নিজস্ব সংবাদদাতা : বিজেপি সাংসদ অর্জুন সিংয়ের ওপর হামলার প্রতিবাদে সোমবার অচল হয়ে যায় ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চল এলাকা। এদিন দফায় দফায় ওই তল্লাটে বিজেপি ও তৃণমূল সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। বনধ সফল করতে জোর করে দোকানপাট বন্ধ করে দেওয়া হয়। ফেরি সার্ভিস বন্ধ থাকে। অবরোধ হয়। পুলিশ লাঠিচার্জ করে। বোমাবাজি হয় কয়েক জায়গায়। গোটা তল্লাট জুড়ে উত্তেজনার ঝড় বয়ে যায়। স্বাভাবিক জীবন ব্যাহত হয়। গতকাল অর্জুন সিংয়ের মাথা ফাটে পুলিশের সঙ্গে সংঘাতের সময়। তাঁকে অ্যাপোলো হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁকে দেখতে এদিন হাসপাতালে যান রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়। তিনি রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
হামলার প্রতিবাদে এদিন রাজ্য জুড়ে প্রতিবাদ কর্মসূচির ডাক দেয় বিজেপি। রাজ্যের ২৩ টি জেলায় পুলিশ সুপারের অফিস ঘেরাও এবং বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়। বিজেপির অভিযোগ, তৃণমূলের লাগাম ছাড়া সন্ত্রাসের প্রতিবাদে আজ থেকে শ্যামবাজার পাঁচমাথার মোড়ে ৩ দিনের অবস্থান বিক্ষোভ শুরু করে বিজেপি। আজ এই কর্মসূচির সূচনা করেন বিজেপির নির্বাচন কমিটির আহ্বায়ক মুকুল রায়। শ্যামবাজারের অবস্থান বিক্ষোভে শামিল হন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ, কেন্দ্রীয় সম্পাদক রাহুল সিনহা, বিজেপির সহ সভাপতি ভারতী ঘোষ, বিজেপির সাধারণ সম্পাদক সায়ন্তন বসু সহ বিজেপির সিনিয়র নেতৃত্ব।
মূলত, সন্দেশখালিতে আক্রান্ত বিজেপির কর্মীদের শ্যামবাজারে নিয়ে এসে ৩ দিন ধরে অবস্থান ও ধর্না কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়েছিল। সেটাই এবার তৃণমূলের লাগাম ছাড়া সন্ত্রাস ইসুতে দোষীদের শাস্তির দাবিতে আজ বড় কর্মসূচিতে শামিল হচ্ছে বিজেপি।
বিজেপির সাধারণ সম্পাদক সায়ন্তন বসু বলেন,” শুধু সন্দেশখালি নয়। যে ভাবে বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ ও বিজেপির সাংসদ অর্জুন সিংয়ের উপর আক্রমণ করা হল তার প্রতিবাদেই এই অবস্থান বিক্ষোভ। আজ যদি বিজেপির রাজ্য সভাপতি ও সাংসদের উপর হামলা হয় তা হলে বিজেপির সাধারণ কর্মীদের নিরাপত্তা কোথায়। পুলিশ প্রশাসন পুরোপুরি দলদাসে পরিণত হয়েছে”
রাজ্যপালের যাওয়ায় বিতর্ক:
সোমবার বেলায় তাঁকে হাসপাতালে দেখতে যান বাংলার নবিনিযুক্ত রাজ্যপাল। রাজনৈতিক সংঘর্ষের ঘটনায় আহত সাংসদকে দেখতে রাজ্যপাল হাসপাতালে চলে যাওয়ায় কেউ কেউ আবার প্রশ্ন তুলেছেন। রাজভবনের তরফে বলা হচ্ছে, রাজ্যপাল রাজনীতির উর্ধ্বে। কার সঙ্গে কী বিবাদ হয়েছে, সেটা তিনি দেখছেন না। উনি মনে করছেন, লোকসভার একজন সাংসদ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে, তাই রাজ্যপাল হিসেবে তাঁর যাওয়া উচিত। সংবাদমাধ্যমের সামনে এ নিয়ে উদ্বেগও প্রকাশ করেছেন রাজ্যপাল।
অর্জুনকে দেখতে রবিবার বিকেল থেকে হাসপাতালে গিয়েছিলেন মুকুল রায়, কৈলাস বিজয়বর্গীয়, অরবিন্দ মেনন, দিলীপ ঘোষের মতো বিজেপি নেতারা। তবে রাজ্যপাল অর্জুন সিংকে দেখতে যাওয়ায় তার অন্য মাত্রা পেল।