ছোট করে যদি আমার জীবন বৃত্তান্ত দিতেই হয় তাহলে বলতে হয় যে-
আমি একজন সাধারণ ছেলে, ইন্ট্রোভার্ট ও ভাবুক প্রকৃতির, দর্শন, ধর্ম-তত্ত, ইতিহাস, ভূগোল ইত্যাদি নিয়ে প্রচুর আগ্রহ আছে আমার।
ক্রিকেট, সুপারহিরো ও সিনেমা নিয়ে প্রচুর ফেসিনেটেড, আমার সমবয়সী ছেলে-মেয়েদের চিন্তাভাবনা থেকে আমারটা একটু আলাদা,
সিম্পেল, বোরিং এভারেজ বাট ইয়েট ইন্ট্রেস্টীং।
জন্ম আমার সোনার চামচ মুখে দিয়ে হলেও সে চামচ আর স্বর্ণের থাকে নি, পিতলের চামচে বদলে যায়, উচ্চবিত্ত-মধ্যবিত্ত-নিম্নবিত্ত, পৃথিবীতে খুব কম মানুষই এতো কম বয়সে জীবনের ৩ টা স্তর দেখেছে,
এজন্যই হয়তো আমার সমবয়সীদের চেয়ে আমি তুলনামূলক ম্যাচুর ছিলাম, স্কুল-লাইফে অনেকবার অনেকজনকে ভালো বন্ধু ভেবে ভুল করেছি, কিন্তু তারা আমার নামটাও মনে রাখেনি,
আমার ছোট বেলার বন্ধুরা সব-সময় আমাকে আন্ডারাস্টিমেট করতো, তাদের থেকে আমি খুব একটা আলাদাও ছিলাম না, কোনো পার্থক্য ছিলো না, পার্থক্য থাকলেও, তা কিছু সবুজ কাগজের।
অনলাইনে একবার মেন্টাল এইজ টেস্ট নিয়েছিলাম, আমার মানসিক বয়স ৪০ এসেছিলো, আমি এতে কিছুটা সহমত পোষণ করি কারণ সম-সাময়িক বেশিরভাগ ব্যাপারগুলোর প্রতি আমার কখনই আগ্রহ জন্মায়নি, আমি আমার দেশ আর সমাজ নিয়ে অনেক ভাবি, ছোটবেলায় আমার দেশের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার ইচ্ছে ছিলো, এখনও আছে, তবে রাজনীতিতে ঢুকার সাহস নেই,
আমার আরবি শিক্ষক আমাকে একবার বলেছিলেন,
" তুমি ভবিষ্যতে অনেক বড় কিছু হবে কারণ তুমি দেশ আর সমাজকে নিয়ে অনেক ভাবো",
ভবিষ্যতের কথা বলতে পারি না কিন্তু এটা বলতে পারি যে আমি সবসময়ই ভাবুক প্রকৃতির ছিলাম।
আসলে, যেসব মানুষ পৃথিবী বা সমাজ বদলে ফেলার কথা বলে, তারা বেশীরভাগ সময়েই প্রচুর ডিপ্রেশন আর স্ট্রেসে ভোগে, কারন তাদের ইচ্ছা, বাস্তবতার সাথে মিল খায় না।
একটা সময় প্রচুর গেইম খেলতাম কিন্তু এখন আর নেই বললেই চলে, কখনই ক্লেশ অফ ক্লেন, পাবজি, ফ্রি-ফায়ার এগুলা খেলা হয়নি,
কার্টুনেরও একই অবস্থা কার্টুন না দেখলে ভাত হজম হতো না, আগে বাসায় কার্ডবোর্ড বা ককশিট পেলে, বসে বসে কারুশিল্প বানাতাম অথবা বসে বসে ছবি আঁকতাম, মিস করি ঐ সময়টাকে,
ছোট থাকতেই জীবন ছিলো, এখন খালি বেঁচে আছি, বাস্তবে সময় ও বিবর্তনের সংজ্ঞা আলাদা-আলাদা হলেও, দুটো আসলে একই জিনিস, সময় মানুষকে বদলে ফেলে।
খাবারের বেলায় আমি একটু বাছাইকারী, মানে সবকিছু খাই না, কিন্তু স্ট্রীট ফুড আমার একটা দুর্বলতা,
কখনই কোনো বাজে জিনিসের ধারে-কাছে যায়নি, তবে চা আর চানাচুরের নেশা আছে আরকি,
আমি যদি কোনো সোশ্যাল মিডিয়া একাউন্ট না খুলতাম, তাহলে হয়তো কেউ আমাকে মনেই রাখতো না, সোশ্যাল মিডিয়াতে পার্সোনাল প্রকাশ করি না, সোশ্যাল মিডিয়াতে মানুষ আলাদা একটা জীবন যাপনের চেষ্টা করে, সত্যিকার জীবনে আমি যা নই, সোশ্যাল মিডিয়াতে আমি তা সাঁজতে যাবো কেনো?,
আমার বন্ধুদের যদি কোনো উপকারের দরকার হয় অথবা ওদের যদি কোনো সু-খবর আসে, তাহলে আমি ওদের থেকে আরো বেশী excited বা nervous হয়ে যাই,
এজন্যই আমি ফেইসবুক বায়োতে, "শখের লোক-হিতৈষী" লেখা।
আমার আবার গান গাওয়ার ট্যালেন্ট আছে, যদিও কখনও শেখা হয়নি, ছবিও আঁকি ভালো, আমার রাশিফল অনুযায়ী আমি বহুল প্রতিভাশালী, যদিও আমি এস্ট্রোলোজিতে বিশ্বাস করি না, কিন্তু এই ক্ষেত্রে আমি একমত,
আমি কখনই আমার প্রতিভার প্রকাশ করতে পারিনি, এমনকি জ্ঞানেরও প্রয়োগ করতে পারিনি, প্রয়োজনের চেয়ে বেশি জ্ঞান অর্জন অনেক সময় বিপত্তির কারন হয়ে দাঁড়াতে পারে।
ছাত্র হিসেবে ভালোই এখন অব্দি, ফার্স্ট-মিডেল-লাস্ট সব ধরণের বেঞ্চেই বসা হয়েছে, সবাই ফার্স্ট বেঞ্চার আর ব্যাক বেঞ্চারদের কথাই বলে, কিন্তু মিডেল বেঞ্চাররা সবসময় আড়ালেই থেকে যায়, হোক সেটা মানুষের আলোচনায় অথবা জীবনের ক্ষেত্রগুলোতে, আমিও নিজেকে মিডেল বেঞ্চার হিসেবেই দাবী করি।
স্কুলে যাওয়াটা বেশী একটা ভালো লাগতো না, ক্লাস-৭ কম উপস্থিতির কারনে আমাকে পরীক্ষা দিতে দেয়া হয়নি, এজন্য একটা ধাক্কা খেয়েছিলাম, কিন্তু ৯-১০ এর স্কুল-লাইফটা আমার জীবনের সেরা ছিলো, এগুলো ভাবলে নস্টালজিয়ায় পরে যাই মাঝে মাঝে, আসলে "নস্টালজিয়া" শব্দটা গল্পের বইয়েই ভালো মানায়, বাস্তব জীবনে এর প্রতিশব্দ হচ্ছে আফসোস, যদি না মানুষ টাইম মেশিন বানিয়ে ফেলে।
সমাজে যারা সফিস্টিকেটেড ব্যক্তিত্ব হিসেবে গণ্য, তাদেরকে খুবই সহজ-সরল জীবন যাপন করতে দেখেছি, তারা সমাজের বিত্তশালীদের তালিকায়েও পরে না, তারা কিছুটা ইনভিসিবল, আমার ক্ষেত্রেও এটা প্রযোজ্য।
পৃথিবীর প্রত্যেকটি মানুষই নিজেকে দুনিয়ার সবচেয়ে ভালো মানুষ মনে করে আবার নিজেকেই সবচেয়ে খারাপ মানুষটিও মনে করে, মানুষের বাহ্যিক দিক আর অভ্যন্তরীণ দিক বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই একরকম থাকে না, মরিচা সবার হৃদয়েই আছে,পৃথিবীর কোনো মানুষই ধোয়া তুলসীপাতা না, যার যার নিজস্ব একটা কাহিনী আছে, আমার বেলাও এর বিপরীত না।
আমি মনে করি তারাতারি মরে গেলেই ভালো, গুনাহর পরিমান কম থাকবে, আমি মারা গেলে, অন্যদের কী রিয়েকশন আসে, সেটা দেখারও অনেক ইচ্ছে, কিন্তু মনে হয় না এটা সম্ভব।
মাঝে মাঝে মনে হয়, আমার লাইফটা একটা সিনেমা আর আমি ঐ সিনেমার প্রধান চরিত্র।
আমার আর আমার পরিবারে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলোকে নিয়ে একটা সিনেমা বানানো গেলে, সে সিনেমা অস্কার না হোক মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কারতো পাবেই।
পরিশেষে, এখন অব্দি এতোটুকুই আর বাঁকিটা বাঁচার চেষ্টা করছি, যতদিনই আছে।