সূরা ইউনুস মানুষকে আল্লাহ্র দিকে দাওয়াত দেয়, বুঝায় ও সতর্ক করে।
#সূরা_ইউনুসে একজন মানুষ নবুওয়াতের বানী প্রচার করেছে। তা দেখে লোকেরা অবাক হচ্ছে। তারা অযথা তার বিরুদ্ধে যাদুকারিতার অভিযোগ আনছে। অথচ যেসব কথা সে পেশ করেছে তার মধ্যে আজব কিছুই নেই এবং যাদু ও জ্যোতির্বিদ্যার সাথে সম্পর্ক রাখে এমন কোন বিষয়ও তাতে নেই। সে তো দুটো গুরুত্বপুর্ণ সত্য তোমাদের জানিয়ে দিচ্ছে। এক, যে আল্লাহ এ বিশ্ব জাহানের স্রষ্টা এবং যিনি কার্যত এর ব্যবস্থাপনা পরিচালনা করেছেন একমাত্র তিনিই তোমাদের মালিক ও প্রভু এবং একমাত্র তিনিই তোমাদের বন্দেগী ও আনুগত্য লাভের অধিকার রাখেন। দুই, বর্তমান পার্থিব জীবনের পরে আর একটি জীবন আসবে। সেখানে তোমাদের পুনর্বার সৃষ্টি করা হবে। সেখানে তোমরা নিজেরদের বর্তমান জীবনের যাবতীয় কাজের হিসেব দেবে। একটি মৌলিক প্রশ্নের ভিত্তিতে তোমরা শাস্তি বা পুরষ্কার লাভ করবে। সে প্রশ্নটি হচ্ছে, তোমরা আল্লাহকে নিজেদের প্রভু মেনে নিয়ে তা ইচ্ছা অনুযায়ী সৎকাজ করছো না তার বিপরীত কাজ করছো? তিনি তোমাদের সামনে এই যে সত্য দুটি পেশ করেছেন এ দুটি যথার্থ ও অকাট্য বাস্তব সত্য। তোমাদের মানা নামানায় এর কিছু আসে যায় না। এ সত্য তোমাদেরকে আহবান জানাচ্ছে, যে একে মেনে নিয়ে সেই অনুযায়ী তোমরা নিজেদের পরিণতি।জীবন গড়ে তোলো। তার এ আহবানে সাড়া দিলে তোমাদের পারিণাম ভাল হবে। অন্যথায় দেখবে নিজেদের অশুভ পরিণতি।
সারসংক্ষেপ :
বিশ্ব-বিধাতা আল্লাহ্র প্রত্যাদেশ মানব কূলের হৃদয়ে অপূর্ব অত্যাচার্যভাবে প্রভাব বিস্তার করে।
আল্লাহর প্রত্যাদেশ ব্যতীতও তাঁর হাতের পরশ সমস্ত সৃষ্টিতে বিদ্যমান। চন্দ্র, সূর্য, তরু-লতা, আকাশ-বাতাস, দিন-রাত্রি, প্রকৃতির পরিবর্তন ইত্যাদির মাধ্যমে আল্লাহ্ আমাদের তাঁর জ্ঞান ও প্রজ্ঞার দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন [১০:১-২০] জীবনের সকল সৌন্দর্য্য এবং ভালো সব কিছুর কেন্দ্রবিন্দু বিশ্ব বিধাতা আল্লাহ। মানুষ অন্ধ, তাই এসব দেখেও সে আল্লাহ্র অস্তিত্ব অনুভব করতে পারে না [১০:২১-৪০]। সব কিছুর শুরু আল্লাহ্, এবং তাঁর কাছেই সব কিছু প্রত্যার্পন করবে। তাঁর কাছেই সব কিছুর শেষ। তিনিই একমাত্র সত্য। মানুষ আল্লাহর প্রেরিত সত্যকে গ্রহণ করার পরিবর্তে আল্লাহর সাথে শরীক গ্রহণ করে যা সত্য বিমূখ- কারণ মানুষ বড়ই অকৃতজ্ঞ। [১০:৪১-৭০]
আল্লাহ্ নূহ্ নবীকে প্রত্যাদেশের মাধ্যমে তাঁর অস্তিত্বকে প্রকাশ করেন, কিন্তু নূহ্ নবীর সমসাময়িক লোকেরা তা প্রত্যাখান করে, পরিণামে তারা ধ্বংস হয়ে যায়। আল্লাহ্ হযরত মুসার (আ) মাধ্যমে ফেরাউনের সাথে কথা বলেন। কিন্তু ফেরাউন তা বিশ্বাস করে না, কারণ সে ছিল অবাধ্য ও একগুয়ে। শেষ মহুর্তে ফেরাউন অনুতপ্ত হয়ে আল্লাতে বিশ্বাস স্থাপন করেছিলো কিন্তু তখন অনুতাপের সময় শেষ হয়ে গিয়েছিল [১০:৭১-৯২]।
আল্লাহ্র প্রতি অবিশ্বাস মানুষের ধ্বংস ডেকে আনে। ইউনুস নবীর সমসাময়িক জনগণ অনুতপ্ত হয়েছিলো। ফলে তারা আল্লাহ্র রহমত ও করণীয় ধ্বংস থেকে রক্ষা পেয়ে যায়। ঠিক সেইভাবে যারা বিশ্বাসী বা ঈমানদার ব্যক্তি, আল্লাহ তাঁদের ধ্বংস থেকে রক্ষা করবেন। যখনই আল্লাহর সত্য (প্রত্যাদেশ) প্রকাশিত হয় যা অনুসরণ করা এবং বিপদে ও দুর্যোগে ধৈর্য্য ধারণ করা কর্তব্য। কারণ আল্লাহ্ সুক্ষ বিচারক [১০:৯৩-১০৯]
https://www.youtube.com/watch?v=igwOBJ94RL0
https://www.youtube.com/watch?v=gdg3EPF-FR4
https://www.youtube.com/watch?v=3DF0dW2xIKg












