প্রশ্নঃ জাতীয় পার্টি'র সঙ্গে বিএনপি’র গঠন প্রক্রিয়া ও শ্রেণীগত চরিত্র'র সাদৃশ্য'র কথা বলা হয়। এ প্রসঙ্গে আপনার বক্তব্য?
উত্তরঃ এ ধরনের কথার কোন যুক্তি নেই। মরহুম জিয়া কোন গণতান্ত্রিক সরকারকে সরিয়ে ক্ষমতায় আসেন নি। তাঁকে এদেশের জনগণ ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত করেছিল। অন্য দিকে এরশাদ জনগণের ভােটে নির্বাচিত একটি গণতান্ত্রিক সরকারকে সরিয়ে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করেছিল। এরশাদ যখন ক্ষমতায় আসেন দেশে তখন গণতন্ত্র ছিল, জনগণের মৌলিক অধিকার ছিল, দেশে কোন রাজনৈতিক শূন্যতা ছিল না। অথচ জিয়ার সময় অবস্থা ছিল সম্পূর্ণ বিপরীত। জিয়া গণতন্ত্র উত্তরণের জন্য, বহু দলীয় গণতন্ত্র'র প্রতিষ্ঠার জন্য রাজনৈতিক দল গঠন করেছিলেন। মানুষের মুক্তি ও কল্যাণের লক্ষ্যে প্রদত্ত তাঁর কর্মসূচীতে আকৃষ্ট হয়ে বিভিন্ন দল ও ব্যক্তি তার সঙ্গে যােগ দিয়েছিল। অন্যদিকে এরশাদের লক্ষ্যই ছিল ক্ষমতা দখল। নির্বাচিত একটি সরকারকে সরিয়ে, জনপ্রিয় দলটিকে ধ্বংসের ষড়যন্ত্রে মেতে ওঠেন। দলের লােকদের দুর্নীতিবাজ আখ্যা দেয়া হয়, জেলখানায় ঢােকানাে হয়, বিভিন্নভাবে নির্যাতিত করা হয়। যাদের তিনি নিজেই দুনীতিবাজ বলেছেন তাদেরকে নিয়েই তাকে পরবর্তী সময়ে দল গঠন করতে দেখা যায়। কাজেই জিয়া ও এরশাদের দল গঠনের প্রক্রিয়া অবশ্যই ভিন্ন। দল গঠনের ক্ষেত্রে এরশাদের লক্ষ্যই ছিল অবৈধ ক্ষমতাকে বৈধকরণ। এরশাদ বলতে গেলে এদেশে একদলীয় শাসন কায়েম করেছেন, সকল দলের ওপর বিভিন্নভাবে খড়্গহস্ত চালিয়েছেন।
প্রশ্নঃ বিএনপিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা দলের চেয়ারম্যানের হাতে কেন্দ্রীভূত একথা সবাই বলেন। এটি কতটুকু গণতান্ত্রিক?
উত্তরঃ বিএনপি একটি গণতান্ত্রিক দল এবং গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতেই দলের সকল সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা দলীয় চেয়ারম্যানের হাতে কেন্দ্রীভূত একথা সঠিক নয়। অতীতে সব সময় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলাে সকলের মতামত সাপেক্ষে গ্রহণ করা হয়েছে।
প্রশ্নঃ আপনাদের ছাত্র সংগঠনটির বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় হত্যা, সন্ত্রাস ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযেগা করা হয়েছে। নয় জন ছাত্রদল নেতাকে সন্ত্রাসের অভিযােগে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কারও করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে আপনার বক্তব্য?
উত্তরঃ জনপ্রিয় সংগঠন বিএনপি’র ছাত্র সংগঠন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল এদেশের সবচেয়ে শক্তিশালী ছাত্র সংগঠন। অন্যদিকে ছাত্ররাই আন্দোলনের মূল চালিকা শক্তি, স্বৈরশাসকের বিরুদ্ধে আমাদের ছাত্ররাই সবচেয়ে সাহসী ভূমিকা রেখেছে। এ কারণে এরশাদ-শাহীর লক্ষ্যই হল ছাত্রদলকে ধ্বংস করে দেয়া। সে কারণেই তারা ছাত্রদলের ওপর বিভিন্ন দমন ও নির্যাতন মূলক ব্যবস্থা নিয়েছে। দাগী আসামী, অছাত্র, পেটোয়া বাহিনী দিয়ে ছাত্রদলের ওপর হামলা চালিয়েছে। দমননীতির সেই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে অন্যায়ভাবে ছাত্রদল নেতাদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। আপনারা জানেন বহিষ্কারাদেশের বিরুদ্ধে কোর্টে মামলা চলছে। আমরা ইতিমধ্যে ছাত্রনেতাদের বিরুদ্ধে বহিষ্কারাদেশ ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিও জানিয়েছি। এসবের বিরুদ্ধে আমরা আরও সােচ্চার হব, আমাদের আন্দোলন অব্যাহত রাখবে।
সুত্রঃ ইত্তেফাক, মূল ধারা আন্দোলন, ওয়ার্ল্ড হিষ্ট্রি অন ডেমোক্রেটিক ষ্ট্রাগল।
----------------------------