । আরও যেটা ভালো লাগত, সেটা অন্যের কথা শুনতেন খুব মন দিয়ে। মনে পড়ছে, বরুণদা, ছোড়দি আর বড়দি যখন নিজেদের মধ্যে কথা বলতেন সে এক অদ্ভুত মজার ব্যাপার ছিল। তিন ভাইবোন কাচের দরজার পাশে দাঁড়িয়ে নিপাট বাঙাল ভাষায় অনর্গল কথা বলে যেতেন। আটপৌরে বাংলার ঘরে ঘরে ভাইবোনেদের সেই সহজাত দৃশ্য। বরুণদা ১১ বছর হলো গত হয়েছেন। দিদি বহুদিন অসুস্থতার মধ্যে কাটাচ্ছিলেন । আজ দিদিও সব বন্ধন ও মায়া ত্যাগ করে চলে গেলেন আনন্দলোকে। আলোর দুনিয়ায়। সব ধরাছোঁয়ার বাইরে। আমিও হারালাম আমার প্রিয় ছোড়দিকে। প্রার্থনা করি ওঁর আত্মা চির শান্তি পাক।
















