শ্যামল সান্যাল: আইপিএস অফিসারদের একটা বড় অংশের ধারণা, রাজীব এদেশের বাইরে চলে গেছেন। সেই দেশের সঙ্গে ভারতের বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তিও নেই। যেমন মেহুল চোকসি রয়েছেন অ্যান্টিগুয়াতে। বহু চেষ্টা করেও মোদি সরকার তাঁকে এদেশে আনতে পারছে না। বিজয় মালিয়া আছেন লন্ডনে। ও দেশের আইনের সুযোগে তিনি বহাল তবিয়তে লন্ডনে বসে আছেন, আর কোর্টে ভারতের উকিলরা লড়ছেন। কিন্তু আজ পর্যন্ত কিছুই করতে পারেননি।
রাজ্যের পুলিশ বা সি বি আইয়ের বেশ কিছু সূত্রের মতে উনি বেশ কিছু দিন আগেই রাজীব অন্য দেশে চলে গেছেন। সি বি আই ওঁকে টার্গেট করেছে, এই খবর তাঁর জানা ছিল। কারণ দিল্লির খুব ওপর মহলে ওঁর বহু ঘনিষ্ট বন্ধুদের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ, তাঁরা ওঁকে ঠিক সময়ে আগাম খবর দিয়েছেন।
অন্য একটা মহলের কিন্তু বিশ্বাস, উনি খোদ কলকাতায় আছেন। কিন্তু সিবিআইয়ের শার্লক হোমস, ফেলু মিত্তিররা তাঁর টিকি ছুঁতে পারছেন না। উনি ঠিক তাদের ধোঁকা দিয়ে বোকা বানিয়ে চলেছেন দিনের পর দিন।
তিনি কি কোনও বড় নেতার গোপন ডেরাতে আছেন? তৃণমূল না বিজেপি কোন দলের নেতার ঠিকানা সেটা?
রাজীবকে দীর্ঘ দিন চেনেন, এমন মানুষ কলকাতা , রাজ্য পুলিশ, সিবিআই, এনআইএ, বা বিদেশের ওপরে নজর রাখার গোয়েন্দা দফতর, র বা অন্যান্য সংস্থাতে আছেন। এরা মনে করেন, রাজীবকে খুঁজে বার করার ক্ষমতা এদের নেই। কারণ ওই মানুষটি একাই একশো। এদেশের পুলিশের জেমস বন্ড। তিনি সবাইকে ঘোল খাওয়াতে যে পারেন, তা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছেন।
ওয়াকিবহাল মহলের খবর, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক বহু গুরুত্বপূর্ণ তদন্তের ক্ষেত্রে রাজীবের সাহায্য নিয়ে থাকে। দেশের নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালও ব্যক্তিগত ভাবে রাজীবকে জানেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহেরও জানা অফিসার রাজীব। তাঁর মতো কাজের অফিসারকে সিবিআই না ধরে বরং তাঁকে দিল্লিতে গোয়েন্দা বিভাগে নিয়ে আসার কথাও ভাবা হচ্ছে বলে খবর।
রাজীব কুমারের ঘনিষ্ঠ চিত্রপরিচালক নীরজ পান্ডের বিখ্যাত সিনেমা আ ওয়েনেস ডে-তে নাসিরুদ্দিনের চরিত্র নাকি এই রাজীব কুমারের কাজকর্মের গল্প। পরিচালকের ক্যামেরা মূল চরিত্র হিসেবে তুলে ধরেছে এক মানুষকে, সব চেষ্টা করেও পুলিশ তাকে খুঁজে পায় না। অথচ তিনি তাঁদের নাগালের ভেতরেই দিব্বি ঘুরে বেড়াচ্ছেন। পুলিশের নাকের ডগায়, কিন্তু কেউ দেখতে পাচ্ছে না।
রাজ্যের বহু পুলিশের কাছে উনি গুরু বলে শ্রদ্ধেয়। তাঁর কাছে কাজ শিখেছেন এমন অফিসার প্রচুর। কলকাতা পুলিশে এসটিএফের প্রধান হিসেবে ছিলেন রাজীব বামফ্রন্টের আমলে। কি ভাবে জঙ্গল মহলের অপারেশন করেছিলেন, কিষেণজিকে ধরার চেষ্টা, কি ভাবে তথাকথিত এনকাউন্টারে তাঁর মৃত্যু হল এইরকম অনেক কথা বলার সময় এঁরা রাজীবের বুদ্ধিমত্তা, প্রায় শান্ত ভাবে জটিল অপারেশন করা, সাইবার ক্ষেত্রে অদ্ভুত দক্ষতা তাঁকে এক মাজিশিয়ানের আসনে বসায়।
এই অফিসারদের মন্তব্য, রাজীব হলেন সেই ডন সিনেমার অমিতাভ। তাঁর বিখ্যাত ডায়লগ, ডন কো পাকড়ানা মুশকিলই নেহি, না মুমকিন হ্যায়…।
রাজীব কুমারকে শেষ পর্যন্ত খুঁজে পাওয়া যাবে কি না এই আলোচনাটি এখন পুলিশ মহলের ঘুম কেড়েছে। কারণ উনি আসল ঘুঁটি, মোদি- মমতার দাবা খেলার।