আল্লাহ্ কিভাবে কথা বলেন
আল্লাহ কি কথা বলেন?
কোরআনের আয়াত ও বিশুদ্ধ হাদিস দ্বারা প্রমাণিত আল্লাহ তাআলা কথা বলেন। তবে তাঁর কথা বলার ধরন আমাদের মতো নয়। তিনি তাঁর মর্যাদা ও শান অনুযায়ী কথা বলেন। আল্লাহর সব কথা সত্য।
সৃষ্টি জীবের জন্য তাঁর কথা অলঙ্ঘনীয়। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আমি বললাম, তোমরা সবাই এই স্থান থেকে নেমে যাও।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ৩৮)
অন্য আয়াতে ইরশাদ হয়েছে, ‘আল্লাহ সত্য কথাই বলেন এবং তিনিই সরল পথ নির্দেশ করেন।’ (সুরা : আহজাব, আয়াত : ৪)
পৃথিবীতে সাধারণ মানুষের পক্ষে আল্লাহর সঙ্গে কথা বলার সুযোগ নেই।
তবে পরকালে আল্লাহর সাক্ষাৎ লাভ করবে মুমিন বান্দারা এবং তারা আল্লাহর কথা শুনতে পাবে। এমনকি বিচারের পাপীদের সঙ্গে আল্লাহর বাক্যালাপ হবে। নবী (সা.) বলেছেন, আল্লাহ জাহান্নামিদের মধ্যে যার ওপর সবচেয়ে হালকা শাস্তি প্রয়োগ করা হয়েছে তাকে বলবেন, তুমি যদি সব কিছুর মালিক হয়ে যাও তবে তুমি কি তা মুক্তিপণ হিসেবে দেবে? সে বলবে, হ্যাঁ, তিনি বলবেন, আমি তোমার কাছে এর চেয়ে কম চেয়েছিলাম। যখন তুমি আদমের ঔরসে ছিলে—(তা হলো) আমার সঙ্গে কোনো কিছুকে অংশীদার করবে না, কিন্তু তুমি আমার সঙ্গে অংশীদার না করে ক্ষান্ত হওনি।
(সহিহ বুখারি, হাদিস : ৬৫৫৭)
দুনিয়ায় নবী-রাসুলদের সঙ্গে মহান আল্লাহর কথা হয়েছে। বেশির ভাগ সময় ওহির মাধ্যমে, কখনো কখনো কোনো মাধ্যম ছাড়া। যেমন—ইরশাদ হয়েছে, ‘মুসার সঙ্গে আল্লাহ সাক্ষাৎ বাক্যালাপ করেছিলেন।’ (সুরা : নিসা, আয়াত : ১৬৪)
আল্লাহ্ কিভাবে কথা বলেন
‘আল্লাহ সত্য কথাই বলেন এবং তিনিই সরল পথ নির্দেশ করেন।
ইসলামী বিশ্বাস অনুযায়ী, আল্লাহ তাআলা ওহীর মাধ্যমে বা সরাসরি কথা বলেন না, বরং তিনি নবী-রাসুলদের উপর কোরআন ও অন্যান্য আসমানী কিতাবের মাধ্যমে তাঁর বাণী নাযিল করেছেন, এবং কখনো কখনো বিশেষ ইঙ্গিতের মাধ্যমেও কথা বলেছেন। এই নির্দেশনাগুলো মানুষের জন্য হেদায়েত ও সঠিক পথপ্রদর্শন করে থাকে।
আল্লাহ কীভাবে কথা বলেন:
ওহী নাযিল করা:
আল্লাহ তাঁর বাণীসমূহ সরাসরি জিবরাঈল (আঃ) এর মাধ্যমে নবী-রাসুলদের উপর নাযিল করতেন।
কোরআন ও আসমানী কিতাব:
কোরআন হলো আল্লাহর শেষ ও পূর্ণাঙ্গ বাণী যা তিনি তার রাসুল মুহাম্মদ (সাঃ) এর মাধ্যমে মানবজাতির জন্য পাঠিয়েছেন। এই কোরআনই আল্লাহর কথা।
বিশেষ ইঙ্গিত:
আল্লাহ কখনো কখনো বিশেষ ইঙ্গিতের মাধ্যমেও তাঁর বান্দাদের সাথে কথা বলেছেন।
এইভাবে, আল্লাহ তাঁর মনোনীত নবী-রাসুলদের মাধ্যমে তাঁর ইচ্ছার কথা জানান এবং মানবজাতিকে সঠিক পথে পরিচালিত করেন।
আল্লাহর জন্য কালাম (কথা বলা বিশেষণ) সাব্যস্ত করা
আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘‘আল্লাহ তিনিই যিনি ছাড়া অন্যকোন সত্য ইলাহ নেই৷ তিনি তোমাদের সবাইকে কিয়ামতের দিন একত্র করবেন, যাতে কোন সন্দেহ নেই৷ আর আল্লাহর কথার চেয়ে বেশী সত্য আর কার কথা হতে পারে? (সূরা নিসাঃ ৮৭) আল্লাহ তাআলা সূরা নিসার ১২২ নং আয়াতে আরো বলেন, ‘আর যারা ঈমান আনবে ও সৎকাজ করবে তাদেরকে আমি এমন সব জান্নাতে প্রবেশ করাবো, যার নিম্নদেশ দিয়ে ঝর্ণাধারা প্রবাহিত হতে থাকবে এবং তারা সেখানে থাকবে চিরস্থায়ীভাবে৷ এটি আল্লাহর সত্য ওয়াদা৷ আর আল্লাহর চেয়ে বেশী সত্যবাদী আর কে হতে পারে?’’ ‘‘স্মরণ করো সেই সময়ের কথা, যখন আল্লাহ বলবেন, হে মারইয়ামের পুত্র ঈসা! তুমি কি লোকদের বলেছিলে, আল্লাহকে বাদ দিয়ে আমাকে ও আমার মাকে ইলাহ হিসেবে গ্রহণ করো? তখন সে জবাব দেবে, সুবহানাল্লাহ! যে কথা বলার কোন অধিকার আমার ছিলনা সে ধরনের কথা বলা আমার জন্য ছিল অশোভনীয় ও অসঙ্গগত৷ যদি আমি এমন কথা বলতাম তাহলে নিশ্চয়ই তোমার তা জানা থাকতো। আমার নফসে যা আছে তা তুমি জানো। কিন্তু তোমার নফসে যা আছে আমি তা জানি না, তুমি তো গায়েবের সমস্ত জ্ঞান রাখো’’।
কুরআন আল্লাহ তাআলার কালাম। কুরআনের মধ্যে পূর্বের সমস্ত কিতাবের খবর রয়েছে এবং আহলে কিতাবদের ফির্কাসমূহের মধ্যে যেসব বিষয়ে মতভেদ রয়েছে, কুরআন ইনসাফের সাথে সেসব বিষয়ের ফয়সালাকারী। আর এ সব বিষয় আল্লাহ তাআলা ব্যতীত অন্য কারো নিকট হতে আসা অসম্ভব। শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবনে তাইমীয়া (রঃ) যে আয়াতগুলো এখানে উল্লেখ করেছেন, সেগুলো আল্লাহর জন্য কালাম সাব্যস্ত করেছে। আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের মাজহাব হচ্ছে, কুরআন ও সুন্নাহ যেহেতু প্রমাণ করছে যে, আল্লাহ তাআলা কথা বলা বিশেষণে বিশেষিত, তাই তারা আল্লাহর জন্য উহা সাব্যস্ত করে। কালাম (কথা বলা) আল্লাহ তাআলার সিফাতে যাতীয়া বা সত্তাগত সিফাতের অন্তর্ভূক্ত। কেননা তিনি এর দ্বারা বিশেষিত এবং তাঁর সাথে উহা কায়েম রয়েছে। আরেক দিক থেকে কালাম সিফাতে ফেলিয়া বা কর্মগত সিফাতের অন্তর্ভূক্ত। কারণ তা আল্লাহর ইচ্ছা ও কুদরত অনুযায়ী সংঘটিত হয়। তিনি যখন ইচ্ছা, যেভাবে ইচ্ছা এবং যে বিষয়ে ইচ্ছা কথা বলেন। তাঁর কালাম আগেও ছিল, এখনো আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। কারণ তিনি চিরন্তন, চিরস্থায়ী এবং অবিনশ্বর। তিনি কামেল তথা সকল দিক থেকে পরিপূর্ণ। আল্লাহর কালাম তাঁর সিফাতে কামালিয়ার অন্তর্ভূক্ত। কেননা আল্লাহ তাআলা নিজের সত্তাকে কালাম (কথা বলা) বিশেষণে বিশেষিত করেছেন এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামও পবিত্র সুন্নাতে তা দ্বারা আল্লাহ তাআলাকে বিশেষিত করেছেন।
‘আল্লাহ সত্য কথাই বলেন এবং তিনিই সরল পথ নির্দেশ করেন।
আল্লাহ্ কিভাবে কথা বলেন
How does Allah speak?

















