ফিরিয়া আসিলাম আবার
আবার ফিরিয়া আসিলাম , (পুনরায় ডুব মারণের ইচ্ছায় :) )

★
sheepfilms
almost home
let's talk about Bridgerton tea, my ask is open
Aqua Utopia|海の底で記憶を紡ぐ
ojovivo
"I'm Dorothy Gale from Kansas"
we're not kids anymore.
TVSTRANGERTHINGS
No title available

Janaina Medeiros
dirt enthusiast
art blog(derogatory)

JVL

No title available
Keni
Not today Justin
Show & Tell
Lint Roller? I Barely Know Her
wallacepolsom
seen from United States
seen from United States

seen from Bulgaria
seen from Türkiye
seen from Morocco

seen from Morocco
seen from Morocco

seen from United Kingdom
seen from United Kingdom
seen from France
seen from United States

seen from Singapore

seen from United States

seen from United States
seen from United States

seen from United Kingdom
seen from United States
seen from United States
seen from United States
seen from United States
@ashfaqulawalhimel
ফিরিয়া আসিলাম আবার
আবার ফিরিয়া আসিলাম , (পুনরায় ডুব মারণের ইচ্ছায় :) )
Exploring the World of Memes: My Latest Piece on Digestknowledge
"New article alert! Just published my piece "Mumble about Memes" on Digestknowledge. A deep dive into the fascinating world of memes and their impact on our culture and society. Check it out and let me know your thoughts!
What exactly are memes? (Pretty dull if you are not a nerd) The article below contains serious issues that can make you bored. (Lol, I am
আলুর অবক্ষয়
আলুর অবক্ষয়
লেখাঃ আশফাকুল আউয়াল
এক চাঁদনী রাতের কাঠফাটা রোদে কিছু আলু মাটির নীচ থেকে বের হলো পৃথিবীর উপরের অংশ দেখার জন্য। কিছুক্ষণ পর তারা একটা রেস্টুরেন্টের সামনে এসে দাড়ালো। গিয়েই দেখলো তেলেসমাতি কান্ড। কিছু নিরামিষাশী ছাগল রেস্টুরেন্টের বাহিরে বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড আর কাগজ নিয়ে আন্দোলন করছে । আন্দোলনের বিষয়বস্তু নিরামিষবাদ। এটা দেখে আলুগুলোও উৎসাহিত হলো তাদের আন্দোলনে যোগ দেওয়ার জন্য(আলুরা কোন এক বিচিত্র কারণে খুব অল্পেই উৎসাহিত হওয়ার ক্ষমতা রাখে)। সমস্যা হচ্ছে তারা বেশ ছোটখাটো আলু হওয়ার কারণে ছাগলের দল তাদেরকে দেখতে পেল না। এতে তারা বেশ ক্ষিপ্ত হয়ে উঠলো। বিভিন্ন প্রচলিত এবং কুৎসিত কিছু গালি দেওয়ার পর ছাগলের দলটা আলুগুলোকে গুরুত্ব দিতে সক্ষম হলো। কারণ ততক্ষণে আন্দোলনে কিছু মাংসাশী প্রাণী হামলা করতে শুরু করেছে। এর মধ্যে কিছু ছিলো ভাল্লুক প্রজাতির, এরা একাই ২-৩ টা ছাগলের ঘাড় মটকে দিল, ঘাড় মটকে দিয়েই তারা ক্ষান্ত হলো না, এর মধ্যে তারা ঘাড় মটকানো ছাগলগুলোকে নিয়ে রেস্টুরেন্টের কিচেনে নিয়ে গেল "ব্যবস্থা" করার জন্য। ইতিমধ্যে গরীব এক ছাগল আলুগুলোকে বগলদাবা করে নিয়ে তার বাসায় পলায়ন করলো, আলুগুলো অবশ্য খুব খুশি ছাগল্টার উপর,তাদেরকে এই কঠিন অবস্থা থেকে উদ্ধার করার জন্য বেশ কৃতজ্ঞ।তবে তাদের এই খুশি বেশিক্ষণ থাকলো না, কারণ কিছুক্ষণের মধ্যেই ছাগলটা আলুগুলোকে বেশ বীভৎসভাবে ছুরি দিয়ে টুকরা টুকরা করতে লাগলো ,টুকরো করার পর ডুবো তেলে ভাজতে দিয়ে চশমা পরে পেপার পড়তে লাগলো। এসব দেখে আর বেশিক্ষণ সহ্য করতে পারলো না লুকিয়ে থাকা শেষ আলুটা, রান্নাঘরের জানালা দিয়ে টুপ করে পড়ে আত্মহত্যা করার ব্যার্থ চেষ্টা করল।
[বি.দ্রঃউপরের গল্প একান্তই কাল্পনিক এবং লেখকের বিকৃত মস্তিষ্কপ্রসূত, এই লেখা থেকে কেউ কিছু অনুধাবন করার ব্যার্থ চেষ্টা করবেন না(এবং করেও কোন লাভ হবেনা)]
ড়িশটির গল্প
লেখাঃ আশফাকুল আউয়াল হিমেল
বিকাল সাড়ে ৩ টা।বাইরে প্রচণ্ড বৃষ্টি। যদিও আজকে বৃষ্টি হওয়ার কথা না। কারণ টিভিতে আবহাওয়ার খবরে দেখানো হয়েছে আজকের দিন ঘুরতে যাওয়ার জন্য অতি উত্তম। জাবিরের আর ভাল্লাগছে না। আবহাওয়ার যিনি খবর দিয়েছেন তাকে ইচ্ছে করছে ধরে ভালো করে ঝালমুড়ি ঝাঁকানি দিতে। যদিও এটা উনার দোষ না। মনে মনে একটা কুৎসিত গালি দিয়ে কাথার নিচে চালান হল জাবির। ঠাণ্ডা বৃষ্টির দিনে ভালো ঘুম হওয়ার কথা। কিন্তু জাবিরের ঘুম আসছে না। এমনিতেই আগের দিন রাত্রে জাবির ভালো করে ঘুমাতে পারে নাই। তার মেজাজ এখন অত্যন্ত গরম। তার সামনে এখন যদি আমেরিকার প্রেসিডেন্টও জরুরি কোন কাজের জন্য আসে জাবির নিশ্চিত সে ক্ষিপ্ত হয়ে বলবে " অফ যা ব্যাটা , তুই আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হইসোস তো কি হইসে ? তরে আমি এক্কেরে বিন্ধাইয়া দিমু ”হঠাৎ করে কলিংবেল বেজে উঠলো। এমন ঝুম বৃষ্টির দিনে তো কেউ আসার কথা না। যাবির ইচ্ছে করেই কাঁথার নিচে শুয়ে থাকল। যেই আসুক দরজা না খুললে কিছুক্ষণ কলিংবেল বাজানর পর চলে যাওয়ার কথা। সমস্যা হচ্ছে যিনি এসেছেন তিনি সম্ভবত অত্যন্ত ধৈর্যশীল কিংবা হয়তো জানে যে জাবির জেগে আছে।জাবিরের ভাই-বোন সবাই থাকে আমেরিকায়। আর জাবির বর্তমানে তার মামার বাসায় থাকে। তার মামা ৬ মাসে ১ বার আসেন এই বাসায়।কারণ তিনি ইতালিতে থাকেন । এই বাসা অনেকবার চেষ্টা করেছেন বিক্রি করার জন্য। কিন্তু কোন এক বিচিত্র কারণে যতবারই এই বাসা তিনি বিক্রি করতে যান কিছুনা একটা ঘাপলা লেগেই যায়। ঘাপলা অবশ্য লাগারই কথা। কারণ এই বাসার ছাদ থেকে একবার এক মেয়ে লাফ দিয়ে আত্মহত্যা করেছিল। এরপর থেকে এই তিনতলা বাসায় কেউ থাকে না। পুরো বিল্ডিং এ যাবির একা থাকে। জাবিরের অবশ্য এসব ব্যাপার নিয়ে ঝামেলা নেই। ভূতের ভয় পাওয়ার জন্য সে একবার তার কয়েকজন বন্ধুদের সাথে শ্মশানে সারারাত ছিল। তেমন কিছুই চোখে পড়েনি। খালি শেষ রাতের দিকে শ্মশানের কাছের পুকুরে কাকে যেন দেখেছিল।পরে জানা গেল ঐ ব্যাটা তাদের গ্রামের মতি পাগলা। সে ওখানে এসেছে প্রাকৃতিক কর্ম সারতে।জাবিরের মাথা গরম হয়ে যাচ্ছে। যে এসেছে সে এখনো কলিংবেল বাজিয়ে যাচ্ছে। যেই আসুক তাকে কড়া করে একটা ঝাড়ি দেওয়া দরকার। জাবির দরজা খুলল।তবে সে যেটা দেখল সেটার জন্য সে প্রস্তুত ছিলনা। পুতুল টাইপ চেহারার ছোট একটা মেয়ে (নাকি মেয়ে টাইপ চেহারার ছোট একটা পুতুল?) দাড়িয়ে আছে।এতক্ষণ যে কলিংবেল বাজাচ্ছিল সে কি মানুষ না পুতুল সেটা সে বুঝতে পারছে না। জাবির বলল কাকে চাই? - ঋ- মানে?- ঋ- ঋ মানে?- ঋজাবির কি করবে বুঝতে পারছে না। আমেরিকার প্রেসিডেন্টের উপর রাগ করা গেলেও পুতুলের উপর রাগ করা গেলনা। বেচারা কি হারিয়ে গেছে নাকি? হয়ত মানসিকভাবে অসুস্থ । আহারে !তবে পুতুল যে শুধু 'ঋ ঋ’ করছে তা না। ঋঋ করে সম্ভবত কিছু বুঝাতে চাচ্ছে।-ঋ ঋঋঋ ঋঋঋ ঋঋ ঋঋঋ। বৃষ্টি এখনো থামছে না। ঢাকা শহর মনে হয় আজকে ডুবিয়ে ফেলবে। এই বৃষ্টির নাম দেওয়া যেতে পারে শহর ডুবানি বৃষ্টি।বৃষ্টি থামালে গেলে কিছু একটা করা যাবে। ঋ ড্রয়িং রুমের এক সোফা থেকে আরেক সোফায় লাফ দিচ্ছে। লাফ দিচ্ছে আর ঋ ঋ করছে। বেচারাকে দেখে জাবিরের মায়া লাগছে। টিভিতে খবর দেখছে জাবির। যদি কোথাও মিসিং পারসনের খবর দেখায়। সন্ধ্যা হয়ে আসছে।বৃষ্টি থামছে না। জলবায়ু পরিবর্তনের কুফল কিনা কে জানে। হয়ত অদূর ভবিষ্যতে বাংলাদেশ নামে কোন দেশ থাকবে না।সব পানির নিচে তলিয়ে যাবে। মানুষের যদি মাছের মত ফুলকা থাকত তাহলে অনেক সুবিধা হত।নাহ । বাসায় থেকেই মনে হচ্ছে যা করার করতে হবে। সে তার সাংবাদিক বন্ধুকে ফোন দিল। - কিরে খবর কি?- ভালো না।- কেন?- কারণ বেশিরভাগ মানুষ ভালো না থাকলেও কেউ যদি জিজ্ঞেস করে কি খবর সবাই বলে ভালো। আর বৃদ্ধদের জিজ্ঞেস করলে শুরু করে তাদের অসুখ বিসুখের কথা শুরু করে।একটা মানুষকে দেখলেই বুঝা যায় সে ভালো আছে নাকি মন্দ আছে,বক বক বক বক বক বকব জাবিরের বকবক শুনতে ভাল্লাগছে না। জামিলকে ফোন করার এই এক সমস্যা ।- একটা কাজ করতে পারবি?- একটা কেন? আমি কখনো একটা কাজ করি না। করতে হইলে দুইটা কইরা কাজ করি।কারণ একটা খাইলে যেহেতু পানিতে পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা- ভাই এইবার থাম- থামলাম। তোরা তো আমাকে কথাই কইতে দেস না।- তর পেপারে মিসিং পারসনের বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়?- হয়না মানে? আরে আমিই তো এইসব কাজ করি- দেখ তো ভাই পেপারে আজকে বা এই এক সপ্তাহে কোন বাচ্চা মেয়ে হারায় যাওয়ার খবর আসছে কিনা?- নাহ, একজনের খবর আসছিল। তারে পাওয়া গেসে।- আচ্ছা ছবি পাঠাইলে বাইর করতে পারবি?- হ, কিন্তু আমার একটা কথা আসছে আর সেইটা হইল গিয়া…জাবির ফোন রেখে দিল।কাকতালীয়ভাবে জাবির যখন ফোন রেখে দিয়েছিল আরেকজনও তখন ফোন রেখে দিচ্ছিল।এতক্ষণ সে জাবির ফোনে কার সাথে কথা বলছিল সেসব শুনছিল।অবশ্য সে বাঙ্গালি না।তার ব্যাপারে পরে জানা যাবে।বৃষ্টিও থেমে গেছে।জাবির ঋ কে জিজ্ঞেস করল কিরে? বাইরে যাবি? - ঋ- চল তাইলেজাবির বাসার সামনের টং দোকানে এসেছে চা খেতে। - দুইটা চা দেন মামা- আরেকটা কার জন্য?- আরেকটা কার জন্য মানে ? এই যে এই পিচ্ছির জন্য- কোন পিচ্চি?- আরে মিয়া আমার পাশে দারায় আসে যেই পিচ্চিদূরে এক টোকাই দাড়িয়ে দাড়িয়ে টিকটক ভিডিও করছিল।ঐটার কথা বলছে কিনা কে জানে। আজকালকার পোলাপানদের ঘাঁটানো উচিত হবে না। রক্তগরম পোলাপান। কোন কিছু সহজে শুনতে চায় না। আফসোস,বিরাট আফসোস। এইসব পোলাপান দিয়ে কি আর দেশের উন্নতি হবে?ঋ কে দেখে মনে হচ্ছে কিছু একটা চিন্তা করছে। চা খাবে না মনে হচ্ছে। চা হাতে দিতেই সে মাথা নেরে বলল " ঋ" ।নাহ খাবে না। - ভাইজান কার সাথে কথা বলেন?- কেন? এই যে পিচ্চির সাথে- ও আচ্ছা- খাবে না মনে হচ্ছে। আপনি খাইয়া ফেলেন। নাকি নিজের বানানো চা খাওয়া নিষেধ আছে?- না না, নিষেধ নাই। ভাইজানের কি 'শইল' খারাপ?- না,কেন?- একা একা থাকেন সারাদিন।- সারাদিন কই?সারাদিন তো বাইরে বাইরেই থাকি। আজকে বৃষ্টি দেইখা বাইর হইতে পারি নাই।কালকে রাত্রে অবশ্য ঘুম কম হইসিল।- ঘুমে অনিয়ম করা ঠিক না। আমার ভাইয়ে প্রায়ই ঘুমে অনিয়ম করত। ঘুমাইতে পারত না। শেষে জাইগা জাইগা স্বপন দেখত।- হুম।পরপর ৩ রাত না ঘুমাইলে বলে হ্যালুসিনেশন হয়।যাই, হোক ।আজকে যাই, কাজ আছে।জাবির চলে যাওয়ার পর দোকানদার দেখল আরেকটা কাপ খালি। চা টা কি সেই খেয়েছে কিনা; সেটা সে মনে করতে পারলো না।জাবির জামিলের কাছে এসেছে। - কিরে, পাইছিস?- নাহ, তুই যেই মেয়ের ছবি দিছস, ওই মেয়ে কি আসলে মানুষ না পুতুল বোঝা যাচ্ছে না। ঐ মেয়ে তর কি হয়?- কেউ হয়না আসলে। আজকে বিকালে দেখি আমার বাসার সামনে দাড়িয়ে আছে।কিছু জিজ্ঞেস করলেই বলে "ঋ”- কি বলে ? ঋ? - হ্যাঁ- শুধুই ঋ ? আগে পিছে কিছু নাই?- না। কেন? তোর সামনেই তো কিছুক্ষন আগে ঋ ঋ করল- আমার সামনে ?- হ্যাঁ। কেন ? তুই শুনতে পাস নাই ? ঐ যে দেখ, এখনো তর বিছানায় বসে আছে। জামিল বিছানার দিকে তাকিয়ে কিছু দেখতে পেলনা(দেখতে না পাওয়ারই কথা)।- তোর কি শরীর খারাপ?- কেন? আজকে চায়ের দোকানের মামাও একই কথা বলল- আজকে আমার এইখানে থাইকা যা তাহলে- নাহ, তুই একা থাকস। দুইজনে জায়গা হবে না। তাছাড়া, ঋ কে নিয়া থাকব কেমনে- কালকে তাইলে আসিস, অনেকদিন একসাথে ঘুরাঘুরি করা হয়না।- দেখি, আর চুলাটা বন্ধ করে রাখিস।- চুলা বন্ধ করব কেন?- ঋ চালু করে রেখেছে- ও আচ্ছাজাবির চলে যাওয়ার পর জামিল দেখল রান্নাঘরে চুলা জ্বলছে। বেশ রহস্যজনক ব্যাপার। তবে সে জানতো না যে আরেকজন এইসব রহস্যজনক ব্যাপার খেয়াল রাখছিল। জাবির বাসায় ফিরে আসল। ঋ কে দেখে মনেই হচ্ছে না যে সে হারিয়ে গেছে।তাকে দেখে মনে হচ্ছে যেন সে এখানে অনেকদিন ধরেই থাকে।কিছুক্ষণ পর জাবির দেখল ঋ গুনগুন করে গান গাচ্ছে আর বাসার বই ছিঁড়ছে। তবে সে কোন এক বিচিত্র কারণে বেছে বেছে ফালতু বইগুলোই ছিঁড়ছে।যেমন কিছুক্ষণ আগে ছিঁড়ল আশফাকুল আউয়ালের লেখা "বিশ্বশান্তির ১০০১টি উপায়”। এরপর ছিঁড়ল সায়মান আদিকের "টেলিপ্যাথি হ্যাকস"। তারপর ইসহাক উদ্দিন চৌধুরীর "অপদার্থবিজ্ঞান” ইত্যাদি ইত্যাদি। ধমক দেওয়া দরকার। তবে শেষ পর্যন্ত সে ধমক দিতে গিয়েও দিল না। থাক না বেচারা, সে তো আর খারাপ কিছু করছে না। যেসব বই ছেড়ার কথা সেগুলোই ছিঁড়ছে।এই নিয়ে ১ সপ্তাহ হল নিক রনকি জাবিরের উপর নজরদারি রাখছে। তার ইচ্ছা করছে এক্ষণই একশনে যেতে। কিন্তু উপর থেকে এখনো নির্দেশ আসেনি তেমন কিছু করার। এতদিন নজরদারি করতে হবে জানলে সে এই কেস নিত না। তাও আবার বিদেশে। তবে এই কেস শেষ করতে পারলে সে কমপক্ষে ১ ট্রিলিয়ন ডলার পাবে। যদিও সে প্রথমে 'তেনাদের' কথা বিশ্বাস করতে চায়নি, কিন্তু তাকে ওরা আগেই আধ ট্রিলিয়ন ডলার পাঠিয়ে দিয়েছে। সেই আধ ট্রিলিয়ন ডলার নিয়ে সে ব্রাজিলে পালিয়ে গিয়েছিল। কিন্তু কিভাবে কিভাবে জানি সে যেখানেই পালায় সেখানের খবর তারা জেনে ফেলে। এরপর সে খবর পায় তারা তার সহকর্মী(এবং বান্ধবী) বিয়াট্রিসকে জিম্মি করে রেখেছে। এরপর আসলে আর পালিয়ে থাকার প্রশ্নই ওঠে না। অবশ্য এতজন থাকতে তাকেই যে কেন ওরা বেছে নিলো ব্যাপারটা সে বুঝতে পারছে না। নিক রনকির পেট গুড়গুড় করে উঠল। আজকে অনেকক্ষণ ধরে খাওয়া হয় নি। বাঙ্গালি খাবার তার কাছে কেন জানি একটু বেশিই ঝাল লাগে। সেইদিন দেখল ভ্যানে করে কেন জানি লম্বা বেরীর মত কিসব ফল নিয়ে যাচ্ছিল। একটা খেয়েই তার চোখমুখ জ্বলে উঠল। বিশাল ঝাল। আশেপাশের মানুষজন সব সেটা দেখে হাসাহাসি শুরু করছে। স্টুপিড পেযান্টস!!! রাত সাড়ে ১২ঃ৩২ নিক রনকি দেখল জাবির আর ঋ ঋ করা প্রানিটা ঘুমিয়ে পড়েছে। নিক রনকি বুঝতে পারল না চায়ের দোকানের লোকটা আর জামিল কেন ঋ ঋ করা প্রানিটাকে খেয়াল করেনি। এমনকি রাস্তায় অনেক মানুষের গায়ের সাথে ধাক্কা লাগলেও তারা বুঝতে পারেনি কিসের সাথে ধাক্কা লেগেছে। বেশ রহস্যজনক ব্যাপার। নিক রনকি জাবিরদের পাশের বিল্ডিঙের ফ্ল্যাটে থাকে। যারা কাজ দিয়েছে তারা সবকিছুর ব্যাবস্থা করেই দিয়েছে। চাইলেই হয়তো তারা অন্য কাউকে কেসটা দিতে পারত। নাহ, যাবতীয় ঝামেলা কেন জানি তার হাতেই পড়ে। ক্যামেরা রেকর্ড মোডে দিয়ে গোসল (নিক রনকির ভাষায় যাকে বলে হট শাওয়ার)করতে গেল নিক।জাবির রাত্রে বেশ অদ্ভুত একটা স্বপ্ন দেখল। সে দেখল সে বাসার ছাদে ঋর সাথে হাঁটছে। হটাৎ করে ঋ তাকে নিয়ে ছাদ থেকে লাফ দিল। লাফ দেওয়ার পর সে নিচে পড়তে থাকল। পড়তেই থাকল। মনে হচ্ছে এই ধারাবাহিক পতন আর শেষ হবে না। জাবিরের মনে হচ্ছে তার ওজন কয়েক হাজার গুণ বেড়ে গেছে।শেষে তার মনে হল সে আসলে নিচে পরছে না। এতক্ষণ আসলে সে স্থির হয়ে ছিল।চারপাশে কারা যেন ফিসফিস করছে। তারা কিংবা সে(কারণ জাবির বুঝতে পারছে না সেইগুলা কি, কেন জানি মনে হচ্ছে অনেকগুলো ঝাপসা ঝাপসা মাথার ভেতরে অনেকগুলো মাথা,কিংবা একটা মাথার ভেতরে অনেকগুলো মাথা ) অনেকক্ষণ পর কেউ একজন বলল তুমি কে? জাবির বলল " ঋ" ওরা বলল আমরাও ঋ । কিন্তু ব্যাপারটা হচ্ছে তুমি কিভাবে ঋ কে দেখছ?জাবির কিছু বুঝতে পারছে না। জাবিরের মনে হচ্ছে সে আস্তে আস্তে ছোট হয়ে যাচ্ছে কিংবা তার আশেপাশের সবকিছু বড় হয়ে যাচ্ছে। তারা বলল সম্ভবত তুমি আসলে ঋ কে দেখছ না। তুমি আসলে ঋ এর ছায়াকে দেখছ।অসুবিধা হচ্ছে ঋ তো দূরের কথা, তোমাদের মত প্রাণীদের জগতের সর্বচ্চ মাত্রা দিয়েও ঋর ছায়া তোমার দেখতে পারার কথা নয়।কারণ তোমরা তোমাদের জগতের মূল ভিত্তি এখনো অতিক্রম করতে পারনি। তোমরা সীমার ভেতর থেকে অসীমের খোজ কর।তোমাদের মতে ০ ভাগ ০ অসঙ্গায়িত। তোমাদের জন্য আমাদের সমবেদনাআশেপাশের সবাই বলতে লাগল সমবেদনা সমবেদনা সমবেদনাতবে তুমি চাইলে এর থেকে বের হওয়ার পরিত্রাণ আমরা বলে দিতে পারি। কিন্তু এতে তোমাদেরই ক্ষতি।তোমাদের এতদিনের কষ্টে তৈরি ভাবনার জগত ভেঙ্গে যাবে। আশপাশ থেকে কারা জানি বলতে লাগল সময় শেষ হয়ে আসছে সময় শেষ হয়ে আসছে সময় শেষ হয়ে আসছে তোমাদের জগতের এই আরেক সমস্যা, সময়। সময় অবশ্য আমাদের কাছে বড়কিছু না। সময় আমাদের কাছে ছেলেখেলা। ঠিকাছে বিদায়।যাই, কিছুক্ষণ সময় নিয়ে খেলা করি গিয়ে......রাত সাড়ে ৩টা।জাবিরের ঘুম ভেঙ্গে গেল। পুরা বিছানা ঘামে ভিজে গিয়েছে।এই প্রথম জাবির জীবনের ১ম ভয়টা পেল। যেই ভয়ের উৎপত্তি এই জগতের না, অন্য কোন ভুবনের।বিছানার পাশের সোফায় ঋ বিড়ালের মত কুন্ডুলি পাকিয়ে শুয়ে আছে। আহারে, বেচারাকে দেখে তার মায়া লাগছে, একই সাথে ভয়ও লাগছে।পানি খাওয়ার জন্য সে মাঝের রুমে গেল। পানি খাওয়া শেষ করে সে হটাৎ করে চমকে উঠল। ঋ তার পেছনে দাড়িয়ে আছে। দুইহাতের আঙ্গুল বিচিত্রভাবে একসাথে করে রেখেছে। ঋ কে দেখে বোঝাই যাচ্ছে না যে কিছুক্ষণ আগে ঘুমাচ্ছিল। জাবিরের এই প্রথম সন্দেহ লাগতে লাগল ঋ কি আসলেই মানুষ নাকি অন্য কিছু।তবে সে বেশিক্ষণ চিন্তা করতে পারল না। কারণ কিছুক্ষণের মধ্যেই নিক হটাৎ করে তার মাথায় বাড়ি মেরে অজ্ঞান করে দিল। নিক অবশ্য একা আসেনি, সাথে তার দলবল নিয়ে এসেছে। উপর থেকে রাত্রে হঠাৎ করেই নির্দেশ এসেছে জাবিরকে ধরে নিয়ে আসার। তবে ঋ কে নিক ছাড়া তার দলের আর কেউ দেখতে না পারায় নিক কেই ঋকে বস্তায় ভরতে হল। তবে অদ্ভুত ব্যাপার হল ঋ কে বস্তায় ভরার পর সবার কেন জানি মনে হল ভেতরে কেউ আছে।জাবির চোখ খুলে দেখল সে খুবই উজ্জ্বল কোন এক জায়গায়। কিছুক্ষণ পর খেয়াল করল হলিউড মুভিতে যেমন ল্যাবরেটরি দেখা যায় সেরকম কোন এক জায়গা।আশেপাশে সব বিদেশি মানুষজন। আমেরিকান থেকে শুরু করে নাক চ্যাপ্টা জাপানিজ পর্যন্ত হাজির। এমনকি বাঙ্গালি চেহারার কয়েকজনকেও এখন দেখা যাচ্ছে। সবার আপ্রনে ফ্রিলূমিনাতি লেখা সাইন। হঠাৎ করেই সে বাংলাদেশের অতি বিখ্যাত একজন বিজ্ঞানীকে দেখতে পেল। এই বিজ্ঞানী অনেকেরই পরিচিত। কারণ তিনি একই সাথে বিজ্ঞানী এবং লেখক। প্রতি বইমেলায় তার একটা করে বই বের হয়।কিন্তু জাবির কিছুতেই তার নাম মনে করতে পারছে না। কিছুক্ষণ পর সে এসে বলল শুভ সকাল জাবির, অবশ্য এখানে সকাল আর রাত্রির পার্থক্য নেই। সবসময়ই আলোকিত এই জায়গা। ঘুম কেমন হয়েসে ? জাবির কিছু বলল না। ঘুম ভালো হওয়ার কথা না। কারণ তোমাকে আমরা অনেকক্ষণ ধরে বেধে রেখেসি। জাবির খেয়াল করল এই বেটা কোন কারণে "ছ” কে " স" উচ্চারণ করছে। সে এখনো বকবক করে যাচ্ছে - মানব মস্তিষ্ক সর্বচ্চ তিনটা মাত্রায় সংবেদনশীল। অর্থাৎ আমরা ত্রিমাত্রিক জগত অনুভব করি, কিন্তু তার মানে এই না যে মহাবিশ্বে শুধু এই তিনটা মাত্রা (দৈর্ঘ্য, প্রস্থ, উচ্চতা) আসে। যেমনঃ রিলেটিভিটির ব্যাখায় চতুর্থ মাত্রার (Time) প্রয়োজন হয়।আবার সময়কেই যে ৪র্থ মাত্রা হিসেবে নিতে হবে, সেইটা কিন্তু কেউ বলে নাই।সময়কে হিসাবের বাইরে রেখে শুধুমাত্র স্থানেরই(space) চারটা মাত্রা তুমি চিন্তা করতে পার।এক্ষেত্রে এই অতিরিক্ত মাত্রাটার নাম দেওয়া যাইতে পারে স্থানিক-চতুর্থ-মাত্রা।যদি এটা আমাদের আয়ত্তে থাকত, তাইলে আমরা হাইপার-স্পেস-ট্রাভেল করতে পারতাম। তাই অতি উচ্চবুদ্ধিমত্তার বা উচ্চমাত্রিক প্রাণী যদি থেকে থাকে, তারা হয়তো বা চতুর্মাত্রিক জগৎ অনুভব করবে, মানে তাদের সাপেক্ষে জগতের মাত্রা হবে চার। যেমন তোমার ' ঋ '।সমস্যা হচ্ছে তুমি বাদে এই ল্যাবের মাত্র ২ জন ঋ কে দেখতে পারসে। এর মানে সম্ভবত জগতের মাত্রা অনুভব সাপেক্ষ।ঋ মনে হয় আমাদেরকে সাহায্য করতে চাচ্ছে না। তাছাড়া ঋ কে যারা দেখসে তাদের ধারনা ঋ আসলে চতুর্মাত্রিক প্রাণী না।তবে আমরা যেমন দ্বিমাত্রিক তলে আমদের ছায়া ফেলতে পারি , তেমনি চতুর্মাত্রিক প্রাণীরাও মনে হয় আমাদের ত্রিমাত্রিক তলে ছায়া ফেলতে পারে।ঋ চতুর্মাত্রিক প্রাণীর ছায়া হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।ঋকে এখন আমরা হাই ভোল্টেজ দিয়ে ডিসচার্জ করব। এরপর ওর স্পেকট্রাম দেখব, দেখে এটা কি কি মৌল দিয়া বানানো সেইটা দেখব। ঋ অবশ্য মারাও যেতে পারে। কিন্তু কি আর করা, বিজ্ঞানের অগ্রগতির জন্য তো একটু ত্যাগ স্বীকার করতেই হবে কি বল? বলেই কুৎসিত ভাবে হাসল বিজ্ঞানী ইকবাল মির জাবিরের মাথা গরম হয়ে যাচ্ছে । চেষ্টা করল ওর বিছানা থেকে ওঠার। কিন্তু পারল না। না পারারই কথা। হাত পা লোহার হাতকরার মত কিছু একটা দিয়ে বেধে রেখেছে যেজাবির ঋ কে দেখতে পারল। বেচারা ঋ ঋ করে চিক্কার দিচ্ছে। তবে অনেকক্ষণ হাই ভোল্টেজ চালিয়েও ঋকে কাবু করা যাচ্ছে না।কেউ একজন ঋর সাথে কথা বলার চেষ্টা করছে।কিন্তু ঋ মাথা নাড়াচ্ছে। জাবির শরীরের সর্বশক্তি দিয়ে ডান পা আর বাম হাতের শিকল ভাঙতে পারল। সমস্যা হচ্ছে ভাঙ্গার সাথে সাথেই কিসের যেন এলার্ম বেজে উঠল। তারপরই কয়েকজন এসে জাবিরকে ধরে মাথায় কোন কিছুর ইনজেকশন দিয়ে দিল । জাবির অজ্ঞান হয়ে পড়ল। জাবিরের প্রচণ্ড মাথা ব্যাথা করছে। কিন্তু সে আশেপাশে কিছু দেখতে পারছে না। মনে হচ্ছে কেউ একজন মাথার মধ্যে হাতুড়ি পেটাচ্ছে, কিংবা চোখের মধ্যে সূচ ঢুকিয়ে দিচ্ছে। হঠাৎ করেই জাবিরের মনে হল ভূমিকম্প হচ্ছে। মনে হচ্ছে ল্যাবের মধ্যে সবাই দৌড়াদৌড়ি করছে। মাথাব্যথা এখন আর তেমন নেই, কিন্তু মাথার ভেতরে একটা ভোঁতা যন্ত্রণা হচ্ছে।কিছুক্ষণ পর সে দেখতে পেল ঋ তার সামনে দারিয়ে আছে। জাবির ঋ র দিকে তাকিয়ে বলল কিরে , ওরা কিছু করেছে নাকি তোকে? ঋর চোখে পানি। এই প্রথম ঋ কথা বলল। - আমার নাম ঋ না। আমার নাম ড়িশটি।ওরা আমাকে কিছু করতে পারে নাই, কিন্তু তোমার শরীরের তো অবস্থা খারাপ করে দিয়েছে। আমার হাতে আর সময় নাই, আমাকে যেতে হবে, কিন্তু আমাকে যতদিন মনে রাখবে ততদিন তোমার বিপদ। সুতরাং আমাকে তোমার স্মৃতি থেকে মুছে দিতে হবে।কাজেই এবার আসি, বিদায়।- এইভাবে নাকি কান্না কইরা বিদায় দিতে নাই, বিদায় দিতে হয় হাসিমুখে, হাসি দেওঋ অনেক কষ্টে মুখ হাসি হাসি করে বলল বিদায়।যদিও ঋর মুখে হাসি, কিন্তু তার চোখে পানি জাবিরের জ্ঞান ফিরল হাসপাতালে।আশেপাশে পরিচিত-অপরিচিত অনেক আত্মীয়-স্বজন বন্ধু-বান্ধব দাড়িয়ে আছে। জাবিরকে নাকি তারা ছাদের উপর অজ্ঞান অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেছে, বিশেষ করে যেই জায়গা থেকে লাফ দিয়ে ঐ বাড়ির মেয়ে আত্মহত্যা করেছিল। এরপর অনেকদিন কেটে গেছে। কোন এক বিচিত্র কারণে বিজ্ঞানী ইকবাল মির নিখোঁজ।ফ্রিলুমিনাতি নামে কোন এক গুপ্ত সংঘঠনের গোপন তথ্য পত্রিকায় ফাঁস হচ্ছে প্রতিদিন। জামিলের ভাষ্যমতে এখন পত্রিকাওয়ালাদের সুখের সময়।জাবির এখন আমেরিকায় থাকে। বাংলাদেশের অনেক স্মৃতি সে কেন জানি হঠাৎ করে ভুলে গিয়েছে। নিক রনকি নামে এক ভদ্রলোক (নাকি অভদ্রলোক?) বারবার ফোন করে তার কাছে জানতে চাচ্ছে ঋ নামে কাউকে সে চেনে কিনা। ঋ নামের কাউকে পেলে সে যেন নিউয়ার্ক সেন্ট্রাল জেলে দুপুরের দিকে ফোন দিয়ে তাকে জানায়।ব্যাটার মাথায় গণ্ডগোল আছে মনে হয়। ঋ আবার মানুষের নাম হয় কিভাবে? কিছুক্ষণ পর সে পেপার খুলল ।মাঝখানের পেজে নিখোঁজ সংবাদের জায়গায় খুব পরিচিত একজনের চেহারা দেখতে পেল। কিন্তু সে কিছুতেই তার কথা মনে করতে পারল না। পারার কথাও না অবশ্য।
টাম্বলার কি জিনিস?ইহা কি খায় না মাথায় দেয় না গায়ে মাখতে হয়?নাকি......
যেহেতু টাম্বলারে আমার পরিচিত কেউ নাই সেহেতু টাম্বলারে কিছু পাগলামি করা যেতেই পারে, এটাকে আমার পগ্লামির প্লাটফর্ম হিসেবেও বিবেচনা করতে পারেন 🥴। বাংলাদেশি কেউ যদি টাম্বলার ব্যবহার করে থাকেন তিনি কি একটু ব্যাখ্যা করতে পারবেন এটা কী? এখানে কি কি করা যায়?ফেসবুকের সাথে এটার পার্থক্য কি?
পুরাতন টাম্বলার ইউজার be like:হ্যহ ,পুরান পাগল ভাত পায় না নতুন পাগলের আমদানি😑😑😑
মতিনের মতিগতি কিংবা একটি হারিয়ে যাওয়ার গল্প
লেখাঃ© আশফাকুল আউয়াল হিমেল মতিন সাহেব খবর শুনছেন। তার ডায়রিয়া হয়েছে। কাজের ছেলে কাদের পলাতক। সম্ভবত সেই ফ্রিজ চুরি করেছে। তবে এত বড় ফ্রিজ সে কিভাবে চুরি করলো তা এক রহস্য । এমন সময় কলিংবেল বেজে ওঠে। তিনি দরজা খুলে দেখেন হলুদ পাঞ্জাবি পরা এক ছেলে দাড়িয়ে আছে। পায়ে জুতা নাই,ধান্দাবাজ না তো ? আজকাল দেশে ধান্দাবাজের অভাব নাই । মতিন সাহেব বললেন" কাকে খুঁজছেন ?” হলুদ পাঞ্জাবিওয়ালা বলল "এটা কি রুপাদের বাসা ?” মতিন সাহেব ভ্রু কুচকালেন। বদের বাচ্চা কার খোঁজ চায় ? মতিন সাহেবের একমাত্র মেয়ে এখন স্বামীর সাথে কানাডায় এবং তাদের কারো নামই রুপা না । তিনি কি বলবেন বুঝতে পারছেন না । এদের সাথে ভয়ঙ্কর অস্ত্র থাকতে পারে। ছোটখাটো চুরি ডাকাতি থেকে শুরু করে এরা ঠাণ্ডা মাথায় মানুষ খুন করতে পারে। তিনি হলুদ পাঞ্জাবিওয়ালার মুখের ওপর দরজা বন্ধ করে দিলেন। কিছুক্ষণ পরেই মতিন সাহেবের মন খারাপ হয়ে গেল। এতো কঠিন না হলেও চলত। মতিন সাহেবের পিপাসা পেয়েছে। ঠাণ্ডা পানি খেতে পারলে ভাল হত। ফ্রিজ যেখানে থাকার কথা সেখানে গিয়েই তার মনে পড়লো ফ্রিজতো চুরি হয়ে গেছে। বাসায় কেউ নাই। আসলে তিনি ও কাজের ছেলে ছাড়া কেউই বাসায় থাকেনা কারণ তার স্ত্রী মারা গিয়েছে । দুপুর ২টা বাজে। এসময় তিনি সামান্য কিছু খান। সমস্যা হচ্ছে তিনি রান্না ভাল পারেন না। কাজের ছেলেও পলাতক। তিনি এখন খাদ্যের খোঁজে বের হবেন। "In search of God” এর মতো "In search of Food” । মতিন সাহেব নিচে গিয়ে দেখেন হলুদ পাঞ্জাবিওয়ালা দাড়িয়ে আছে। মতিন সাহেবের ভয় করতে লাগলো। সে কি তার ওপর নজরদারি রাখছে? তিনি ঝেড়ে দৌড় দেবেন কি না বুঝতে পারছেন না। হলুদ পাঞ্জাবিওয়ালা তার দিকে আসতে লাগলো। তার হাত পেছন দিকে গোটানো। সম্বভত কোন অস্ত্র লুকিয়ে রেখেছে। মতিন সাহেব উল্টোদিকে দৌড় দিলেন। মেইন রোডের কাছে গিয়ে একবার পেছনে তাকালেন। হলুদ পাঞ্জাবিওয়ালা হা হা করে হাসছে। খুবই সাধারণ হাসি। কিন্তুু মতিন সাহেবের কাছে সেটাই খুব ভয়ংকর বলে মনে হলো। কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি করে মতিন সাহেব দুটো হোটেল। খুঁজে পেলেন। দুটোই পাশাপাশি অবস্থিত। একটায় মানুষ বেশি আরেকটায় খুব কম। তিনি কম হোটেলটাতেই গেলেন। তিনি দুপুরের খাবারের মেনু দেখছেন,তবে তাতে অনেক বানান ভুল রয়েছে। যেমনঃ উপরে হোটেল বানান লেখা হয়েছে "হোঢেল"। হোটেলের নাম তিনি এতক্ষণ খেয়াল করেন নি। লেখা রয়েছে "গুগল হোটেল"। অদ্ভুত নাম। তবে এখন অদ্ভুত নামের যুগ। তার বড় নাতনির নাম রাখা হয়েছে "নৃ"। নামকরণের সময় তিনি কাছে ছিলেন না। নাহলে অবশ্যই তিনি অন্য নাম রাখতেন। তিনি ভাতের অর্ডার দিয়ে অপেক্ষা করছেন। এমন সময় একজন এসে বলল বসতে পারি? বলেই অপেক্ষা করলো না।। সাথে সাথে তার সামনে বসে পড়লো। মতিন সাহেবের ইচ্ছে হলো লোকটার গায়ে সামনে থাকা গ্লাসের পানি ফেলে দিতে। পারলেন না। কারণ সমাজে বাস করার জন্য আমাদের নিয়ম মেনে চলতে হয়। তাছাড়া এটা তার একার হোটেল না। এখানে যে কেউ বসতে পারে। সমাজের সব নিয়ম সবসময় মানা যায়না। মতিন সাহেবের মনে হচ্ছে তার সামনে বসা ব্যাক্তি দীর্ঘসময় ধরে কথা বলার জন্য এখানে এসেছে। সে বলল"ভাই,একটা হলুদ পাঞ্জাবিওয়ালা ছেলে আশেপাশে দেখেছেন? মতিন সাহেব মনে মনে ভয়ানক চমকালেও বাহিরে তা প্রকাশ করলেন না। হলুদ পাঞ্জাবিওয়ালা নিশ্চয়ই সন্ত্রাসী এবং তার সামনে যে বসে আছে সে নিশ্চয়ই সাদা পোশাকের পুলিশ। মতিন সাহেব ঘামতে লাগলেন। তার ভয় লাগছে। রিমান্ডে নেবে না তো? রিমান্ড নিয়ে তার একটি তিক্ত অভিজ্ঞতা রয়েছে। একবার তিনি শখের বশে ফেসবুক খুলেছিলেন। সেখানে তিনি "জঙ্গল বাঁচাও" এর বদলে "জঙ্গি বাঁচাও" লিখেছিলেন। এরপর থানা,পুলিশ,এই মন্ত্রীর পায়ে ধরা ওই মন্ত্রীর পায়ে ধরা ইত্যাদি অনেক হাঙ্গামা করে পার পেয়েছিলেন। তিনি বললেন "হ্যাঁ,আমার বাসার সামনেই ও আছে" বলেই তিনি ভয়ানক চমকালেন,হায় হায়,এটা কি বললেন তিনি। এখন রিমান্ডে না নিলেই হয়। তার সামনে বসা লোকটা বলল "বুঝলেন ভাই,ছেলেটা মনে হয় বিরাট ড্রাগ অ্যাডিক্ট । হলুদ পাঞ্জাবি পইরা খালি পায়ে হাঁটে। বাপ-মায়ের একমাত্র সন্তান। আমি হলে থাপড়ায়ে সোজা কইরা দিতাম। বদ কোথাকার"। ভাত এসে গেছে। মতিন সাহেব দ্রুত ভাত গিলে পালিয়ে যেতে চাচ্ছিলেন,এমন সময় ওই লোক বলল "ভাই, ওই বদটাকে যেখানে দেখেছেন সেখানে নিয়ে যেতে পারবেন?” মতিন সাহেব বলতে চাচ্ছিলেন – না,আমার কাজ আছে। কিন্তু কিছুতেই বলতে পারলেন না। মনে হয় পুলিশদের সাথে মিথ্যা বলা কঠিন। মতিন সাহেব মাথা নেড়ে বললেন "পারব"। লোকটা বলল" ভাই,সিগারেট খাওয়ার অভ্যাস আছে?” - না - তাহলে চলেন সিগারেট খাই বলেই লোকটা সিগারেট ধরালো। মতিন সাহেব অাগুন না দিয়েই মুখে সিগারেট নিয়ে দাড়িয়ে থাকলেন। একটু পরেই মতিন সাহেব ও লোকটাকে তার বাসার গলির সামনে দাড়িয়ে থাকতে দেখা গেল। এবং আরও কিছুক্ষণ পর হলুদ পাঞ্জাবিওয়ালাকে পুলিশ থানায় নিয়ে গেল। পরের দিন। মতিন সাহেব পেপার পড়ছেন। তিনি সাধারণত দুইবার পেপার পরে থাকেন। প্রথমবার পড়লে যেসব খেয়াল করা হয়না,দ্বিতীয়বার পড়লে তা খেয়াল করা হয়। যেমনঃ এক
গ্রামে মৎস্যকুমারী পাওয়া গেছে। ইন্টারেস্টিং খবর। তবে মৎস্যকুমারীর ছবি নেই। গ্রামবাসী ছবি তুলতে দিচ্ছে না। পাশেই আরেকটা খবর। সেই হলুদ পাঞ্জাবিওয়ালার ছবি। লেখা রয়েছে অস্বাভাবিক মৃত্যু। মতিন সাহেব চমকালেন। দুপুরে তিনি নতুন কাজের ছেলের খোঁজে গেলেন। ‘In Search of Searvant’.কিন্তুু তেমন কাউকে পেলেন না। রাতে তিনি টিভিতে খবর শুনছিলেন। এমন সময় বারান্দায় হলুদ পাঞ্জাবিওয়ালা একজনকে দেখলেন। তিনি দ্রুত বারান্দায় গিয়ে দেখলেন কেউ নেই। তিনি মনে মনে খুব ভয় পেলেন। রাতে ঘুমানোর সময় তিনি তার দুই মেয়ে এবং নাতির সাথে কথা বলেন। কিন্তু সেদিন তিনি তাড়াতাড়ি শুয়ে পড়লেন। কিছুক্ষণ পরেই তার বড় মেয়ে ফোন করলো। - "কি হলো বাবা,আজকে ফোন করনি কেন? - না,আজ শরীর খারাপ,তাই তাড়াতাড়ি শুয়ে পরেছি। আচ্ছা মা,তুই কি ভূত বিশ্বাস করিস? -না,কেন বাবা?তোমার শরীর কি খুব বেশি খারাপ? -না… -বাবা,আমরা কিন্তু এই ঈদে বাংলাদেশে আসছি -একটা হলুদ পাঞ্জাবি কিনে আনতে পারবি মা? -পারবো...কিন্তু কেন বাবা? -এম্নি রাতে মতিন সাহেবের ঘুম ভাল হলো না। তিনি স্বপ্নে দেখলেন অনেকগুলো হলুদ পাঞ্জাবিওয়ালা তাকে মাছের মতো ঠোকর দিচ্ছে। সকালে উঠেই তাঁর মাথাব্যাথা করতে লাগলো। দুপুরবেলা। হঠাৎ কলিংবেল বেজে ওঠে। এ সময় আবার কে আসতে পারে? মতিন সাহেব দরজা খুলে দেখেন সেই হলুদ পাঞ্জাবিওয়ালা দাড়িয়ে আছে। মতিন সাহেব সাথে সাথে অজ্ঞান হয়ে গেলেন। মতিন সাহেব জ্ঞান ফিরতেই দেখলেন তিনি হাসপাতালের কেবিনে। তিনি পাশে থাকা নার্সকে দেখে বললেন, আমি কি বেহেস্তে?’ নার্স হাসিমুখে দাড়িয়ে থাকলো। মতিন সাহেবের ইচ্ছে করলো নার্সের গালে একটা থাপ্পড় দিতে। বয়স্ক একজন মানুষ সহানুভূতি চাইছে আর সে মুখ হাসি হাসি করে দাড়িয়ে আছে। এর মানেটা কি? দেশ থেকে কি বয়স্কদের শ্রদ্ধা করার বিষয়টা চলে যাচ্ছে? এখনকার তরুণ সমাজ শ্রদ্ধা কি তাই ভুলে যাচ্ছে। এদের সকাল বিকাল থাপড়ানো দরকার। কিছুক্ষণ পর মতিন উদ্দিন দেখলেন মফিজ তাঁর পাশে একটা চেয়ারে বসে আছে। মফিজ হলো মতিন সাহেবের প্রতিবেশী। সম্ভবত মফিজই তাকে এখানে এনেছে। মফিজ বলল, "কি ব্যাপার মতিন ভাই,সন্ধ্যায় আপনার বাসায় এসে দেখি আপনি দরজা খুলে পড়ে আছেন। ভাবলাম মার্ডার নাকি,পরে আবার আপনাকে হাসপাতালে আনলাম। নেন ভাই আঙুর খান" বলেই মফিজ তার দিকে আঙুরের ঠোঙ্গা বাড়িয়ে দিলো। মতিন সাহেব ভাবলেন মফিজ তাকে ভাই বলে ডাকছে কেন? সে কি তার সমবয়সী? তিনি কিছুই মনে করতে পারছেন না। তাঁর মাথা সম্ভবত খারাপের দিকে যাচ্ছে। কিংবা মাথা খারাপই হয়ে গেছে। কারণ তাঁর ইচ্ছে করছে আঙুরের ঠোঙ্গাটা ডাস্টবিনে ফেলে দিতে। কিন্তু তিনি এর বদলে আঙুরের ঠোঙ্গা নিয়ে আঙুর খাওয়া শুরু করলেন। নাহ,এর মানে মাথা এখনো পুরোপুরি খারাপ হয়নি। মতিন সাহেবের তেমন কোন শারীরিক ক্ষতি হয়নি। কিন্তু তবুও একদিন হাসপাতালে কাটিয়ে দিলেন। আসলে তাঁর নিজের বাসায় যেতেই ভয় লাগছে। পরের দিন। মতিন সাহেব বাসার দরজা খুলে দাড়িয়ে আছেন। তাঁর বাসার অর্ধেক জিনিসই নেই। চোর মূল্যবান সব জিনিসই নিয়ে গেছে কিন্তু কোন বিচিত্র কারণে টিভির মতো একটা মূল্যবান বস্তুই সে নেয়নি। এর কারণ কি? ঢাকা শহরের চোরদের মাথা কি আউলা ধরণের হয়ে যাচ্ছে ? নাকি টিভির প্রতি চোরটার বিতৃষ্ণা আছে ? কিছুক্ষণ পরেই মতিন সাহেবের বড় মেয়ে অবন্তি তাঁর পরিবারসহ মতিন সাহেবের বাসায় আসলো। অবন্তি এসেই দেখল তাঁর বাবা প্রায় খালি বাসায় টিভি ধরে দাড়িয়ে আছে। এর মানে কি? তাঁর বাবার কি মাথা খারাপ হয়ে যাচ্ছে ? মতিন সাহেবের মেয়ের জামাই তাকে নির্বিকার গলায় বলল"স্লামালাইকুম বাবা, ভালো আছেন ?" তাঁর বড় নাতি নৃ বলল "নানু তুমি কি করছো?” মতিন সাহেব বললেন "তোমরা ভাল আছো?” বলার প্রায় সাথে সাথেই তাঁর হাত থেকে টিভিটা পড়ে ভেঙ্গে গেল। নৃ বলল" বুঝেছ নানু আমাদের বাসায়ও দুইটা টিভি ভেঙ্গে গিয়েছিলো। একটা আমি ভুলে খেলতে গিয়ে ভেঙ্গে ফেলেছিলাম আরেকটা আব্বু আর আম্মু ঝগড়া করার সময় ' “নৃ, তুমি চুপ থাকো। " বলল অবন্তি। কয়েকদিন পর। মতিন সাহেবের বাসায় কয়েকটা নতুন আসবাবপত্র দেখা যাচ্ছে। তবে সেটা সাময়িক। কারণ তাঁর বড় মেয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তাকে অস্ট্রেলিয়া নিয়ে যাবে। এছাড়া ভাল সাইকিয়াট্রিস্ট দেখানো দরকার। রাতে খাবারের সময় মতিন সাহেবের জামাই তাঁর সাথে কথা বলছে "বুঝলেন বাবা,অস্ট্রেলিয়া বিরাট দেশ। সম্ভবত আয়তনে বিশ্বের ৪র্থ কিংবা ৫ম। শীতের সময় দারুণ স্নো ফল হয় , তখন ফায়ারপ্লেসে বসে লালপানি খেতে খেতে তুষারপাত দেখার মজাই আলাদা, আর ক্যাঙ্গারু......’ মতিন সাহেবের কান দিয়ে ধুঁয়া বের হচ্ছে। জামাই বলে কি তাঁকে ! ফায়ারপ্লেসে বসে লালপানি খাওয়া। কোন জামাই তাঁর শ্বশুরকে এমন কথা বলতে পারে এটা তাঁর মাথাতেই আসেনি। সে এখনো বকবক করেই যাচ্ছে। তাঁর ইচ্ছে করছে তাঁকে থাপ্পড় দিতে। কিন্তু শীতের দেশে লালপানি খাওয়া যেতেই পারে। কথায় আছে - যস্মিন দেশে যদাচার। মতিন সাহেবের বড় মেয়ে অবন্তি তাঁর স্বামী জাহিদের সাথে কথা বলছে। কিন্তু বোঝা যাচ্ছে না তাড়া ঝগড়া করছে না আলাপ করছে। জাহিদ বললঃ -
তোমার বাবা মনে হয় মাথা গরম পাবলিক । - আমার বাবা মাথা গরম পাবলিক মানে? - মানে উন্মাদ শ্রেণির - তুমি আমার বাবাকে উন্মাদ বললে? - ভুল বলেছি। তোমার বাবা ভয়ঙ্কর মানুষ। আমি খাবার টেবিলে বকবক করে গেলাম আর উনি শুধু হ্যাঁ- হু করেন। তোমার বাবার সামনে আমার দাড়াতেই ভয় লাগে। - আমার বাবাকে তুমি ভয়ঙ্কর বললে? তোমার সাথে আমার বাস করাই উচিৎ না। - তুমিও দেখি তোমার বাবার মতো মাথা গরম। অাচ্ছা তোমাদের বংশের সবারই কি মাথা গরম? - তুমি বুঝি খুব ঠাণ্ডা মাথার মানুষ? তোমার মতো বেকুবের সাথে আমার বিয়ে হওয়াই উচিৎ হয়নি। এখন যদি আমরা দেশে না থাকতাম তাহলে.........… পরদিন সকালে। মতিন সাহেবের ঘুম সেদিনও ভাল হলো না। তিনি স্বপ্নে দেখলেন তিনি এবং তাঁর জামাই খালি গায়ে ছাদে দাড়িয়ে লালপানি খাচ্ছেন। কিন্তু স্বপ্নে তাঁর কাছে সেটা খুবই স্বাভাবিক লাগছিলো। তাঁর জামাই এক হাতে বন্দুক নিয়ে দাড়িয়ে আছে। আকাশে কিছু কবুতর আর কাক উড়ছে। জামাই বলল " কবুতরগুলো কোন কাজের না । সব মেরে দেই কাকগুলো থাকুক। এরা ময়লা আবর্জনা খেয়ে পরিষ্কার করে। মতিন সাহেব স্বাভাবিক ভাবেই বললেন " হ্যাঁ, মারো। কবুতরের রোস্টও খাওয়া যাবে। মতিন সাহেবের নাস্তা দেওয়া হয়েছে। তিনি এখনো খাওয়া শুরু করেননি। তাঁর দৃষ্টি বারান্দার দিকে। তাঁর মনে হচ্ছে ওপাশে কে যেন দাড়িয়ে সিগারেট খাচ্ছে। মতিন উদ্দিন বললেন, কে ওখানে ? কে ? ভারী গলায় কেউ একজন বলল , আমি । এই গলার স্বর মতিন সাহেবের অতি পরিচিত। তাঁর মাথাব্যথা শুরু হলো। শরীর ঠাণ্ডা হয়ে গেল। ইদানীং তাঁর এই সমস্যা হচ্ছে। মনে হয় তিনি দ্রুত মস্তিষ্ক বিকৃতির দিকে যাচ্ছেন। গতবার দেখল হলুদ পাঞ্জাবি। এইবার গলার স্বরে মনে হলো আবুল। আবুল ছিল কাদেরের আগে এই বাড়ির কাজের লোক। সে চার বছর আগে রোড অ্যাকসিডেন্টে মারা গেছে। আবুল বলল, স্যারের শইল কেমুন?’ মতিন সাহেব বললেন , ভালো। ' - কাজের লোক কি রাখছেন?’ -হ্যাঁ, রাখছিলাম। পালাইয়া গেছে। আবুল বলল, ভালোই হইসে। আছেন আর অল্প কিছুদিন। কাজের লোক না হইলেও চলব। আবুলের কথা শুনে মতিন সাহেব হতভম্ব। অল্প কিছুদিন আছেন - এর মানে কী ? তিনি এখন সবকিছু থেকে অবসর নেওয়া মানুষ । তিনি চেষ্টায় আছেন অস্ট্রেলিয়ায় তাঁর মেয়ের কাছে চলে যেতে। দেশের তিনি গুষ্টি কিলান। তিনি অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে থাকবেন মেয়ের কাছে। শীতের দিন ফায়ারপ্লেসের সামনে বসে লালপানি খাবেন। শীতের দেশে লালপানি খেলে কার কি বলার থাকবে ? আর যাই হোক হলুদ পাঞ্জাবিরা হঠাৎ হঠাৎ বিরক্ত করবে না। কিছুক্ষণ পর অবন্তি এসে বলল , 'কি হল বাবা ? কার সাথে কথা বলছো ? - আবুলের সাথে - আবুল তো ৪ বছর আগে মারা গেছে - ও, ভুলে গিয়েছিলাম। হা হা হা অবন্তি অবাক হয়ে তাঁর বাবার দিকে তাকিয়ে আছে। মতিন উদ্দিনের অস্বস্তি লাগতে শুরু করলো। তাঁর মেয়ে কি তাঁকে পাগল ভাবা শুরু করছে নাকি ? পরিচিতজনেরা পাগল ভাবা শুরু করলে বিষয়টা হবে খুব ভয়ঙ্কর। বাকি জীবন পাগলাগারদে কাটিয়ে দেওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। বৃদ্ধ বয়সে পাগলাগারদে দিন কাটানোর চেয়ে শীতের দেশে ফায়ারপ্লেসের সামনে বসে লালপানি খাওয়া এর থেকে অনেক ভালো। জাহিদ অবন্তিকে বললঃ - দেখলে, বলেছিলাম না তোমার বাবা উন্মাদ - ও, তাহলে তুমিও শুনেছো বাবার কথা? - হুম। তোমার বাবাকে জরুরি ভিত্তিতে সাইকিয়াট্রিস্ট দেখানো দরকার - তুমি কী আমার বাবাকে পাগল ভাবছ নাকি? বৃদ্ধ বয়সে এরকম হতেই পারে - এজন্যই তো উনি মৃত মানুষদের সাথে কথা বলেন। কয়েকদিন পর দেখা যাবে আমরাও আশেপাশে মৃত মানুষ দেখতে শুরু করব। আরও কয়েকদিন পর দেখা যাবে এই বাড়িটা ভূতের বাড়ি হিসেবে পরিচিতি পাবে। কে জানে হয়তো আমরাও ভূত হয়ে যেতে পারি। আমরা সবাই রাজা আমাদেরই ভূতের রাজত্বে - তুমি এত বকবক করছো কেন ? তোমারও তো দেখি মাথা খারাপ। তোমাকেও সাইকিয়াট্রিস্ট দেখাতে হবে - সমস্যা নাই। তোমাকে আর নৃ-কেও আমরা সাইকিয়াট্রিস্ট দেখাবো। আমরা সপরিবারে পাগলাগারদ যাবো। আমরা হবো পাগল পরিবার। কিছুক্ষণ পর নৃ এসে বললঃ - সাইকিয়াট্রিস্ট কী বাবা? - সাইকিয়াট্রিস্ট হলো মনস্তত্ত্ববিদ অর্থাৎ পাগলদের ডাক্তার - আমি বড় হয়ে পাগলদের ডাক্তার হবো বাবা - আমিও ছোটবেলা পাগলদের ডাক্তার হতে চেয়েছিলাম - হও নাই ক্যান ? - তোর দাদা ছিল কঠোর মানুষ। আমি পাগলদের ডাক্তার হবো এটা শুনে তিনি আমাকে লাঠি দিয়ে পিটিয়েছিলেন - ক্যান ? - জানিনা - জানো না ক্যান? - এম্নি - এম্নি ক্যান? - বাবা নৃ, তোমাকে এখন আমি তুলে আছাড় দিব - আছাড় দিবে ক্যান? - যাও, তুমি তোমার নানার সাথে ক্যান ক্যান করো - ক্যান? নৃ ক্যান ক্যান করতে থাকুক; আমরা মূল গল্পে ফিরে আসি, পরের দিন বিকালবেলা। জাহিদ এসে মতিন সাহেবকে বললঃ "চলেন বাবা, ছাদ থেকে ঘুরে আসি"। মতিন সাহেবের মাথা ঘামতে লাগলো। ছাদে নিয়ে যাবে ক্যান? তাহলে কি স্বপ্নে যেটা দেখেছেন এখন সেটা ঘটতে যাচ্ছে? মতিন সাহেব বললেন ' চলো যাই '। বলেই তাঁর নিজের ওপর নিজেরই রাগ লাগছে। - ধুর - কিছু বললেন বাবা? - না, না, তুমি যাও মতিন সাহেব
সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছেন। তিনি ছাদে যাবেন কি যাবেন না তা বুঝতে পারছেন না। শেষ পর্যন্ত মতিন সাহেব সিদ্ধান্ত নিতে পারলেন। ছাদে গিয়ে দেখেন কিছু কবুতর উড়ছে। এর মানে কি? বদ কবুতরগুলো এখন উড়াউড়ি করছে কেন? পাশে তাঁর জামাই নৃ-কে নিয়ে দাড়িয়ে আছে। নৃ তাঁর বাবাকে বলল "কবুতরগুলো উড়াউড়ি করছে কেন?” জাহিদ বললঃ "কবুতরগুলোর উড়তে ইচ্ছে করছে, তাই তারা উড়ছে" - ওদের উড়তে ইচ্ছে করছে ক্যান? জাহিদ ভাবলো বলে দেবে জানি না। কিন্তু জানি না বললে নৃ ক্যান ক্যান শুরু করবে । তাই মনে মনে একটা উত্তর ভেবে নিয়ে জাহিদ বললঃ - তুমি কি কখনো মোটা কবুতর দেখেছো? কবুতরগুলা কিছুক্ষণ উড়াউড়ি না করলে ওরা মোটা হয়ে যাবে। এইজন্য ওরা উড়ছে যাতে ওরা মোটা না হয় - ও, বুঝছি বলেই নৃ যেখানে কবুতর ল্যান্ডিং করছে সেখানে গিয়ে কবুতর ধরতে গেলো। মতিন সাহেব আশ্বস্ত হলেন। স্বপ্নে নৃ ছিল না। তাঁর মানে স্বপ্ন সত্যি হওয়ার সম্ভাবনা কম। জাহিদ আর নৃ মতিন সাহেবের কাছ থেকে একটু দুরে সরে গেছে । এমন সময় একটা কবুতর ছাদের রেলিং এ দাড়িয়ে মতিন সাহেবকে বললো "কেমন আছেন মতিন ভাই?” মতিন সাহেবের মাথা ঘুরাতে লাগলো। বদ কবুতর কথা বলে ক্যান? কণ্ঠটাও তো চেনা চেনা লাগছে। তিনি কবুতরটাকে তাড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলেন। কিন্তুু কবুতরটা ভয় না পেয়ে আরও কাছে আসতে লাগলো। "বদ পক্ষী, দুর হ!” বলে মতিন সাহেব চিল্লাতে লাগলেন। কণ্ঠটাও তিনি চিন্তে পারছেন;এটা তাঁর মৃত প্রতিবেশী জামানের কণ্ঠ। জামান তাঁকে দেখেই মতিন ভাই মতিন ভাই বলে চিল্লাতো। বদ কবুতরটা এখনো যাচ্ছে না। বরং আরো সাহস দেখাতে লাগলো। কবুতরটা আবারো বলে উঠলোঃ "ভাই গালি দেন ক্যান? আপনাকেতো ভাল মানুষ হিসেবেই জানতাম। আছেন আর অল্প কিছুদিন,এর মধ্যে আবার গালাগালি করছেন। " - চুপ থাক বদ পক্ষী! - আবার গালি? এইবার কিন্তু আমি খামচি দিবো - দুর হ বদ পক্ষী,নাইলে তোরে আমি… - হায় হায়! তুই তোকারি করেন ক্যান? আপনাকে আমি ভাই মানতাম। বলেই কবুতরটা উড়ে চলে গেলো। এতক্ষণে জাহিদ আর নৃ মতিন সাহেবের চিল্লাচিল্লি শুনে দৌড়ে তাঁর কাছে এসেছে। জাহিদ বললঃ - কি হলো বাবা, কোনো সমস্যা হয়েছে? -না,না, মানে, আরকি, মানে বক্তৃতা প্র্যাকটিস করছিলাম। হে হে হা হা হু হু মতিন সাহেব এখন আগের চেয়েও বেশি গম্ভীর হয়ে থাকেন। তাঁকে মাঝেমধ্যেই কার সাথে যেনো কথা বলতে দেখা যায়। যেমন এখন তাঁর কথা শুনে মনে হচ্ছে খুব পরিচিত কারো সাথে কথা বলছেন। কারণ যার সাথে তিনি কথা বলছেন তাঁকে 'তুই' করে সম্বোধন করছেন। এটা গালাগালি নয়,আন্তরিকতার 'তুই' । - কিরে কখন আসলি? - ......... -তাই নাকি? আমিও ঠিক করেছি যাবো ওপাশ থেকে যে কথা বলছে তার কথা অবন্তি শুনতে পারছে না। শুনতে না পারারই কথা। অবন্তি ঠিক করেছে আজই তার বাবাকে সাইকিয়াট্রিস্টের কাছে নিয়ে যাবে। কিছুক্ষণ পর অবন্তিকে দেখা গেলো তাঁর বাবাকে জোর করে কোথায় যেন নিয়ে যাচ্ছে। সাইকিয়াট্রিস্টের চেহারা আইনস্টাইন টাইপ। আইনস্টাইনের মোচ ছিলো। কিন্তু তাঁর মোচ নেই। - তাঁর মানে আপনি মরা মানুষদের সাথে কথা বলেন? - মরা মানুষ বলে তাদের অসম্মান করা উচিৎ না। তাদের সম্মান করে "হে মৃত আত্মা" বলা উচিৎ। - আপনি কাদের কাদের দেখেন? - হলুদ পাঞ্জাবি দেখি,কবুতর দেখি, আইনস্টাইন দেখি - ও, আচ্ছা - কয়েকদিন পর আপনাকেও দেখব - মানে? মশকরার জায়গা পান না - আরে মাথা গরম করেন কেন? আপনি সাইকিয়াট্রিস্ট,আমি আপনার রোগী। আমার কথা আপনার ধৈর্য ধরে শুনে… - চুপ ! তুই আমাকে শিখাস,আমার ক্লিনিকে ভর্তি হলে বুঝবি কতো ধানে কতো চাল - কথাটা একটু আপগ্রেড করা যায় না? বলা উচিৎ কতো ভুট্টায় কতো গম - চুপ কর - তুই তোকারি করেন ক্যান? সাইকিয়াট্রিস্ট অবন্তিকে পরশুদিন তার ক্লিনিকে মতিন উদ্দিনকে ভর্তি করাতে বললেন। মতিন সাহেব ঠিক করেছেন আজ রাতেই পালিয়ে যাবেন। অনেক হয়েছে। আর নাহ। এখন যুদ্ধং দেহি । রাত ২ঃ৪৫ মতিন সাহেব এখনো জেগে আছেন। কারণ এখন তার জেগে থাকারই কথা। হলুদ পাঞ্জাবির সাথে কথা বলে তিনি সিদ্ধান্ত আজ রাতেই পালিয়ে যাবেন। য পলায়তি স জিবতী- যে পালিয়ে যায় সে বেঁচে থাকে। তিনি ড্রয়ার খুলে হলুদ পাঞ্জাবিটা বের করে গায়ে দিলেন। বেড় হওয়ার আগে বেশ কিছু টাকা নিয়ে নিলেন। আজকাল টাকা ছাড়া কিছুই চলে না। বেড় হওয়ার আগে ভাবলেন জুতা পরবেন কিনা। শেষ পর্যন্ত তিনি জুতা পরেই বের হলেন। রাতের ঢাকা দেখে মতিন সাহেব মুগ্ধ। আরও পড়ে বের হলে ভালো হতো। কারণ কিছু চায়ের দোকান এখনো খোলা। ঢাকা শহরে কিছু চায়ের দোকান সারা রাতই খোলা থাকে। অবন্তি সকালবেলা চা নিয়ে দেখে তার বাবা নেই। কিছুক্ষণ পর জাহিদ কাচের কিছু ভেঙ্গে পড়ার শব্দ শুনলো। জাহিদ গিয়ে দেখলো অবন্তি কাঁদতে কাঁদতে চোখ ফুলিয়ে ফেলেছে। তবে কান্নার সময় অবন্তিকে আরও বেশি সুন্দর দেখায় বলে জাহিদ তার কান্না থামাল না। পত্রিকায় নিখোঁজ সংবাদ,টিভিতে বিজ্ঞাপন দেওয়ার পরও মতিন সাহেব কে পাওয়া গেলো না। আর পাওয়া গেলেও মতিন সাহেব কে চেনা যাবে না। অনেকদিন দাড়ি-গোঁফ না কাটলে যা হয় আরকি! সময় স্রোত কারো জন্য অপেক্ষা করে না। অবন্তি ও তার পরিবারও মতিন সাহেবের
জন্য অপেক্ষা করলো না। কয়েকমাস বাংলাদেশে থেকে মতিন সাহেবের জন্য অপেক্ষা না করে তারা বাড়ি বিক্রি করে অস্ট্রেলিয়া চলে গেলো। তবে এখন মাঝে মাঝে অবন্তি তার বাবার ফোন পায়। - অবন্তি মা, কেমন আছিস? - ভালো, কিন্তু তুমি কেমন আছো? - খুব ভালোই আছি - বাবা, তুমি আর ফিরে আসবে না? - নারে মা, আমার অনেক জরুরি কাজ। আর জানিস তো,যে হারিয়ে যেতে চায় তাঁকে হারিয়ে যেতে দিতে হয় - বাবা শুনো... অবন্তির গলা ভারী হয়ে আসছে। মতিন সাহেব ফোন রেখে দিলেন। ফ্লেক্সিলোডের দোকানদার মতিন সাহেবের দিকে বিরক্ত হয়ে তাকিয়ে আছে। রাত বারোটার সময়েসে ফোন করা। তবে তিনি মতিন সাহেবের পরিচিত একজন। - মতিন ভাই, আজকে রাত্রে আমার বাসায় থেকে জান - নাহ, রাতে আমার অনেক কাজ। দিনের বেলা আসবও বলেই মতিন সাহেব দোকান থেকে বেড় হয়ে গেলেন। রাত ২ঃ৩০ মতিন সাহেব এখন রাস্তায় হাঁটছেন। ডানদিকে একটা গলি পেয়ে সেখানে ধুকে পড়লেন। সমস্যা হচ্ছে সেই গলিতে কোনো আলো নেই। অন্য যে কেউ হলে সেখানে ঢুকতে ভয় পেত। কিন্তু মতিন সাহেবের কোন ভয় লাগছে না। কারণ তার সাথে আছে হলুদ পাঞ্জাবি,আবুল এবং আরো অনেকেই যাদের তিনি চিনতেন কিন্তু তারা মারা গেছে। সমাপ্ত