শেষ দাম -১৫০। দিতে হলে দেবেন নইলে পিছু ডাকবেন না। বলেই যেই পিছু ফিরলাম অমনি পিছন থেকে ভেসে এল, ঠিক আছে দিদি আপনার কথা রইল, আমারটাও রইল, ১৬০ করে দিন। দেখুন, একেবারে পিওর কটন , কোনও খুঁত নেই।
আর দেরি না করে টাকার ব্যাগে হাত দিলাম। এই ছবি শুধু আমার নয়, আপনাদের সকলের। পয়লা বৈশাখের আগে চৈত্র সংক্রান্তি পর্যন্ত সেলের বাজার। আর সেল মানেই সারা বছরের বাজার। দর টানাটানি, দর কষাকষি। দক্ষিণ আর উত্তর কলকাতার গড়িয়াহাট, হাতিবাগান দু’টি বাজার এই সময় হয়ে ওঠে চরম ব্যস্ত। এইসময় মানুষ পারতপক্ষে এড়িয়ে চলেন এই দুটো বাজার সংলগ্ন রাস্তা। আর আজ? আজ ওই বাজার দুটো খাঁ খাঁ করছে। গ্রীষ্মের তপ্ত দুপুরকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে যে দু’টি স্থান এইসময় হাজার হাজার মানুষের পায়ের শব্দ মুখরিত হয়ে উঠত, আজ তা স্তব্ধ। ‘মাত্র ১০০ দিদি’, ‘দাদা শার্টটা হেব্বি’, ‘বউদি এই দুলটা পরে আপনাকে যা চমৎকার লাগছে না!’ এইসব নানান কথায় শোনা যেত কান পাতলে। আজ নীরব। প্রতিটি দোকানে বড় বড় তালা ঝুলছে। ফুটপাতে ডাঁই করে বাঁধা জামা-কাপড় নয়তো গয়নাগাটি। রাস্তার ওপর টুল পেতে বসে থাকা মানুষটি আজ ঘরে বসে হাত কামড়াচ্ছেন। চলে যাচ্ছে সময়। আর তো ফিরবে না বাংলা ১৪২৭-এর ১লা বৈশাখ। সারা বছর দীর্ঘ অপেক্ষার এই পরিণতি ভাবতেও পারছেনা কেউ।
যাঁরা বিরক্ত হতেন চৈত্র সেলের চিৎকার, চেঁচামেচি, ভিড়ে? তাঁরা কি ভাবছেন?
দক্ষিণ কলকাতার বাসিন্দা পৌষালি দাস বললেন, “ভাবতেই পারছি না, বিশ্বাস করুন! এইসময় আমি তো প্রায় প্রতিদিনই গড়িয়াহাট যাই। এত অল্প দামে সব কিনি যে কি বলব! মনটা বড় খারাপ লাগছে।
শোভাবাজার থেকে অরুন্ধতী মুখার্জি বললেন, “কি আর করা যাবে বলুন! পরিস্থিতির চাপে এমন ঘটনা ঘটল। কিন্তু আমার খারাপ লাগছে ওই মানুষগুলোর জন্য।”
কলেজ ছাত্রী দেবীনা বলল, “খুব মিস করছি হকারদের ওই আওয়াজ! কবে সব ঠিক হবে বলুন তো?”
বিশ্বত্রাস করোনার সতর্কতায় লকডাউনে আছে দেশ। আরও বাড়বে কিনা তা নিয়ে চলছে কথাবার্তা। এরই মধ্যে নিঃশব্দে চলে যাচ্ছে বাঙালির নতুন বছর ১৪২৭। বাঙালির প্রিয় উৎসব পয়লা বৈশাখ। চলে যাচ্ছে বাঙালির চৈত্র সেল। চৈত্র সেল থেকেই বহু বাঙালি পরিবারের শুরু হয় পুজোর বাজার। অনেকেই সারা বছরের জামা-কাপড় কিনে রাখেন। সবকিছুই তছনছ করে দিল অজানা অদৃশ্য দানব করোনা ভাইরাস। এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা। কবে থামবে করোনা ঝড়। পৃথিবী আবার শান্ত হবে।