পাড়ার দাদার সঙ্গে এলেন টালিগঞ্জপাড়ায়
New Post has been published on https://sentoornetwork.com/tapas-pal-was-appeard-dadar-kirti-moovie-on-1980/
পাড়ার দাদার সঙ্গে এলেন টালিগঞ্জপাড়ায়
কমলেন্দু সরকার
তরুণ মজুমদারের চিত্রনাট্য লেখা তখন শেষ। হন্যে হয়ে একটি নতুন ছেলের খোঁজ করছেন। অনেকেই আসছেন, কাউকেই পছন্দ নয় পরিচালকের। তরুণ মজুমদারের ইউনিটের সকলেই জানতেন নতুন মুখ খোঁজার কথা। একদিন শ্রীনিবাস চক্রবর্তী একটি ছেলেকে বগলদাবা করে ঢুকলেন। পরিচালক তরুণ মজুমদারের অফিস ছিল এনটি-ওয়ানের এডিটিং রুমের একতলায়। দোতলা থেকে মুভিওয়ালা চলার শব্দ আসত। আর দোতলার বারান্দায় দেখা যেত সত্যজিৎ রায়, মৃণাল সেন-সহ একাধিক পরিচালককে ধূমপান করতে। সেসব প্রসঙ্গ ভিন্ন। শ্রীনিবাস চক্রবর্তীর সঙ্গে বছর কুড়ি-একুশের ছেলেটিকে দেখে অবাক পরিচালক৷ তরুণ মজুমদার কোনওকালেই খুব বেশি উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতেন না, এখনও করেন না। অতীব সুভদ্র, শিক্ষিত একটি মানুষ। তিনি মনে মনে ভাবলেন, ঠিক এমনটাই আমার প্রয়োজন। ছবির কেদার বা ফুলদার ভূমিকার জন্য একেবারে উপযুক্ত। শ্রীনিবাস চক্রবর্তী ছেলেটিকে এনে হাজির করলেন তরুণ মজুমদারের সামনে। বললেন, “এর নাম তাপস পাল। আমার বাড়ির কাছেই থাকে।” শ্রীনিবাস চক্রবর্তী থাকতেন চন্দননগর। তরুণ মজুমদার খুঁজে পেলেন ‘দাদার কীর্তি’র ফুলদা বা কেদারকে। ‘চরণ ধরিতে দিয়ো গো আমারে’ গানটির একটি দৃশ্যেই আমবাঙালির হৃদয় জিতে নিলেন তাপস পাল। ‘দাদার কীর্তি’ (১৯৮০) প্রচুর ব্যবসা করল বক্স-অফিসে৷ ঠিক পরের বছরই বিজয় বসুর ‘সাহেব’ (১৯৮১)। তাপস পালকে দেখতে ভিড় জমালেন দর্শক। তাপস পালক বাঙালি মহিলা দর্শকের নয়নের মণি হয়ে উঠলেন ক্রমশ। ‘সাহেব’ও বক্স-অফিসে সফল।
আসলে তাপস পালের হাসি মন কেড়েছিল দর্শকদের৷ টালিগঞ্জপাড়ায় চালু ছিল মহানায়ক উত্তমকুমারের সবচেয়ে সুন্দর হাসি তাপস পালের। উত্তমকুমারের পর আর এক নায়কের মধ্যে সম্ভাবনা দেখেছিলেন বাংলা ছবির দর্শকেরা। তাপস পালের হাসির প্রশংসা শুনেছিলাম মুম্বাইতে মাধুরী দীক্ষিতের কাছে। সেইসময়কার হিন্দি ছবির একনম্বর নায়িকা মাধুরী দীক্ষিতের প্রথম ছবি ‘অবোধ’ (১৯৮৪) -এর নায়ক। বলেছিলেন, “আমার অভিনয়জীবনের শুরু তাপস পালের সঙ্গে। উনিই আমার প্রথম নায়ক। খুব ভাল মানুষ। ওঁর হাসিটা খুব মিষ্টি।” বাংলা ছবির অদ্বিতীয় নায়ক হয়ে উঠেছিলেন তাপস পাল খুব কম সময়ের মধ্যেই। তরুণ মজুমদার, বিজয় বসু ছাড়াও অরবিন্দ মুখোপাধ্যায়, তপন সিংহ, অরুন্ধতীদেবী, দীনেন গুপ্ত, বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত, অঞ্জন চৌধুরী, হরনাথ চক্রবর্তী প্রমুখ পরিচালকের ছবিতে। বাণিজ্যক ছবি তো বটেই, অন্য ধারার ছবিতে সমান স্বচ্ছন্দ ছিলেন তাপস পাল। তাপস পাল বাণিজ্যিক ছবিতে তাঁর নিজস্ব এক ঘরানা তৈরি করেছিলেন। সংলাপ বলার ধারা তৈরি করেন। তাই উত্তমকুমার পরবর্তী যুগে তাপস পাল নায়ক হিসেবে বাংলা ছবিতে নিজের পায়ের তলার মাটি শক্ত করেছিলেন নিজের চেষ্টায়।
আরও খবর পড়ুন : লোকচক্ষুর অন্তরালে থেকেই প্রয়াত তাপস পাল
















