আমি কয়েক বছর ঢাকাস্থ সুইজারল্যান্ড দূতাবাসে একটা সিনিয়র পদে কর্মরত ছিলাম। সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত মহোদয় ও অন্যান্য ডিপ্লোম্যাটদের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতাম, এবং প্রায়ই তাঁদের বাসার পার্টিতে যেতে হত। বেশ ভাল লাগত। অবশ্য এর আগেও, ও বলতে গেলে আমার সমগ্র কর্মজীবন বিদেশীদের সাথে কাজ করতে হয়েছিল। জাতিসংঘেও ছিলাম কয়েক বছর। যাহোক, আমার সুইস কলিগদের প্রসঙ্গে আবার ফিরে আসি। তাঁদের একটা প্রিয় খাবার ছিল আমাদের দেশের সামান্য দু-টাকা (তখন) দামের সিঙ্গারা।
আমাদের অফিসে প্রতিদিন সকাল দশটার দিকে একটা টি টাইম ছিল। সেই টি টাইমে অবশ্যই সিঙ্গারা থাকত। প্রতিদিন কেউ না কেউ এটা পালাক্রমে আনাতেন, আর সবাই খেতাম। তখন দেখতাম সুইসরা এই সিঙ্গারা বেশ পছন্দ করে খাচ্ছেন। কারণ, এর ভিতর আলু বা সব্জি থাকে, এটা তাঁদের রুচির সাথে যেত।
তাঁরা সিঙ্গারা খান দেখে মাঝে মধ্যে আমরা মিষ্টিও অফার করতাম, কিন্ত তাঁরা মিষ্টি, মানে চমচম, রসগোল্লা, সন্দেশ, যাই হোক, সেগুলো মোটেও পছন্দ করতেন না, বলা চলে ছুঁয়েও দেখতেন না। এমনিতেই তাঁরা স্বাস্থ্য সচেতন, মিষ্টি খেতেন না। মিষ্ট দ্রব্যের মধ্যে শুধু কেকটা খেতেন। তাও সে কেক তৈরি হত তাঁদের বাসায়।
যাহোক, সিঙ্গারা তাঁদের এত পছন্দ হয়েছিল যে সুইস মহিলা কলিগরা এর রেসিপি শিখে অনেকে বাসায় বানানোর চেষ্টা করেছিলেন। বলতেন, সুইজারল্যান্ডে ফিরে এটা তাঁরা প্রমোট করবেন।
বেশ চমকপ্রদ নয় কি।
















