নেতাজির স্মৃতিবিজড়িত বাড়ি মুখ লুকিয়েছে জঙ্গলে, এলাকার মানুষ ক্ষুব্ধ
New Post has been published on https://sentoornetwork.com/netaji-subhash-chandra-bose-house-in-hoogly/
নেতাজির স্মৃতিবিজড়িত বাড়ি মুখ লুকিয়েছে জঙ্গলে, এলাকার মানুষ ক্ষুব্ধ
নেতাজির স্মৃতিবিজড়িত বাড়ি মুখ লুকিয়েছে জঙ্গলে, এলাকার মানুষ ক্ষুব্ধ
মোহন গঙ্গোপাধ্যায়
ইতিহাসের স্মৃতি মুছে যায়নি। এখনও জঙ্গলে উঁকি দিচ্ছে নেতাজি স্মৃতিবিজড়িত বাড়ি। খসে পড়ছে দেওয়াল। ক্রমশ কালের গর্ভে লীন হচ্ছে ইতিহাস। কারওর তাগিদ নেই ইতিহাসকে বাঁচিয়ে রাখার। বাড়ছে মানুষের ক্ষোভ। হেরিটেজ ঘোষণার দাবিতে সোচ্চার হয়েছেন এলাকার মানুষ ও স্মৃতিরক্ষা কমিটি। উল্লেখ্য, হুগলির গোঘাটের বেঙ্গাই গ্রাম। এখানেই তিনদিন কাটিয়ে গেছেন নেতাজি সুভাষচন্দ্র বোস। যাঁর বাড়িতে ছিলেন তিনি হলেন ডাক্তার রাধাকৃষ্ণ পাল। সেই বাড়ি ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। এখানে উল্লেখ করতেই হয় রাধাকৃষ্ণ পাল ছিলেন এলাকার বিশিষ্ট স্বাধীনতা সংগ্রামী, শিক্ষাবিদ ও সমাজসেবী। তাঁর উদ্যোগেই স্বাধীনতা আন্দোলন জোরদার হয়েছিল। যার প্রধান সাক্ষী হিসেবে আজও দাঁড়িয়ে আছে জরাজীর্ণ বাড়িটি। ১৯৩১ সাল, স্বাধীনতা আন্দোলনের জোয়ার তখন আরামবাগ জুড়ে। এই আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছেন রাধাকৃষ্ণ। যার প্রধান কান্ডারি নেতাজি। যাঁর অনুপ্রেরণায় মানুষকে সেই আন্দোলনে যুক্ত করা। উল্লেখ্য, মুম্বাইয়ে এআইসিসি-র অধিবেশন চলছিল। অধিবেশন শেষ করে নেতাজি প্রথমে ওডিশায় আসেন। তারপর সেখান থেকে পশ্চিম মেদিনীপুরের রামজীবনপুর, বাঁকুড়ার কোতুলপুর ও জয়পুর, হুগলির কামারপুকুরে চারটি জনসভা করেন। এখান থেকে রাহাবাবুদের হাতির পিঠে চড়ে নেতাজি বেঙ্গাই গ্রামে রাধাকৃষ্ণের বাড়িতে ওঠেন। এখানে তিন দিন থেকে ঘোড়ার পিঠে চড়ে আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় জনসভা করেন। লক্ষ্য ছিল দেশ-স্বাধীনের কর্মসূচি। তারপর রাধাকৃষ্ণের বাড়ি থেকেই নেতাজি এক বিশাল স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী গড়ে আরামবাগ হাইস্কুল ময়দানে জনসভা শেষ করেন। যে-বাড়ি থেকে নেতাজি ও রাধাকৃষ্ণের সফল কর্মসূচি, সেই স্মৃতিধন্য বাড়িটি হারিয়ে যেতে বসেছে। হুঁশ নেই কারওরই। মানুষের অভিযোগ, নেতাজি ও রাধাকৃষ্ণের স্মৃতিকে বাাঁচিয়ে রাখতে অবিলম্বে সরকার বাড়িটি হেরিটেজের ঘোষণা করুক। এদিকে স্মৃতিরক্ষা কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে বাড়িটি সংস্কার ও সংরক্ষণের জন্য অনেকবার আবেদন জানানো হয়েছে। নেতাজির স্মৃতি যেমন জড়িয়ে আছে, ঠিক তেমনই গোঘাট বিধানসভার প্রথম নির্বাচিত বিধায়ক, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, সমাজসেবী ও বেশ কয়েকটি স্কুল ও কলেজের প্রতিষ্ঠাতা রাধাকৃষ্ণ এলাকার বরণীয় ও স্মরণীয় ব্যক্তিত্ব। এলাকার মানুষ এঁদের অবদানের কথা মনে রেখেছেন। এলাকাটির নামও দিয়েছেন সুভাষনগর। কিন্তু দুঃখের বিষয় নেতাজির স্মৃতিধন্য বাড়িটি ধীরে ধীরে ধ্বংস হতে বসেছে। লজ্জায় মুখ ঢেকেছে জঙ্গলে। কারওরই ভ্রুক্ষেপ নেই।
আরও পড়ুন: ২৫ বৈশাখের পাওনা ‘সভ্যতার সংকট’

















