অনেকদিন কিছু লেখা হয়না , মাথায় আর কিছু আসেনা তেমন ..key board এর দিকে তাকিয়েই বসে থাকি শুধু । কি নিয়ে লেখা যায় এরপর ..কিছু suggest করে যান দেখি 🙃
Mike Driver
YOU ARE THE REASON
Misplaced Lens Cap
let's talk about Bridgerton tea, my ask is open

tannertan36
Stranger Things

Kaledo Art
Lint Roller? I Barely Know Her
h
almost home
One Nice Bug Per Day

roma★
No title available
dirt enthusiast
Game of Thrones Daily
styofa doing anything

祝日 / Permanent Vacation
ojovivo

Discoholic 🪩
wallacepolsom

seen from United States

seen from Germany
seen from China

seen from Türkiye
seen from United States

seen from Türkiye
seen from United States
seen from Switzerland

seen from Germany
seen from Türkiye

seen from Türkiye

seen from New Zealand

seen from Romania

seen from United States

seen from United States
seen from Slovenia

seen from United States
seen from Germany
seen from United States

seen from Netherlands
@choppedphilosopherharmony
অনেকদিন কিছু লেখা হয়না , মাথায় আর কিছু আসেনা তেমন ..key board এর দিকে তাকিয়েই বসে থাকি শুধু । কি নিয়ে লেখা যায় এরপর ..কিছু suggest করে যান দেখি 🙃
মনে পড়ে এরকম এক বৈশাখী আলো আঁধারির মাঝে একটি ছেলে নিখোঁজ হয়েছিল অনেক আগে । সযত্নে খোলা দুটি চটির পাশে কোনো পরশপাথর , নালিশের খসড়া বা খাজানার নকশা কিছুই সে রেখে যায়নি । শুধু জলঝিনুকের বুকে প্রেয়সীর স্মৃতি , বুনো ফুল আর অপার্থিব রোশনাই ভরা একটি আকাশ কে সাক্ষী রেখে, প্রায় মরতে বসা ছোট্ট নদীটিকে শেষবারের মতো প্রাসঙ্গিক করে গেছিল সে । ডুবে গিয়ে । প্রতিটি অবিশ্বাস্য অথচ সৎ প্রস্থান তিলে তিলে পিষে মরা মানুষের অস্তিত্বকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে যায়, সেও গেছিল ।তারপর একদিন সাশ্রয়ী চটকদারী তদন্ত তল্লাশি পার হয়ে দূর গ্রামে মায়ের অসুখের মত নিস্তব্ধ হয়ে গেল চরাচর। আফসোস ,তার কাছে কেউ জানতে চায়নি যে অনন্ত শাশ্বত নীরবতা একসাথে দুইখান দুনিয়া কাফনের কাপড়ের মত ছেয়ে ফেলে অন্তিম আলাপের ক্ষণে , ডানা ভাঙা প্রজাপতির মত পালিয়ে ঠিক কয়দিন তাকে ফাঁকি দেওয়া যায় । সে জানিয়ে যায়নি , শেষ সাত মিনিটের বায়োস্কোপে মলিন মুখ কাজল চোখের ভিড়ে একটা আলো মেঘে ঘেরা বিকেলেরও ঠাঁই হয় কিনা । আমারও জানা হয়নি সেই নাম , যা সে ভয়ে ভয়ে লিখে , সাহস করে কেটে গেছিল শেষ মুহূর্তে ..
যাকগে , এসব নাই বা জানলাম
প্রিয় ফুল বৃক্ষ পাখির মৃত্যু দেখতে দেখতে বয়স বাড়িয়ে ফেলছি ঠিক।আজকাল হিসেবনিকেশ শেষ করে হাঁটা দিলেই শুনতে পাই কেউ পিছু ডাকে । দেরিতে হলেও আমাকে প্রাণপণে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে , ঈশ্বর ,প্রতারণা আর পিছুডাক সমার্থক । আর ভালোবাসার খোঁজে দিন গুনে গুনে আমি নিজেই বুঝেছি , আসলে আমার কাজ নেই কোনো ।তবু ধুলোর শহরে ছাতিম ফোটে , মুকুল ঝরে , ছোটবেলার চুরি যাওয়া সাইকেল অচেনা কাগজফুলের বাগানে দাঁড়িয়ে থাকে একলাটি। আমি জানি আমার জীবন মিথ্যে নয় , মাথার উপর টিমটিমে আলো নিয়ে ওপরওয়ালার দিকে থালা তুলে চেয়ে থাকা নয়,। বিশ্বাস আর অবিশ্বাসের মধ্যে হেড টেল করতে করতে রাস্তায় দাঁড়ানো মানুষের জীবন ব্যর্থ হতে পারে , মিথ্যে হতে পারেনা । ঘাড় ঘুরিয়ে হয়তো বেমালুম ঠকে যাব , গোলাপ ছড়ানো ফাঁকা রাস্তায় একাই দাঁড়াব ,লোকে এক জীবনে কত রাস্তা দিয়েই তো হেঁটে আসে কিন্তু হেঁটে যায়না ফের কোনোদিন । তাতে কি ?
কলকাতার ভিড়ে ঠিক সময়ে কজনই বা ডাক পায়..
ধুলো আর অভিশাপের শহরে ঠিক এই সময়ে সেই অপূর্ব বাতাসখানা বইতে থাকে। এ বাতাস গায়ে লাগলে শত শ্রাবণের আঁধার দু মুহূর্তে সরিয়ে জিজ্ঞেস করে ফেলা যায় "কেমন আছো" ।দেওয়ালে পিঠ ঠেকা মানুষেরা কাগজফুল কুড়িয়ে নিয়ে যায় মায়ের জন্য ,অটোওয়ালা একশো টাকা ভাঙিয়ে দেয় হাসিমুখে। চক্রান্তে সর্বস্ব গেছে যার সে তার মেয়েকে শেখায় "ঠাকুরকে বলো , সব্বার ভালো কোরো ঠাকুর .. "। এই হাওয়া ক্ষমার মত বিরল , মায়ের মতোন স্নিগ্ধ , প্রিয় মানুষটির মত অস্থায়ী ।
হাওয়া কখন যে বদলে যায় আমরা টের পাইনা , ভিক্টোরিয়ার পরীটা বোঝে শুধু ..
দোল
বসন্তের সোহাগী সূর্যটা মায়ের আটপৌরে শাড়ির রঙটা চুরি করে রোজ বিকেলের শেষে । একরাশ ধুলো, রোদ্দুর মেখে অশ্লীল মশকরা করতে করতে ভেসে যায় বড় রাস্তা ধরে, তারপর ঘাটের দিক থেকে আসা একটা ঠান্ডা হাওয়ার সাথে ভাব করে লাল সাদা কাগজফুল ঝরায় তোমাদের দেউড়ির সামনে। পীরমাজারের উপর ঢোলকলমির ঝোপ মৃত্যুশোকের মত ছায়া ঘনিয়ে রাখে। মনসুর আলি ছেঁড়া মাফলার গলায় পেঁচিয়ে শ্বেতী ঢাকার চেষ্টা করতে করতে বড় রাস্তা পার হয়। হঠাৎ দমকা হাওয়ায় বুড়োবটতলায় মানতের ঢিলগুলোয় ঠোকাঠুকি লেগে যায়। আমি দেখতে পাই শনিমন্দিরের সামনে হাতটা তিনবার মাথায় ঠেকিয়ে পার হচ্ছো তুমি। হাঁপানির টান নিয়েই মা তিনবার শাঁখে ফুঁ দেয়। শুকিয়ে যাওয়া তুলসীটা একঘটি জলের সোহাগ নিয়ে হাওয়ায় দোল খায়। ছাদের বুক জুড়ে প্রাচীন ব্যাধির মত শ্যাওলার দল। বিস্তীর্ণ ফাটলে উপহাস করে অশ্বত্থের চারারা। তুমি তখন আমার বাড়ির আরো কাছে। মা কে দেখে থমকে দাঁড়াও,বলো " এবার একটা ভালো ডাক্তার দেখান কাকিমা, অনেক তো হল "। মা শুধু হাসে। আমি দেখি মায়ের হাসিটা ভেজা শিমুলের মত স্নিগ্ধ। পাশের বাড়ির গুলমোহরের কোঠরে কাঠবেড়ালির খুনসুটি। আমার কথা তোলো তুমি " পলাশ কেমন আছে?"। ইছেমতীর বুক থেকে বড়দার গুলিখাওয়া লাশের মত একটা চাঁদ হটাৎ ভেসে ওঠে সবার চোখের আড়ালে। কাদের বাড়িতে যেন খুব হৈহৈ.. "আজ আমাদের ন্যাড়াপোড়া, কাল আমাদের..." । উড়ন্ত আগুনের ফুলকিরা ঘরছাড়া হয় শুকতারাকে ছুঁয়ে ফেলার চেষ্টায় । আমি হুইলচেয়ার টা সরিয়ে নিয়ে আসি ছাদের ধার থেকে.... শুনতে পাই মায়ের চোখমোছা স্বর " মেডিকায় বলেছে আর বোধহয় মাস দুই, তবু যদ্দিন থাকে চোখের সামনে, মা ডাকটুকু শুনতে পাই"। আঁচল চাপা অস্ফুট কান্না বাকি কথা দের ঢেকে দেয়। সেই দস্যি হাওয়াটা ফের ফিরে আসে কোত্থেকে, ভাসিয়ে নিয়ে যায় মায়ের দীর্ঘশ্বাস.. ঢোলকলমির বন ঠেলে, ইছেমতীর বুক ঘেঁষে, কার বাড়ির সন্ধেপ্রদীপ কাঁপিয়ে.. বহুদূর.. বহুদূর..।
(আগের বছরের দোলের লেখা)
ছবি : Ranadeep Naskar
দিন কত তাড়াতাড়ি কেটে যায়
এ এক আশ্চর্য ঋতু। আমার খরচের খাতা ভরে ওঠে লাল দাগে , তার ছায়াবীথি উঠোন জুড়ে টুপ টুপ ঝরে শিমুলের ফুল । শেষ বিকেলে ঠিক পাঁচটা মিনিটের জন্যে যে অদ্ভুত আলো এসে তার আঙুল ছুঁয়েই বিদায় নেয় , সেই বেয়াদব আলোয় ঘেরা একটা গোটা বিকেলের তল্লাশি করে যাই রোজ । খুঁজতে খুঁজতে দেখি কার কবরের নরম মাটি লেগে আছে পায়ে , ফেরেশতার ডানার মত কার দুঃখিনী মায়ের শাড়ি জান্নাত এর দিকে চেয়ে আছে বিমর্ষ সফেদ রোদ্দুরে । খুঁজে না পেলে আরো একখানা দিন বাড়িয়ে দিই আয়ুরেখা জোড়াতালি দিয়ে অগত্যা । ওই একচিলতে অধরা রোদ্দুর কি অবলীলায় বাঁচিয়ে রেখেছে আমায় ।
খুঁজতে খুঁজতে সব পাওয়া হয়ে গেছে হে ঈশ্বর ,শুধু যা চেয়েছি সেইটুকু বাদে ...
সেইসব আলো আর প্রেম জান্নাতের বাতাসের মত বয়ে যায় কাশফুলের বনে। আমি নিশ্চিত জানি ,কোথাও না কোথাও এইসব আশ্চর্য বিকেলে রোদ্দুর মেখে খেলতে আসা কিশোরের সাথে দেখা হয়ে যায় বকুলছায়ার মত এক কিশোরীর । ভাঙা ইস্কুলবাড়ির পাশে যেইখানে রাস্তা বেঁকেছে, ওই যেখানে নরম নীল প্রজাপতি সাঁঝবেলার অপরাজিতার ফুল হয়ে দোলে । সেখানে হাতে কাশের গোছা নিয়ে কে কোন্ নক্ষত্রের নাম রেখেছিল কোনো এক মানুষের নামে । সে তারার সাথে তার সাক্ষাত নেই বহুদিন । ঝরে গেছে কাশ , শিউলি , আর চেনাজানা নক্ষত্রের দল, সে টেরও পায়নি । "চলে যাব ,যেদিকে দু চোখ যায়" বলে ছুটি নিয়ে গেছে একের পর এক ঋতু, মেঘ আর দিশেহারা মানুষেরা। বুড়োবটের নিচে পাথরের বৃদ্ধ দেবতা নির্ঘাত হেসেছেন মুখ চিপে..
চোখ যতদূর যায় , মানুষ কি আর ততদূর পারে নাকি ছাই?
দেওয়াল দেওয়াল অফুরন্ত দেওয়াল । পথের দেবতা হাত ধরে টেনে এনে মাঝপথে ছেড়ে দেন হাত । আদিম কৃত্রিম দেওয়ালের রাষ্ট্রে ঘুরে ঘুরে আকাশের স্বপ্ন দেখি । ধোঁয়া আর এঁটোকাঁটার শহরে লাল ইঁটের ফাঁকে, বর্ষার ফুল হয়ে ঈশ্বর জন্ম নেন । বিনা নোটিশে বৃষ্টি নামে , হলুদ কাগজের নৌকা বাড়ি ফেরার রাস্তা দেখায় । উত্তর কলকাতাকে দূরান্তের আপন দেশ মনে হয় । যার শিশুরা মিসাইল কে শুকতারা ভেবে হাত বাড়িয়ে ধরতে চায়নি । যেন খুব কাছের কেউ , অথচ স্রেফ দূরবীন উল্টো করে চোখে ধরায় এই সামান্য দূরত্বটুকুও পাড়ি দেওয়া হল না আর এ জন্মে ...
হরিণের কোল ঘিরে যেটুকু রাত্রি পড়ে আছে, তার গলায় শিশিরের মালা । যেন পুরোনো আদর কেউ বিলিয়ে গেছে আমাদের গাঁয়ে। এই যে এক পাহাড় তার নিজস্ব গোধূলি আঁকড়ে একলা রয়ে গেছে শখের বসন্ত দিনে , আর এমন নদী যার মাথায় আঙুল ছুঁইয়ে একটুকু কেঁদে নেওয়া যায় । তোমায় তেমন নদীর মত ভাবি কিংবা দাঁড়ে বসে দোল খাওয়া একফালি সাঁঝের আলো । অপলক চেয়ে থাকো আমার ক্লান্তির দিকে । এই কান্না ধুয়ে দেবে এমন সকাল এখনো দেখেনি পৃথিবী ,
সে শুধু নকল করতে জানে , অকালে অঝোরে বৃষ্টি নামিয়ে ।
আমার বাড়ির পাশে নিশ্চুপে আলো আর শব্দেরা চাকরি বদল করে । দুটো পাশাপাশি বাড়ির মাঝে আন্তরিকতার যতটুকু ফারাক , তাকে আমরা গলি বলে ডাকি । দাদা বলে ,নীলগ্রহের সব গলিই নাকি একইরকম । নামিদামী শহরের এই লুপহোল গুলো দিয়ে আমি যাতায়াত করি ।গলির পাশে ভিখিরির বাটি অস্ফুট ধাতব শব্দ তোলে। টিনের চালে বৃষ্টির শব্দের সাথে তাকে গুলিয়ে ফেলি মাঝে মধ্যেই । মনে হয় নিজেদের লোক বুঝে শহরের সব ভিখিরি ঘিরে ফেলেছে বাড়ি । বাড়ির পাশে বেলফুল বিক্রি করে একটা লোক । রেডিওয় শুনি "আগামী তিনদিন ভারী বৃষ্টির আভাস , সমুদ্রের ধারে প্রবল ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাবনা"। আমার বাড়ির পাশে সমুদ্র নেই , রঙিন ঝিনুক ভেসে আসেনা ভোরবেলা ,তবু সব হারানোর ভয় যায়না আমার । জমা জলে কাগজের নৌকা ভাসে বাড়ির সামনে ।খুনখারাপি ঝড় আসে ।আমার জন্য বরাদ্দ অল্প সরকারি আলোটুকুও শেষ মুহূর্তে হাত ছেড়ে যায় । শুধু দূরে ,গলির আধো অন্ধকারের মাঝে মায়ের মতোন স্পষ্ট হয়ে থাকে বেলফুলের ঝাঁক...
দাদা ভুল বলে , নীলগ্রহের সব গলি একরকম নয় মোটেই ।
বিধাতার মত প্রাচীন বৃক্ষের দল আমার প্রার্থনার ভাষা বুঝতে পারে না , সান্ত্বনার দু- চারখান নরম ফুল ছড়িয়ে রাখে শিকড়ের খাঁজে। আমার মখমলি উঠোনপাড়ে বিস্মৃত ক্ষতের মত গোলাপকুঁড়িরা ঘাড় নেড়ে জিজ্ঞাসা করে "ভালো আছো হে?"। এই মেঘমুলুক তেপান্তরের মাঝে এসব বিটকেল প্রশ্ন করলে বেশ নার্ভাস লাগে । টিফিনবেলায় দেখা এক বেআক্কেলে জাদুকর এর কথা মনে পড়ে যায় । আর ঠিক তখুনি উজান স্রোতের মত বৈশাখী ঝড় এসে আমের মুকুলের দেশে অ্যানার্কি আরম্ভ করে দেয় । আমার উত্তরখানা , ছেঁড়া ঘুড়ির মত ভেসে বেহেশতের রাস্তা ধরে । ভালো আছি কিনা , সে কথা আর জানা হয়নি কারো । দু মুঠো পদ্মরেণু আর টিফিনবেলার রোদ্দুর মিশিয়ে বানানো একখানা আস্ত সফেদ কবুতর কাঁধে বসিয়ে জাদুকর বলে গেছিল ভেলকির মায়া ততক্ষণই , যতক্ষণ ফাঁকিটুকু লুকিয়ে রাখতে পারো ...
ফাঁকি দিতে আর সেই থেকে ভুল হয়না আমার ।
ঝিনুক
শরীর চলে না আর....অচিন স্বপ্নিল সেই বালুকাবেলায় ,নকশাকাটা ঝিনুকের খোঁজে আমার হাত ছাড়িয়ে যখন তুমি রোদ ঝিলমিল সাদা বালির মোহনায় ..তোমার একপাটি জুতো তখন চুরি করে নিচ্ছিল এক বেয়াদব ঢেউ । সেই ঢেউ আর নোনাজল ভেঙে ফিরে এসে ঝাউবনের মর্মর ,রূপোলি মাছ আর বিষণ্ণ নিঃসীম নীলিমার অন্তরালে তোমার পায়ের জলছাপ ধরে ধরে চলে এসেছি এই এতদূর । হাঁটতে হাঁটতে যখন সূর্যের শেষ রঙ নোনা বাতাসে মিশে গোধূলি হবার জোগাড় , আমার তখন বুকফাটা তৃষ্ণা। সিক্ত আঙুলের শিরা যেন বিষবেষ্টনীর মত ঘন নীল ,যেন শত শ্রাবণের মেঘ শোক হয়ে রক্তে গিয়ে মিশেছে , আমার অন্তরে আসন্ন ঝড়ের নৈঃশব্দ টের পাই । একখানি কুটির দেখতে পেলাম , আর পেলাম মায়ের মত শীতল এক জলচৌকি। জানলার বাইরে মুমূর্ষু চন্দ্রিমার মত এক কাঞ্চনগাছ, তাতে দুটি রুগ্ন মলিন তারার মত সাদা কুঁড়ি যেন জোনাকি হতে চেয়েছিল কোন পুরাণজন্মে । কখন ঘুমিয়েছি খেয়াল হয়না , জেগেই বা উঠেছি কি ? যার ডাকে উঠেছি তার খোঁজে উঠোনে এসে দাঁড়ালাম..শাদা একটি বকের পালক হাওয়ায় ভেসে আসছে তাকে ধরতে গেলাম হাতের মুঠোয় , পায়ে কি ফুটলো যেন ...একটি ঝিনুক ...তার কাফনের মত শুভ্র শরীরে অস্পষ্ট রক্তিম নকশা , ঠিক বোঝা যায় না ...দুটি ভাঙা টুকরো পাশাপাশি রেখে দেখলাম ফের .....
ঠিক যেন একটি হৃদয় ...কেবল মধ্যিখানে একটি ভেঙে যাওয়ার দাগ ।
দোল
বসন্তের সোহাগী সূর্যটা মায়ের আটপৌরে শাড়ির রঙটা চুরি করে রোজ বিকেলের শেষে । একরাশ ধুলো, রোদ্দুর মেখে অশ্লীল মশকরা করতে করতে ভেসে যায় বড় রাস্তা ধরে, তারপর ঘাটের দিক থেকে আসা একটা ঠান্ডা হাওয়ার সাথে ভাব করে লাল সাদা কাগজফুল ঝরায় তোমাদের দেউড়ির সামনে। পীরমাজারের উপর ঢোলকলমির ঝোপ মৃত্যুশোকের মত ছায়া ঘনিয়ে রাখে। মনসুর আলি ছেঁড়া মাফলার গলায় পেঁচিয়ে শ্বেতী ঢাকার চেষ্টা করতে করতে বড় রাস্তা পার হয়। হঠাৎ দমকা হাওয়ায় বুড়োবটতলায় মানতের ঢিলগুলোয় ঠোকাঠুকি লেগে যায়। আমি দেখতে পাই শনিমন্দিরের সামনে হাতটা তিনবার মাথায় ঠেকিয়ে পার হচ্ছো তুমি। হাঁপানির টান নিয়েই মা তিনবার শাঁখে ফুঁ দেয়। শুকিয়ে যাওয়া তুলসীটা একঘটি জলের সোহাগ নিয়ে হাওয়ায় দোল খায়। ছাদের বুক জুড়ে প্রাচীন ব্যাধির মত শ্যাওলার দল। বিস্তীর্ণ ফাটলে উপহাস করে অশ্বত্থের চারারা। তুমি তখন আমার বাড়ির আরো কাছে। মা কে দেখে থমকে দাঁড়াও,বলো " এবার একটা ভালো ডাক্তার দেখান কাকিমা, অনেক তো হল "। মা শুধু হাসে। আমি দেখি মায়ের হাসিটা ভেজা শিমুলের মত স্নিগ্ধ। পাশের বাড়ির গুলমোহরের কোঠরে কাঠবেড়ালির খুনসুটি। আমার কথা তোলো তুমি " পলাশ কেমন আছে?"। ইছেমতীর বুক থেকে বড়দার গুলিখাওয়া লাশের মত একটা চাঁদ হটাৎ ভেসে ওঠে সবার চোখের আড়ালে। কাদের বাড়িতে যেন খুব হৈহৈ.. "আজ আমাদের ন্যাড়াপোড়া, কাল আমাদের..." । উড়ন্ত আগুনের ফুলকিরা ঘরছাড়া হয় শুকতারাকে ছুঁয়ে ফেলার চেষ্টায় । আমি হুইলচেয়ার টা সরিয়ে নিয়ে আসি ছাদের ধার থেকে.... শুনতে পাই মায়ের চোখমোছা স্বর " মেডিকায় বলেছে আর বোধহয় মাস দুই, তবু যদ্দিন থাকে চোখের সামনে, মা ডাকটুকু শুনতে পাই"। আঁচল চাপা অস্ফুট কান্না বাকি কথা দের ঢেকে দেয়। সেই দস্যি হাওয়াটা ফের ফিরে আসে কোত্থেকে, ভাসিয়ে নিয়ে যায় মায়ের দীর্ঘশ্বাস.. ঢোলকলমির বন ঠেলে, ইছেমতীর বুক ঘেঁষে, কার বাড়ির সন্ধেপ্রদীপ কাঁপিয়ে.. বহুদূর.. বহুদূর..।
(আগের বছরের দোলের লেখা)
ছবি : Ranadeep Naskar
Autumn
If you ask me
"How do you feel in autumn?"
Will I be able to answer?
Like all the cold water
Flowing in shrunken streams
So cold, the frogs are afraid to touch it.
Why is it so cold? So frowning all the time?
Like some magical field saying:
'Halt! Don't come here'
Is it like me? Afraid of flowing, sometimes to meet the see and the unknown.
Why shall this time change,
Why shall I have to flow?
Even if I don't want to?
Then you say: "But what about autumn?"
What about it?
Like, what is autumn?
যা ওই গোটা দুই চার রঙিন কাঁচ ,কাগজের দিন ছিল চিলেকোঠায় ঘাপটি মেরে, মাঘ মাসের বিকেল বেলায় আকাশ জুড়ে বায়োস্কোপের মাফিক তাদের দেখতে পাই রোজ । আমাদের রোজানা পাগল প্রমাণ করার জন্য বেয়াদব ইনজিরি ডিক্শনারি অনেক ভারী ভারী শব্দ আগলে রাখে । হ্যালুসিনেট করছি শুনলে মনে হয় যেন খুন ছিনতাই গোছের কিছু । বাংলায় বলে 'অলীক', 'বিভ্রান্তি' । যে দুপুরগুলোয় সামনের বাড়ির ছাদে আধশুকনো ফিরোজা রঙের একখানা শাড়ি ভিনদেশী টিয়ার ঝাঁকের সাথে মিলেমিশে যেতে চায় , তখন গ্রাম হতে গিয়ে silly mistake করে শহর হয়ে যাওয়া এই মফস্বল কে অমূলক বিভ্রান্তিই মনে হয় আমার । আমিষ, নিরামিষ , প্রায়ান্ধকার গেরস্থালি , নিকোনো উঠোন পেরিয়ে নিমকাঠের রাধাকৃষ্ণ উলুর শব্দে ভাতঘুম ছেড়ে উঠে বসেন তড়িঘড়ি। সূর্যখানা আউট অফ ফোকাস হয়ে এলে আমাদের অপূর্ণ ইচ্ছের ভার কাঁধে নিয়ে দু একখানা মালতীর ফুল দিদিমার পায়ের কাছে ঝরে পরে ।
উনি নিচু হয়ে কুড়োতে পারেন না আগের মতোন . ..
আমাদের ঝর্ণাকলম , হাওয়াই মিঠাই আর ঝুড়ি ঝুড়ি মিথ্যের দিন ঝিলের জলে ডুবসাঁতার দেয় । পাড়ার লোকেরা শীতকালের পথনাটকের নাম দেয় ভালোবাসা ..পুরোনো আসবাব খুঁড়ে ঘুণপোকার দল আলোর রাস্তা বানায় ।আমার বন্ধুরা কীসব বলে চলে বেসিক নিড, ষোলো আনা ফাঁকিটাঁকি ..আরো ভারী ভারী সব কথা । ওসব মাথায় ঢোকে না বলে আমি মায়ের সোয়েটার বোনা দেখি । একখানা ফুল , তিনটে পাতা , দুটো পাখি ..একলা ঝিল । ঝিল জিনিসটা মন্দ না ,..জল আছে , স্রোত নেই ...ভেসে গেলেও ফিরে আসা যায়
ফিরতে চাইলে ।
a hollow shell of a man
spinning roundabouts
wet sand against plastic
it almost looks like poop
the water and filth
fill the drains of my hometown
deleting her photos; never has gulping
a bitter medicine felt so sweet
the buses full of exhaustion and hate
fill the roads of your city.
am i tall enough for you
to find me inside a sea of people?
-2023