কারেন্ট, ভোল্টেজ ও রেজিস্ট্যান্স এর বিস্তারিত । Basic Electricity Bangla
অ্যাম্পিয়ার ː কোনাে পরিবাহীর মধ্য দিয়ে 1 সেকেন্ডে 1 কুলম্ব চার্জ প্রবাহিত হলে উক্ত পরিবাহীর মধ্য দিয়ে যে পরিমাণ বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়, তাকে এক অ্যাম্পিয়ার বলে।
অ্যাম্পিয়ারের আন্তর্জাতিক সংজ্ঞা ː কোনাে সিলভার নাইট্রেট (AgNO₃) লবণের দ্রবণে 1 সেকেন্ড ধরে যে পরিমাণ কারেন্ট প্রবাহিত করলে 0.001118 গ্রাম সিলভার (রুপা) বিশ্লিষ্ট হয় উক্ত কারেন্টকে এক আন্তর্জাতিক অ্যাম্পিয়ার বলে।
কুলম্ব ː কোনাে পরিবাহীর মধ্য দিয়ে 1 সেকেন্ডে 1 অ্যাম্পিয়ার কারেন্ট প্রবাহিত হলে উক্ত সময়ে যে পরিমাণ চার্জ প্রবাহিত হয় তাকে 1 কুলম্ব বলে।
বৈদ্যুতিক বিভব ː অসীম দূরত্ব থেকে বা কোনাে বৈদ্যুতিক ক্ষেত্রের বাহির থেকে একটি একক পজেটিভ চার্জকে বৈদ্যুতিক ক্ষেত্রের যেকোনাে বিন্দুতে আনিতে যে পরিমাণ কাজ করা হয় তাকে উক্ত ক্ষেত্রের দরুন ঐ বিন্দুর বৈদ্যুতিক বিভব বা ইলেকট্রিক পটেনশিয়াল বলে।………………আরও পড়ুন
Know all about Electrics. We collect and spread Electrical Knowledge. Electricbd is Powered By Arafat. Basic Electricity Bangla
আজ এই মানব সভ্যতার চরম উন্নতির যুগে বিদ্যুতের অবদান সর্বাধিক। তাই আজ আধুনিক যুগকে বিদ্যুতের যুগও বলা হয়। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে বিদ্যুতের ব্যবহার অপরিহার্য। তারই প্রেক্ষাপটে আজ আমরা আলোচনা করবো বিদ্যুৎ নিয়ে। আলোচনা শেষে আমরা জানতে পারবো,
বিদ্যুৎ কি
বিদ্যুৎ এর প্রকারভেদ
চল বিদ্যুৎ এর প্রকারভেদ
বিদ্যুৎ প্রবাহের ফলে সৃষ্ট প্রভাব বা ইফেক্ট
বিদ্যুৎ এমন এক অদৃশ্য বল বা শক্তি যা আলো, তাপ, শব্দ, গতি উৎপন্ন করে এবং অসংখ্য বাস্তব কাজ সমাধা করে।বিদ্যুৎ মূলত দুই প্রকার। যথা―১। স্থির বিদ্যুৎ,২। চল বিদ্যুৎ ৷
বিদ্যুৎ কি । Basic Electricity Bangla
(১) স্থির বিদ্যুৎ ː বৈদ্যুতিক চার্জ যখন উৎপত্তিস্থলেই আবদ্ধ থাকে, চলাচল করতে পারে না তাকে স্থির বিদ্যুৎ বলে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এই স্থির বিদ্যুৎ ঘর্ষণের ফলে উৎপত্তি হয়। যেমন — একটি কাচদণ্ডকে রেশমি কাপড় দ্বারা ঘষলে কাচদণ্ড হতে ইলেকট্রন রেশমি কাপড়ে চলে যায় – ফলে কাচদণ্ড পজেটিভ চার্জ এবং রেশমি কাপড় নেগেটিভ চার্জ প্রাপ্ত হয়। আবার একটি ইবোনাইট দণ্ডকে এক খণ্ড ফ্লানেল কাপড় বা বিড়ালের চামড়া দ্বারা ঘর্ষণ করলে ইবোনাইট দণ্ড নেগেটিভ চার্জ এবং ফ্লানেল কাপড় পজেটিভ চার্জ প্রাপ্ত হয়। উপরোক্ত প্রতিটি ক্ষেত্রে এক বস্তু হতে ইলেকট্রন অন্য বস্তুতে স্থানান্তরিত হয় ফলে বস্তুগুলো চার্জ প্রাপ্ত হয়। অর্থাৎ প্রতিটি বস্তুতে স্থির বিদ্যুতের উৎপত্তি হয়েছে।
(২) চল বিদ্যুৎ ː যে বিদ্যুৎ উৎপন্ন স্থানে স্থির না থেকে আলাে, চাপ, তাপ বা আবেশের কারণে পদার্থের মধ্য দিয়ে ধাবিত হয়, তাকে চল বিদ্যুৎ বলে। যদিও বিদ্যুৎ দুই প্রকার, বিদ্যুৎ বলতে চল বিদ্যুৎকেই বুঝায়।
চল বিদ্যুৎ দুই প্রকার। যথা―
(১) এ.সি. কারেন্ট (Alternating Current বা A.C.),
(২) ডি.সি. কারেন্ট (Direct Current বা D.C.)।
১। এ.সি. কারেন্ট ː পরিবর্তী প্রবাহ সময়ের সাথে যে কারেন্টের মান ও দিক উভয়েরই পরিবর্তন ঘটে, তাকে এ.সি. বা অল্টারনেটিং কারেন্ট বলে।
২। ডি.সি. কারেন্ট ː একমুখী প্রবাহ সময়ের সাথে যে কারেন্টের মান ও দিক কোনোটিই পরিবর্তিত হয় না, তাকে ডি.সি. বা ডাইরেক্ট কারেন্ট বলে।
বিদ্যুৎ কি । Basic Electricity Bangla
বিদ্যুৎ প্রবাহে সৃষ্ট প্রভাব
বৈদ্যুতিক কারেন্ট প্রবাহের ফলে নিম্নলিখিত ফলাফল বা ইফেক্ট-এর সৃষ্টি হয় ː
(১) তাপীয় প্রভাব (Heating Effect)
(২) চৌম্বকীয় প্রভাব (Magnetic Effect)
(৩) রাসায়নিক প্রভাব (Chemical Effect)
(৪) শারীরবৃত্তীয় প্রভাব (Physiological Effect)
(১) তাপীয় প্রভাব (Heating Effect)কোনো পরিবাহীর মধ্য দিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হলে পরিবাহী উত্তপ্ত হয়ে ওঠে— একেই বিদ্যুতের তাপীয় প্রভাব বা তাপীয় ফল বলে । এই অবস্থায় বিদ্যুৎশক্তি তাপশক্তিতে রুপান্তরিত হয় । বিদ্যুৎ প্রবাহের তাপীয় ফলের কয়েকটি প্রয়োগ হচ্ছে বৈদ্যুতিক ইস্ত্রি, বৈদ্যুতিক হিটার, বৈদ্যুতিক কেটলী ইত্যাদি।
(২) চৌম্বকীয় প্রভাব (Magnetic Effect)কোনো পরিবাহীর মধ্য দিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহ চালনা করলে ঐ পরিবাহীর চারদিকে ম্যাগনেটিক ফিল্ড বা চৌম্বকক্ষেত্রের সৃষ্টি হয়- এটিই বিদ্যুতের চৌম্বকীয় প্রভাব। এই অবস্থায় বিদ্যুৎ শক্তি চৌম্বক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। বৈদ্যুতিক মটর, ট্রান্সফরমার, বৈদ্যুতিক ঘণ্টা ইত্যাদি বিদ্যুতের ম্যাগনেটিক ইফেক্টের উদাহরণ।.........……আরও পড়ুন
Know all about Electrics. We collect and spread Electrical Knowledge. Electricbd is Powered By Arafat. Basic Electricity Bangla
আজ আমরা পরিবাহী, অর্ধপরিবাহী এবং অপরিবাহী সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করবো। আলোচনা শেষে আমরা জানতে পারবো,
সহজ ভাষায় পরিবাহী, অপরিবাহী ও অর্ধপরিবাহী কি
মুক্ত ইলেকট্রন কি
বদ্ধ ইলেকট্রন কি
ভ্যালেন্স ইলেকট্রন কি
ইলেকট্রন তত্ত্ব অনুযায়ী পরিবাহী, অপরিবাহী ও অর্ধপরিবাহীকে কিভাবে সংজ্ঞায়িত করা যায়
ইলেকট্রন তত্ত্ব অনুযায়ী পরিবাহী, অপরিবাহী ও অর্ধপরিবাহীর ব্যাখ্যা
কারেন্ট প্রবাহের অভিমুখ
সহজ ভাষায় পরিবাহী, অপরিবাহী ও অর্ধপরিবাহী
পরিবাহী ː যে সকল পদার্থের মধ্যে দিয়ে অতি সহজে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হতে পারে, খুব কম পরিমাণ বাধার সম্মুখীন হয়, সেগুলোকে পরিবাহী বা কন্ডাক্টর বলে। যেমন: রুপা, তামা ইত্যাদি।
অপরিবাহী ː যে সকল পদার্থের মধ্য দিয়ে সহজে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হতে পারে না, প্রচণ্ড বাধার সম্মুখীন হয়, তাদেরকে অপরিবাহী বা ইনসুলেটর বা অন্তরক বলে। যেমন- রাবার, কাঁচ ইত্যাদি।
অর্ধপরিবাহী ː যে সমস্ত পদার্থের বিদ্যুৎ পরিবহণ ক্ষমতা পরিবাহী ও অপরিবাহীর মাঝামাঝি, সে সমস্ত পদার্থকে অর্ধপরিবাহী বলা হয়। যেমন: সিলিকন, কার্বন ইত্যাদি।
বিদ্যুৎ কি । Basic Electricity Bangla
ইলেকট্রন তত্ত্ব অনুসারে পরিবাহী, অপরিবাহী ও অর্ধপরিবাহী
মুক্ত ইলেকট্রন ː পরমাণুতে যে ইলেকট্রনগুলাে নিউক্লিয়াসের সাথে খুবই হালকাভাবে সংযুক্ত থাকে, সে ইলেকট্রনগুলােকে মুক্ত ইলেকট্রন বলে। অথবা, পরমাণুর যে সমস্ত ইলেকট্রনসমূহ নিউক্লিয়াসের সঙ্গে অত্যন্ত আলগা বন্ধনে আবদ্ধ থাকে, তাদেরকে মুক্ত ইলেকট্রন বলে। এ হালকাভাবে সংযুক্ত ইলেকট্রনগুলাে ধাতব পদার্থে অধিক হয় এবং লক্ষ্যহীনভাবে এলােমেলাে ঘুরাফেরা করতে থাকে। যার জন্য মুক্ত ইলেকট্রনের সৃষ্টি করে। যে সকল পদার্থে মুক্ত ইলেকট্রনের সংখ্যা বেশি, সে সকল পদার্থই ভাল পরিবাহি বলে বিবেচিত। যেমন- তামার এক ঘন সেন্টিমিটার একটি টুকরােতে স্বাভাবিক তাপমাত্রায় (Room temperature) প্রায় 8.5 x 10²² সংখ্যক মুক্ত ইলেকট্রন থাকে।
ব্যাখ্যা ː ইলেকট্রন প্রবাহই যদি বৈদ্যুতিক কারেন্ট হয়, তবে যে সকল পদার্থে মুক্ত ইলেক্ট্রনের সংখ্যা বেশি, সে সকল পদার্থই পরিবাহী বা কন্ডাকটর। কারণ যখন সামান্য কারণে [যেমনঃ আলাে, চাপ, তাপ, আবেশ] ইলেকট্রনগুলাে উত্তেজিত হয়, তখন মুক্ত ইলেকট্রনগুলো তাদের নিজস্ব কক্ষপথ ছেড়ে পার্শ্বের পরমাণুর কক্ষপথে স্থান গ্রহণ করে। ফলে অসংখ্য ইলেকট্রনের স্রোত বইতে থাকে এবং এ স্রোতই কারেন্ট। ঐ পদার্থটিকে পরিবাহী বা কনডাকটর বলে।
বদ্ধ ইলেকট্রন ː পরমাণুর যে সমস্ত ইলেকট্রনসমূহ নিউক্লিয়াসের সঙ্গে দৃঢ় বন্ধনে আবদ্ধ থাকে, তাদেরকে বদ্ধ ইলেকট্রন বলে।
ভ্যালেন্স ইলেকট্রন ː পরমাণুর সর্বশেষ কক্ষপথের ইলেকট্রনসমূহকে ভ্যালেন্স ইলেকট্রন বলে। একটি পরমাণুর সবচেয়ে বহিঃস্থ সেলে সর্বোচ্চ আটটি (8 টি) ইলেকট্রন থাকতে পারে। কোনাে পদার্থ ধাতু কিংবা অধাতু, তা ভ্যালেন্স ইলেকট্রন দ্বারা নির্ণয় করা যায়। এ ইলেকট্রনসমূহ পদার্থের বৈদ্যুতিক ধর্মও নির্ধারণ করে।
পরিবাহী ː ইলেকট্রন তত্ত্ব অনুযায়ী, যে সকল পদার্থের পরমাণুর সর্বশেষ কক্ষপথের ইলেকট্রনের সংখ্যা 4 এর কম হয়, ঐ সকল পদার্থসমূহকে পরিবাহী বলে। যেমন: কপার, অ্যালুমিনিয়াম ইত্যাদি।
অপরিবাহী ː ইলেকট্রন তত্ত্ব অনুযায়ী, যে সকল পদার্থের পরমাণুর সর্বশেষ কক্ষপথের ইলেকট্রনের সংখ্যা 4 থেকে 8 এর মধ্যে হয়, ঐ সকল পদার্থসমূহকে অপরিবাহী বলে। যেমন: ক্লোরিন, নিয়ন ইত্যাদি।
অর্ধপরিবাহী ː ইলেকট্রন তত্ত্ব অনুযায়ী, যে সকল পদার্থের পরমাণুর সর্বশেষ কক্ষপথের ইলেকট্রনের সংখ্যা 4 হয়, ঐ সকল পদার্থসমূহকে পরিবাহী বলে। যেমন: কপার, অ্যালুমিনিয়াম ইত্যাদি।
অর্ধপরিবাহী দুই ধরনের। যথা―
১। বিশুদ্ধ বা নির্ভেজাল সেমি কন্ডাক্টর: জার্মেনিয়াম, সিলিকন।
পরিবাহী, অপরিবাহী এবং অর্ধপরিবাহির ইলেকট্রন তত্ত্বের ব্যাখ্যা
পরিবাহী ː পরিবাহী পদার্থের পরমাণুতে ভ্যালেন্স ইলেকট্রনের সংখ্যা খুব কম (4 এর নিচে) থাকার কারণে এদের উপর নিউক্লিয়াসের আকর্ষণ বল খুব কম হয়। ফলে ইলেকট্রনগুলাে খুব সহজেই এক পরমাণু হতে অন্য পরমাণুতে স্থানান্তরিত হতে পারে। আবার যেহেতু ইলেকট্রন প্রবাহের হারকেই কারেন্ট বলে, সুতরাং পরিবাহী পদার্থের মধ্যে দিয়ে খুব সহজেই কারেন্ট প্রবাহিত হতে পারে। যেমন- তামা, রূপা, সােনা, অ্যালুমিনিয়াম ইত্যাদি এই শ্রেণিতে অন্তর্গত।
অপরিবাহী ː অপরিবাহী পদার্থের পরমাণুতে ভ্যালেন্স ইলেকট্রনের সংখ্যা বেশি (4 এর উপরে) থাকার কারণে এদের উপর নিউক্লিয়াসের আকর্ষণ বল খুব বেশি হয়। ফলে ইলেকট্রনগুলো এক পরমাণু হতে অন্য পরমাণুতে স্থানান্তরিত হতে প্রচন্ড বাধার সম্মুখীন হয়। কাজেই অপরিবাহী পদার্থের মধ্য দিয়ে সাধারণ তাপমাত্রায় কোন কারেন্ট প্রবাহিত হতে পারে না। যেমন কাঁচ, রাবার, শুকনাে কাঠ, প্লাস্টিক, মাইকা ও ইত্যাদি এই শ্রেণির অন্তর্গত।
অর্ধ-পরিবাহী ː এ জাতীয় পদার্থের পরমাণুতে ভ্যালেন্স ইলেকট্রনের সংখ্যা পরিবাহী ও অপরিবাহী দু'এর মাঝামাঝি অর্থাৎ 4 হয়। ফলে ইলেকট্রন গুলাে এক পরমাণু হতে অন্য পরমাণুতে স্থানান্তর হতে আংশিকভাবে বাধাপ্রাপ্ত হয়। একারণে এদেরকে অর্ধ-পরিবাহী (Semi-Conductor) বলে। যেমন- জার্মেনিয়াম, সিলিকন, কার্বন ইত্যাদি এই শ্রেণিতে পড়ে।.............আরও পড়ুন
Know all about Electrics. We collect and spread Electrical Knowledge. Electricbd is Powered By Arafat. Basic Electricity Bangla