দিঘির বিশবাঁও জলে আটকে রেল প্রকল্প, হুগলি-বাঁকুড়ার পর্যটন কেন্দ্রগুলি সহজে অধরাই রয়ে গেল, ক্ষোভ মানুষের
দিঘির বিশবাঁও জলে আটকে রেল প্রকল্প, হুগলি-বাঁকুড়ার পর্যটন কেন্দ্রগুলি সহজে অধরাই রয়ে গেল, ক্ষোভ মানুষের
একটা মাত্র দিঘি। তার জন্যেই থমকে আছে তারকেশ্বর-বিষ্ণুপুর রেল প্রকল্প। কারণ, হুগলির গোঘাটের ভাবাদিঘি এলাকার মানুষের বাঁচার একটা জায়গা। এর উপর দিয়ে রেল যাবে। এটা এলাকার মানুষ মেনে নিতে পারছে না। আর তা নিয়েই গণ্ডগোল। এই প্রকল্পের কাজ গোঘাট পযর্ন্ত হয়ে থমকে আছে। হতাশ পর্যটকরা। ক্ষোভ এলাকার সিংহভাগ মানুষের মনে।
প্রসঙ্গত,এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে অনেক সহজে বাঁকুড়ার জয়রামবাটি, বিষ্ণুপুর, অযোধ্যা পাহাড়, শুশুনিয়া এবং হুগলির কামারপুকুর, গড়মান্দারণ, রাধানগর, তারকেশ্বরের মতো পর্যটন কেন্দ্রগুলি পর্যটকদের কাছে সহজ পথ হবে। আরও গুরুত্ব বাড়বে পর্যটন কেন্দ্রগুলি।
উল্লেখ্য, একটা মাত্র দিঘিকে কেন্দ্র করে সমস্যা আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। এর মধ্যে রাজনীতির মাথা গলানোটা আরও প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেছে।
প্রসঙ্গত, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রেলমন্ত্রী থাকাকালীন এই রেল প্রকল্প অনুমোদন করেন। তারকেশ্বর থেকে বিষ্ণুপুর ৮২.৫ কিমি রেলপথের জন্য ৮০০ কোটি টাকা মঞ্জুরও করেন তিনি। ২০১৮ সালের মধ্যে এই প্রকল্পের কাজ শেষ হবে বলে জানানো হয়। সেইমতো দ্রুত কাজও শুরু হয়। তারকেশ্বর থেকে আরামবাগ রেলপথ সম্পূর্ণ হওয়ার পরই ২০১২ সালের ৪ জুন তৎকালীন রেলমন্ত্রী মুকুল রায় আরামবাগ পযর্ন্ত রেল চলাচলের সূচনা করেন।তারপর আরামবাগ থেকে রেলপথের কাজ গোঘাট পযর্ন্ত সম্পূর্ণ হয়। কিন্তু গোঘাট থেকে কামারপুকুর যাওয়ার পথে ভাবাদিঘি গ্রামে একটি দিঘিকে কেন্দ্র করে রেলের কাজ বন্ধ হয়ে যায়। গ্রামের মানুষের দাবি, দিঘির ওপর দিয়ে রেললাইন পাতা যাবে না। ৫২ বিঘে দিঘির সামান্য অংশও রেল অধিগ্রহণ করতে পারবে না।কারণ, এই দিঘির জল আশপাশের কয়েকশো পরিবার ব্যবহার করেন। অতএব দিঘিকে বাঁচিয়ে পাশ দিয়ে রেললাইন পাতা হোক। কিন্তু রেলকতৃপক্ষ তাদের নকশা অনুযায়ী দিঘির ওপর দিয়েই রেললাইন তৈরি করতে চায়।
এদিকে এই সমস্যাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে দিঘি বাঁচাও আন্দোলন কমিটি। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখানে প্রশাসনিক বৈঠকে এসে খোঁজ নেন রেলপথের ব্যাপারে।
অপরদিকে বিষ্ণুপুর থেকে ময়নাপুর হয়ে গোকুলনগর পযর্ন্ত রেললাইনের কাজ প্রায় সম্পূর্ণ। ভাবাদিঘির ওপর রেললাইন পাততে পারলেই স্বপ্নের রেল প্রকল্প মানুষের হাতের মুঠোয় চলে আসবে। এলাকার অর্থনৈতিক ও সামাজিক চিত্রটাও বদলে যাবে। বাঁকুড়া ও হুগলির প্রধান পর্যটন কেন্দ্রগুলি একটা মাত্র রেলপথের মুঠোয় চলে আসবে। বহু কাঙ্ক্ষিত এই প্রকল্পের আশায় দিন গুনছেন তারকেশ্বর, আরামবাগ ও বিষ্ণুপুরের মানুষ।