বলিউডের রূপসজ্জা শিল্পীর বিরুদ্ধে ৬.১৫ কোটির প্রতারণার অভিযোগ, তদন্তে মুম্বই পুলিশ
নিজস্ব প্রতিনিধিঃ বলিউডের প্রখ্যাত মেকআপ শিল্পীর বিরুদ্ধে ৬.১৫ কোটি টাকার আর্থিক প্রতারণার অভিযোগ। গামদেবী পুলিশ রূপসজ্জা শিল্পী চিরাগ ব্যাম্বোটের বিরুদ্ধে একটি FIR দায়ের করা হয়েছে। রূপসজ্জা শিল্পীর বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি একজন শিল্প রাসায়নিক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ৬.১৫ কোটি টাকা প্রতারণা করেছেন। তাঁর বিরুদ্ধে ৪০৬ (বিশ্বাসের ফৌজদারি লঙ্ঘন), ৪০৯ (সরকারি কর্মচারী, ব্যাংকার, বণিক বা এজেন্ট দ্বারা বিশ্বাসের অপরাধমূলক লঙ্ঘন) এবং ১২০B (অপরাধী ষড়যন্ত্র) ধারায় অধীনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রের খবর, চিরাগ ব্যাম্বোট ছাড়াও রাকেশ শেট্টি, তাঁর স্ত্রী তামসিন শেখের বিরুদ্ধেও একটি FIR-এ নথিভুক্ত করা হয়েছে। অভিযোগকারী, বিরাজ শাহ হলেন একজন শিল্প রাসায়নিক ব্যবসায়ী।
তিনি পুলিশের কাছ জানিয়েছেন, ২০২১ সাল থেকে তিনি জালিয়াতির শিকার হচ্ছেন। ব্যবসায়ী বিরাজ শাহের অফিসে চিরাগের আর্থিক সমস্যার কথা প্রথম জানিয়েছিলেন চিরাগের দাদা, ইন্টেরিয়র ডিজাইনার ড্যারিয়াস ব্যাম্বোট। তিনি শাহের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। তিনি জানিয়েছালেন, COVID-19 মহামারী চলাকালীন ব্যবসায়িক ক্ষতির কারণে, চিরাগ কর্মীদের বেতন এবং ভাড়া পরিশোধ করতে পারছেন না। ফলে তিনি আর্থিক ভাবে ভেঙে পড়েছেন। এরপর বিরাজ শাহের কাছে ভাইয়ের জন্যে আর্থিক সাহায্য চান ড্যারিয়াস ব্যাম্বোট। এরপর ২০২২ সালের এপ্রিল মাসে, ব্যবসায়ী বিরাজ শাহ চিরাগের সঙ্গে দেখা করেন। চিরাগের সংস্থার নাম, ম্যাজিকাল মেকওভার প্রাইভেট লিমিটেড। চিরাগ তাঁর এই সংস্থা দেখিয়ে শাহকে বলেন, তাঁর এই ব্যবসা থেকে প্রচুর লাভ হয়।
কিন্তু মহামারীর কারণে তিনি ব্যাপকভাবে লোকসানের মুখে পড়েছেন, তাই তাঁর আর্থিক সাহায্যের দরকার। এরপর বিরাজ শাহ চিরাগকে আর্থিকভাবে সাহায্য করতে সম্মত হন। যদিও তখন চিরাগ কোম্পানির ৪৯% ইক্যুইটি তাঁকে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। এরপর ২০২২ সালে বিরাজ শাহ তাঁর ব্যক্তিগত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে প্রায় ৪১ লক্ষ টাকা স্থানান্তর করেন চিরাগের ব্যবসায়িক অ্যাকাউন্টে। এমনভাবে ২০২৩ সালের অক্টোবর পর্যন্ত শাহ চিরাগকে প্রায় ৩.১৬ টাকা দিয়ে ফেলেন। এরপর চিরাগ নতুন স্কিন ট্রিটমেন্ট ব্যবসার প্রস্তাব দেন শাহকে এবং তাঁর সঙ্গে রাকেশ শেট্টির পরিচয় করিয়ে দেন।
তাদের পরিকল্পনায় রাজি হয়ে শাহ আরও বিনিয়োগ করতে রাজি হন। এবং শাহ তাঁর কোম্পানি, হেভি কেমিক্যালস কর্পোরেশনের অধীনে মোট ৬.১৫ কোটি টাকা বিনিয়োগ করে ফেলেন চিরাগের ব্যবসার উন্নতির জন্যে। অভিযোগকারী শাহের দাবি, বারবার প্রচেষ্টা সত্ত্বেও, চিরাগ কখনই তাঁকে অংশীদারি দলিল দেননি। ১৫ জুলাই, ২০২৩-এ , একটি নোটারাইজড দলিল স্বাক্ষর করা হয়েছিল, ২৫ % অংশীদারিত্বের প্রতিশ্রুতি দিয়েও চিরাগ তা পূরণ করেননি। এরপরেই তিনি থানায় অভিযোগ জানাতে বাধ্য হন।















