ডুয়েট ভর্তি পরীক্ষার শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি ডুয়েট ভর্তি পরীক্ষার শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি দেশে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের স্বপ্নের বিদ্যাপীঠ ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ডুয়েট), গাজীপুর। ডুয়েটই একমাত্র ইঞ্জিনিয়ারিং বিশ্ববিদ্যালয় যেখানে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার সুযোগ পেতে হলে আরেকটি ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রী অর্জন করে আসতে হয়। অংশ নিতে হয় ভর্তি পরীক্ষায়। তাই মনে রাখতে হবে, অন্যান্য প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডুয়েটের ভর্তি পরীক্ষার নিয়ম সম্পূর্ণই আলাদা। তাই ডুয়েটে ভর্তির জন্য প্রথমেই জেনে নিতে হবে সম্পূর্ণ সিলেবাস, মানতে হবে কিছু বিশেষ কৌশল। প্রস্তুতির জন্য করতে হবে কঠোর অধ্যবসায় ও পরিশ্রম। আগামী ২১ মে, ২০১৬-২০১৭ সেশনের বিএসসি ইঞ্জিঃ / ব্যাচেলর অব আর্কিটেকচার প্রোগ্রামে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ডুয়েট ভর্তি পরীক্ষা। শেষ মুহূর্তের যথাযথ প্রস্তুতি যেকেনো ভর্তি পরীক্ষাতে সাফল্য বয়ে নিয়ে আসতে পারে। পরিকল্পনা আঁটুন, আত্মবিশ্বাস বাড়ান: শেষ সময়ের প্রস্তুতির জন্য প্রথমেই বাকি দিনগুলোর সদ্ব্যবহার করতে হবে। এজন্য দরকার সুন্দর পরিকল্পনা। এ সময়ে নতুন করে কিছু না পড়ে পুরোনো বিষয়বস্তুগুলোকে ভালোভাবে ঝালাই করে নিতে হবে। কোচিং সেন্টারের মডেল টেষ্টের জন্য নিজেকে প্রস্তত করতে হবে । মডেল টেষ্টে ভালো নম্বর তোলার চেষ্টা করতে হবে। মডেল টেষ্টে সন্তোষজনক নম্বর পেলে আত্নবিশ্বাস বেড়ে দ্বিগুন হয়ে যায়। আত্নবিশ্বাস বাড়ানোর জন্য বিগত বছরের প্রশ্নগুলোও সমাধান করা যেতে পারে। চূড়ান্ত ভর্তি পরীক্ষায় ভালো করার জন্য আত্নবিশ্বাসই হচ্ছে প্রধান পুঁজি। পরীক্ষার হলে করণীয়: ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র দুইটি অংশে বিভক্ত থাকবে। প্রথম পত্রে পদার্থ, রসায়ন, গণিত ও ইংরেজী মিলিয়ে থাকবে ১৫০ নম্বরের প্রশ্ন। যার জন্য সময় থাকবে এক ঘন্টা। প্রথম পত্রে প্রশ্ন থাকবে ২০-২২ টার মত। যার প্রতিটা প্রশ্নে সময় পাওয়া যাবে গড়ে প্রায় দুই মিনিট করে। প্রশ্নপত্রের দ্বিতীয় অংশে থাকবে টেকনিক্যাল বিষয় যা নিজ নিজ ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং সিলেবাসের অন্তর্ভুক্ত। এ অংশে প্রশ্ন থাকবে ১৪-১৫ টির মত। এ অংশেও সময় থাকবে এক ঘন্টা যার প্রতিটি প্রশ্নের জন্য সময় থাকবে গড়ে চার মিনিট করে। তাই সময় অপচয় না করে যে প্রশ্নগুলোর উওর পুরোপুরি সঠিক জানা আছে সেগুলো দ্রুত লিখে ফেলতে হবে। বাকী সময়ে অবশিষ্ট প্রশ্নগুলোর উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করতে হবে। প্রতিটা উওরই আত্নবিশ্বাসের সাথে দিতে হবে। অযথা ভুল উওর দিয়ে সময় অপচয় করার কোনো সুযোগ নেই। জেনে রাখা ভালো, সকল বিষয়ে মোট নম্বরের ২০%-২৫% এমসিকিউ থাকবে। ভর্তি পরীক্ষায় সর্বনিম্ন পাশ নম্বর ৪০%। একটু বেশিই গুরুত্ব দিন: এবার আসি কী কী বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমপত্রের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে গণিত। প্রায় সবগুলোই অঙ্ক হুবহু পাওয়া যায়। উদাহরণগুলো ভালভাবে বুঝে করলে অনুশীলনী পারা যায়। তবে গণিতের জন্য প্রচুর প্র্যাকটিস থাকতে হবে। গণিত অংশটুকু নির্ভুল ভাবে সমাধান করতে পারলে একধাপ এগিয়ে থাকা যায়। পদার্থ ও রসায়নের জন্য ভৌত অংশের উপর ভালোভাবে প্রস্তুতি নিতে হবে। ইংরেজী প্রস্তুতির জন্য গ্রামার অংশ বেশী গুরুত্বপূর্ণ। ইংরেজীর উপর ভালো দক্ষতা সবসময়ই সব পরীক্ষায় সবার থেকে নিজেকে একধাপ এগিয়ে রাখে। এবার আসি টেকনিক্যাল অংশের প্রস্তুতি নিয়ে। স্ব স্ব ডিপার্টমেন্টের বিগত বছরের ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নগুলো ভালোভাবে দেখলে বুঝা যাবে, কোন কোন বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ। সেগুলোর উপর জোড় দিয়ে পুরো সিলেবাসটাকে দক্ষতার মধ্যে রাখতে হবে। দ্বিতীয়পত্রে ভালো নম্বর তোলা প্রথমপত্র থেকে অপেক্ষাকৃত সহজ। তাই বেশি নম্বর এই অংশেই পেয়ে এগিয়ে থাকতে হবে। এই অংশে প্রশ্নের মান বেশি থাকে তাই ভুলের পরিমাণ কম রেখে সতর্কভাবে উত্তর দিতে হবে। না হলে, একটি ভুলের কারণে কয়েকশ পরীক্ষার্থীর পিছনে পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকবে। বাড়তি নজর : প্রস্তুতি নেওয়ার সময় প্রত্যেকটি অধ্যায় অধ্যয়ন শেষে সুত্রগুলো ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো আলাদা করে নোট করে রাখতে হবে যাতে পরীক্ষার হলে যাওয়ার আগে এক ঝলক দেখে নেওয়া যায়। এতে করে পরীক্ষার হলে সূত্র মনে করা নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দে পড়তে হয় না। মনে রাখতে হবে, প্রথম ও দ্বিতীয় পত্রের সবগুলো প্রশ্নের উত্তর কেউই দিতে পারবে না, কিংবা চান্স পাওয়ার জন্য সবগুলো উত্তর দেওয়ার প্রয়োজন নেই। তাই নির্ভুলভাবে সময় বিবেচনা করে যা পারি তাই প্রশ্নপত্রে উত্তর করাটা জরুরী। পরীক্ষার হলের দুই ঘন্টার পারফমেনসই সব কিছু বদলে দিতে পারে। পরীক্ষার হলে নিজের উপর আস্থা রেখে ঠান্ডা মাথায় যুদ্ধ চালিয়ে যেতে হবে। প্রশ্নপত্র অনুকুলে না থাকলেও হতাশ হওয়া যাবে না। কারন এইটা অনেকের জন্যও অনুকুলের বাইরে থাকতে পারে। মনে রাখতে হবে আমি যেটা পারছি হয়তো অনেকেই তা পারছে না। তাই পরীক্ষার হলে কোনো কারণে বিচলিত না হয়ে শেষ সময় পর্যন্ত ‘যুদ্ধ’ চালিয়ে যেতে হবে। সবার জন্য অনেক অনেক শুভ কামনা। কার্টিজ :সাজ্জাদ হোসেন সৌরভ সাবেক পরিচালক, “ঢাকা” ডুয়েট ভর্তি কোচিং