বিশেষ সংবাদদাতা : তেলেঙ্গানায় পুলিশি এনকাউন্টারে ৪ ধর্ষকের হত্যার ঘটনা নিয়ে শুক্রবার গোটা দেশ উত্তাল হয়ে ওঠে। সংসদ থেকে বিভিন্ন রাজ্য, রাজনীতিবিদ থেকে আমজনতা, উকিল থেকে অভিনেতা সবাই বিচার করে রায় দিয়েছেন। কেউ বলেছেন সঠিক কাজ, কেউ আপত্তি জানিয়ে বলেছে এটা পুলিশের কাজ নয়, বিচার বিভাগের দায়িত্ব। এই ভাবে দেশের জনতা পুরো দুই শিবিরে বিভক্ত হয়ে যায়। তেলেঙ্গানায় মহিলারা দলে দলে পুলিশকে গিয়ে রাখি পরিয়ে গোলাপের পাপড়ি দিয়ে বরণ করতে দেখা গেছে।
২৭ নভেম্বরের পর থেকে গত ১০ দিন ধরে তেলেঙ্গানায় শামসাবাদের ২৬ বছরের তরুণী পশু চিকিৎসককে গণধর্ষণ করার পর পেট্রোল ঢেলে পুড়িয়ে মারে। এই নৃশংস ঘটনায় গোটা দেশ উত্তাল হয়ে ওঠে। চারজন অভিযুক্ত ধরা পড়ে। জেল হেফাজতে থাকার সময় শামসাবাদের চেরনাপল্লিতে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত হয় চার অভিযুক্ত। রাত ৩টে থেকে সকাল ৬টার মধ্যে এই ঘটনা ঘটে।
জয়া বচ্চন বলেছেন বেটার লেট দ্যান নেভার। দেরিতে হলেও ঠিক হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, আইন কেউ নিজের হাতে তুলে নিতে পারে না। দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল দেশের বিচার ব্যবস্থার ওপর মানুষের আস্থা হারানোর কথা বলে জানান, এই কারণে এই ঘটনায় মানুষ খুশি হয়েছে। জাতীয় মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সন রেখা শর্মাও একই সুরে জানান, আমরা চাই বিচার করে দোষীর প্রাণদণ্ড। কিন্তু বিচার ব্যবস্থার গয়ংগচ্ছভাবে কেউ আস্থা রাখে না। তাই এই ঘটনায় খুশি। বিহারের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী রাবড়ি দেবীও মনে করেন, এ ধরনের ঘটনা ধর্ষণের ক্ষেত্রকে প্রতিহত করবে। ভয় পাবে। কংগ্রেস সাংসদ শৈলজা কিন্তু চান দেশের আইনি পদ্ধতির ওপর ভরসা রাখতে। পি চিদম্বরম বলেন, ঘটনার প্রকৃত তদন্ত করা উচিত। শশী থারুর বলেন, নীতিগত দিক থেকে একাজ সঠিক হলেও বিচার ব্যবস্থাকে এড়িয়ে হত্যা করা যায় না। তবে আরও তথ্য জানা দরকার।
দেশজুড়ে এ বিষয়ে দিকে দিকে তেলেঙ্গানা পুলিশের কাজ যেমন প্রশংসিত হয়েছে, তেমনি বিচারের মাধ্যমে শাস্তির পক্ষে সওয়াল করেন অনেক। তবে পাল্লা অনেকটাই ভারী এনকাউন্টারের পক্ষে।