💔 ہمارا بھی نام ہو جاٸے تیرے گھر آنے والوں میں 💦 . #zilhajj #takbeer #tehleel #tamheed https://www.instagram.com/p/B0tu2avgJJM/?igshid=1sutvphjqzlsb
seen from United States
seen from United States
seen from United States
seen from United States
seen from Russia
seen from China

seen from United States
seen from Germany
seen from Russia
seen from Russia
seen from United States
seen from United States
seen from United States

seen from United States
seen from United States

seen from Saudi Arabia

seen from Czechia

seen from United States
seen from China

seen from United States
💔 ہمارا بھی نام ہو جاٸے تیرے گھر آنے والوں میں 💦 . #zilhajj #takbeer #tehleel #tamheed https://www.instagram.com/p/B0tu2avgJJM/?igshid=1sutvphjqzlsb
জিলহজ মাসের প্রথম ১০ দিনের বিশেষ আমল ও ফজিলত
https://www.youtube.com/watch?v=-u6Xv7ZTdHk
জিলহজ মাসের প্রথম ১০ দিনের ১০ আমল
জিলহজ মাসের প্রথম ১০ দিন মুসলিম জীবনে এক অপূর্ব আধ্যাত্মিক সময়। মহান আল্লাহ এই দিনগুলোকে বিশেষ মর্যাদা দান করেছেন, যখন সৎকর্মের প্রতিদান বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘এমন কোনো দিন নেই, যেদিন সৎকর্ম আল্লাহর কাছে এই দিনগুলোর (জিলহজের প্রথম ১০ দিন) তুলনায় বেশি প্রিয়।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৯৬৯)
দিনগুলো কেন এত বিশেষ
জিলহজের প্রথম ১০ দিনের মর্যাদা বহুমুখী। প্রথমত, এই সময়ে ইসলাম ধর্মের পূর্ণতা লাভ করে। পবিত্র কোরআনে আছে, ‘আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দীনকে পূর্ণ করে দিয়েছি, তোমাদের প্রতি আমার নিয়ামত সম্পূর্ণ করেছি এবং ইসলামকে তোমাদের দীন হিসেবে মনোনীত করেছি।’ (সুরা মায়িদা, আয়াত: ৩)
দ্বিতীয়ত, ইমাম ইবনে হাজার (রহ.) বলেন, এই দিনগুলোয় ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভ—শাহাদাত, নামাজ, রোজা, হজ ও জাকাত একত্র হয়, যা অন্য কোনো সময়ে এভাবে মিলিত হয় না। এই দিনগুলোয় হজের মতো মহান ইবাদত পালিত হয়, যা মুসলিম জাতির ঐক্য ও ত্যাগের প্রতীক।
১০ দিনের সর্বোত্তম ব্যবহার
জিলহজের এই দিনগুলোয় ইবাদতের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভের অপার সুযোগ রয়েছে। নিচে কিছু গুরুত্বপূর্ণ আমল উল্লেখ করা হলো:
১. ফরজ পালন ও নফল আমল বৃদ্ধি: ফরজ ইবাদত পালন ও হারাম থেকে বিরত থাকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। রাসুল (সা.) বলেন, ‘আমার বান্দা যে কাজ দিয়ে আমার সবচেয়ে কাছে আসে, তা হলো আমি তার ওপর যা ফরজ করেছি।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬,৫০২)
এর পাশাপাশি নফল আমল বাড়ানো উচিত। যেমন ছোট হলেও নিয়মিত দান করা। ফজরের নামাজের পর সূর্যোদয় পর্যন্ত জিকির করলে হজ ও ওমরাহর সওয়াব পাওয়া যায় (তিরমিজি, হাদিস: ৫৮৬)। সূর্য পুরোপুরি ওঠার পর থেকে জোহরের ১৫ মিনিট আগপর্যন্ত দুই থেকে আট রাকাত নামাজ পড়া, যাকে ‘দুহা নামাজ’ বলে। পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত করলে প্রতিটি হরফের জন্য ১০ গুণ সওয়াব পাওয়া যায়। (তিরমিজি, হাদিস: ২,৯১০)
২. দোয়ার পরিমাণ বাড়ানো: দোয়া ইবাদতের মূল। সিজদা, রাতের শেষ তৃতীয়াংশ, রোজা ভাঙার আগে, আজান ও ইকামার মধ্যবর্তী সময় এবং বৃষ্টির সময় দোয়া কবুলের বিশেষ মুহূর্ত। এই সময়গুলোয় বেশি বেশি দোয়া করা উচিত।
৩. আরাফার দিনে রোজা: আরাফার দিনের রোজা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ। রাসুল (সা.) বলেন, ‘আরাফার দিনের রোজা বিগত ও আগামী এক বছরের গুনাহর কাফফারা হয়।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১৯৮৮)। রোজার সময় দোয়াও কবুল হয় (তিরমিজি, হাদিস: ৩,৪৯৮)
৪. জিকির বৃদ্ধি: জিলহজের এই দিনগুলোয় তাহলিল (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ), তাকবির (আল্লাহু আকবার) ও তাহমিদ (আলহামদুলিল্লাহ) বেশি বেশি বলা উচিত। রাসুল (সা.) বলেন, ‘এই ১০ দিনে তাহলিল, তাকবির ও তাহমিদ বৃদ্ধি করো।’ (মুসনাদ আহমাদ, হাদিস: ৭,৮৪৮)
৫. তওবা ও ক্ষমাপ্রার্থনা: মানুষ হিসেবে আমরা প্রায়ই পাপে লিপ্ত হই। তাই নিয়মিত তওবা করা জরুরি। রাসুল (সা.) বলেন, ‘প্রত্যেক আদম সন্তান পাপ করে, আর পাপীদের মধ্যে সর্বোত্তম তারা, যারা তওবা করে।’ (ইবনে মাজাহ, হাদিস: ৪,২৫১)
তওবার শর্ত হলো অনুশোচনা, পাপ ত্যাগের দৃঢ় সংকল্প ও অন্যের হক নষ্ট হলে তা পূরণ করা।
৬. আত্মীয়তার সম্পর্ক জোরদার করা: আত্মীয়দের সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষা করা ইসলামে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি তার আয় বৃদ্ধি ও আয়ু বৃদ্ধি কামনা করে, সে যেন তার আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করে।’ (তিরমিজি, হাদিস: ১,৯২৯)
এমনকি যারা সম্পর্ক ছিন্ন করে, তাদের সঙ্গেও সম্পর্ক রক্ষা করাই প্রকৃত আত্মীয়তা। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫,৯৮৪)
এই সময়ে ক্ষোভ ও বিবাদ ভুলে আত্মীয় ও বন্ধুদের সঙ্গে মিলনের উদ্যোগ নেওয়া উচিত।
৭. সৎ গুণাবলি অবলম্বন: হজ পালনকারীরা এই সময়ে বিবাদ ও অবাধ্যতা থেকে বিরত থাকেন। আমাদেরও তা–ই করা উচিত। কাউকে ক্ষমা করা, অসুস্থদের দেখতে যাওয়া, অভাবীদের সাহায্য করা এবং সত্য ও ন্যায়ের কথা বলা এই সময়ের বিশেষ আমল।
৮. চুল ও নখ না কাটা: কোরবানির উদ্দেশ্যে জিলহজ মাস শুরু হলে চুল ও নখ না কাটার নির্দেশ রয়েছে, এতে একটি কোরবানির সওয়াব পাওয়া যায়। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১,৯৭৭)
৯. কোরবানি: পবিত্র ঈদুল আজহার দিন কোরবানি একটি মহান ইবাদত। এটি হজরত ইবরাহিম (আ.)–এর ত্যাগের স্মারক। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, ‘তাদের মাংস বা রক্ত আল্লাহর কাছে পৌঁছায় না; বরং তোমাদের তাকওয়া তাঁর কাছে পৌঁছে।’ (সুরা হজ, আয়াত: ২২: ৩৭)
কোরবানির পশুর প্রতিটি পশমের জন্য সওয়াব রয়েছে। (তিরমিজি, হাদিস: ১,৪৯৩)
১০. ঈদের নামাজ: জিলহজের দশম দিনে ঈদের নামাজ মুসলিম সম্প্রদায়ের ঐক্য ও সংহতির প্রতীক। রাসুল (সা.) সবাইকে, এমনকি ঋতুমতী নারীদেরও (নামাজ থেকে অব্যাহতি থাকলেও) ঈদগাহে উপস্থিত থাকতে উৎসাহিত করেছেন।
জিলহজের প্রথম ১০ দিন সময়ে সৎকর্মের প্রতিদান অন্য যেকোনো সময়ের তুলনায় বহুগুণ বেশি। তাই আমাদের উচিত এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ইবাদত, তওবা, দান ও সম্পর্ক জোরদারে মনোযোগ দেওয়া। পাশাপাশি পাপ ও অবাধ্যতা থেকে দূরে থাকা জরুরি, যাতে এই মহিমান্বিত দিনগুলোর পূর্ণ বরকত লাভ করা যায়।
জিলহজ মাসের প্রথম ১০ দিনের ১০ আমল
জিলহজ মাসের প্রথম ১০ দিনের বিশেষ আমল ও ফজিলত
https://www.youtube.com/watch?v=-u6Xv7ZTdHk
জিলহজ মাসের প্রথম ১০ দিনের ১০ আমল
জিলহজ মাসের প্রথম ১০ দিন মুসলিম জীবনে এক অপূর্ব আধ্যাত্মিক সময়। মহান আল্লাহ এই দিনগুলোকে বিশেষ মর্যাদা দান করেছেন, যখন সৎকর্মের প্রতিদান বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘এমন কোনো দিন নেই, যেদিন সৎকর্ম আল্লাহর কাছে এই দিনগুলোর (জিলহজের প্রথম ১০ দিন) তুলনায় বেশি প্রিয়।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৯৬৯)
দিনগুলো কেন এত বিশেষ
জিলহজের প্রথম ১০ দিনের মর্যাদা বহুমুখী। প্রথমত, এই সময়ে ইসলাম ধর্মের পূর্ণতা লাভ করে। পবিত্র কোরআনে আছে, ‘আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দীনকে পূর্ণ করে দিয়েছি, তোমাদের প্রতি আমার নিয়ামত সম্পূর্ণ করেছি এবং ইসলামকে তোমাদের দীন হিসেবে মনোনীত করেছি।’ (সুরা মায়িদা, আয়াত: ৩)
দ্বিতীয়ত, ইমাম ইবনে হাজার (রহ.) বলেন, এই দিনগুলোয় ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভ—শাহাদাত, নামাজ, রোজা, হজ ও জাকাত একত্র হয়, যা অন্য কোনো সময়ে এভাবে মিলিত হয় না। এই দিনগুলোয় হজের মতো মহান ইবাদত পালিত হয়, যা মুসলিম জাতির ঐক্য ও ত্যাগের প্রতীক।
১০ দিনের সর্বোত্তম ব্যবহার
জিলহজের এই দিনগুলোয় ইবাদতের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভের অপার সুযোগ রয়েছে। নিচে কিছু গুরুত্বপূর্ণ আমল উল্লেখ করা হলো:
১. ফরজ পালন ও নফল আমল বৃদ্ধি: ফরজ ইবাদত পালন ও হারাম থেকে বিরত থাকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। রাসুল (সা.) বলেন, ‘আমার বান্দা যে কাজ দিয়ে আমার সবচেয়ে কাছে আসে, তা হলো আমি তার ওপর যা ফরজ করেছি।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬,৫০২)
এর পাশাপাশি নফল আমল বাড়ানো উচিত। যেমন ছোট হলেও নিয়মিত দান করা। ফজরের নামাজের পর সূর্যোদয় পর্যন্ত জিকির করলে হজ ও ওমরাহর সওয়াব পাওয়া যায় (তিরমিজি, হাদিস: ৫৮৬)। সূর্য পুরোপুরি ওঠার পর থেকে জোহরের ১৫ মিনিট আগপর্যন্ত দুই থেকে আট রাকাত নামাজ পড়া, যাকে ‘দুহা নামাজ’ বলে। পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত করলে প্রতিটি হরফের জন্য ১০ গুণ সওয়াব পাওয়া যায়। (তিরমিজি, হাদিস: ২,৯১০)
২. দোয়ার পরিমাণ বাড়ানো: দোয়া ইবাদতের মূল। সিজদা, রাতের শেষ তৃতীয়াংশ, রোজা ভাঙার আগে, আজান ও ইকামার মধ্যবর্তী সময় এবং বৃষ্টির সময় দোয়া কবুলের বিশেষ মুহূর্ত। এই সময়গুলোয় বেশি বেশি দোয়া করা উচিত।
৩. আরাফার দিনে রোজা: আরাফার দিনের রোজা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ। রাসুল (সা.) বলেন, ‘আরাফার দিনের রোজা বিগত ও আগামী এক বছরের গুনাহর কাফফারা হয়।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১৯৮৮)। রোজার সময় দোয়াও কবুল হয় (তিরমিজি, হাদিস: ৩,৪৯৮)
৪. জিকির বৃদ্ধি: জিলহজের এই দিনগুলোয় তাহলিল (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ), তাকবির (আল্লাহু আকবার) ও তাহমিদ (আলহামদুলিল্লাহ) বেশি বেশি বলা উচিত। রাসুল (সা.) বলেন, ‘এই ১০ দিনে তাহলিল, তাকবির ও তাহমিদ বৃদ্ধি করো।’ (মুসনাদ আহমাদ, হাদিস: ৭,৮৪৮)
৫. তওবা ও ক্ষমাপ্রার্থনা: মানুষ হিসেবে আমরা প্রায়ই পাপে লিপ্ত হই। তাই নিয়মিত তওবা করা জরুরি। রাসুল (সা.) বলেন, ‘প্রত্যেক আদম সন্তান পাপ করে, আর পাপীদের মধ্যে সর্বোত্তম তারা, যারা তওবা করে।’ (ইবনে মাজাহ, হাদিস: ৪,২৫১)
তওবার শর্ত হলো অনুশোচনা, পাপ ত্যাগের দৃঢ় সংকল্প ও অন্যের হক নষ্ট হলে তা পূরণ করা।
৬. আত্মীয়তার সম্পর্ক জোরদার করা: আত্মীয়দের সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষা করা ইসলামে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি তার আয় বৃদ্ধি ও আয়ু বৃদ্ধি কামনা করে, সে যেন তার আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করে।’ (তিরমিজি, হাদিস: ১,৯২৯)
এমনকি যারা সম্পর্ক ছিন্ন করে, তাদের সঙ্গেও সম্পর্ক রক্ষা করাই প্রকৃত আত্মীয়তা। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫,৯৮৪)
এই সময়ে ক্ষোভ ও বিবাদ ভুলে আত্মীয় ও বন্ধুদের সঙ্গে মিলনের উদ্যোগ নেওয়া উচিত।
৭. সৎ গুণাবলি অবলম্বন: হজ পালনকারীরা এই সময়ে বিবাদ ও অবাধ্যতা থেকে বিরত থাকেন। আমাদেরও তা–ই করা উচিত। কাউকে ক্ষমা করা, অসুস্থদের দেখতে যাওয়া, অভাবীদের সাহায্য করা এবং সত্য ও ন্যায়ের কথা বলা এই সময়ের বিশেষ আমল।
৮. চুল ও নখ না কাটা: কোরবানির উদ্দেশ্যে জিলহজ মাস শুরু হলে চুল ও নখ না কাটার নির্দেশ রয়েছে, এতে একটি কোরবানির সওয়াব পাওয়া যায়। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১,৯৭৭)
৯. কোরবানি: পবিত্র ঈদুল আজহার দিন কোরবানি একটি মহান ইবাদত। এটি হজরত ইবরাহিম (আ.)–এর ত্যাগের স্মারক। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, ‘তাদের মাংস বা রক্ত আল্লাহর কাছে পৌঁছায় না; বরং তোমাদের তাকওয়া তাঁর কাছে পৌঁছে।’ (সুরা হজ, আয়াত: ২২: ৩৭)
কোরবানির পশুর প্রতিটি পশমের জন্য সওয়াব রয়েছে। (তিরমিজি, হাদিস: ১,৪৯৩)
১০. ঈদের নামাজ: জিলহজের দশম দিনে ঈদের নামাজ মুসলিম সম্প্রদায়ের ঐক্য ও সংহতির প্রতীক। রাসুল (সা.) সবাইকে, এমনকি ঋতুমতী নারীদেরও (নামাজ থেকে অব্যাহতি থাকলেও) ঈদগাহে উপস্থিত থাকতে উৎসাহিত করেছেন।
জিলহজের প্রথম ১০ দিন সময়ে সৎকর্মের প্রতিদান অন্য যেকোনো সময়ের তুলনায় বহুগুণ বেশি। তাই আমাদের উচিত এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ইবাদত, তওবা, দান ও সম্পর্ক জোরদারে মনোযোগ দেওয়া। পাশাপাশি পাপ ও অবাধ্যতা থেকে দূরে থাকা জরুরি, যাতে এই মহিমান্বিত দিনগুলোর পূর্ণ বরকত লাভ করা যায়।
জিলহজ মাসের প্রথম ১০ দিনের ১০ আমল
জিলহজ মাসের প্রথম ১০ দিনের বিশেষ আমল ও ফজিলত
https://www.youtube.com/watch?v=-u6Xv7ZTdHk
জিলহজ মাসের প্রথম ১০ দিনের ১০ আমল
জিলহজ মাসের প্রথম ১০ দিন মুসলিম জীবনে এক অপূর্ব আধ্যাত্মিক সময়। মহান আল্লাহ এই দিনগুলোকে বিশেষ মর্যাদা দান করেছেন, যখন সৎকর্মের প্রতিদান বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘এমন কোনো দিন নেই, যেদিন সৎকর্ম আল্লাহর কাছে এই দিনগুলোর (জিলহজের প্রথম ১০ দিন) তুলনায় বেশি প্রিয়।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৯৬৯)
দিনগুলো কেন এত বিশেষ
জিলহজের প্রথম ১০ দিনের মর্যাদা বহুমুখী। প্রথমত, এই সময়ে ইসলাম ধর্মের পূর্ণতা লাভ করে। পবিত্র কোরআনে আছে, ‘আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দীনকে পূর্ণ করে দিয়েছি, তোমাদের প্রতি আমার নিয়ামত সম্পূর্ণ করেছি এবং ইসলামকে তোমাদের দীন হিসেবে মনোনীত করেছি।’ (সুরা মায়িদা, আয়াত: ৩)
দ্বিতীয়ত, ইমাম ইবনে হাজার (রহ.) বলেন, এই দিনগুলোয় ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভ—শাহাদাত, নামাজ, রোজা, হজ ও জাকাত একত্র হয়, যা অন্য কোনো সময়ে এভাবে মিলিত হয় না। এই দিনগুলোয় হজের মতো মহান ইবাদত পালিত হয়, যা মুসলিম জাতির ঐক্য ও ত্যাগের প্রতীক।
১০ দিনের সর্বোত্তম ব্যবহার
জিলহজের এই দিনগুলোয় ইবাদতের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভের অপার সুযোগ রয়েছে। নিচে কিছু গুরুত্বপূর্ণ আমল উল্লেখ করা হলো:
১. ফরজ পালন ও নফল আমল বৃদ্ধি: ফরজ ইবাদত পালন ও হারাম থেকে বিরত থাকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। রাসুল (সা.) বলেন, ‘আমার বান্দা যে কাজ দিয়ে আমার সবচেয়ে কাছে আসে, তা হলো আমি তার ওপর যা ফরজ করেছি।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬,৫০২)
এর পাশাপাশি নফল আমল বাড়ানো উচিত। যেমন ছোট হলেও নিয়মিত দান করা। ফজরের নামাজের পর সূর্যোদয় পর্যন্ত জিকির করলে হজ ও ওমরাহর সওয়াব পাওয়া যায় (তিরমিজি, হাদিস: ৫৮৬)। সূর্য পুরোপুরি ওঠার পর থেকে জোহরের ১৫ মিনিট আগপর্যন্ত দুই থেকে আট রাকাত নামাজ পড়া, যাকে ‘দুহা নামাজ’ বলে। পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত করলে প্রতিটি হরফের জন্য ১০ গুণ সওয়াব পাওয়া যায়। (তিরমিজি, হাদিস: ২,৯১০)
২. দোয়ার পরিমাণ বাড়ানো: দোয়া ইবাদতের মূল। সিজদা, রাতের শেষ তৃতীয়াংশ, রোজা ভাঙার আগে, আজান ও ইকামার মধ্যবর্তী সময় এবং বৃষ্টির সময় দোয়া কবুলের বিশেষ মুহূর্ত। এই সময়গুলোয় বেশি বেশি দোয়া করা উচিত।
৩. আরাফার দিনে রোজা: আরাফার দিনের রোজা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ। রাসুল (সা.) বলেন, ‘আরাফার দিনের রোজা বিগত ও আগামী এক বছরের গুনাহর কাফফারা হয়।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১৯৮৮)। রোজার সময় দোয়াও কবুল হয় (তিরমিজি, হাদিস: ৩,৪৯৮)
৪. জিকির বৃদ্ধি: জিলহজের এই দিনগুলোয় তাহলিল (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ), তাকবির (আল্লাহু আকবার) ও তাহমিদ (আলহামদুলিল্লাহ) বেশি বেশি বলা উচিত। রাসুল (সা.) বলেন, ‘এই ১০ দিনে তাহলিল, তাকবির ও তাহমিদ বৃদ্ধি করো।’ (মুসনাদ আহমাদ, হাদিস: ৭,৮৪৮)
৫. তওবা ও ক্ষমাপ্রার্থনা: মানুষ হিসেবে আমরা প্রায়ই পাপে লিপ্ত হই। তাই নিয়মিত তওবা করা জরুরি। রাসুল (সা.) বলেন, ‘প্রত্যেক আদম সন্তান পাপ করে, আর পাপীদের মধ্যে সর্বোত্তম তারা, যারা তওবা করে।’ (ইবনে মাজাহ, হাদিস: ৪,২৫১)
তওবার শর্ত হলো অনুশোচনা, পাপ ত্যাগের দৃঢ় সংকল্প ও অন্যের হক নষ্ট হলে তা পূরণ করা।
৬. আত্মীয়তার সম্পর্ক জোরদার করা: আত্মীয়দের সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষা করা ইসলামে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি তার আয় বৃদ্ধি ও আয়ু বৃদ্ধি কামনা করে, সে যেন তার আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করে।’ (তিরমিজি, হাদিস: ১,৯২৯)
এমনকি যারা সম্পর্ক ছিন্ন করে, তাদের সঙ্গেও সম্পর্ক রক্ষা করাই প্রকৃত আত্মীয়তা। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫,৯৮৪)
এই সময়ে ক্ষোভ ও বিবাদ ভুলে আত্মীয় ও বন্ধুদের সঙ্গে মিলনের উদ্যোগ নেওয়া উচিত।
৭. সৎ গুণাবলি অবলম্বন: হজ পালনকারীরা এই সময়ে বিবাদ ও অবাধ্যতা থেকে বিরত থাকেন। আমাদেরও তা–ই করা উচিত। কাউকে ক্ষমা করা, অসুস্থদের দেখতে যাওয়া, অভাবীদের সাহায্য করা এবং সত্য ও ন্যায়ের কথা বলা এই সময়ের বিশেষ আমল।
৮. চুল ও নখ না কাটা: কোরবানির উদ্দেশ্যে জিলহজ মাস শুরু হলে চুল ও নখ না কাটার নির্দেশ রয়েছে, এতে একটি কোরবানির সওয়াব পাওয়া যায়। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১,৯৭৭)
৯. কোরবানি: পবিত্র ঈদুল আজহার দিন কোরবানি একটি মহান ইবাদত। এটি হজরত ইবরাহিম (আ.)–এর ত্যাগের স্মারক। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, ‘তাদের মাংস বা রক্ত আল্লাহর কাছে পৌঁছায় না; বরং তোমাদের তাকওয়া তাঁর কাছে পৌঁছে।’ (সুরা হজ, আয়াত: ২২: ৩৭)
কোরবানির পশুর প্রতিটি পশমের জন্য সওয়াব রয়েছে। (তিরমিজি, হাদিস: ১,৪৯৩)
১০. ঈদের নামাজ: জিলহজের দশম দিনে ঈদের নামাজ মুসলিম সম্প্রদায়ের ঐক্য ও সংহতির প্রতীক। রাসুল (সা.) সবাইকে, এমনকি ঋতুমতী নারীদেরও (নামাজ থেকে অব্যাহতি থাকলেও) ঈদগাহে উপস্থিত থাকতে উৎসাহিত করেছেন।
জিলহজের প্রথম ১০ দিন সময়ে সৎকর্মের প্রতিদান অন্য যেকোনো সময়ের তুলনায় বহুগুণ বেশি। তাই আমাদের উচিত এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ইবাদত, তওবা, দান ও সম্পর্ক জোরদারে মনোযোগ দেওয়া। পাশাপাশি পাপ ও অবাধ্যতা থেকে দূরে থাকা জরুরি, যাতে এই মহিমান্বিত দিনগুলোর পূর্ণ বরকত লাভ করা যায়।
জিলহজ মাসের প্রথম ১০ দিনের ১০ আমল
জিলহজ মাসের প্রথম ১০ দিনের বিশেষ আমল ও ফজিলত
https://www.youtube.com/watch?v=-u6Xv7ZTdHk
জিলহজ মাসের প্রথম ১০ দিনের ১০ আমল
জিলহজ মাসের প্রথম ১০ দিন মুসলিম জীবনে এক অপূর্ব আধ্যাত্মিক সময়। মহান আল্লাহ এই দিনগুলোকে বিশেষ মর্যাদা দান করেছেন, যখন সৎকর্মের প্রতিদান বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘এমন কোনো দিন নেই, যেদিন সৎকর্ম আল্লাহর কাছে এই দিনগুলোর (জিলহজের প্রথম ১০ দিন) তুলনায় বেশি প্রিয়।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৯৬৯)
দিনগুলো কেন এত বিশেষ
জিলহজের প্রথম ১০ দিনের মর্যাদা বহুমুখী। প্রথমত, এই সময়ে ইসলাম ধর্মের পূর্ণতা লাভ করে। পবিত্র কোরআনে আছে, ‘আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দীনকে পূর্ণ করে দিয়েছি, তোমাদের প্রতি আমার নিয়ামত সম্পূর্ণ করেছি এবং ইসলামকে তোমাদের দীন হিসেবে মনোনীত করেছি।’ (সুরা মায়িদা, আয়াত: ৩)
দ্বিতীয়ত, ইমাম ইবনে হাজার (রহ.) বলেন, এই দিনগুলোয় ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভ—শাহাদাত, নামাজ, রোজা, হজ ও জাকাত একত্র হয়, যা অন্য কোনো সময়ে এভাবে মিলিত হয় না। এই দিনগুলোয় হজের মতো মহান ইবাদত পালিত হয়, যা মুসলিম জাতির ঐক্য ও ত্যাগের প্রতীক।
১০ দিনের সর্বোত্তম ব্যবহার
জিলহজের এই দিনগুলোয় ইবাদতের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভের অপার সুযোগ রয়েছে। নিচে কিছু গুরুত্বপূর্ণ আমল উল্লেখ করা হলো:
১. ফরজ পালন ও নফল আমল বৃদ্ধি: ফরজ ইবাদত পালন ও হারাম থেকে বিরত থাকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। রাসুল (সা.) বলেন, ‘আমার বান্দা যে কাজ দিয়ে আমার সবচেয়ে কাছে আসে, তা হলো আমি তার ওপর যা ফরজ করেছি।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬,৫০২)
এর পাশাপাশি নফল আমল বাড়ানো উচিত। যেমন ছোট হলেও নিয়মিত দান করা। ফজরের নামাজের পর সূর্যোদয় পর্যন্ত জিকির করলে হজ ও ওমরাহর সওয়াব পাওয়া যায় (তিরমিজি, হাদিস: ৫৮৬)। সূর্য পুরোপুরি ওঠার পর থেকে জোহরের ১৫ মিনিট আগপর্যন্ত দুই থেকে আট রাকাত নামাজ পড়া, যাকে ‘দুহা নামাজ’ বলে। পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত করলে প্রতিটি হরফের জন্য ১০ গুণ সওয়াব পাওয়া যায়। (তিরমিজি, হাদিস: ২,৯১০)
২. দোয়ার পরিমাণ বাড়ানো: দোয়া ইবাদতের মূল। সিজদা, রাতের শেষ তৃতীয়াংশ, রোজা ভাঙার আগে, আজান ও ইকামার মধ্যবর্তী সময় এবং বৃষ্টির সময় দোয়া কবুলের বিশেষ মুহূর্ত। এই সময়গুলোয় বেশি বেশি দোয়া করা উচিত।
৩. আরাফার দিনে রোজা: আরাফার দিনের রোজা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ। রাসুল (সা.) বলেন, ‘আরাফার দিনের রোজা বিগত ও আগামী এক বছরের গুনাহর কাফফারা হয়।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১৯৮৮)। রোজার সময় দোয়াও কবুল হয় (তিরমিজি, হাদিস: ৩,৪৯৮)
৪. জিকির বৃদ্ধি: জিলহজের এই দিনগুলোয় তাহলিল (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ), তাকবির (আল্লাহু আকবার) ও তাহমিদ (আলহামদুলিল্লাহ) বেশি বেশি বলা উচিত। রাসুল (সা.) বলেন, ‘এই ১০ দিনে তাহলিল, তাকবির ও তাহমিদ বৃদ্ধি করো।’ (মুসনাদ আহমাদ, হাদিস: ৭,৮৪৮)
৫. তওবা ও ক্ষমাপ্রার্থনা: মানুষ হিসেবে আমরা প্রায়ই পাপে লিপ্ত হই। তাই নিয়মিত তওবা করা জরুরি। রাসুল (সা.) বলেন, ‘প্রত্যেক আদম সন্তান পাপ করে, আর পাপীদের মধ্যে সর্বোত্তম তারা, যারা তওবা করে।’ (ইবনে মাজাহ, হাদিস: ৪,২৫১)
তওবার শর্ত হলো অনুশোচনা, পাপ ত্যাগের দৃঢ় সংকল্প ও অন্যের হক নষ্ট হলে তা পূরণ করা।
৬. আত্মীয়তার সম্পর্ক জোরদার করা: আত্মীয়দের সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষা করা ইসলামে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি তার আয় বৃদ্ধি ও আয়ু বৃদ্ধি কামনা করে, সে যেন তার আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করে।’ (তিরমিজি, হাদিস: ১,৯২৯)
এমনকি যারা সম্পর্ক ছিন্ন করে, তাদের সঙ্গেও সম্পর্ক রক্ষা করাই প্রকৃত আত্মীয়তা। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫,৯৮৪)
এই সময়ে ক্ষোভ ও বিবাদ ভুলে আত্মীয় ও বন্ধুদের সঙ্গে মিলনের উদ্যোগ নেওয়া উচিত।
৭. সৎ গুণাবলি অবলম্বন: হজ পালনকারীরা এই সময়ে বিবাদ ও অবাধ্যতা থেকে বিরত থাকেন। আমাদেরও তা–ই করা উচিত। কাউকে ক্ষমা করা, অসুস্থদের দেখতে যাওয়া, অভাবীদের সাহায্য করা এবং সত্য ও ন্যায়ের কথা বলা এই সময়ের বিশেষ আমল।
৮. চুল ও নখ না কাটা: কোরবানির উদ্দেশ্যে জিলহজ মাস শুরু হলে চুল ও নখ না কাটার নির্দেশ রয়েছে, এতে একটি কোরবানির সওয়াব পাওয়া যায়। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১,৯৭৭)
৯. কোরবানি: পবিত্র ঈদুল আজহার দিন কোরবানি একটি মহান ইবাদত। এটি হজরত ইবরাহিম (আ.)–এর ত্যাগের স্মারক। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, ‘তাদের মাংস বা রক্ত আল্লাহর কাছে পৌঁছায় না; বরং তোমাদের তাকওয়া তাঁর কাছে পৌঁছে।’ (সুরা হজ, আয়াত: ২২: ৩৭)
কোরবানির পশুর প্রতিটি পশমের জন্য সওয়াব রয়েছে। (তিরমিজি, হাদিস: ১,৪৯৩)
১০. ঈদের নামাজ: জিলহজের দশম দিনে ঈদের নামাজ মুসলিম সম্প্রদায়ের ঐক্য ও সংহতির প্রতীক। রাসুল (সা.) সবাইকে, এমনকি ঋতুমতী নারীদেরও (নামাজ থেকে অব্যাহতি থাকলেও) ঈদগাহে উপস্থিত থাকতে উৎসাহিত করেছেন।
জিলহজের প্রথম ১০ দিন সময়ে সৎকর্মের প্রতিদান অন্য যেকোনো সময়ের তুলনায় বহুগুণ বেশি। তাই আমাদের উচিত এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ইবাদত, তওবা, দান ও সম্পর্ক জোরদারে মনোযোগ দেওয়া। পাশাপাশি পাপ ও অবাধ্যতা থেকে দূরে থাকা জরুরি, যাতে এই মহিমান্বিত দিনগুলোর পূর্ণ বরকত লাভ করা যায়।
জিলহজ মাসের প্রথম ১০ দিনের ১০ আমল
জিলহজ মাসের প্রথম ১০ দিনের বিশেষ আমল ও ফজিলত
https://www.youtube.com/watch?v=-u6Xv7ZTdHk
জিলহজ মাসের প্রথম ১০ দিনের ১০ আমল
জিলহজ মাসের প্রথম ১০ দিন মুসলিম জীবনে এক অপূর্ব আধ্যাত্মিক সময়। মহান আল্লাহ এই দিনগুলোকে বিশেষ মর্যাদা দান করেছেন, যখন সৎকর্মের প্রতিদান বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘এমন কোনো দিন নেই, যেদিন সৎকর্ম আল্লাহর কাছে এই দিনগুলোর (জিলহজের প্রথম ১০ দিন) তুলনায় বেশি প্রিয়।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৯৬৯)
দিনগুলো কেন এত বিশেষ
জিলহজের প্রথম ১০ দিনের মর্যাদা বহুমুখী। প্রথমত, এই সময়ে ইসলাম ধর্মের পূর্ণতা লাভ করে। পবিত্র কোরআনে আছে, ‘আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দীনকে পূর্ণ করে দিয়েছি, তোমাদের প্রতি আমার নিয়ামত সম্পূর্ণ করেছি এবং ইসলামকে তোমাদের দীন হিসেবে মনোনীত করেছি।’ (সুরা মায়িদা, আয়াত: ৩)
দ্বিতীয়ত, ইমাম ইবনে হাজার (রহ.) বলেন, এই দিনগুলোয় ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভ—শাহাদাত, নামাজ, রোজা, হজ ও জাকাত একত্র হয়, যা অন্য কোনো সময়ে এভাবে মিলিত হয় না। এই দিনগুলোয় হজের মতো মহান ইবাদত পালিত হয়, যা মুসলিম জাতির ঐক্য ও ত্যাগের প্রতীক।
১০ দিনের সর্বোত্তম ব্যবহার
জিলহজের এই দিনগুলোয় ইবাদতের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভের অপার সুযোগ রয়েছে। নিচে কিছু গুরুত্বপূর্ণ আমল উল্লেখ করা হলো:
১. ফরজ পালন ও নফল আমল বৃদ্ধি: ফরজ ইবাদত পালন ও হারাম থেকে বিরত থাকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। রাসুল (সা.) বলেন, ‘আমার বান্দা যে কাজ দিয়ে আমার সবচেয়ে কাছে আসে, তা হলো আমি তার ওপর যা ফরজ করেছি।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬,৫০২)
এর পাশাপাশি নফল আমল বাড়ানো উচিত। যেমন ছোট হলেও নিয়মিত দান করা। ফজরের নামাজের পর সূর্যোদয় পর্যন্ত জিকির করলে হজ ও ওমরাহর সওয়াব পাওয়া যায় (তিরমিজি, হাদিস: ৫৮৬)। সূর্য পুরোপুরি ওঠার পর থেকে জোহরের ১৫ মিনিট আগপর্যন্ত দুই থেকে আট রাকাত নামাজ পড়া, যাকে ‘দুহা নামাজ’ বলে। পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত করলে প্রতিটি হরফের জন্য ১০ গুণ সওয়াব পাওয়া যায়। (তিরমিজি, হাদিস: ২,৯১০)
২. দোয়ার পরিমাণ বাড়ানো: দোয়া ইবাদতের মূল। সিজদা, রাতের শেষ তৃতীয়াংশ, রোজা ভাঙার আগে, আজান ও ইকামার মধ্যবর্তী সময় এবং বৃষ্টির সময় দোয়া কবুলের বিশেষ মুহূর্ত। এই সময়গুলোয় বেশি বেশি দোয়া করা উচিত।
৩. আরাফার দিনে রোজা: আরাফার দিনের রোজা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ। রাসুল (সা.) বলেন, ‘আরাফার দিনের রোজা বিগত ও আগামী এক বছরের গুনাহর কাফফারা হয়।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১৯৮৮)। রোজার সময় দোয়াও কবুল হয় (তিরমিজি, হাদিস: ৩,৪৯৮)
৪. জিকির বৃদ্ধি: জিলহজের এই দিনগুলোয় তাহলিল (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ), তাকবির (আল্লাহু আকবার) ও তাহমিদ (আলহামদুলিল্লাহ) বেশি বেশি বলা উচিত। রাসুল (সা.) বলেন, ‘এই ১০ দিনে তাহলিল, তাকবির ও তাহমিদ বৃদ্ধি করো।’ (মুসনাদ আহমাদ, হাদিস: ৭,৮৪৮)
৫. তওবা ও ক্ষমাপ্রার্থনা: মানুষ হিসেবে আমরা প্রায়ই পাপে লিপ্ত হই। তাই নিয়মিত তওবা করা জরুরি। রাসুল (সা.) বলেন, ‘প্রত্যেক আদম সন্তান পাপ করে, আর পাপীদের মধ্যে সর্বোত্তম তারা, যারা তওবা করে।’ (ইবনে মাজাহ, হাদিস: ৪,২৫১)
তওবার শর্ত হলো অনুশোচনা, পাপ ত্যাগের দৃঢ় সংকল্প ও অন্যের হক নষ্ট হলে তা পূরণ করা।
৬. আত্মীয়তার সম্পর্ক জোরদার করা: আত্মীয়দের সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষা করা ইসলামে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি তার আয় বৃদ্ধি ও আয়ু বৃদ্ধি কামনা করে, সে যেন তার আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করে।’ (তিরমিজি, হাদিস: ১,৯২৯)
এমনকি যারা সম্পর্ক ছিন্ন করে, তাদের সঙ্গেও সম্পর্ক রক্ষা করাই প্রকৃত আত্মীয়তা। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫,৯৮৪)
এই সময়ে ক্ষোভ ও বিবাদ ভুলে আত্মীয় ও বন্ধুদের সঙ্গে মিলনের উদ্যোগ নেওয়া উচিত।
৭. সৎ গুণাবলি অবলম্বন: হজ পালনকারীরা এই সময়ে বিবাদ ও অবাধ্যতা থেকে বিরত থাকেন। আমাদেরও তা–ই করা উচিত। কাউকে ক্ষমা করা, অসুস্থদের দেখতে যাওয়া, অভাবীদের সাহায্য করা এবং সত্য ও ন্যায়ের কথা বলা এই সময়ের বিশেষ আমল।
৮. চুল ও নখ না কাটা: কোরবানির উদ্দেশ্যে জিলহজ মাস শুরু হলে চুল ও নখ না কাটার নির্দেশ রয়েছে, এতে একটি কোরবানির সওয়াব পাওয়া যায়। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১,৯৭৭)
৯. কোরবানি: পবিত্র ঈদুল আজহার দিন কোরবানি একটি মহান ইবাদত। এটি হজরত ইবরাহিম (আ.)–এর ত্যাগের স্মারক। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, ‘তাদের মাংস বা রক্ত আল্লাহর কাছে পৌঁছায় না; বরং তোমাদের তাকওয়া তাঁর কাছে পৌঁছে।’ (সুরা হজ, আয়াত: ২২: ৩৭)
কোরবানির পশুর প্রতিটি পশমের জন্য সওয়াব রয়েছে। (তিরমিজি, হাদিস: ১,৪৯৩)
১০. ঈদের নামাজ: জিলহজের দশম দিনে ঈদের নামাজ মুসলিম সম্প্রদায়ের ঐক্য ও সংহতির প্রতীক। রাসুল (সা.) সবাইকে, এমনকি ঋতুমতী নারীদেরও (নামাজ থেকে অব্যাহতি থাকলেও) ঈদগাহে উপস্থিত থাকতে উৎসাহিত করেছেন।
জিলহজের প্রথম ১০ দিন সময়ে সৎকর্মের প্রতিদান অন্য যেকোনো সময়ের তুলনায় বহুগুণ বেশি। তাই আমাদের উচিত এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ইবাদত, তওবা, দান ও সম্পর্ক জোরদারে মনোযোগ দেওয়া। পাশাপাশি পাপ ও অবাধ্যতা থেকে দূরে থাকা জরুরি, যাতে এই মহিমান্বিত দিনগুলোর পূর্ণ বরকত লাভ করা যায়।
জিলহজ মাসের প্রথম ১০ দিনের ১০ আমল
জিলহজ মাসের প্রথম ১০ দিনের বিশেষ আমল ও ফজিলত
https://www.youtube.com/watch?v=-u6Xv7ZTdHk
জিলহজ মাসের প্রথম ১০ দিনের ১০ আমল
জিলহজ মাসের প্রথম ১০ দিন মুসলিম জীবনে এক অপূর্ব আধ্যাত্মিক সময়। মহান আল্লাহ এই দিনগুলোকে বিশেষ মর্যাদা দান করেছেন, যখন সৎকর্মের প্রতিদান বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘এমন কোনো দিন নেই, যেদিন সৎকর্ম আল্লাহর কাছে এই দিনগুলোর (জিলহজের প্রথম ১০ দিন) তুলনায় বেশি প্রিয়।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৯৬৯)
দিনগুলো কেন এত বিশেষ
জিলহজের প্রথম ১০ দিনের মর্যাদা বহুমুখী। প্রথমত, এই সময়ে ইসলাম ধর্মের পূর্ণতা লাভ করে। পবিত্র কোরআনে আছে, ‘আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দীনকে পূর্ণ করে দিয়েছি, তোমাদের প্রতি আমার নিয়ামত সম্পূর্ণ করেছি এবং ইসলামকে তোমাদের দীন হিসেবে মনোনীত করেছি।’ (সুরা মায়িদা, আয়াত: ৩)
দ্বিতীয়ত, ইমাম ইবনে হাজার (রহ.) বলেন, এই দিনগুলোয় ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভ—শাহাদাত, নামাজ, রোজা, হজ ও জাকাত একত্র হয়, যা অন্য কোনো সময়ে এভাবে মিলিত হয় না। এই দিনগুলোয় হজের মতো মহান ইবাদত পালিত হয়, যা মুসলিম জাতির ঐক্য ও ত্যাগের প্রতীক।
১০ দিনের সর্বোত্তম ব্যবহার
জিলহজের এই দিনগুলোয় ইবাদতের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভের অপার সুযোগ রয়েছে। নিচে কিছু গুরুত্বপূর্ণ আমল উল্লেখ করা হলো:
১. ফরজ পালন ও নফল আমল বৃদ্ধি: ফরজ ইবাদত পালন ও হারাম থেকে বিরত থাকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। রাসুল (সা.) বলেন, ‘আমার বান্দা যে কাজ দিয়ে আমার সবচেয়ে কাছে আসে, তা হলো আমি তার ওপর যা ফরজ করেছি।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬,৫০২)
এর পাশাপাশি নফল আমল বাড়ানো উচিত। যেমন ছোট হলেও নিয়মিত দান করা। ফজরের নামাজের পর সূর্যোদয় পর্যন্ত জিকির করলে হজ ও ওমরাহর সওয়াব পাওয়া যায় (তিরমিজি, হাদিস: ৫৮৬)। সূর্য পুরোপুরি ওঠার পর থেকে জোহরের ১৫ মিনিট আগপর্যন্ত দুই থেকে আট রাকাত নামাজ পড়া, যাকে ‘দুহা নামাজ’ বলে। পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত করলে প্রতিটি হরফের জন্য ১০ গুণ সওয়াব পাওয়া যায়। (তিরমিজি, হাদিস: ২,৯১০)
২. দোয়ার পরিমাণ বাড়ানো: দোয়া ইবাদতের মূল। সিজদা, রাতের শেষ তৃতীয়াংশ, রোজা ভাঙার আগে, আজান ও ইকামার মধ্যবর্তী সময় এবং বৃষ্টির সময় দোয়া কবুলের বিশেষ মুহূর্ত। এই সময়গুলোয় বেশি বেশি দোয়া করা উচিত।
৩. আরাফার দিনে রোজা: আরাফার দিনের রোজা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ। রাসুল (সা.) বলেন, ‘আরাফার দিনের রোজা বিগত ও আগামী এক বছরের গুনাহর কাফফারা হয়।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১৯৮৮)। রোজার সময় দোয়াও কবুল হয় (তিরমিজি, হাদিস: ৩,৪৯৮)
৪. জিকির বৃদ্ধি: জিলহজের এই দিনগুলোয় তাহলিল (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ), তাকবির (আল্লাহু আকবার) ও তাহমিদ (আলহামদুলিল্লাহ) বেশি বেশি বলা উচিত। রাসুল (সা.) বলেন, ‘এই ১০ দিনে তাহলিল, তাকবির ও তাহমিদ বৃদ্ধি করো।’ (মুসনাদ আহমাদ, হাদিস: ৭,৮৪৮)
৫. তওবা ও ক্ষমাপ্রার্থনা: মানুষ হিসেবে আমরা প্রায়ই পাপে লিপ্ত হই। তাই নিয়মিত তওবা করা জরুরি। রাসুল (সা.) বলেন, ‘প্রত্যেক আদম সন্তান পাপ করে, আর পাপীদের মধ্যে সর্বোত্তম তারা, যারা তওবা করে।’ (ইবনে মাজাহ, হাদিস: ৪,২৫১)
তওবার শর্ত হলো অনুশোচনা, পাপ ত্যাগের দৃঢ় সংকল্প ও অন্যের হক নষ্ট হলে তা পূরণ করা।
৬. আত্মীয়তার সম্পর্ক জোরদার করা: আত্মীয়দের সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষা করা ইসলামে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি তার আয় বৃদ্ধি ও আয়ু বৃদ্ধি কামনা করে, সে যেন তার আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করে।’ (তিরমিজি, হাদিস: ১,৯২৯)
এমনকি যারা সম্পর্ক ছিন্ন করে, তাদের সঙ্গেও সম্পর্ক রক্ষা করাই প্রকৃত আত্মীয়তা। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫,৯৮৪)
এই সময়ে ক্ষোভ ও বিবাদ ভুলে আত্মীয় ও বন্ধুদের সঙ্গে মিলনের উদ্যোগ নেওয়া উচিত।
৭. সৎ গুণাবলি অবলম্বন: হজ পালনকারীরা এই সময়ে বিবাদ ও অবাধ্যতা থেকে বিরত থাকেন। আমাদেরও তা–ই করা উচিত। কাউকে ক্ষমা করা, অসুস্থদের দেখতে যাওয়া, অভাবীদের সাহায্য করা এবং সত্য ও ন্যায়ের কথা বলা এই সময়ের বিশেষ আমল।
৮. চুল ও নখ না কাটা: কোরবানির উদ্দেশ্যে জিলহজ মাস শুরু হলে চুল ও নখ না কাটার নির্দেশ রয়েছে, এতে একটি কোরবানির সওয়াব পাওয়া যায়। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১,৯৭৭)
৯. কোরবানি: পবিত্র ঈদুল আজহার দিন কোরবানি একটি মহান ইবাদত। এটি হজরত ইবরাহিম (আ.)–এর ত্যাগের স্মারক। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, ‘তাদের মাংস বা রক্ত আল্লাহর কাছে পৌঁছায় না; বরং তোমাদের তাকওয়া তাঁর কাছে পৌঁছে।’ (সুরা হজ, আয়াত: ২২: ৩৭)
কোরবানির পশুর প্রতিটি পশমের জন্য সওয়াব রয়েছে। (তিরমিজি, হাদিস: ১,৪৯৩)
১০. ঈদের নামাজ: জিলহজের দশম দিনে ঈদের নামাজ মুসলিম সম্প্রদায়ের ঐক্য ও সংহতির প্রতীক। রাসুল (সা.) সবাইকে, এমনকি ঋতুমতী নারীদেরও (নামাজ থেকে অব্যাহতি থাকলেও) ঈদগাহে উপস্থিত থাকতে উৎসাহিত করেছেন।
জিলহজের প্রথম ১০ দিন সময়ে সৎকর্মের প্রতিদান অন্য যেকোনো সময়ের তুলনায় বহুগুণ বেশি। তাই আমাদের উচিত এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ইবাদত, তওবা, দান ও সম্পর্ক জোরদারে মনোযোগ দেওয়া। পাশাপাশি পাপ ও অবাধ্যতা থেকে দূরে থাকা জরুরি, যাতে এই মহিমান্বিত দিনগুলোর পূর্ণ বরকত লাভ করা যায়।
জিলহজ মাসের প্রথম ১০ দিনের ১০ আমল
Best 10 days of the year islam
The first ten days of Dhul Hijjah, the 12th and final month of the Islamic calendar, are considered the best ten days of the year for Muslims, even more so than the last ten days of Ramadan.
Within Islam, several verses and ahadith emphasise the importance of Dhul Hijjah and its first 10 days as the holiest days of the year. As the Creator of the universe and beyond, when Allah (SWT) swears an oath by something, it is indicative of how important and of great benefit they are to us as His creations.
What to do in 10 days of Zil Hajj?
Read as much as you can, even if it is a few verses each day from Qur;an. There are a number of extra prayers you can observe during the day to increase your worship and good deeds. Use these blessed days to seek forgiveness for all our wrongdoings. Give in charity in these blessed days, as much as you can.
There are no days in which righteous deeds are more beloved to Allah than these ten days (Dhul Hijjah) . (Al-Bukhari)
https://www.youtube.com/watch?v=lFadjE7913s&t=15s
https://www.youtube.com/watch?v=DHutPkWpbmc
https://www.youtube.com/watch?v=SAu2X76eCgU