For her workmates and roommate, Komari personally left an orange and pink rose, tied together by a single red thread. With that gift was a small orange note, with a simple flower festival greeting to show her gratefulness for being in their company. The transition from Arcadia to Leuda certainly wasn’t easy, but the people she was with made it bearable for her.
জেনে রাখুন আল্লাহ আপনার মুখাপেক্ষী নন। Abdullah Bin Abdur Razzak । আত তাক্বওয়া মাসজিদ সিলেট► Subscribe Now : https://bit.ly/2YZhGm0► Facebo
আল্লাহুস সামাদ এর অর্থ
অর্থঃ অমুখাপেক্ষী,অবিনশ্বর, চিরন্তন, স্বয়ং সম্পূর্ণ
As Samad: The Perfect, the Eternal. আস-সামাদ পূর্ণাঙ্গরূপে অমুখাপেক্ষী, সব ধরণের প্রয়োজন থেকে তিনি মুখাপেক্ষীহীন। তিনি স্বয়ং সম্পূর্ণ, অমুখাপেক্ষী, তাঁর কাছেই সকলের অভাব, প্রয়োজন ও মুখাপেক্ষীতা।
আল্লাহ কারো মুখাপেক্ষী নন, সকলেই তাঁর মুখাপেক্ষী। কোরান
সূরাঃ আল-ইখলাস আয়াতঃ ৪ মাক্কী :১ قُلۡ هُوَ اللّٰهُ اَحَدٌ
বল, তিনি আল্লাহ, এক অদ্বিতীয়,
বলঃ তিনিই আল্লাহ, একক/অদ্বিতীয়। Say, "He is Allah, [who is] One, Sahih International
১. বলুন(১), তিনি আল্লাহ, এক-অদ্বিতীয়(২),
(১) বিভিন্ন বর্ণনায় এসেছে যে, মুশরিকরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে আল্লাহ্ তা'আলার বংশপরিচয় জিজ্ঞেস করেছিল, যার জওয়াবে এই সূরা নাযিল হয়। [তিরমিযী: ৩৩৬৪, মুসনাদে আহমাদ: ৫/১৩৪, মুস্তাদরাকে হাকিম: ২/৫৪০] কোন কোন বর্ণনায় এসেছে, মুশরিকরা আরও প্রশ্ন করেছিল- আল্লাহ তা'আলা কিসের তৈরী, স্বর্ণরৌপ্য অথবা অন্য কিছুর? এর জওয়াবে সূরাটি অবতীর্ণ হয়েছে। [আস-সুনানুল কুবরা লিন নাসায়ী: ৬/৩৭০, তাবরানী: মুজামুল আওসাত: ৩/৯৬, মুসনাদে আবি ইয়া'লা: ৬/১৮৩, নং ৩৪৬৮, আদ-দিনাওয়ারী: আল-মুজালাসা ও জাওয়াহিরুল ইলম, ৩/৫২৮, নং ১১৪৫] এখানে ‘বলুন’ শব্দটির মাধ্যমে প্রথমত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে সম্বোধন করা হয়েছে। কারণ তাকেই প্রশ্ন করা হয়েছিল। আপনার রব কে? তিনি কেমন? আবার তাকেই হুকুম দেয়া হয়েছিল, প্রশ্নের জবাবে আপনি একথা বলুন। কিন্তু রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের তিরোধানের পর এ সম্বোধনটি প্রত্যেক মুমিনের সাথে সংশ্লিষ্ট হয়ে যায়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে যে কথা বলার হুকুম দেয়া হয়েছিল এখন সে কথা প্রত্যেক মুমিনকেই বলতে হবে।
(২) এ বাক্যটির অর্থ হচ্ছে, তিনি (যার সম্পর্কে তোমরা প্রশ্ন করছে) আল্লাহ, একক অদ্বিতীয়। তাঁর কোন সমকক্ষ, সদৃশ, স্ত্রী, সন্তান, অংশীদার কিছুই নেই। একত্ব তাঁরই মাঝে নিহিত। তাই তিনি পূর্ণতার অধিকারী, অদ্বিতীয়-এক। সুন্দর নামসমূহ, পূর্ণ শ্রেষ্ঠ গুণাবলী এককভাবে শুধুমাত্র তারই। [কুরতুবী, সা’দী]] আর أَحَدশব্দটি একমাত্র আল্লাহ ছাড়া আর কারও ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়, কেননা তিনিই গুণাবলী ও কার্যাবলীতে একমাত্র পরিপূর্ণ সত্তা। [ইবন কাহীর] মোটকথা, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা তাঁর সত্তা ও গুণাবলীতে একক, তার কোন সমকক্ষ, শরীক নেই। এ সূরার শেষ আয়াত “আর তাঁর সমতুল্য কেউ নেই” দ্বারা তিনি এর ব্যাখ্যা করেছেন। মূলত সমগ্র কুরআন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের রিসালাত এমনকি সকল নবী-রাসূলদের রিসালাতের আগমন হয়েছিলো এ একত্ব ঘোষণা ও প্রতিষ্ঠার জন্যই। আল্লাহ ব্যতীত কোন হক মাবুদ বা ইলাহ নেই- সমগ্র সৃষ্টিজগতেই রয়েছে এর পরিচয়, আল্লাহর একত্বের পরিচয়। কুরআনে অগণিত আয়াতে এ কথাটির প্রমাণ ও যুক্তি রয়েছে। [আদওয়াউল বায়ান]
আস-সামাদ অর্থ পরিপূর্ণ রব, সাইয়্যেদ, মহান, যার এমন কোন ভালো সিফাত অবশিষ্ট নেই যা তাঁর নেই। তাঁর গুণাবলী সর্বোচ্চ পর্যায়ের, এর পূর্ণতা এতোই পরিপূর্ণ যে সৃষ্টিকুলের কেউ সে গুণের সামান্য অংশও তাদের অন্তরে বেষ্টন করতে পারে না এবং তাদের ভাষায়ও তা প্রকাশ করতে পারে না। তাঁর কাছে সবকিছু মুখাপেক্ষী, সকলের যাবতীয় প্রয়োজন, অভাব-অভিযোগ একমাত্র তাঁরই কাছে। আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন,
“আসমানসমূহ ও জমিনে যারা রয়েছে, সবাই তাঁর কাছে চায়। প্রতিদিন তিনি কোন না কোন কাজে রত।” [সূরা আর-রাহমান, আয়াত: ২৯]
তিনি নিজেই সত্ত্বাগতভাবে অমুখাপেক্ষী। দুনিয়াতে বিদ্যমান সমস্ত কিছু তাঁর যাতের কাছে অভাবী, মুখাপেক্ষী। তাদের সৃষ্টি, তাদের সংখ্যা, বেড়ে ওঠা ইত্যাদি সব কিছুতেই সর্বদিক থেকে তারা তাঁর মুখাপেক্ষী। কেউ-ই সামান্য অনু পরিমাণও যে কোন সময়ের বা অবস্থায়ও তাঁর থেকে মুখাপেক্ষীহীন নয়।[2]
আস-সামাদ তিনিই যার কাছে সমস্ত সৃষ্টির সর্ব মুহূর্তে সর্বাবস্থায় তাদের উদ্দেশ্য ও প্রয়োজন; যেহেতু তাঁর যাত, সিফাত, নাম ও কর্মে রয়েছে সর্বজনীন পূর্ণতা। [3]
আস-সামাদ পূর্ণাঙ্গরূপে অমুখাপেক্ষী, এতে উপরোক্ত সব ধরণের প্রয়োজন থেকে তিনি মুখাপেক্ষীহীন। তিনি স্বয়ং সম্পূর্ণ, অমুখাপেক্ষী, তাঁর কাছেই সকলের অভাব, প্রয়োজন ও মুখাপেক্ষীতা।
বিশ্বের সব কিছুই ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে তাঁর লুটে পড়ে। তিনি ইলম, হিকমত, ধৈর্য, কুদরত, মহানত্ব, রহমত ও অন্যান্য যাবতীয় গুণাবলীতে পরিপূর্ণ।[4]
আর আপনার রব অভাবমুক্ত, দয়াশীল(১)। তিনি ইচ্ছে করলে তোমাদেরকে অপসারিত করতে এবং তোমাদের পরে যাকে ইচ্ছে তোমাদের স্থানে আনতে পারেন, যেমন তোমাদেরকে তিনি অন্য এক সম্প্রদায়ের বংশ থেকে সৃষ্টি করেছেন।
সূরা আনআম আয়াত 133 তাফসীর
তাফসির : আগের আয়াতে বলা হয়েছিল যে জিন ও মানবজাতির প্রত্যেক সম্প্রদায়ের জন্য নবী-রাসুল পাঠানো আল্লাহর চিরন্তন রীতি।
নবীদের মাধ্যমে কোনো জাতিকে পূর্ণভাবে সতর্ক না করা পর্যন্ত কুফর, শিরক ও অবাধ্যতার কারণে কখনো তাদের শাস্তি দেওয়া হয়নি। আলোচ্য প্রথম আয়াতে বলা হয়েছে যে নবী পাঠানো ও ঐশী গ্রন্থগুলোর ধারা এ জন্য অব্যাহত ছিল না যে বিশ্বপালনকর্তা আমাদের ইবাদত ও আনুগত্যের মুখাপেক্ষী ছিলেন, বরং তিনি সম্পূর্ণ অমুখাপেক্ষী ও অভাবমুক্ত। তবে পরিপূর্ণ অমুখাপেক্ষী হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তিনি দয়াগুণেও গুণান্বিত।
সমগ্র বিশ্বকে অস্তিত্ব ও স্থায়িত্ব দান করা এবং বিশ্ববাসীর বাহ্যিক, অভ্যন্তরীণ, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ সব প্রয়োজন অযাচিতভাবে মেটানোর কারণও তাঁর এ দয়াগুণ।
অস্তিত্বের যে নিয়ামত মানুষকে দেওয়া হয়েছে; তা যে চাওয়া ছাড়াই দেওয়া হয়েছে, এটা দিবালোকের ন্যায় স্পষ্ট। এমনিভাবে যেসব অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের সমন্বয়ে মানুষের সৃষ্টি, যেমন হাত, পা, মন-মস্তিষ্ক প্রভৃতি এগুলো কোনো মানুষ চেয়েছিল? না তার চাওয়ার মতো সে অনুভূতি ছিল? বরং এ সবই আল্লাহ তায়ালা দয়াপরবশ হয়ে মানুষকে দান করেছেন।
জেনে রাখুন আল্লাহ আপনার মুখাপেক্ষী নন। Abdullah Bin Abdur Razzak । আত তাক্বওয়া মাসজিদ সিলেট► Subscribe Now : https://bit.ly/2YZhGm0► Facebo
আল্লাহুস সামাদ এর অর্থ
অর্থঃ অমুখাপেক্ষী,অবিনশ্বর, চিরন্তন, স্বয়ং সম্পূর্ণ
As Samad: The Perfect, the Eternal. আস-সামাদ পূর্ণাঙ্গরূপে অমুখাপেক্ষী, সব ধরণের প্রয়োজন থেকে তিনি মুখাপেক্ষীহীন। তিনি স্বয়ং সম্পূর্ণ, অমুখাপেক্ষী, তাঁর কাছেই সকলের অভাব, প্রয়োজন ও মুখাপেক্ষীতা।
আল্লাহ কারো মুখাপেক্ষী নন, সকলেই তাঁর মুখাপেক্ষী। কোরান
সূরাঃ আল-ইখলাস আয়াতঃ ৪ মাক্কী :১ قُلۡ هُوَ اللّٰهُ اَحَدٌ
বল, তিনি আল্লাহ, এক অদ্বিতীয়,
বলঃ তিনিই আল্লাহ, একক/অদ্বিতীয়। Say, "He is Allah, [who is] One, Sahih International
১. বলুন(১), তিনি আল্লাহ, এক-অদ্বিতীয়(২),
(১) বিভিন্ন বর্ণনায় এসেছে যে, মুশরিকরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে আল্লাহ্ তা'আলার বংশপরিচয় জিজ্ঞেস করেছিল, যার জওয়াবে এই সূরা নাযিল হয়। [তিরমিযী: ৩৩৬৪, মুসনাদে আহমাদ: ৫/১৩৪, মুস্তাদরাকে হাকিম: ২/৫৪০] কোন কোন বর্ণনায় এসেছে, মুশরিকরা আরও প্রশ্ন করেছিল- আল্লাহ তা'আলা কিসের তৈরী, স্বর্ণরৌপ্য অথবা অন্য কিছুর? এর জওয়াবে সূরাটি অবতীর্ণ হয়েছে। [আস-সুনানুল কুবরা লিন নাসায়ী: ৬/৩৭০, তাবরানী: মুজামুল আওসাত: ৩/৯৬, মুসনাদে আবি ইয়া'লা: ৬/১৮৩, নং ৩৪৬৮, আদ-দিনাওয়ারী: আল-মুজালাসা ও জাওয়াহিরুল ইলম, ৩/৫২৮, নং ১১৪৫] এখানে ‘বলুন’ শব্দটির মাধ্যমে প্রথমত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে সম্বোধন করা হয়েছে। কারণ তাকেই প্রশ্ন করা হয়েছিল। আপনার রব কে? তিনি কেমন? আবার তাকেই হুকুম দেয়া হয়েছিল, প্রশ্নের জবাবে আপনি একথা বলুন। কিন্তু রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের তিরোধানের পর এ সম্বোধনটি প্রত্যেক মুমিনের সাথে সংশ্লিষ্ট হয়ে যায়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে যে কথা বলার হুকুম দেয়া হয়েছিল এখন সে কথা প্রত্যেক মুমিনকেই বলতে হবে।
(২) এ বাক্যটির অর্থ হচ্ছে, তিনি (যার সম্পর্কে তোমরা প্রশ্ন করছে) আল্লাহ, একক অদ্বিতীয়। তাঁর কোন সমকক্ষ, সদৃশ, স্ত্রী, সন্তান, অংশীদার কিছুই নেই। একত্ব তাঁরই মাঝে নিহিত। তাই তিনি পূর্ণতার অধিকারী, অদ্বিতীয়-এক। সুন্দর নামসমূহ, পূর্ণ শ্রেষ্ঠ গুণাবলী এককভাবে শুধুমাত্র তারই। [কুরতুবী, সা’দী]] আর أَحَدশব্দটি একমাত্র আল্লাহ ছাড়া আর কারও ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়, কেননা তিনিই গুণাবলী ও কার্যাবলীতে একমাত্র পরিপূর্ণ সত্তা। [ইবন কাহীর] মোটকথা, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা তাঁর সত্তা ও গুণাবলীতে একক, তার কোন সমকক্ষ, শরীক নেই। এ সূরার শেষ আয়াত “আর তাঁর সমতুল্য কেউ নেই” দ্বারা তিনি এর ব্যাখ্যা করেছেন। মূলত সমগ্র কুরআন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের রিসালাত এমনকি সকল নবী-রাসূলদের রিসালাতের আগমন হয়েছিলো এ একত্ব ঘোষণা ও প্রতিষ্ঠার জন্যই। আল্লাহ ব্যতীত কোন হক মাবুদ বা ইলাহ নেই- সমগ্র সৃষ্টিজগতেই রয়েছে এর পরিচয়, আল্লাহর একত্বের পরিচয়। কুরআনে অগণিত আয়াতে এ কথাটির প্রমাণ ও যুক্তি রয়েছে। [আদওয়াউল বায়ান]
আস-সামাদ অর্থ পরিপূর্ণ রব, সাইয়্যেদ, মহান, যার এমন কোন ভালো সিফাত অবশিষ্ট নেই যা তাঁর নেই। তাঁর গুণাবলী সর্বোচ্চ পর্যায়ের, এর পূর্ণতা এতোই পরিপূর্ণ যে সৃষ্টিকুলের কেউ সে গুণের সামান্য অংশও তাদের অন্তরে বেষ্টন করতে পারে না এবং তাদের ভাষায়ও তা প্রকাশ করতে পারে না। তাঁর কাছে সবকিছু মুখাপেক্ষী, সকলের যাবতীয় প্রয়োজন, অভাব-অভিযোগ একমাত্র তাঁরই কাছে। আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন,
“আসমানসমূহ ও জমিনে যারা রয়েছে, সবাই তাঁর কাছে চায়। প্রতিদিন তিনি কোন না কোন কাজে রত।” [সূরা আর-রাহমান, আয়াত: ২৯]
তিনি নিজেই সত্ত্বাগতভাবে অমুখাপেক্ষী। দুনিয়াতে বিদ্যমান সমস্ত কিছু তাঁর যাতের কাছে অভাবী, মুখাপেক্ষী। তাদের সৃষ্টি, তাদের সংখ্যা, বেড়ে ওঠা ইত্যাদি সব কিছুতেই সর্বদিক থেকে তারা তাঁর মুখাপেক্ষী। কেউ-ই সামান্য অনু পরিমাণও যে কোন সময়ের বা অবস্থায়ও তাঁর থেকে মুখাপেক্ষীহীন নয়।[2]
আস-সামাদ তিনিই যার কাছে সমস্ত সৃষ্টির সর্ব মুহূর্তে সর্বাবস্থায় তাদের উদ্দেশ্য ও প্রয়োজন; যেহেতু তাঁর যাত, সিফাত, নাম ও কর্মে রয়েছে সর্বজনীন পূর্ণতা। [3]
আস-সামাদ পূর্ণাঙ্গরূপে অমুখাপেক্ষী, এতে উপরোক্ত সব ধরণের প্রয়োজন থেকে তিনি মুখাপেক্ষীহীন। তিনি স্বয়ং সম্পূর্ণ, অমুখাপেক্ষী, তাঁর কাছেই সকলের অভাব, প্রয়োজন ও মুখাপেক্ষীতা।
বিশ্বের সব কিছুই ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে তাঁর লুটে পড়ে। তিনি ইলম, হিকমত, ধৈর্য, কুদরত, মহানত্ব, রহমত ও অন্যান্য যাবতীয় গুণাবলীতে পরিপূর্ণ।[4]
আর আপনার রব অভাবমুক্ত, দয়াশীল(১)। তিনি ইচ্ছে করলে তোমাদেরকে অপসারিত করতে এবং তোমাদের পরে যাকে ইচ্ছে তোমাদের স্থানে আনতে পারেন, যেমন তোমাদেরকে তিনি অন্য এক সম্প্রদায়ের বংশ থেকে সৃষ্টি করেছেন।
সূরা আনআম আয়াত 133 তাফসীর
তাফসির : আগের আয়াতে বলা হয়েছিল যে জিন ও মানবজাতির প্রত্যেক সম্প্রদায়ের জন্য নবী-রাসুল পাঠানো আল্লাহর চিরন্তন রীতি।
নবীদের মাধ্যমে কোনো জাতিকে পূর্ণভাবে সতর্ক না করা পর্যন্ত কুফর, শিরক ও অবাধ্যতার কারণে কখনো তাদের শাস্তি দেওয়া হয়নি। আলোচ্য প্রথম আয়াতে বলা হয়েছে যে নবী পাঠানো ও ঐশী গ্রন্থগুলোর ধারা এ জন্য অব্যাহত ছিল না যে বিশ্বপালনকর্তা আমাদের ইবাদত ও আনুগত্যের মুখাপেক্ষী ছিলেন, বরং তিনি সম্পূর্ণ অমুখাপেক্ষী ও অভাবমুক্ত। তবে পরিপূর্ণ অমুখাপেক্ষী হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তিনি দয়াগুণেও গুণান্বিত।
সমগ্র বিশ্বকে অস্তিত্ব ও স্থায়িত্ব দান করা এবং বিশ্ববাসীর বাহ্যিক, অভ্যন্তরীণ, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ সব প্রয়োজন অযাচিতভাবে মেটানোর কারণও তাঁর এ দয়াগুণ।
অস্তিত্বের যে নিয়ামত মানুষকে দেওয়া হয়েছে; তা যে চাওয়া ছাড়াই দেওয়া হয়েছে, এটা দিবালোকের ন্যায় স্পষ্ট। এমনিভাবে যেসব অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের সমন্বয়ে মানুষের সৃষ্টি, যেমন হাত, পা, মন-মস্তিষ্ক প্রভৃতি এগুলো কোনো মানুষ চেয়েছিল? না তার চাওয়ার মতো সে অনুভূতি ছিল? বরং এ সবই আল্লাহ তায়ালা দয়াপরবশ হয়ে মানুষকে দান করেছেন।
জেনে রাখুন আল্লাহ আপনার মুখাপেক্ষী নন। Abdullah Bin Abdur Razzak । আত তাক্বওয়া মাসজিদ সিলেট► Subscribe Now : https://bit.ly/2YZhGm0► Facebo
আল্লাহুস সামাদ এর অর্থ
অর্থঃ অমুখাপেক্ষী,অবিনশ্বর, চিরন্তন, স্বয়ং সম্পূর্ণ
As Samad: The Perfect, the Eternal. আস-সামাদ পূর্ণাঙ্গরূপে অমুখাপেক্ষী, সব ধরণের প্রয়োজন থেকে তিনি মুখাপেক্ষীহীন। তিনি স্বয়ং সম্পূর্ণ, অমুখাপেক্ষী, তাঁর কাছেই সকলের অভাব, প্রয়োজন ও মুখাপেক্ষীতা।
আল্লাহ কারো মুখাপেক্ষী নন, সকলেই তাঁর মুখাপেক্ষী। কোরান
সূরাঃ আল-ইখলাস আয়াতঃ ৪ মাক্কী :১ قُلۡ هُوَ اللّٰهُ اَحَدٌ
বল, তিনি আল্লাহ, এক অদ্বিতীয়,
বলঃ তিনিই আল্লাহ, একক/অদ্বিতীয়। Say, "He is Allah, [who is] One, Sahih International
১. বলুন(১), তিনি আল্লাহ, এক-অদ্বিতীয়(২),
(১) বিভিন্ন বর্ণনায় এসেছে যে, মুশরিকরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে আল্লাহ্ তা'আলার বংশপরিচয় জিজ্ঞেস করেছিল, যার জওয়াবে এই সূরা নাযিল হয়। [তিরমিযী: ৩৩৬৪, মুসনাদে আহমাদ: ৫/১৩৪, মুস্তাদরাকে হাকিম: ২/৫৪০] কোন কোন বর্ণনায় এসেছে, মুশরিকরা আরও প্রশ্ন করেছিল- আল্লাহ তা'আলা কিসের তৈরী, স্বর্ণরৌপ্য অথবা অন্য কিছুর? এর জওয়াবে সূরাটি অবতীর্ণ হয়েছে। [আস-সুনানুল কুবরা লিন নাসায়ী: ৬/৩৭০, তাবরানী: মুজামুল আওসাত: ৩/৯৬, মুসনাদে আবি ইয়া'লা: ৬/১৮৩, নং ৩৪৬৮, আদ-দিনাওয়ারী: আল-মুজালাসা ও জাওয়াহিরুল ইলম, ৩/৫২৮, নং ১১৪৫] এখানে ‘বলুন’ শব্দটির মাধ্যমে প্রথমত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে সম্বোধন করা হয়েছে। কারণ তাকেই প্রশ্ন করা হয়েছিল। আপনার রব কে? তিনি কেমন? আবার তাকেই হুকুম দেয়া হয়েছিল, প্রশ্নের জবাবে আপনি একথা বলুন। কিন্তু রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের তিরোধানের পর এ সম্বোধনটি প্রত্যেক মুমিনের সাথে সংশ্লিষ্ট হয়ে যায়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে যে কথা বলার হুকুম দেয়া হয়েছিল এখন সে কথা প্রত্যেক মুমিনকেই বলতে হবে।
(২) এ বাক্যটির অর্থ হচ্ছে, তিনি (যার সম্পর্কে তোমরা প্রশ্ন করছে) আল্লাহ, একক অদ্বিতীয়। তাঁর কোন সমকক্ষ, সদৃশ, স্ত্রী, সন্তান, অংশীদার কিছুই নেই। একত্ব তাঁরই মাঝে নিহিত। তাই তিনি পূর্ণতার অধিকারী, অদ্বিতীয়-এক। সুন্দর নামসমূহ, পূর্ণ শ্রেষ্ঠ গুণাবলী এককভাবে শুধুমাত্র তারই। [কুরতুবী, সা’দী]] আর أَحَدশব্দটি একমাত্র আল্লাহ ছাড়া আর কারও ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়, কেননা তিনিই গুণাবলী ও কার্যাবলীতে একমাত্র পরিপূর্ণ সত্তা। [ইবন কাহীর] মোটকথা, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা তাঁর সত্তা ও গুণাবলীতে একক, তার কোন সমকক্ষ, শরীক নেই। এ সূরার শেষ আয়াত “আর তাঁর সমতুল্য কেউ নেই” দ্বারা তিনি এর ব্যাখ্যা করেছেন। মূলত সমগ্র কুরআন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের রিসালাত এমনকি সকল নবী-রাসূলদের রিসালাতের আগমন হয়েছিলো এ একত্ব ঘোষণা ও প্রতিষ্ঠার জন্যই। আল্লাহ ব্যতীত কোন হক মাবুদ বা ইলাহ নেই- সমগ্র সৃষ্টিজগতেই রয়েছে এর পরিচয়, আল্লাহর একত্বের পরিচয়। কুরআনে অগণিত আয়াতে এ কথাটির প্রমাণ ও যুক্তি রয়েছে। [আদওয়াউল বায়ান]
আস-সামাদ অর্থ পরিপূর্ণ রব, সাইয়্যেদ, মহান, যার এমন কোন ভালো সিফাত অবশিষ্ট নেই যা তাঁর নেই। তাঁর গুণাবলী সর্বোচ্চ পর্যায়ের, এর পূর্ণতা এতোই পরিপূর্ণ যে সৃষ্টিকুলের কেউ সে গুণের সামান্য অংশও তাদের অন্তরে বেষ্টন করতে পারে না এবং তাদের ভাষায়ও তা প্রকাশ করতে পারে না। তাঁর কাছে সবকিছু মুখাপেক্ষী, সকলের যাবতীয় প্রয়োজন, অভাব-অভিযোগ একমাত্র তাঁরই কাছে। আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন,
“আসমানসমূহ ও জমিনে যারা রয়েছে, সবাই তাঁর কাছে চায়। প্রতিদিন তিনি কোন না কোন কাজে রত।” [সূরা আর-রাহমান, আয়াত: ২৯]
তিনি নিজেই সত্ত্বাগতভাবে অমুখাপেক্ষী। দুনিয়াতে বিদ্যমান সমস্ত কিছু তাঁর যাতের কাছে অভাবী, মুখাপেক্ষী। তাদের সৃষ্টি, তাদের সংখ্যা, বেড়ে ওঠা ইত্যাদি সব কিছুতেই সর্বদিক থেকে তারা তাঁর মুখাপেক্ষী। কেউ-ই সামান্য অনু পরিমাণও যে কোন সময়ের বা অবস্থায়ও তাঁর থেকে মুখাপেক্ষীহীন নয়।[2]
আস-সামাদ তিনিই যার কাছে সমস্ত সৃষ্টির সর্ব মুহূর্তে সর্বাবস্থায় তাদের উদ্দেশ্য ও প্রয়োজন; যেহেতু তাঁর যাত, সিফাত, নাম ও কর্মে রয়েছে সর্বজনীন পূর্ণতা। [3]
আস-সামাদ পূর্ণাঙ্গরূপে অমুখাপেক্ষী, এতে উপরোক্ত সব ধরণের প্রয়োজন থেকে তিনি মুখাপেক্ষীহীন। তিনি স্বয়ং সম্পূর্ণ, অমুখাপেক্ষী, তাঁর কাছেই সকলের অভাব, প্রয়োজন ও মুখাপেক্ষীতা।
বিশ্বের সব কিছুই ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে তাঁর লুটে পড়ে। তিনি ইলম, হিকমত, ধৈর্য, কুদরত, মহানত্ব, রহমত ও অন্যান্য যাবতীয় গুণাবলীতে পরিপূর্ণ।[4]
আর আপনার রব অভাবমুক্ত, দয়াশীল(১)। তিনি ইচ্ছে করলে তোমাদেরকে অপসারিত করতে এবং তোমাদের পরে যাকে ইচ্ছে তোমাদের স্থানে আনতে পারেন, যেমন তোমাদেরকে তিনি অন্য এক সম্প্রদায়ের বংশ থেকে সৃষ্টি করেছেন।
সূরা আনআম আয়াত 133 তাফসীর
তাফসির : আগের আয়াতে বলা হয়েছিল যে জিন ও মানবজাতির প্রত্যেক সম্প্রদায়ের জন্য নবী-রাসুল পাঠানো আল্লাহর চিরন্তন রীতি।
নবীদের মাধ্যমে কোনো জাতিকে পূর্ণভাবে সতর্ক না করা পর্যন্ত কুফর, শিরক ও অবাধ্যতার কারণে কখনো তাদের শাস্তি দেওয়া হয়নি। আলোচ্য প্রথম আয়াতে বলা হয়েছে যে নবী পাঠানো ও ঐশী গ্রন্থগুলোর ধারা এ জন্য অব্যাহত ছিল না যে বিশ্বপালনকর্তা আমাদের ইবাদত ও আনুগত্যের মুখাপেক্ষী ছিলেন, বরং তিনি সম্পূর্ণ অমুখাপেক্ষী ও অভাবমুক্ত। তবে পরিপূর্ণ অমুখাপেক্ষী হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তিনি দয়াগুণেও গুণান্বিত।
সমগ্র বিশ্বকে অস্তিত্ব ও স্থায়িত্ব দান করা এবং বিশ্ববাসীর বাহ্যিক, অভ্যন্তরীণ, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ সব প্রয়োজন অযাচিতভাবে মেটানোর কারণও তাঁর এ দয়াগুণ।
অস্তিত্বের যে নিয়ামত মানুষকে দেওয়া হয়েছে; তা যে চাওয়া ছাড়াই দেওয়া হয়েছে, এটা দিবালোকের ন্যায় স্পষ্ট। এমনিভাবে যেসব অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের সমন্বয়ে মানুষের সৃষ্টি, যেমন হাত, পা, মন-মস্তিষ্ক প্রভৃতি এগুলো কোনো মানুষ চেয়েছিল? না তার চাওয়ার মতো সে অনুভূতি ছিল? বরং এ সবই আল্লাহ তায়ালা দয়াপরবশ হয়ে মানুষকে দান করেছেন।
জেনে রাখুন আল্লাহ আপনার মুখাপেক্ষী নন। Abdullah Bin Abdur Razzak । আত তাক্বওয়া মাসজিদ সিলেট► Subscribe Now : https://bit.ly/2YZhGm0► Facebo
আল্লাহুস সামাদ এর অর্থ
অর্থঃ অমুখাপেক্ষী,অবিনশ্বর, চিরন্তন, স্বয়ং সম্পূর্ণ
As Samad: The Perfect, the Eternal. আস-সামাদ পূর্ণাঙ্গরূপে অমুখাপেক্ষী, সব ধরণের প্রয়োজন থেকে তিনি মুখাপেক্ষীহীন। তিনি স্বয়ং সম্পূর্ণ, অমুখাপেক্ষী, তাঁর কাছেই সকলের অভাব, প্রয়োজন ও মুখাপেক্ষীতা।
আল্লাহ কারো মুখাপেক্ষী নন, সকলেই তাঁর মুখাপেক্ষী। কোরান
সূরাঃ আল-ইখলাস আয়াতঃ ৪ মাক্কী :১ قُلۡ هُوَ اللّٰهُ اَحَدٌ
বল, তিনি আল্লাহ, এক অদ্বিতীয়,
বলঃ তিনিই আল্লাহ, একক/অদ্বিতীয়। Say, "He is Allah, [who is] One, Sahih International
১. বলুন(১), তিনি আল্লাহ, এক-অদ্বিতীয়(২),
(১) বিভিন্ন বর্ণনায় এসেছে যে, মুশরিকরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে আল্লাহ্ তা'আলার বংশপরিচয় জিজ্ঞেস করেছিল, যার জওয়াবে এই সূরা নাযিল হয়। [তিরমিযী: ৩৩৬৪, মুসনাদে আহমাদ: ৫/১৩৪, মুস্তাদরাকে হাকিম: ২/৫৪০] কোন কোন বর্ণনায় এসেছে, মুশরিকরা আরও প্রশ্ন করেছিল- আল্লাহ তা'আলা কিসের তৈরী, স্বর্ণরৌপ্য অথবা অন্য কিছুর? এর জওয়াবে সূরাটি অবতীর্ণ হয়েছে। [আস-সুনানুল কুবরা লিন নাসায়ী: ৬/৩৭০, তাবরানী: মুজামুল আওসাত: ৩/৯৬, মুসনাদে আবি ইয়া'লা: ৬/১৮৩, নং ৩৪৬৮, আদ-দিনাওয়ারী: আল-মুজালাসা ও জাওয়াহিরুল ইলম, ৩/৫২৮, নং ১১৪৫] এখানে ‘বলুন’ শব্দটির মাধ্যমে প্রথমত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে সম্বোধন করা হয়েছে। কারণ তাকেই প্রশ্ন করা হয়েছিল। আপনার রব কে? তিনি কেমন? আবার তাকেই হুকুম দেয়া হয়েছিল, প্রশ্নের জবাবে আপনি একথা বলুন। কিন্তু রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের তিরোধানের পর এ সম্বোধনটি প্রত্যেক মুমিনের সাথে সংশ্লিষ্ট হয়ে যায়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে যে কথা বলার হুকুম দেয়া হয়েছিল এখন সে কথা প্রত্যেক মুমিনকেই বলতে হবে।
(২) এ বাক্যটির অর্থ হচ্ছে, তিনি (যার সম্পর্কে তোমরা প্রশ্ন করছে) আল্লাহ, একক অদ্বিতীয়। তাঁর কোন সমকক্ষ, সদৃশ, স্ত্রী, সন্তান, অংশীদার কিছুই নেই। একত্ব তাঁরই মাঝে নিহিত। তাই তিনি পূর্ণতার অধিকারী, অদ্বিতীয়-এক। সুন্দর নামসমূহ, পূর্ণ শ্রেষ্ঠ গুণাবলী এককভাবে শুধুমাত্র তারই। [কুরতুবী, সা’দী]] আর أَحَدশব্দটি একমাত্র আল্লাহ ছাড়া আর কারও ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়, কেননা তিনিই গুণাবলী ও কার্যাবলীতে একমাত্র পরিপূর্ণ সত্তা। [ইবন কাহীর] মোটকথা, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা তাঁর সত্তা ও গুণাবলীতে একক, তার কোন সমকক্ষ, শরীক নেই। এ সূরার শেষ আয়াত “আর তাঁর সমতুল্য কেউ নেই” দ্বারা তিনি এর ব্যাখ্যা করেছেন। মূলত সমগ্র কুরআন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের রিসালাত এমনকি সকল নবী-রাসূলদের রিসালাতের আগমন হয়েছিলো এ একত্ব ঘোষণা ও প্রতিষ্ঠার জন্যই। আল্লাহ ব্যতীত কোন হক মাবুদ বা ইলাহ নেই- সমগ্র সৃষ্টিজগতেই রয়েছে এর পরিচয়, আল্লাহর একত্বের পরিচয়। কুরআনে অগণিত আয়াতে এ কথাটির প্রমাণ ও যুক্তি রয়েছে। [আদওয়াউল বায়ান]
আস-সামাদ অর্থ পরিপূর্ণ রব, সাইয়্যেদ, মহান, যার এমন কোন ভালো সিফাত অবশিষ্ট নেই যা তাঁর নেই। তাঁর গুণাবলী সর্বোচ্চ পর্যায়ের, এর পূর্ণতা এতোই পরিপূর্ণ যে সৃষ্টিকুলের কেউ সে গুণের সামান্য অংশও তাদের অন্তরে বেষ্টন করতে পারে না এবং তাদের ভাষায়ও তা প্রকাশ করতে পারে না। তাঁর কাছে সবকিছু মুখাপেক্ষী, সকলের যাবতীয় প্রয়োজন, অভাব-অভিযোগ একমাত্র তাঁরই কাছে। আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন,
“আসমানসমূহ ও জমিনে যারা রয়েছে, সবাই তাঁর কাছে চায়। প্রতিদিন তিনি কোন না কোন কাজে রত।” [সূরা আর-রাহমান, আয়াত: ২৯]
তিনি নিজেই সত্ত্বাগতভাবে অমুখাপেক্ষী। দুনিয়াতে বিদ্যমান সমস্ত কিছু তাঁর যাতের কাছে অভাবী, মুখাপেক্ষী। তাদের সৃষ্টি, তাদের সংখ্যা, বেড়ে ওঠা ইত্যাদি সব কিছুতেই সর্বদিক থেকে তারা তাঁর মুখাপেক্ষী। কেউ-ই সামান্য অনু পরিমাণও যে কোন সময়ের বা অবস্থায়ও তাঁর থেকে মুখাপেক্ষীহীন নয়।[2]
আস-সামাদ তিনিই যার কাছে সমস্ত সৃষ্টির সর্ব মুহূর্তে সর্বাবস্থায় তাদের উদ্দেশ্য ও প্রয়োজন; যেহেতু তাঁর যাত, সিফাত, নাম ও কর্মে রয়েছে সর্বজনীন পূর্ণতা। [3]
আস-সামাদ পূর্ণাঙ্গরূপে অমুখাপেক্ষী, এতে উপরোক্ত সব ধরণের প্রয়োজন থেকে তিনি মুখাপেক্ষীহীন। তিনি স্বয়ং সম্পূর্ণ, অমুখাপেক্ষী, তাঁর কাছেই সকলের অভাব, প্রয়োজন ও মুখাপেক্ষীতা।
বিশ্বের সব কিছুই ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে তাঁর লুটে পড়ে। তিনি ইলম, হিকমত, ধৈর্য, কুদরত, মহানত্ব, রহমত ও অন্যান্য যাবতীয় গুণাবলীতে পরিপূর্ণ।[4]
আর আপনার রব অভাবমুক্ত, দয়াশীল(১)। তিনি ইচ্ছে করলে তোমাদেরকে অপসারিত করতে এবং তোমাদের পরে যাকে ইচ্ছে তোমাদের স্থানে আনতে পারেন, যেমন তোমাদেরকে তিনি অন্য এক সম্প্রদায়ের বংশ থেকে সৃষ্টি করেছেন।
সূরা আনআম আয়াত 133 তাফসীর
তাফসির : আগের আয়াতে বলা হয়েছিল যে জিন ও মানবজাতির প্রত্যেক সম্প্রদায়ের জন্য নবী-রাসুল পাঠানো আল্লাহর চিরন্তন রীতি।
নবীদের মাধ্যমে কোনো জাতিকে পূর্ণভাবে সতর্ক না করা পর্যন্ত কুফর, শিরক ও অবাধ্যতার কারণে কখনো তাদের শাস্তি দেওয়া হয়নি। আলোচ্য প্রথম আয়াতে বলা হয়েছে যে নবী পাঠানো ও ঐশী গ্রন্থগুলোর ধারা এ জন্য অব্যাহত ছিল না যে বিশ্বপালনকর্তা আমাদের ইবাদত ও আনুগত্যের মুখাপেক্ষী ছিলেন, বরং তিনি সম্পূর্ণ অমুখাপেক্ষী ও অভাবমুক্ত। তবে পরিপূর্ণ অমুখাপেক্ষী হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তিনি দয়াগুণেও গুণান্বিত।
সমগ্র বিশ্বকে অস্তিত্ব ও স্থায়িত্ব দান করা এবং বিশ্ববাসীর বাহ্যিক, অভ্যন্তরীণ, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ সব প্রয়োজন অযাচিতভাবে মেটানোর কারণও তাঁর এ দয়াগুণ।
অস্তিত্বের যে নিয়ামত মানুষকে দেওয়া হয়েছে; তা যে চাওয়া ছাড়াই দেওয়া হয়েছে, এটা দিবালোকের ন্যায় স্পষ্ট। এমনিভাবে যেসব অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের সমন্বয়ে মানুষের সৃষ্টি, যেমন হাত, পা, মন-মস্তিষ্ক প্রভৃতি এগুলো কোনো মানুষ চেয়েছিল? না তার চাওয়ার মতো সে অনুভূতি ছিল? বরং এ সবই আল্লাহ তায়ালা দয়াপরবশ হয়ে মানুষকে দান করেছেন।
জেনে রাখুন আল্লাহ আপনার মুখাপেক্ষী নন। Abdullah Bin Abdur Razzak । আত তাক্বওয়া মাসজিদ সিলেট► Subscribe Now : https://bit.ly/2YZhGm0► Facebo
আল্লাহুস সামাদ এর অর্থ
অর্থঃ অমুখাপেক্ষী,অবিনশ্বর, চিরন্তন, স্বয়ং সম্পূর্ণ
As Samad: The Perfect, the Eternal. আস-সামাদ পূর্ণাঙ্গরূপে অমুখাপেক্ষী, সব ধরণের প্রয়োজন থেকে তিনি মুখাপেক্ষীহীন। তিনি স্বয়ং সম্পূর্ণ, অমুখাপেক্ষী, তাঁর কাছেই সকলের অভাব, প্রয়োজন ও মুখাপেক্ষীতা।
আল্লাহ কারো মুখাপেক্ষী নন, সকলেই তাঁর মুখাপেক্ষী। কোরান
সূরাঃ আল-ইখলাস আয়াতঃ ৪ মাক্কী :১ قُلۡ هُوَ اللّٰهُ اَحَدٌ
বল, তিনি আল্লাহ, এক অদ্বিতীয়,
বলঃ তিনিই আল্লাহ, একক/অদ্বিতীয়। Say, "He is Allah, [who is] One, Sahih International
১. বলুন(১), তিনি আল্লাহ, এক-অদ্বিতীয়(২),
(১) বিভিন্ন বর্ণনায় এসেছে যে, মুশরিকরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে আল্লাহ্ তা'আলার বংশপরিচয় জিজ্ঞেস করেছিল, যার জওয়াবে এই সূরা নাযিল হয়। [তিরমিযী: ৩৩৬৪, মুসনাদে আহমাদ: ৫/১৩৪, মুস্তাদরাকে হাকিম: ২/৫৪০] কোন কোন বর্ণনায় এসেছে, মুশরিকরা আরও প্রশ্ন করেছিল- আল্লাহ তা'আলা কিসের তৈরী, স্বর্ণরৌপ্য অথবা অন্য কিছুর? এর জওয়াবে সূরাটি অবতীর্ণ হয়েছে। [আস-সুনানুল কুবরা লিন নাসায়ী: ৬/৩৭০, তাবরানী: মুজামুল আওসাত: ৩/৯৬, মুসনাদে আবি ইয়া'লা: ৬/১৮৩, নং ৩৪৬৮, আদ-দিনাওয়ারী: আল-মুজালাসা ও জাওয়াহিরুল ইলম, ৩/৫২৮, নং ১১৪৫] এখানে ‘বলুন’ শব্দটির মাধ্যমে প্রথমত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে সম্বোধন করা হয়েছে। কারণ তাকেই প্রশ্ন করা হয়েছিল। আপনার রব কে? তিনি কেমন? আবার তাকেই হুকুম দেয়া হয়েছিল, প্রশ্নের জবাবে আপনি একথা বলুন। কিন্তু রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের তিরোধানের পর এ সম্বোধনটি প্রত্যেক মুমিনের সাথে সংশ্লিষ্ট হয়ে যায়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে যে কথা বলার হুকুম দেয়া হয়েছিল এখন সে কথা প্রত্যেক মুমিনকেই বলতে হবে।
(২) এ বাক্যটির অর্থ হচ্ছে, তিনি (যার সম্পর্কে তোমরা প্রশ্ন করছে) আল্লাহ, একক অদ্বিতীয়। তাঁর কোন সমকক্ষ, সদৃশ, স্ত্রী, সন্তান, অংশীদার কিছুই নেই। একত্ব তাঁরই মাঝে নিহিত। তাই তিনি পূর্ণতার অধিকারী, অদ্বিতীয়-এক। সুন্দর নামসমূহ, পূর্ণ শ্রেষ্ঠ গুণাবলী এককভাবে শুধুমাত্র তারই। [কুরতুবী, সা’দী]] আর أَحَدশব্দটি একমাত্র আল্লাহ ছাড়া আর কারও ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়, কেননা তিনিই গুণাবলী ও কার্যাবলীতে একমাত্র পরিপূর্ণ সত্তা। [ইবন কাহীর] মোটকথা, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা তাঁর সত্তা ও গুণাবলীতে একক, তার কোন সমকক্ষ, শরীক নেই। এ সূরার শেষ আয়াত “আর তাঁর সমতুল্য কেউ নেই” দ্বারা তিনি এর ব্যাখ্যা করেছেন। মূলত সমগ্র কুরআন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের রিসালাত এমনকি সকল নবী-রাসূলদের রিসালাতের আগমন হয়েছিলো এ একত্ব ঘোষণা ও প্রতিষ্ঠার জন্যই। আল্লাহ ব্যতীত কোন হক মাবুদ বা ইলাহ নেই- সমগ্র সৃষ্টিজগতেই রয়েছে এর পরিচয়, আল্লাহর একত্বের পরিচয়। কুরআনে অগণিত আয়াতে এ কথাটির প্রমাণ ও যুক্তি রয়েছে। [আদওয়াউল বায়ান]
আস-সামাদ অর্থ পরিপূর্ণ রব, সাইয়্যেদ, মহান, যার এমন কোন ভালো সিফাত অবশিষ্ট নেই যা তাঁর নেই। তাঁর গুণাবলী সর্বোচ্চ পর্যায়ের, এর পূর্ণতা এতোই পরিপূর্ণ যে সৃষ্টিকুলের কেউ সে গুণের সামান্য অংশও তাদের অন্তরে বেষ্টন করতে পারে না এবং তাদের ভাষায়ও তা প্রকাশ করতে পারে না। তাঁর কাছে সবকিছু মুখাপেক্ষী, সকলের যাবতীয় প্রয়োজন, অভাব-অভিযোগ একমাত্র তাঁরই কাছে। আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন,
“আসমানসমূহ ও জমিনে যারা রয়েছে, সবাই তাঁর কাছে চায়। প্রতিদিন তিনি কোন না কোন কাজে রত।” [সূরা আর-রাহমান, আয়াত: ২৯]
তিনি নিজেই সত্ত্বাগতভাবে অমুখাপেক্ষী। দুনিয়াতে বিদ্যমান সমস্ত কিছু তাঁর যাতের কাছে অভাবী, মুখাপেক্ষী। তাদের সৃষ্টি, তাদের সংখ্যা, বেড়ে ওঠা ইত্যাদি সব কিছুতেই সর্বদিক থেকে তারা তাঁর মুখাপেক্ষী। কেউ-ই সামান্য অনু পরিমাণও যে কোন সময়ের বা অবস্থায়ও তাঁর থেকে মুখাপেক্ষীহীন নয়।[2]
আস-সামাদ তিনিই যার কাছে সমস্ত সৃষ্টির সর্ব মুহূর্তে সর্বাবস্থায় তাদের উদ্দেশ্য ও প্রয়োজন; যেহেতু তাঁর যাত, সিফাত, নাম ও কর্মে রয়েছে সর্বজনীন পূর্ণতা। [3]
আস-সামাদ পূর্ণাঙ্গরূপে অমুখাপেক্ষী, এতে উপরোক্ত সব ধরণের প্রয়োজন থেকে তিনি মুখাপেক্ষীহীন। তিনি স্বয়ং সম্পূর্ণ, অমুখাপেক্ষী, তাঁর কাছেই সকলের অভাব, প্রয়োজন ও মুখাপেক্ষীতা।
বিশ্বের সব কিছুই ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে তাঁর লুটে পড়ে। তিনি ইলম, হিকমত, ধৈর্য, কুদরত, মহানত্ব, রহমত ও অন্যান্য যাবতীয় গুণাবলীতে পরিপূর্ণ।[4]
আর আপনার রব অভাবমুক্ত, দয়াশীল(১)। তিনি ইচ্ছে করলে তোমাদেরকে অপসারিত করতে এবং তোমাদের পরে যাকে ইচ্ছে তোমাদের স্থানে আনতে পারেন, যেমন তোমাদেরকে তিনি অন্য এক সম্প্রদায়ের বংশ থেকে সৃষ্টি করেছেন।
সূরা আনআম আয়াত 133 তাফসীর
তাফসির : আগের আয়াতে বলা হয়েছিল যে জিন ও মানবজাতির প্রত্যেক সম্প্রদায়ের জন্য নবী-রাসুল পাঠানো আল্লাহর চিরন্তন রীতি।
নবীদের মাধ্যমে কোনো জাতিকে পূর্ণভাবে সতর্ক না করা পর্যন্ত কুফর, শিরক ও অবাধ্যতার কারণে কখনো তাদের শাস্তি দেওয়া হয়নি। আলোচ্য প্রথম আয়াতে বলা হয়েছে যে নবী পাঠানো ও ঐশী গ্রন্থগুলোর ধারা এ জন্য অব্যাহত ছিল না যে বিশ্বপালনকর্তা আমাদের ইবাদত ও আনুগত্যের মুখাপেক্ষী ছিলেন, বরং তিনি সম্পূর্ণ অমুখাপেক্ষী ও অভাবমুক্ত। তবে পরিপূর্ণ অমুখাপেক্ষী হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তিনি দয়াগুণেও গুণান্বিত।
সমগ্র বিশ্বকে অস্তিত্ব ও স্থায়িত্ব দান করা এবং বিশ্ববাসীর বাহ্যিক, অভ্যন্তরীণ, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ সব প্রয়োজন অযাচিতভাবে মেটানোর কারণও তাঁর এ দয়াগুণ।
অস্তিত্বের যে নিয়ামত মানুষকে দেওয়া হয়েছে; তা যে চাওয়া ছাড়াই দেওয়া হয়েছে, এটা দিবালোকের ন্যায় স্পষ্ট। এমনিভাবে যেসব অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের সমন্বয়ে মানুষের সৃষ্টি, যেমন হাত, পা, মন-মস্তিষ্ক প্রভৃতি এগুলো কোনো মানুষ চেয়েছিল? না তার চাওয়ার মতো সে অনুভূতি ছিল? বরং এ সবই আল্লাহ তায়ালা দয়াপরবশ হয়ে মানুষকে দান করেছেন।